What do you think?


আমরা যে পরিচিত জগতে বাস করি সেই জগৎ কি আসলেই পরিচিত ?
যে সব চরিত্রকে আমরা চিনি বলে মনে করি তাদেরকে কি আসলেই চিনি ?
আমরা কি সব সময়ই অচিনপুরে বাস করছি না ?
যে সব চরিত্রকে আমরা চিনি বলে মনে করি তাদেরকে কি আসলেই চিনি ?
আমরা কি সব সময়ই অচিনপুরে বাস করছি না ?
64 pages, Hardcover
First published January 1, 2002
About the author
Humayun Ahmed
454 books3,099 followersHumayun Ahmed (Bengali: হুমায়ূন আহমেদ; 13 November 1948 – 19 July 2012) was a Bangladeshi author, dramatist, screenwriter, playwright and filmmaker. He was the most famous and popular author, dramatist and filmmaker ever to grace the cultural world of Bangladesh since its independence in 1971. Dawn referred to him as the cultural legend of Bangladesh. Humayun started his journey to reach fame with the publication of his novel Nondito Noroke (In Blissful Hell) in 1972, which remains one of his most famous works. He wrote over 250 fiction and non-fiction books, all of which were bestsellers in Bangladesh, most of them were number one bestsellers of their respective years by a wide margin. In recognition to the works of Humayun, Times of India wrote, "Humayun was a custodian of the Bangladeshi literary culture whose contribution single-handedly shifted the capital of Bengali literature from Kolkata to Dhaka without any war or revolution." Ahmed's writing style was characterized as "Magic Realism." Sunil Gangopadhyay described him as the most popular writer in the Bengali language for a century and according to him, Ahmed was even more popular than Sarat Chandra Chattopadhyay. Ahmed's books have been the top sellers at the Ekushey Book Fair during every years of the 1990s and 2000s.
Early life:
Humayun Ahmed was born in Mohongonj, Netrokona, but his village home is Kutubpur, Mymensingh, Bangladesh (then East Pakistan). His father, Faizur Rahman Ahmed, a police officer and writer, was killed by Pakistani military during the liberation war of Bangladesh in 1971, and his mother is Ayesha Foyez. Humayun's younger brother, Muhammed Zafar Iqbal, a university professor, is also a very popular author of mostly science fiction genre and Children's Literature. Another brother, Ahsan Habib, the editor of Unmad, a cartoon magazine, and one of the most famous Cartoonist in the country.
Education and Early Career:
Ahmed went to schools in Sylhet, Comilla, Chittagong, Dinajpur and Bogra as his father lived in different places upon official assignment. Ahmed passed SSC exam from Bogra Zilla School in 1965. He stood second in the merit list in Rajshahi Education Board. He passed HSC exam from Dhaka College in 1967. He studied Chemistry in Dhaka University and earned BSc (Honors) and MSc with First Class distinction.
Upon graduation Ahmed joined Bangladesh Agricultural University as a lecturer. After six months he joined Dhaka University as a faculty of the Department of Chemistry. Later he attended North Dakota State University for his PhD studies. He grew his interest in Polymer Chemistry and earned his PhD in that subject. He returned to Bangladesh and resumed his teaching career in Dhaka University. In mid 1990s he left the faculty job to devote all his time to writing, playwright and film production.
Marriages and Personal Life:
In 1973, Humayun Ahmed married Gultekin. They had three daughters — Nova, Sheela, Bipasha and one son — Nuhash. In 2003 Humayun divorced Gultekin and married Meher Afroj Shaon in 2005. From the second marriage he had two sons — Nishad and Ninit.
Death:
In 2011 Ahmed had been diagnosed with colorectal cancer. He died on 19 July 2012 at 11.20 PM BST at Bellevue Hospital in New York City. He was buried in Nuhash Palli, his farm house.
Early life:
Humayun Ahmed was born in Mohongonj, Netrokona, but his village home is Kutubpur, Mymensingh, Bangladesh (then East Pakistan). His father, Faizur Rahman Ahmed, a police officer and writer, was killed by Pakistani military during the liberation war of Bangladesh in 1971, and his mother is Ayesha Foyez. Humayun's younger brother, Muhammed Zafar Iqbal, a university professor, is also a very popular author of mostly science fiction genre and Children's Literature. Another brother, Ahsan Habib, the editor of Unmad, a cartoon magazine, and one of the most famous Cartoonist in the country.
Education and Early Career:
Ahmed went to schools in Sylhet, Comilla, Chittagong, Dinajpur and Bogra as his father lived in different places upon official assignment. Ahmed passed SSC exam from Bogra Zilla School in 1965. He stood second in the merit list in Rajshahi Education Board. He passed HSC exam from Dhaka College in 1967. He studied Chemistry in Dhaka University and earned BSc (Honors) and MSc with First Class distinction.
Upon graduation Ahmed joined Bangladesh Agricultural University as a lecturer. After six months he joined Dhaka University as a faculty of the Department of Chemistry. Later he attended North Dakota State University for his PhD studies. He grew his interest in Polymer Chemistry and earned his PhD in that subject. He returned to Bangladesh and resumed his teaching career in Dhaka University. In mid 1990s he left the faculty job to devote all his time to writing, playwright and film production.
Marriages and Personal Life:
In 1973, Humayun Ahmed married Gultekin. They had three daughters — Nova, Sheela, Bipasha and one son — Nuhash. In 2003 Humayun divorced Gultekin and married Meher Afroj Shaon in 2005. From the second marriage he had two sons — Nishad and Ninit.
Death:
In 2011 Ahmed had been diagnosed with colorectal cancer. He died on 19 July 2012 at 11.20 PM BST at Bellevue Hospital in New York City. He was buried in Nuhash Palli, his farm house.
Ratings & Reviews
Friends & Following
Create a free account to discover what your friends think of this book!
Community Reviews
Displaying 1 - 30 of 119 reviews
September 23, 2021
জীবনবাবু বলেছেন,"এক-একটা দুপুরে এক-একটা পরিপূর্ণ জীবন অতিবাহিত হয়ে যায় যেন।"হুমায়ূনের "অচিনপুর" এ একটা পরিপূর্ণ জীবন অতিবাহিত হতে দেখলাম যেন!! এইটা হুমায়ূনের লেখা? চেনা যায়,আবার যায়ও না। এ এক প্রবলভাবে অ-হুমায়ূনীয় বিষণ্ণ সুন্দর উপাখ্যান।
(২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২১)
(২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২১)
April 18, 2021
"সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সুখ বদলে গিয়ে দুঃখ হয়ে যায়। দুঃখ হয় সুখ। জীবনের প্রবল দুঃখ ও বেদনার ঘটনাগুলি মনে পড়লে আজ আমার ভালো লাগে। প্রাচীন সুখের স্মৃতিতে বুক বেদনায় ভারাক্রান্ত হয়।"
বইটির জন্যে বিশদে রিভিউ লিখতে খুব ইচ্ছে হচ্ছিলো। কিন্তু লিখতে বসে কিছুই গুছিয়ে আনতে পারছিলাম না। হয়তো বেশ কিছু দিন কেটে যাবার পর লিখতে পারব, হয়তো কোনদিনই পারবো না। আপাতত এটুকু বলি, এই বই ছোটবেলায় কিংবা বছরপাঁচেক আগেও না পড়ে ঠিকই করেছি বোধ হচ্ছে। কিছু বই পড়ার জন্য একটা বিশেষ মুড বা মানসিক অবস্থা থাকা প্রয়োজন, যার অবর্তমানে ৯৯% ক্ষেত্রে বইটিকে সম্পূর্ণরূপে উপভোগ করা ও তার প্রাপ্য মর্যাদা দেয়া আমাদের জন্য দুঃসাধ্য হয়ে যায়। স্মৃতিকথা আমাকে কখনও টানে না। কিন্তু আজকাল পুরোনো দিনের কথা প্রায়ই মনে পড়ছে, ইচ্ছে হচ্ছে কোনোভাবে ফিরে যাই সেই সময়ে যখন ছিলাম কেবল বড় হবার অপেক্ষায়।
"অচিনপুর"-এর এক সুখী, বিত্তশালী একান্নবর্তী পরিবারে ধীরে ধীরে ধস নেমে আসার গল্পটা রঞ্জুর দৃষ্টি থেকে বিবৃত হয়েছে। এ বইতে লেখক তাঁর চিরপরিচিত রচনাভঙ্গিটি বর্জন করেছেন—সূক্ষ্ম হাস্যরসের বদলে কেমন এক বিষণ্ণতার ছায়া বিরাজ করেছে প্রতি পাতায়। ঠিক যেন কথকের শৈশবের একাকীত্ব ও মনোবেদনারই প্রতিরুপ।
পিতৃমাতৃহীন লিলি ও রঞ্জুর নানাজানের রহস্যময় ভূতুড়ে পরিবেশের বাড়িটিতে অবহেলায় অনাদরে বড় হওয়া, একমাত্র অভিভাবক হিসেবে ছোটভাইটির প্রতি লিলির স্নেহপূর্ণ নজরদারি, লিলির দায়সারা গোছের বিয়ে ও পরবর্তী জীবন, নিদারুণ নিঃসঙ্গতা নিয়ে বাড়ির এককোণে অন্ধকার কুঠুরিতে দিনাতিপাত করা বড়ো নানিজান, সফুরা খালা ও তার পাখি উড়ানোর সে অদ্ভুত সুন্দর খেলা, বিরক্তিকর সব ছড়া কাটা মোহরের মা, লাল মামী কাকে বেশি ভালোবাসে তাই নিয়ে নবু মামা ও রঞ্জুর নিত্য বচসা, নৌকো থেকে নেমে বাদশা মামার বোকা হাসি, বাড়ির উঠোনে শিশুর হাত ধরে এসে দাঁড়ানো নারীমূর্তিরা, প্রভৃতি নিয়ে রচিত গল্পটি আরো শ'খানেক পৃষ্ঠা বড় হলেও মন্দ হতো কি? এরকম বই জীবনে ক'বারই বা পাওয়া যায়!
April 23, 2022
গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস এর নিঃসঙ্গতার একশ বছর পড়ার পর কেমন যেনো একটা ঘোর কাজ করছিলো মাথার ভিতর, শত মানুষের সাথে একই রেখায় জীবনের নদী বয়ে গেলেও যে প্রতিটি মানুষের বেঁচে থাকার মাঝে তার একাকীত্বটা একটা সূক্ষ্ম পর্দা দিয়ে আড়াল হয়ে থাকে তা গভীর ভাবে মনে বাজতেছিলো। এই বইটা পড়েও একই রকম অনুভূতি কাজ করতেছিলো।
জীবনানন্দের ভাষায় বললে,
মানুষ আমি, মানুষ আমার পাশে;
হৃদয়ে তার হৃদয় মেশালেও
ব্যক্তি আমি - ব্যক্তিপুরুষ সেও
দ্বীপের মতো একা আমি তুমি;
অনন্ত সব পৃথক দ্বীপের একক মরুভূমি
এই বইয়ের প্রতিটা চরিত্রের মাঝে লেখক নিঃসঙ্গতার একটা ছায়া দিয়ে গড়ে তুলেছেন। কিছু সময়ের জন্য কেউ কেউ অন্য একটা মানুষের সংস্পর্শে গেলেও প্রতিটা মানুষ অবশেষে অনন্ত সব পৃথক দ্বীপের একক মরুভূমি ।
জীবনানন্দের ভাষায় বললে,
মানুষ আমি, মানুষ আমার পাশে;
হৃদয়ে তার হৃদয় মেশালেও
ব্যক্তি আমি - ব্যক্তিপুরুষ সেও
দ্বীপের মতো একা আমি তুমি;
অনন্ত সব পৃথক দ্বীপের একক মরুভূমি
এই বইয়ের প্রতিটা চরিত্রের মাঝে লেখক নিঃসঙ্গতার একটা ছায়া দিয়ে গড়ে তুলেছেন। কিছু সময়ের জন্য কেউ কেউ অন্য একটা মানুষের সংস্পর্শে গেলেও প্রতিটা মানুষ অবশেষে অনন্ত সব পৃথক দ্বীপের একক মরুভূমি ।
December 21, 2022
অচিনপুরের গল্প পড়তে পড়তে আমার মন বিষাদে আচ্ছন্ন হয়ে গেছে। রঞ্জুর মতো আমিও অনুভব করছি, সুখ এবং দুঃখ আসলে একই জিনিস।
ভাটিবাংলাকেন্দ্রিক উপন্যাস 'অচিনপুর ও ফেরা' শুধু হুমায়ূনের নয়, বাংলা সাহিত্যেরই গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক উপন্যাস।
হুমায়ূন আহমেদের তৃতীয় প্রকাশিত গ্রন্থ 'অচিনপুর'। তাঁর প্রথম দিককার লেখাগুলো প্রকৃত লভেলেট ছিল। আমার মতে হুমায়ূন আহমেদের সেরা কাজ 'অচিনপুর ও ফেরা' লভেলেট দুটি।
'অচিনপুর' আজ দ্বিতীয়বারের মতো পড়ার পরও মনে হয়নি যে দ্বিতীয়বার পড়েছি। ভুলে গিয়েছিলাম সব। যেন ইচ্ছে করেই ভুলে গিয়েছি। যেন আজ প্রথমবার পড়েছি। এজন্য প্রথমবার পড়ার অতীন্দ্রিয় অনুভূতিতে ছেয়ে গেছে মন। এই অনুভূতির মূল্য অসীম। একেই বলে লভেলেট। সার্থক নভেলেট।
হুমায়ূন আহমেদের বই বাংলাদেশের সবাই পড়ে এবং ভবিষ্যতেও পড়বে কিন্তু তারা 'অচিনপুর, ফেরা এবং গৌরীপুর জংশন'—এর মতো হুমায়ূনের সেরা বইগুলো মিসির আলি এবং হিমু সিরিজের বইগুলোর মতো এত বেশি পড়ে না। তবে আশা রাখি ভবিষ্যতে পড়বে। ভবিষ্যতে ক্লাসিকের মর্যাদা পাবে বইগুলো।
আর ওপার বাংলার মানুষ তো হুমায়ূন আহমেদের বই খুব খুব কম পড়ে। অনেকে হুমায়ূনকে লেখক বলতেই নারাজ। যদি তারা এই লভেলেটগুলো পড়ত তবে বুঝত। আমি তাদের বলব 'ফেরা, অচিনপুর এবং গৌরীপুর জংশন' লভেলেট তিনটা পড়তে। তারপর হুমায়ূন আহমেদকে যেন বিচার করে।
১৩ আগস্ট, ২০২৩
.
প্রথমবার —
হুমায়ূন আহমেদের প্রায় ৫০ এর মতো বই পড়েছি। তারমধ্যে ফেরা, দেয়াল, আমি এবং আমরা, অচিনপুর এই চারটা বই এখন পর্যন্ত আমার প্রিয়।
আহা! জোছনা খেতে কত মজা!
ভাটিবাংলাকেন্দ্রিক উপন্যাস 'অচিনপুর ও ফেরা' শুধু হুমায়ূনের নয়, বাংলা সাহিত্যেরই গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক উপন্যাস।
হুমায়ূন আহমেদের তৃতীয় প্রকাশিত গ্রন্থ 'অচিনপুর'। তাঁর প্রথম দিককার লেখাগুলো প্রকৃত লভেলেট ছিল। আমার মতে হুমায়ূন আহমেদের সেরা কাজ 'অচিনপুর ও ফেরা' লভেলেট দুটি।
'অচিনপুর' আজ দ্বিতীয়বারের মতো পড়ার পরও মনে হয়নি যে দ্বিতীয়বার পড়েছি। ভুলে গিয়েছিলাম সব। যেন ইচ্ছে করেই ভুলে গিয়েছি। যেন আজ প্রথমবার পড়েছি। এজন্য প্রথমবার পড়ার অতীন্দ্রিয় অনুভূতিতে ছেয়ে গেছে মন। এই অনুভূতির মূল্য অসীম। একেই বলে লভেলেট। সার্থক নভেলেট।
হুমায়ূন আহমেদের বই বাংলাদেশের সবাই পড়ে এবং ভবিষ্যতেও পড়বে কিন্তু তারা 'অচিনপুর, ফেরা এবং গৌরীপুর জংশন'—এর মতো হুমায়ূনের সেরা বইগুলো মিসির আলি এবং হিমু সিরিজের বইগুলোর মতো এত বেশি পড়ে না। তবে আশা রাখি ভবিষ্যতে পড়বে। ভবিষ্যতে ক্লাসিকের মর্যাদা পাবে বইগুলো।
আর ওপার বাংলার মানুষ তো হুমায়ূন আহমেদের বই খুব খুব কম পড়ে। অনেকে হুমায়ূনকে লেখক বলতেই নারাজ। যদি তারা এই লভেলেটগুলো পড়ত তবে বুঝত। আমি তাদের বলব 'ফেরা, অচিনপুর এবং গৌরীপুর জংশন' লভেলেট তিনটা পড়তে। তারপর হুমায়ূন আহমেদকে যেন বিচার করে।
১৩ আগস্ট, ২০২৩
.
প্রথমবার —
হুমায়ূন আহমেদের প্রায় ৫০ এর মতো বই পড়েছি। তারমধ্যে ফেরা, দেয়াল, আমি এবং আমরা, অচিনপুর এই চারটা বই এখন পর্যন্ত আমার প্রিয়।
আহা! জোছনা খেতে কত মজা!
April 19, 2021
অদ্ভুত !
চেনা ছকের বৃত্তের বাইরে অচিনপুরের সেই অজানা অচেনা লোকদের জন্য হু হু করে হাহাকার করে ওঠার আগেই মনে পড়লো,
মানুষ মাত্রই কি অজানা রাস্তায় অনাদিকাল থেকে একই নিয়মে ঘুরে ফিরে আবার স্মৃতিচারনের পাতা উল্টে অনুভূতি গুলো কে একই ভাবে দেখে কি বলে না;
"আরশিতে যারে দেখি চিরচেনা, মনের সাথে আছে কি তার জানাশোনা!?"
(বাহ্, রিভিউ লিখতে গিয়ে ভালো একটা লাইন
লিখে ফেলেছি তো!😪🐸)
রেটিং:🌠🌠🌠🌠
24/04/21
চেনা ছকের বৃত্তের বাইরে অচিনপুরের সেই অজানা অচেনা লোকদের জন্য হু হু করে হাহাকার করে ওঠার আগেই মনে পড়লো,
মানুষ মাত্রই কি অজানা রাস্তায় অনাদিকাল থেকে একই নিয়মে ঘুরে ফিরে আবার স্মৃতিচারনের পাতা উল্টে অনুভূতি গুলো কে একই ভাবে দেখে কি বলে না;
"আরশিতে যারে দেখি চিরচেনা, মনের সাথে আছে কি তার জানাশোনা!?"
(বাহ্, রিভিউ লিখতে গিয়ে ভালো একটা লাইন
লিখে ফেলেছি তো!😪🐸)
রেটিং:🌠🌠🌠🌠
24/04/21
March 25, 2013
চমৎকার! বহুদিন পর হুমায়ূন এর এমন একটা বই পড়লাম যেখানে তাঁর তীক্ষ্ণ পর্যবেক্ষণ ক্ষমতার পরিচয় পাওয়া যায়। খুব ছোট্ট একটি বই, কিন্তু প্রভাব আর বিস্তার বেশ বড়, অন্তত আমার জন্য। সব অ্যাডভেঞ্চার শেষ করে দিনশেষে মানুষ তার পরিচিত বৃত্তেই আবার ফিরে আসতে চায়,'ক্লিশে' হয়ে যাওয়া এই দর্শন হয়ত হুমায়ূন এর অসংখ্য বই এর উপজীব্য হয়ে বারবার এসেছে কিন্তু তবু তাঁর লেখনীতে পড়তে তো ভালো লাগে!
June 18, 2020
এই বইটা পড়ে বেশ অবাক হলাম। হুমায়ূন আহমেদের লেখনীর একটা আলাদা টেক্সচার আছে। যেকোনো পাঠক যিনি হুমায়ূন আহমেদের লেখার সাথে পরিচিত তাকে যদি এই বই লেখকের নাম উল্লেখ না করেই ধরিয়ে দেওয়া হয় তাহলে সেই পাঠক বুঝতে পারবে না যে এই বইয়ের স্রষ্টা হুমায়ূন আহমেদ। লেখার ঢং, বর্ণনা ভঙ্গিটা অনেকটাই আলাদা! তাই বেশ লাগল পড়ে!
December 20, 2022
"অনুভব করছি, সুখ এবং দুঃখ আসলে একই জিনিস। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সুখ বদলে গিয়ে দুঃখ হয়ে যায়। দুঃখ হয় সুখ। জীবনের প্রবল দুঃখ ও বেদনার ঘটনাগুলি মনে পড়লে আজ আমার ভাল লাগে। প্রাচীন সুখের স্মৃতিতে বুক বেদনায় ভারাক্রান্ত হয়"
একটা পরিবার।
এই পরিবারের মানুষগুলো বেশ অদ্ভুত, এবং তাদের মধ্যে যেন অন্ধকার এক জগৎ লুকিয়ে ছিলো।
এক-একটা মানুষের অদ্ভুত, আর মন খারাপ করে দেওয়ার মতো কাজকর্ম আপনাকে নিয়ে যাবে এক অন্ধকার কোনো পরিবেশে, এই পরিবেশটা যেন আপনার অচেনা এবং এই জায়গার নাম "অচিনপুর"
একদম ভিন্নভাবে, ভিন্ন আঙ্গিকে যেন হুমায়ূনকে পেলাম এখানে। উনার গতানুগতিক লেখা থেকে একদম আলাদা!
উনি এই গল্পে লেখার মাধ্যমে একটা ডার্ক পরিবেশ সৃষ্টি করতে চেয়েছেন। আর আমার সাথে এই গল্পের চরিত্রের ইন্টারেকশন বেশ ভালো ছিল, কারণ লেখকের অদ্ভুত সব চরিত্র মনোযোগ আকর্ষণ করে রেখেছিলো পুরোটা সময়।
আর এক-একটা চরিত্রের জন্য এক-এক ভাবে মন খারাপ হচ্ছিল। আরেকটা ব্যাপার হলো, এন্ডিং ও বেশ স্মুথ লেগেছে আমার কাছে।
সুতরাং, সব মিলিয়ে অসাধারণ একটা উপন্যাস
"নিজের কথাও আজকাল খুব ভাবি। আজন্ম যে রহস্যময়তার ভেতর বড় হয়েছি তা সরে সরে যায়। মনে হয় কিছুই রহস্য নয়। চাঁদের আলো, ভোরের প্রথম সূর্য সমস্তই রহস্যের অতীত প্রাকৃতিক নিয়মাবলী। যে নিয়মের ভেতর আমরা জন্মাই, বড় হই, দুঃখ-কষ্ট পাই"
একটা পরিবার।
এই পরিবারের মানুষগুলো বেশ অদ্ভুত, এবং তাদের মধ্যে যেন অন্ধকার এক জগৎ লুকিয়ে ছিলো।
এক-একটা মানুষের অদ্ভুত, আর মন খারাপ করে দেওয়ার মতো কাজকর্ম আপনাকে নিয়ে যাবে এক অন্ধকার কোনো পরিবেশে, এই পরিবেশটা যেন আপনার অচেনা এবং এই জায়গার নাম "অচিনপুর"
একদম ভিন্নভাবে, ভিন্ন আঙ্গিকে যেন হুমায়ূনকে পেলাম এখানে। উনার গতানুগতিক লেখা থেকে একদম আলাদা!
উনি এই গল্পে লেখার মাধ্যমে একটা ডার্ক পরিবেশ সৃষ্টি করতে চেয়েছেন। আর আমার সাথে এই গল্পের চরিত্রের ইন্টারেকশন বেশ ভালো ছিল, কারণ লেখকের অদ্ভুত সব চরিত্র মনোযোগ আকর্ষণ করে রেখেছিলো পুরোটা সময়।
আর এক-একটা চরিত্রের জন্য এক-এক ভাবে মন খারাপ হচ্ছিল। আরেকটা ব্যাপার হলো, এন্ডিং ও বেশ স্মুথ লেগেছে আমার কাছে।
সুতরাং, সব মিলিয়ে অসাধারণ একটা উপন্যাস
"নিজের কথাও আজকাল খুব ভাবি। আজন্ম যে রহস্যময়তার ভেতর বড় হয়েছি তা সরে সরে যায়। মনে হয় কিছুই রহস্য নয়। চাঁদের আলো, ভোরের প্রথম সূর্য সমস্তই রহস্যের অতীত প্রাকৃতিক নিয়মাবলী। যে নিয়মের ভেতর আমরা জন্মাই, বড় হই, দুঃখ-কষ্ট পাই"
April 29, 2019
গল্পের মূল বিষয় একটি মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকা পরিবার কি করে একটা সময় মাথা নুইয়ে পড়ে যায়! সময়ের বিবর্তনে সব কিছুর পরিবর্তন হতে থাকে।একটা সময় নিজের উপলব্ধি করা বিষয়গুলো স্মৃতিকথা হয়ে উঠে তখন এটি শুধু চারণ করেই অনুভব করতে হয়।
একটা ছোট বালক রঞ্জু, যে বড় হয়েছে নানার বাসায়।এখানকার প্রত্যেকটি সদস্য নানাজান,বড় নানীজান,ছোট নানীজান,বাদশা মামা,নবু মামা,লিলি,লাল মামী,সফুরা খালা, মহরমের মা, রহমত সবার সাথে রয়েছে তার অসংখ্য স্মৃতি। গভীর মায়া নিয়ে ফেলে আসা পরিবারের সকল সদস্যের সাথে অতিবাহিত হওয়া প্রত্যেকটি মুহূর্তকে সে স্মৃতিচারণ করেছে।পুষে রাখা সুখ দুঃখের কথাগুলো জানার ইচ্ছে হলে পড়ে দেখুন অচিনপুর।
একটা ছোট বালক রঞ্জু, যে বড় হয়েছে নানার বাসায়।এখানকার প্রত্যেকটি সদস্য নানাজান,বড় নানীজান,ছোট নানীজান,বাদশা মামা,নবু মামা,লিলি,লাল মামী,সফুরা খালা, মহরমের মা, রহমত সবার সাথে রয়েছে তার অসংখ্য স্মৃতি। গভীর মায়া নিয়ে ফেলে আসা পরিবারের সকল সদস্যের সাথে অতিবাহিত হওয়া প্রত্যেকটি মুহূর্তকে সে স্মৃতিচারণ করেছে।পুষে রাখা সুখ দুঃখের কথাগুলো জানার ইচ্ছে হলে পড়ে দেখুন অচিনপুর।
March 30, 2024
বিষণ্ণ চরিত্র ফুটিয়ে তোলার ক্ষেত্রে হুমায়ূন আহমেদের মুন্সিয়ানা আরেকবার লক্ষ করা গেলো।
May 17, 2024
বছর দশেক আগে পড়া হয়েছিল৷ আজকে রি-রিড শেষে সেই পুরানো অনূভুতির অনড় অবস্থান। এই এক অজানা হুমায়ূন৷ পাঠশেষে আমাদের ক্রমশ পরিবর্তনশীন জীবন আর মানবমনের জটিল রহস্য, দুটো বিষয় চেতনায় আকাশসম শুন্যতায় সৃষ্টি করে।
অন্যতম শ্রেষ্ট উপন্যাস অবশ্যই :)
অন্যতম শ্রেষ্ট উপন্যাস অবশ্যই :)
November 19, 2022
হুমায়ূন আহমেদের লেখার যে পার্টিকুলার স্টাইল তিনি গড়ে তুলেছিলেন- হ্যাঁ, গড়ে তুলেছিলেন ই বলব, কারণ অচিনপুর, ফেরা, নন্দিত নরকে বা শঙ্খনীল কারাগার উপন্যাসগুলোতে সেই স্টাইলটা আমরা পাই না। পরবর্তী লেখার সময় তাঁর লেখাতে একটা কমিকাল স্টাইল চলে এসেছে যেখানে সিরিয়াস মুহূর্তেও পাঠককে হাসানোর ক্ষমতা তিনি অর্জন করে নিয়েছেন। উক্ত উপন্যাসগুলো তাই অনেক বেশি সিরিয়াস আর বিষণ্ণতায় ভরা। উপন্যাসের কাহিনী বা দর্শনে অচিনপুর খুব ছোট্ট হলেও আসলে আলাদা কিছু। কিন্তু স্টাইলে? এমন স্টাইলের লেখা আসলে ক্লাসিক লেখকেরা আগেই লিখে গেছেন। যার ফলে হুমায়ূনীয় স্টাইল প্রবর্তনের দরকার হয়ে পড়েছিল বলেই আমার বিশ্বাস। সেটা না হলে এই উপন্যাসগুলোর পাঠকস্বল্পতার মতো হুমায়ূন এর ও পাঠক কম হত। তাঁর জনপ্রিয়তার অন্যতম মাপকাঠি তাঁর সহজ সাবলীল হিউমারযুক্ত ভাষা। যেটা সাহিত্যজীবন শুরুর কিছুদিন পরে তিনি ডেভেলপ করেছিলেন। কিন্তু উপন্যাসের ক্লাসের দিক থেকে অচিনপুর পরবর্তী কালের অনেক জনপ্রিয় বা আলোচিত উপন্যাসের চাইতে উঁচু মানের।
April 22, 2022
আমার মনে হয় এমন মর্মস্পর্শী গল্প হুমায়ূন আহমেদ খাতা কলম নিয়ে বসলেই লিখতে পারতেন।
সময়ের পরিক্রমায় একটা সুখী সচ্ছল পরিবারে অনেক পরিবর্তন আসে, বাড়িতে নতুন মানুষ আসে, বাড়ির ছোটরা বড় হয়, বড়রা বৃদ্ধ হয়, কখনো কখনো অর্থনৈতিক অবস্থার পরিবর্তন হয় - এসব পরিবর্তনগুলো যখন নেতিবাচক হয়, শান্তিময় একটা বাড়ির পরিবেশ তখন বিষাক্ত আর বিষন্ন হয়ে যায়। তখন সেই বাড়ির মায়া ত্যাগ করা যায়। চিরকালের জন্য।
সময়ের পরিক্রমায় একটা সুখী সচ্ছল পরিবারে অনেক পরিবর্তন আসে, বাড়িতে নতুন মানুষ আসে, বাড়ির ছোটরা বড় হয়, বড়রা বৃদ্ধ হয়, কখনো কখনো অর্থনৈতিক অবস্থার পরিবর্তন হয় - এসব পরিবর্তনগুলো যখন নেতিবাচক হয়, শান্তিময় একটা বাড়ির পরিবেশ তখন বিষাক্ত আর বিষন্ন হয়ে যায়। তখন সেই বাড়ির মায়া ত্যাগ করা যায়। চিরকালের জন্য।
January 28, 2021
রিরিড।
কিছু কিছু বই কয়েক বছর পর আবার পড়লে ভিন্নরকম অনুভূতি হয় প্রথমবার পড়ার যে অনুভূতি তা থেকে।
অচিনপুর পড়েও সেই অনুভূতি হইল।
অতীব বিষণ্ণ বই।
শেষ কদিনে শুধু বিষণ্ণ বই ই পড়তেছি দেখি।
কিছু কিছু বই কয়েক বছর পর আবার পড়লে ভিন্নরকম অনুভূতি হয় প্রথমবার পড়ার যে অনুভূতি তা থেকে।
অচিনপুর পড়েও সেই অনুভূতি হইল।
অতীব বিষণ্ণ বই।
শেষ কদিনে শুধু বিষণ্ণ বই ই পড়তেছি দেখি।
August 17, 2022
এই নিয়ে তিনবার পড়া হলো। বইটা অনেক ভালো লাগে।
November 14, 2025
“অচিনপুর” লেখা শুরু করার আগে হুমায়ূন আহমেদ সম্ভবত কল্পনায় তার পাঠকদের বলেছিলেন — একটি গল্প বলার প্রস্তুতি নিচ্ছি। আপনারা কি শুনবেন?
তার কল্পনাতে হয়তো পাঠকেরা বলে উঠেছিল — শুনব, শুনব! আলবৎ শুনব।
তিনি গল্প বলা শুরু করলেন। এমন এক ঘোরে নিয়ে গেলেন। সেখান থেকে আর বের হওয়ার উপায় রইলো না। একসময় গল্প শেষ হলো। নাকি, কোনো এক চক্রের সমাপ্তি হলো। অথবা জীবনের এই চক্রে নতুন গল্পের সূত্রপাত হলো! এই নিয়ে বিতর্ক করা যায়। কিন্তু হুমায়ূন আহমেদ যখন অচিনপুরের গল্প বলা থামিয়ে দিলেন, আমাদের কল্পনায়, মস্তিষ্কে কেবলই অচিনপুর। যে অচিনপুরে অশরীরী হিসেবে একটু ঘুরে এসেছিলাম। রঞ্জু, নবু মামা, বাদশা মানা, লাল মামী, লিলিদের সাথে এক যাত্রায় শামিল হয়েছিলাম।
মরবার পর কী হয়? — গল্পের শুরুটা হয় এমনকি বাক্য দিয়ে। যা মনে হতে পারে কোনো আধ্যাত্মিক গল্পের সূচনা। কিন্তু না, এ এক শিশুর উদ্ভট মনের প্রশ্ন। শিশুদের মনে জানার তীব্র আগ্রহ থাকে। সেখান থেকেই এমন কিছু প্রশ্ন মনের মধ্যে জন্ম নেয়, যা হয়তো তার বয়সী কারো মনে আসতে পারে না। রঞ্জু যেমন হুট করেই এমন এক চিন্তায় নিজেকে নিজেই কষ্ট দিচ্ছিল।
রঞ্জু অচিনপুরের এই বাড়িতে এসেছিল তার মায়ের হাত ধরে। সঙ্গে ছিল বড় বোন লিলি। আজ মা নেই। কিন্তু দুই ভাইবোন এখানে থিতু হয়ে গিয়েছে। মিশে গিয়েছে সবার সাথে। যদিও হীনমন্যতা এক ধরনের প্রভাবক। মা-বাবা বিহীন দুই শিশু নানা বাড়িতে বড় হচ্ছে। তাদের যত্নআত্তি ঠিকঠাক হওয়া সম্ভব না। বিভিন্ন সময়, অসময়ে নিজেদের উদ্বাস্তু মনে হলেও হতে পারে। এমন এক গল্পই আমাদের সামনে নিয়ে এসেছে রঞ্জু।
রঞ্জু এই গল্পের গল্পকথক। একজন এতিম শিশু যখন কারো আশ্রিত হয়ে জীবন কাটিয়ে দেয়, তার চিত্রই যেন ফুটে উঠেছে হুমায়ূন আহমেদের “অচিনপুর” উপন্যাসে।
হুমায়ূন আহমেদের এই লেখাটা বেশ ব্যতিক্রম। তার গল্প পরিচালনা, বাক্যের ধারাবাহিকতা ছিল দুর্দান্ত। প্রচলিত হুমায়ূন আহমেদের লেখনশৈলী না। পড়তে বেশ লেগেছে। হুমায়ূন আহমেদ তো শব্দ নিয়ে খেলতে পছন্দ করেন, তিনি এখানেই একই ধারা অব্যাহত রেখেছেন। তার এই শব্দের খেলায় কখনও ডুবে যেতে ইচ্ছে হয়। তখন “অচিনপুর”-এর মতো গল্পগুলো বারবার পড়া যায়।
রঞ্জুর মতো এক কিশোরের চোখ দিয়ে লেখক একান্নবর্তী পরিবারের আদ্যোপান্ত দেখানোর চেষ্টা করেছেন। যেখানে এক ধরনের ভ্রাতৃত্ববোধ থাকে। আবার মনোমালিন্যও লেগে থাকে। সব মিলিয়ে পরিপূর্ণ এক গ্রামীণ সমাজের প্রতিচ্ছবি। যেখানে দুই এতিম শিশু অস্তিত্ব সংকটে ভোগে। আর এ কারণেই হয়তো লিলি নিজেকে ভাইয়ের একমাত্র অভিভাবক হিসেবে পোক্ত করতে চায়। তার ধারণা সবাই তাদের ঠিকঠাক মূল্য দিচ্ছে না। না দিতে চাইলে আদায় করে নিতে হবে। এই তো সমাজের রীতি। নিজের যখন কেউ থাকে না, তখন নিজেকেই নিজেদের ভালো দিকটা বুঝতে হবে।
এই গল্পে রঞ্জুর দুই মামা ভীষণ গুরুত্বপুর্ণ। বাদশা মামা ও নবু মামা। বাদশা নিজেকে একজন যাত্রাপালার অভিনেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে। কিন্তু সম্ভ্রান্ত পরিবারের সন্তান এমনভাবে যাত্রাপালা করবে, সেটা কী করে মেনে নেওয়া যায়? আর নবু বয়সে ছোট। রঞ্জুর সাথেই বড় হচ্ছে সে।
সংসারের কর্তার ভাবগাম্ভীর্যে সবাই তটস্থ থাকে। কেউ তার সামনে ঠিকঠাক কথা বলতে পারে না। রঞ্জুর ইচ্ছা করে নানার সাথে গল্প করবে। নানার হাত ধরে হাটবে। কিন্তু সাহসে কুলায় না। তৎকালীন সময়ের এক চিত্র ফুটিয়ে তুলেছেন লেখক। ভোর হওয়ার সাথে ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলা, নামাজ কালাম পড়া, কোরআন তেলাওয়াত করা প্রতিটি পরিবারের রেওয়াজ। হুমায়ূন আহমেদের লেখায় তা যেন ফুটে উঠেছে। অনেকেই হুমায়ূন আহমেদকে নাস্তিক বলেন। হয়তো তিনি তা-ই। কিন্তু আমি কখনও কোনো বইয়ে লেখককে ইসলাম ধর্মকে অসম্মান করতে দেখিনি। বরং তিনি অত্যন্ত যথাযথভাবে ধর্মের উপস্থাপন করেছেন। সমাজ, পরিবার, ব্যক্তিগতভাবে ইসলামকে যেভাবে পালন করা যায়, তার চিত্র উড়িয়ে তুলেছেন।
সময়ের বেড়াজালে কোনো কিছুই আবদ্ধ থাকে না। একসময় বাদশার বিয়ে হয়। লিলিরও বিয়ে হয়। পরিবার থেকে চলে গেলে চোখের আড়াল। মনের আড়াল কি হতে পারে? হয়তো দৃশ্যপট থেকে হারিয়ে গেলে মনের আড়ালও হতে হয়। এখানে তাই লিলি গল্পের প্রয়োজনে হারিয়ে গিয়েছে। জায়গা করে নিয়েছে বাদশা মামার বউ, লাল মামী।
সংসারে টানাপোড়েন লেগেই থাকে। বউ যদি শাশুড়ির মন মতো না হয়, তাহলে নানান কথা শুনতে হয়। এ যেন সমাজের বিধান। আর গ্রামীণ পরিবেশে তা প্রকট আকারে দৃশ্যমান। একটি পরিবার মায়ার বাঁধনে বাঁধা পড়ে সন্তানের কারণে আর এখানে কোনো কিছু না হলে বন্ধন যেন ফিকে হয়ে যায়। লাল মামীর হারিয়ে যাওয়ার গল্প অনেক কিছুই ইঙ্গিত দেয়। তাছাড়া সমাজটা কত কুটিলতায় ভরপুর। তাই তো রঞ্জুর নানার জায়গাজমি সংক্রান্ত মামলায় জিততে চায় তাদেরই প্রতিপক্ষ। এ লড়াই শেষ হবার নয়। মন, শরীর ভেঙেচুরে সব শেষ করে দেয়। এই জাগতিক সংসারে জায়গা জমি যেন মূল আকর্ষণ। যেখানে হারতে হলেও ওই আখিরাতের লোভ হারানো উচিত নয়।
সব মিলিয়ে এই বইটি এক অন্যরকম অভিজ্ঞতা। এমন এক গল্প হয়তো আমাদের প্রাত্যহিক জীবনে অহরহ ঘটে। হয়তো সবগুলো ঘটনা একই পরিবারে একসাথে ঘটে না। কিন্তু এমন ভিন্ন ভিন্ন কিছু ঘটনার সূত্রপাত হলেও হতে পারে। তার সবটা জুড়ে দিয়ে এক পূর্ণাঙ্গ উপন্যাস গড়ে তোলা হুমায়ূন আহমেদকে দিয়েই সম্ভব। আমি শুধু উপভোগ করেছি গল্পের প্রকৃতি। লেখার মাধুর্যতার কারণে খুব অল্প সময়ে পড়ে ফেলা যায়। তারপর চরিত্রগুলো নিয়ে ভাবতে ভালো লাগে। কী হলো, কী হবে; এই ভাবনাগুলো পাঠকের মস্তিষ্কে ঢুকিয়ে দিতে পারতেন বলেই হুমায়ূন আহমেদ অনন্য।
স্কুল, কলেজে থাকতে আমরা অনেক জীবনচক্র নিয়ে পড়াশোনা করেছি। মশা, চিংড়ি, ঘাস ফড়িং… তাদের জীবন যেমন একটা চক্রে আবর্তিত হয়, মানুষের জীবনচক্রও যেন একইভাবে আবর্তিত হয়। এই চক্রে গল্পের একটা সুন্দর সমাপ্তি ঘটে। কিন্তু এই সমাপ্তি যেন নতুন কোনো জীবনের সূচনা। একদিন এই অচিনপুরের বাড়িতে দুই সন্তান নিয়ে কারো আবির্ভাবে যে গল্পের শুরু হয়েছিল, এক অনেক বছর পর নতুন কেউ একইভাবে আরেকটি গল্পের শুরু করতে প্রস্তুত।
তখন হয়তো আমাদের গল্পকথক, যাকে ঘিরে অচিনপুরের এক মায়াবী গল্পের সূত্রপাত, সেই রঞ্জুর বয়ানে স্বয়ং লেখক বলবেন — আমার গল্পটি ফুরালো, নটে গাছটি মুড়োলো। আর এভাবেই রঞ্জুর জায়গায় অন্য কেউ আসবে। তার গল্প কি বলবেন হুমায়ূন আহমেদ? না-কি রঞ্জুর মতো তিনিও ভাববেন, এখানে তাকে আর প্রয়োজন নেই।
▪️বই : অচিনপুর
▪️লেখক : হুমায়ূন আহমেদ
▪️প্রকাশনী : অন্যপ্রকাশ
▪️ব্যক্তিগত রেটিং : ৪.৫/৫
তার কল্পনাতে হয়তো পাঠকেরা বলে উঠেছিল — শুনব, শুনব! আলবৎ শুনব।
তিনি গল্প বলা শুরু করলেন। এমন এক ঘোরে নিয়ে গেলেন। সেখান থেকে আর বের হওয়ার উপায় রইলো না। একসময় গল্প শেষ হলো। নাকি, কোনো এক চক্রের সমাপ্তি হলো। অথবা জীবনের এই চক্রে নতুন গল্পের সূত্রপাত হলো! এই নিয়ে বিতর্ক করা যায়। কিন্তু হুমায়ূন আহমেদ যখন অচিনপুরের গল্প বলা থামিয়ে দিলেন, আমাদের কল্পনায়, মস্তিষ্কে কেবলই অচিনপুর। যে অচিনপুরে অশরীরী হিসেবে একটু ঘুরে এসেছিলাম। রঞ্জু, নবু মামা, বাদশা মানা, লাল মামী, লিলিদের সাথে এক যাত্রায় শামিল হয়েছিলাম।
মরবার পর কী হয়? — গল্পের শুরুটা হয় এমনকি বাক্য দিয়ে। যা মনে হতে পারে কোনো আধ্যাত্মিক গল্পের সূচনা। কিন্তু না, এ এক শিশুর উদ্ভট মনের প্রশ্ন। শিশুদের মনে জানার তীব্র আগ্রহ থাকে। সেখান থেকেই এমন কিছু প্রশ্ন মনের মধ্যে জন্ম নেয়, যা হয়তো তার বয়সী কারো মনে আসতে পারে না। রঞ্জু যেমন হুট করেই এমন এক চিন্তায় নিজেকে নিজেই কষ্ট দিচ্ছিল।
রঞ্জু অচিনপুরের এই বাড়িতে এসেছিল তার মায়ের হাত ধরে। সঙ্গে ছিল বড় বোন লিলি। আজ মা নেই। কিন্তু দুই ভাইবোন এখানে থিতু হয়ে গিয়েছে। মিশে গিয়েছে সবার সাথে। যদিও হীনমন্যতা এক ধরনের প্রভাবক। মা-বাবা বিহীন দুই শিশু নানা বাড়িতে বড় হচ্ছে। তাদের যত্নআত্তি ঠিকঠাক হওয়া সম্ভব না। বিভিন্ন সময়, অসময়ে নিজেদের উদ্বাস্তু মনে হলেও হতে পারে। এমন এক গল্পই আমাদের সামনে নিয়ে এসেছে রঞ্জু।
রঞ্জু এই গল্পের গল্পকথক। একজন এতিম শিশু যখন কারো আশ্রিত হয়ে জীবন কাটিয়ে দেয়, তার চিত্রই যেন ফুটে উঠেছে হুমায়ূন আহমেদের “অচিনপুর” উপন্যাসে।
হুমায়ূন আহমেদের এই লেখাটা বেশ ব্যতিক্রম। তার গল্প পরিচালনা, বাক্যের ধারাবাহিকতা ছিল দুর্দান্ত। প্রচলিত হুমায়ূন আহমেদের লেখনশৈলী না। পড়তে বেশ লেগেছে। হুমায়ূন আহমেদ তো শব্দ নিয়ে খেলতে পছন্দ করেন, তিনি এখানেই একই ধারা অব্যাহত রেখেছেন। তার এই শব্দের খেলায় কখনও ডুবে যেতে ইচ্ছে হয়। তখন “অচিনপুর”-এর মতো গল্পগুলো বারবার পড়া যায়।
রঞ্জুর মতো এক কিশোরের চোখ দিয়ে লেখক একান্নবর্তী পরিবারের আদ্যোপান্ত দেখানোর চেষ্টা করেছেন। যেখানে এক ধরনের ভ্রাতৃত্ববোধ থাকে। আবার মনোমালিন্যও লেগে থাকে। সব মিলিয়ে পরিপূর্ণ এক গ্রামীণ সমাজের প্রতিচ্ছবি। যেখানে দুই এতিম শিশু অস্তিত্ব সংকটে ভোগে। আর এ কারণেই হয়তো লিলি নিজেকে ভাইয়ের একমাত্র অভিভাবক হিসেবে পোক্ত করতে চায়। তার ধারণা সবাই তাদের ঠিকঠাক মূল্য দিচ্ছে না। না দিতে চাইলে আদায় করে নিতে হবে। এই তো সমাজের রীতি। নিজের যখন কেউ থাকে না, তখন নিজেকেই নিজেদের ভালো দিকটা বুঝতে হবে।
এই গল্পে রঞ্জুর দুই মামা ভীষণ গুরুত্বপুর্ণ। বাদশা মামা ও নবু মামা। বাদশা নিজেকে একজন যাত্রাপালার অভিনেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে। কিন্তু সম্ভ্রান্ত পরিবারের সন্তান এমনভাবে যাত্রাপালা করবে, সেটা কী করে মেনে নেওয়া যায়? আর নবু বয়সে ছোট। রঞ্জুর সাথেই বড় হচ্ছে সে।
সংসারের কর্তার ভাবগাম্ভীর্যে সবাই তটস্থ থাকে। কেউ তার সামনে ঠিকঠাক কথা বলতে পারে না। রঞ্জুর ইচ্ছা করে নানার সাথে গল্প করবে। নানার হাত ধরে হাটবে। কিন্তু সাহসে কুলায় না। তৎকালীন সময়ের এক চিত্র ফুটিয়ে তুলেছেন লেখক। ভোর হওয়ার সাথে ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলা, নামাজ কালাম পড়া, কোরআন তেলাওয়াত করা প্রতিটি পরিবারের রেওয়াজ। হুমায়ূন আহমেদের লেখায় তা যেন ফুটে উঠেছে। অনেকেই হুমায়ূন আহমেদকে নাস্তিক বলেন। হয়তো তিনি তা-ই। কিন্তু আমি কখনও কোনো বইয়ে লেখককে ইসলাম ধর্মকে অসম্মান করতে দেখিনি। বরং তিনি অত্যন্ত যথাযথভাবে ধর্মের উপস্থাপন করেছেন। সমাজ, পরিবার, ব্যক্তিগতভাবে ইসলামকে যেভাবে পালন করা যায়, তার চিত্র উড়িয়ে তুলেছেন।
সময়ের বেড়াজালে কোনো কিছুই আবদ্ধ থাকে না। একসময় বাদশার বিয়ে হয়। লিলিরও বিয়ে হয়। পরিবার থেকে চলে গেলে চোখের আড়াল। মনের আড়াল কি হতে পারে? হয়তো দৃশ্যপট থেকে হারিয়ে গেলে মনের আড়ালও হতে হয়। এখানে তাই লিলি গল্পের প্রয়োজনে হারিয়ে গিয়েছে। জায়গা করে নিয়েছে বাদশা মামার বউ, লাল মামী।
সংসারে টানাপোড়েন লেগেই থাকে। বউ যদি শাশুড়ির মন মতো না হয়, তাহলে নানান কথা শুনতে হয়। এ যেন সমাজের বিধান। আর গ্রামীণ পরিবেশে তা প্রকট আকারে দৃশ্যমান। একটি পরিবার মায়ার বাঁধনে বাঁধা পড়ে সন্তানের কারণে আর এখানে কোনো কিছু না হলে বন্ধন যেন ফিকে হয়ে যায়। লাল মামীর হারিয়ে যাওয়ার গল্প অনেক কিছুই ইঙ্গিত দেয়। তাছাড়া সমাজটা কত কুটিলতায় ভরপুর। তাই তো রঞ্জুর নানার জায়গাজমি সংক্রান্ত মামলায় জিততে চায় তাদেরই প্রতিপক্ষ। এ লড়াই শেষ হবার নয়। মন, শরীর ভেঙেচুরে সব শেষ করে দেয়। এই জাগতিক সংসারে জায়গা জমি যেন মূল আকর্ষণ। যেখানে হারতে হলেও ওই আখিরাতের লোভ হারানো উচিত নয়।
সব মিলিয়ে এই বইটি এক অন্যরকম অভিজ্ঞতা। এমন এক গল্প হয়তো আমাদের প্রাত্যহিক জীবনে অহরহ ঘটে। হয়তো সবগুলো ঘটনা একই পরিবারে একসাথে ঘটে না। কিন্তু এমন ভিন্ন ভিন্ন কিছু ঘটনার সূত্রপাত হলেও হতে পারে। তার সবটা জুড়ে দিয়ে এক পূর্ণাঙ্গ উপন্যাস গড়ে তোলা হুমায়ূন আহমেদকে দিয়েই সম্ভব। আমি শুধু উপভোগ করেছি গল্পের প্রকৃতি। লেখার মাধুর্যতার কারণে খুব অল্প সময়ে পড়ে ফেলা যায়। তারপর চরিত্রগুলো নিয়ে ভাবতে ভালো লাগে। কী হলো, কী হবে; এই ভাবনাগুলো পাঠকের মস্তিষ্কে ঢুকিয়ে দিতে পারতেন বলেই হুমায়ূন আহমেদ অনন্য।
স্কুল, কলেজে থাকতে আমরা অনেক জীবনচক্র নিয়ে পড়াশোনা করেছি। মশা, চিংড়ি, ঘাস ফড়িং… তাদের জীবন যেমন একটা চক্রে আবর্তিত হয়, মানুষের জীবনচক্রও যেন একইভাবে আবর্তিত হয়। এই চক্রে গল্পের একটা সুন্দর সমাপ্তি ঘটে। কিন্তু এই সমাপ্তি যেন নতুন কোনো জীবনের সূচনা। একদিন এই অচিনপুরের বাড়িতে দুই সন্তান নিয়ে কারো আবির্ভাবে যে গল্পের শুরু হয়েছিল, এক অনেক বছর পর নতুন কেউ একইভাবে আরেকটি গল্পের শুরু করতে প্রস্তুত।
তখন হয়তো আমাদের গল্পকথক, যাকে ঘিরে অচিনপুরের এক মায়াবী গল্পের সূত্রপাত, সেই রঞ্জুর বয়ানে স্বয়ং লেখক বলবেন — আমার গল্পটি ফুরালো, নটে গাছটি মুড়োলো। আর এভাবেই রঞ্জুর জায়গায় অন্য কেউ আসবে। তার গল্প কি বলবেন হুমায়ূন আহমেদ? না-কি রঞ্জুর মতো তিনিও ভাববেন, এখানে তাকে আর প্রয়োজন নেই।
▪️বই : অচিনপুর
▪️লেখক : হুমায়ূন আহমেদ
▪️প্রকাশনী : অন্যপ্রকাশ
▪️ব্যক্তিগত রেটিং : ৪.৫/৫
May 24, 2025
এই বইটা হচ্ছে বর্ষামুখর দুপুরে গ্রামের বাড়িতে বসে পড়ার মতো বই। শঙ্খনীল কারাগার, নন্দিত নরকে- বইগুলোর মতো একটা ভাইব দিলো বইটা৷ অথচ, ঐ বইগুলোর মতো তেমন আলোচনা হয়না 'অচিনপুর'কে নিয়ে। কেনো?
খুব ছোট একটা বই। অথচ এর মধ্যে প্রায় এক যুগের গল্প লিখে দিয়েছেন লেখক। কোনো তাড়াহুড়ো নেই, লেখায় বাহুল্য নেই। গল্প চলেছে স্মুথলি। ১৯৯০ এর আগের হুমায়ূন আসলেই অন্য লেভেলের ছিলেন। গ্রামীন পটভূমিতে লেখা বইগুলোর মধ্যে এটা প্রিয় বইয়ের তালিকায় স্থান করে নিলো।
খুব ছোট একটা বই। অথচ এর মধ্যে প্রায় এক যুগের গল্প লিখে দিয়েছেন লেখক। কোনো তাড়াহুড়ো নেই, লেখায় বাহুল্য নেই। গল্প চলেছে স্মুথলি। ১৯৯০ এর আগের হুমায়ূন আসলেই অন্য লেভেলের ছিলেন। গ্রামীন পটভূমিতে লেখা বইগুলোর মধ্যে এটা প্রিয় বইয়ের তালিকায় স্থান করে নিলো।
April 24, 2022
হুমায়ুন আহমেদ এর আরেক বিষাদময়, মন খারাপ করা অসাধারণ গল্প
November 12, 2022
অচিনপুরে ধন দৌলতে ভরা একটা পরিবার আস্তে আস্তে শেষ হয়ে যায়, তার সমস্ত চিত্র ফুটে উঠেছে রঞ্জুর মাধ্যমে।
পিতামাতাহীন লিলি আর রঞ্জু তার নানাজানের এই পরিবারে ঠাই পায় ছোটবেলায়। কত হাজার ছোটো বড় গল্প তারা পার করেছে।
হাসি, কান্না, হই হুল্লোড় হুট করে যেনো শেষ হয়ে যায়, যে স্মৃতি টুকু থেকে যায় সেটাও মনে করতে ইচ্ছা করে না, কি এক আজব ব্যাপার! কোনো কিছুই ফিরেও পাওয়ার নই।
"সময়ের সাথে সাথে দুঃখ বদলে হয়ে যায় সুখ, আর সুখ বদলে হয়ে যায় দুঃখ", আহা কি সুন্দর বই!
রেটিংঃ ৫/৫
১২ নভেম্বর, ২০২২
পিতামাতাহীন লিলি আর রঞ্জু তার নানাজানের এই পরিবারে ঠাই পায় ছোটবেলায়। কত হাজার ছোটো বড় গল্প তারা পার করেছে।
হাসি, কান্না, হই হুল্লোড় হুট করে যেনো শেষ হয়ে যায়, যে স্মৃতি টুকু থেকে যায় সেটাও মনে করতে ইচ্ছা করে না, কি এক আজব ব্যাপার! কোনো কিছুই ফিরেও পাওয়ার নই।
"সময়ের সাথে সাথে দুঃখ বদলে হয়ে যায় সুখ, আর সুখ বদলে হয়ে যায় দুঃখ", আহা কি সুন্দর বই!
রেটিংঃ ৫/৫
১২ নভেম্বর, ২০২২
January 16, 2023
কিছুদিন আগে নিয়ত করেছিলাম হুমায়ুন আহমেদের আর কোনো বই পড়ব না।উনার মধ্যাহ্ন উপন্যাসের ১ম খন্ড পাঠের পর তেমনই বিচ্ছিরি অভিজ্ঞতা হয়েছিল।কিন্তু গুডরিডসের দৌলতে উনার এই বইটার সম্পর্কে ভালো মতামত জানার পর অডিও বুক ডাউনলোড দিয়ে শুনতে আরম্ভ করলাম।
শুনতে শুনতে যেন কোন অজানা জগতে হারিয়ে গিয়েছিলাম। ভীষণ ভালো লেগেছে বইটা।
চেনা ঘটনা গুলোই কেমন বিষণ্নটায় ফুঁটে উঠেছে।
শুনতে শুনতে যেন কোন অজানা জগতে হারিয়ে গিয়েছিলাম। ভীষণ ভালো লেগেছে বইটা।
চেনা ঘটনা গুলোই কেমন বিষণ্নটায় ফুঁটে উঠেছে।
This entire review has been hidden because of spoilers.
June 13, 2022
এ যেন এক বিষন্নতার উপাখ্যান।
January 13, 2024
ছোট্ট বই। এক বাসাতে শেষ করা যায়। অনেক বছর পর হুমায়ূন আহমদের লেখা পড়লাম। মনটন খারাপ থাকলে পড়তে ভালোই লাগে।
June 26, 2024
বুধবার, ২৬ জুন
বিকেল ০৪:৩৪।
"সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সুখ বদলে গিয়ে দুঃখ হয়ে যায়। দুঃখ হয় সুখ। জীবনের প্রবল দুঃখ ও বেদনার ঘটনাগুলি মনে পড়লে আজ আমার ভালো লাগে। প্রাচীন সুখের স্মৃতিতে বুক বেদনায় ভারাক্রান্ত হয়।"
শেষ করলাম আমার প্রিয় লেখক হুমায়ূন আহমেদের লিখা বই "অচিনপুর"। অচিনপুর একটা ছোট্ট উপন্যাস। এক বসাতেই শেষ করা সম্ভব। যদিও কাজের চাপে আর একইসাথে ২/৩ টা বই পড়ার বদৌলতে বেশ কয়েকদিন লেগেই গেলো। অবশেষে, আজ বিকেলে শেষ করলাম বইটা।
গল্পটা মূলত রঞ্জুর। যে বড় হয়েছে তার নানাবাড়িতে। নানাবাড়ির প্রত্যেকটা মানুষের সাথে জড়িয়ে রয়েছে তার অনেক স্মৃতি। গভীর মমতা দিয়ে ঘেরা ফেলে আসা পরিবারের সকল স্মৃতিগুলোই সে স্মৃতিচারণ করেছে এই উপন্যাসে।
হুমায়ূন আহমেদের লেখাগুলার মধ্যে একটা পরিচিত প্যাটার্ন পাওয়া যায়। বিষণ্ণতা-সুখের মিশ্রণ দিয়ে লিখে যান তিনি। এই জন্য তার বইগুলার প্রতি একটা আলাদা টান পাওয়া যায়। দু:খজনক হলেও সত্যি যে এই বইটা পড়ে আমি সেরকম বিশেষ কোনো টান অনুভব করতে পারিনি। হয়তো ভীষণ ছোট বলে। কি জানি! হতে পারে। তবে, আমার মনে হয়েছে হুমায়ূন আহমেদের এর চাইতেও ঢের বিষণ্ণ উপন্যাস আছে।
সবমিলিয়ে, এভারেজ।
বিকেল ০৪:৩৪।
"সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সুখ বদলে গিয়ে দুঃখ হয়ে যায়। দুঃখ হয় সুখ। জীবনের প্রবল দুঃখ ও বেদনার ঘটনাগুলি মনে পড়লে আজ আমার ভালো লাগে। প্রাচীন সুখের স্মৃতিতে বুক বেদনায় ভারাক্রান্ত হয়।"
শেষ করলাম আমার প্রিয় লেখক হুমায়ূন আহমেদের লিখা বই "অচিনপুর"। অচিনপুর একটা ছোট্ট উপন্যাস। এক বসাতেই শেষ করা সম্ভব। যদিও কাজের চাপে আর একইসাথে ২/৩ টা বই পড়ার বদৌলতে বেশ কয়েকদিন লেগেই গেলো। অবশেষে, আজ বিকেলে শেষ করলাম বইটা।
গল্পটা মূলত রঞ্জুর। যে বড় হয়েছে তার নানাবাড়িতে। নানাবাড়ির প্রত্যেকটা মানুষের সাথে জড়িয়ে রয়েছে তার অনেক স্মৃতি। গভীর মমতা দিয়ে ঘেরা ফেলে আসা পরিবারের সকল স্মৃতিগুলোই সে স্মৃতিচারণ করেছে এই উপন্যাসে।
হুমায়ূন আহমেদের লেখাগুলার মধ্যে একটা পরিচিত প্যাটার্ন পাওয়া যায়। বিষণ্ণতা-সুখের মিশ্রণ দিয়ে লিখে যান তিনি। এই জন্য তার বইগুলার প্রতি একটা আলাদা টান পাওয়া যায়। দু:খজনক হলেও সত্যি যে এই বইটা পড়ে আমি সেরকম বিশেষ কোনো টান অনুভব করতে পারিনি। হয়তো ভীষণ ছোট বলে। কি জানি! হতে পারে। তবে, আমার মনে হয়েছে হুমায়ূন আহমেদের এর চাইতেও ঢের বিষণ্ণ উপন্যাস আছে।
সবমিলিয়ে, এভারেজ।
December 18, 2023
" ডিসেম্বর "
মাসটা জুড়ে পড়ে আছি বিছানায়। কাজ নাই, সারাদিন শুয়ে থাকি।
অথচ এমাসে আমার তেমন বই পড়া হয় নাই। এত এত সময়, অথচ আমি... জানি না কি করি, তবে একাধিক বই মাথার কাছে নিয়ে ঘুমাই। কখন মন চাইলে একটা বই খুলে কয়েক পৃষ্ঠা পড়ি তবে শেষ করতে পারি না৷
অন্যমনস্ক হয়ে, প্লে স্টোর থেকে "হুমায়ুন আহমেদ সমগ্র" নামের এপ্লিকেশনটা নামাই। আপাতত হুমায়ুন আহমদের বই কিনে পড়ার মতন অবস্থা আমার নাই। তাই, যা কোন কালেও করি নাই, i mean PDF দেখে পড়া, সেটা এবার করেই ফেললাম।
ছোট্ট আমার জীবন, সবকিছুর স্বাদ নিব এ জীবনে।
"আমার ভাঙা ঘরে চাঁদের আলো ; তোরে আমি কোথায় রাখি বল"
২০০২ সালে প্রকাশিত, হুমায়ুন আহমেদের "অচিনপুর"। " নন্দিত নরকে", "শঙ্খনীল কারাগার" এর মতন পারিবারিক গল্পকে নিয়ে লেখা অচিনপুর৷
হুমায়ুন আহমেদের প্রথম লেখাগুলার মাঝে এটিও একটি। হুমায়ুন আহমেদ গাড় মমতা দিয়ে বইটা লিখেছেন। বইটা পড়া শুরু করার পর, আমার আর খেয়াল নাই কিছু, বিকাল গড়িয়ে সন্ধ্যা হয়ে গেল, বইটা শেষ করে খানিক সময় নিস্তব্ধ হয়ে বসে ছিলাম। কি অসাধারণ ছিল। আমি আমার কল্পনার চোখে সব দেখেছি, আর আমাকে মানসিক ভাবে অনেক... জানিনা কি বলা যেতে পারে। আনন্দিত, বিমর্ষ করেছে উপন্যাসটি।
আমি বইটার চরিএ গুলার প্রতি মোহ কাটাতে পারছি না তাই বেশি বাড়ায় লিখতে গেলাম না, তবে পচ্ছন্দের তালিকায় এটা ৫★ দিয়ে রেখেছি।
আল্লাহ আমাকে তৌফিক দিক, আমি হুমায়ুন আহমদের সবগুলো বই হার্ডকভার কিনে পড়তে চাই... সে দিন আসবে কবে ?
তৃতীয়বার পড়া শেষে...
৩১ জানুয়ারি ২০২৫
যখন কেউ জিগ্যেস করে, ফুয়াদ তোর সবচেয়ে প্রিয় কয়টা বইয়ের নাম বল তো! আমি সবসময়ই সেই লিস্টে একটা নাম উল্লেখ করতে কখনো ভুলি না। নামটা হল, "অচিনপুর"।
হুমায়ূন আহমেদ জীবনকালে প্রচুর সংখ্যক লিখেছেন তবে তার শুরুর লেখা গুলা ছিল এক একটা হীরার টুকরা। অচিনপুর, হুমায়ূন আহমেদের লেখা তৃতীয় বই।
বইটা আমি প্রথম পড়েছিলাম, ২০২৪ এর জানুয়ারি মাসে, ঠিক একবছর আগে। পড়েছিলাম বললে হয়ত কিছুটা ভুল হবে, অডিওবুক শুনেছিলাম। গল্পকথন By কল্লোল এর কল্লোল ভাইয়ের গলায় সম্পূর্ণ গল্পটা শুনেছিলাম সাংঘাতিক কষ্টের মাঝে। আসলে গল্পের কষ্টের চেয়ে বেশি কষ্ট ছিল আমার শারীরিক কারণ পা ভেঙে বসে আছি। সারাদিন শুয়ে থাকি বিছানায়, সেই অবস্থায়ই এই মাস্টারপিসটা শুনি।
বইটা আমায় এত এত এত বেশি মুগ্ধ করেছিল, আমি এরপর আরো একবার শুনি তবে এবার সাথে পিডিএফ ও ছিল। একই সাথে দুইটা। অতঃপর মনে মনে ঠিক করি এই বইটা অবশ্যই অবশ্যই আমি সংগ্রহে রাখব। তবে কোন এক অজানা কারণে বইটা কেনা হতো না, কিন্তু নভেম্বরে বইটা কিনে ফেলি এবং পরীক্ষার ঝামেলা ঘুচিয়ে অবশেষে, জানুয়ারি মাসে অর্থাৎ ঠিক এক বছর পর আবার পড়ি। এবং এবার হার্ডকভার হাতে নিয়ে।
এই দীর্ঘ সময়ে, বইটার প্রতি আমার অনুভূতি এক ইঞ্চি ও কমে নাই। একটা বই এতটা সুন্দর কিভাবে হয়, আমার জানা নাই।
বইটা কেন আমার এত প্রিয়? well, আমার অচিনপুরের রঞ্জুর নানা বাসার সাথে নিজের নানু বাসার অনেকাংশে মিল খুজে পাই। ছোটবেলায় নানুবাসায় অনেক স্মৃতি আছে যা এই বইটা পড়ার সময় বার বার মনে পড়ে যায়। আর এই উপন্যাসটায় এতত সুন্দর করে হুমায়ূন আহমেদ সবকিছু বর্ণনা করেছেন আমি গল্পের প্রতিটা ক্যারেক্টার কে অনুভব করতে পারছিলাম। আমার মতে এখানে সবাইকে সমান করে গড়ে তুলেছেন লেখক। কাওকে এক ইঞ্চি বাড়িয়ে কমিয়ে উপস্থাপন করা হয় নাই। কেন জানি আমার নিজেকে বারবার রঞ্জু বলে মনে হচ্ছিল। নবু মামা, বাদশা মামা, এলাচী মামী, নানী, নানা, কানাবিবি, মোহরের মা সবাইকে যেন আমি কত কত বছর ধরে চিনি।
যখন বইটা শেষ হয়, বিশ্বাস করুন, আমি সবসময়ই একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলি, কেন শেষ হলো..এত কী তাড়া ছিল, আরেকটু বড় কেন হল না। উপন্যাসের শেষ মুহুর্তে বাদশা মামার জন্য এত খারাপ লাগছিল আমার, মন চাচ্ছিল তাকে যদি জড়িয়ে ধরে কিছু মুহুর্ত থাকতে পারতাম।
উপন্যাসের শেষ মুহুর্তে লেখক দুইটা গানের লাইন যুক্ত করেছেন।
"আমার ভাঙ্গা ঘরে চাঁদের আলো,
তোরে আমি কোথায় রাখি বল। "
এই দুইটা লাইনের মাঝেও কোন এক নিঃসঙ্গতা রয়েছে ঢ়া আমায় বার বার কুড়ে কুড়ে খাচ্ছিল...
বইটা এতত নিঃসঙ্গতায় ভরা কেন? আর একটা বই এতটা সুন্দর কিভাবে হতে পারে?
মাসটা জুড়ে পড়ে আছি বিছানায়। কাজ নাই, সারাদিন শুয়ে থাকি।
অথচ এমাসে আমার তেমন বই পড়া হয় নাই। এত এত সময়, অথচ আমি... জানি না কি করি, তবে একাধিক বই মাথার কাছে নিয়ে ঘুমাই। কখন মন চাইলে একটা বই খুলে কয়েক পৃষ্ঠা পড়ি তবে শেষ করতে পারি না৷
অন্যমনস্ক হয়ে, প্লে স্টোর থেকে "হুমায়ুন আহমেদ সমগ্র" নামের এপ্লিকেশনটা নামাই। আপাতত হুমায়ুন আহমদের বই কিনে পড়ার মতন অবস্থা আমার নাই। তাই, যা কোন কালেও করি নাই, i mean PDF দেখে পড়া, সেটা এবার করেই ফেললাম।
ছোট্ট আমার জীবন, সবকিছুর স্বাদ নিব এ জীবনে।
"আমার ভাঙা ঘরে চাঁদের আলো ; তোরে আমি কোথায় রাখি বল"
২০০২ সালে প্রকাশিত, হুমায়ুন আহমেদের "অচিনপুর"। " নন্দিত নরকে", "শঙ্খনীল কারাগার" এর মতন পারিবারিক গল্পকে নিয়ে লেখা অচিনপুর৷
হুমায়ুন আহমেদের প্রথম লেখাগুলার মাঝে এটিও একটি। হুমায়ুন আহমেদ গাড় মমতা দিয়ে বইটা লিখেছেন। বইটা পড়া শুরু করার পর, আমার আর খেয়াল নাই কিছু, বিকাল গড়িয়ে সন্ধ্যা হয়ে গেল, বইটা শেষ করে খানিক সময় নিস্তব্ধ হয়ে বসে ছিলাম। কি অসাধারণ ছিল। আমি আমার কল্পনার চোখে সব দেখেছি, আর আমাকে মানসিক ভাবে অনেক... জানিনা কি বলা যেতে পারে। আনন্দিত, বিমর্ষ করেছে উপন্যাসটি।
আমি বইটার চরিএ গুলার প্রতি মোহ কাটাতে পারছি না তাই বেশি বাড়ায় লিখতে গেলাম না, তবে পচ্ছন্দের তালিকায় এটা ৫★ দিয়ে রেখেছি।
আল্লাহ আমাকে তৌফিক দিক, আমি হুমায়ুন আহমদের সবগুলো বই হার্ডকভার কিনে পড়তে চাই... সে দিন আসবে কবে ?
তৃতীয়বার পড়া শেষে...
৩১ জানুয়ারি ২০২৫
যখন কেউ জিগ্যেস করে, ফুয়াদ তোর সবচেয়ে প্রিয় কয়টা বইয়ের নাম বল তো! আমি সবসময়ই সেই লিস্টে একটা নাম উল্লেখ করতে কখনো ভুলি না। নামটা হল, "অচিনপুর"।
হুমায়ূন আহমেদ জীবনকালে প্রচুর সংখ্যক লিখেছেন তবে তার শুরুর লেখা গুলা ছিল এক একটা হীরার টুকরা। অচিনপুর, হুমায়ূন আহমেদের লেখা তৃতীয় বই।
বইটা আমি প্রথম পড়েছিলাম, ২০২৪ এর জানুয়ারি মাসে, ঠিক একবছর আগে। পড়েছিলাম বললে হয়ত কিছুটা ভুল হবে, অডিওবুক শুনেছিলাম। গল্পকথন By কল্লোল এর কল্লোল ভাইয়ের গলায় সম্পূর্ণ গল্পটা শুনেছিলাম সাংঘাতিক কষ্টের মাঝে। আসলে গল্পের কষ্টের চেয়ে বেশি কষ্ট ছিল আমার শারীরিক কারণ পা ভেঙে বসে আছি। সারাদিন শুয়ে থাকি বিছানায়, সেই অবস্থায়ই এই মাস্টারপিসটা শুনি।
বইটা আমায় এত এত এত বেশি মুগ্ধ করেছিল, আমি এরপর আরো একবার শুনি তবে এবার সাথে পিডিএফ ও ছিল। একই সাথে দুইটা। অতঃপর মনে মনে ঠিক করি এই বইটা অবশ্যই অবশ্যই আমি সংগ্রহে রাখব। তবে কোন এক অজানা কারণে বইটা কেনা হতো না, কিন্তু নভেম্বরে বইটা কিনে ফেলি এবং পরীক্ষার ঝামেলা ঘুচিয়ে অবশেষে, জানুয়ারি মাসে অর্থাৎ ঠিক এক বছর পর আবার পড়ি। এবং এবার হার্ডকভার হাতে নিয়ে।
এই দীর্ঘ সময়ে, বইটার প্রতি আমার অনুভূতি এক ইঞ্চি ও কমে নাই। একটা বই এতটা সুন্দর কিভাবে হয়, আমার জানা নাই।
বইটা কেন আমার এত প্রিয়? well, আমার অচিনপুরের রঞ্জুর নানা বাসার সাথে নিজের নানু বাসার অনেকাংশে মিল খুজে পাই। ছোটবেলায় নানুবাসায় অনেক স্মৃতি আছে যা এই বইটা পড়ার সময় বার বার মনে পড়ে যায়। আর এই উপন্যাসটায় এতত সুন্দর করে হুমায়ূন আহমেদ সবকিছু বর্ণনা করেছেন আমি গল্পের প্রতিটা ক্যারেক্টার কে অনুভব করতে পারছিলাম। আমার মতে এখানে সবাইকে সমান করে গড়ে তুলেছেন লেখক। কাওকে এক ইঞ্চি বাড়িয়ে কমিয়ে উপস্থাপন করা হয় নাই। কেন জানি আমার নিজেকে বারবার রঞ্জু বলে মনে হচ্ছিল। নবু মামা, বাদশা মামা, এলাচী মামী, নানী, নানা, কানাবিবি, মোহরের মা সবাইকে যেন আমি কত কত বছর ধরে চিনি।
যখন বইটা শেষ হয়, বিশ্বাস করুন, আমি সবসময়ই একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলি, কেন শেষ হলো..এত কী তাড়া ছিল, আরেকটু বড় কেন হল না। উপন্যাসের শেষ মুহুর্তে বাদশা মামার জন্য এত খারাপ লাগছিল আমার, মন চাচ্ছিল তাকে যদি জড়িয়ে ধরে কিছু মুহুর্ত থাকতে পারতাম।
উপন্যাসের শেষ মুহুর্তে লেখক দুইটা গানের লাইন যুক্ত করেছেন।
"আমার ভাঙ্গা ঘরে চাঁদের আলো,
তোরে আমি কোথায় রাখি বল। "
এই দুইটা লাইনের মাঝেও কোন এক নিঃসঙ্গতা রয়েছে ঢ়া আমায় বার বার কুড়ে কুড়ে খাচ্ছিল...
বইটা এতত নিঃসঙ্গতায় ভরা কেন? আর একটা বই এতটা সুন্দর কিভাবে হতে পারে?
February 7, 2022
চেনা হুমায়ূন বরাবরের মতই স্বাচ্ছন্দ্যে লিখেছেন। শিশু কিশোরদের মনে পারিপার্শ্বিকতার প্রভাবের মনোমুগ্ধকর বর্ণনা পাওয়া যায়। ইতিবাচক সমাপ্তি যা সচরাচর দেখা যায় না হুমায়ুন এর বইয়ে। এক নিঃশ্বাসে পড়ে ফেলার মত সুখপাঠ্য উপন্যাস।
April 27, 2022
সম্প্রতি #reread দিলাম। অনেক বই সময়ের সাথে সাথে গ্রো অন করে। তবে এই বইটা করেনি। আবেগে মাখা নেশাতুর লেখার জন্য পড়া যায়। তবে এটা তার সেরা কাজগুলোর একটা কিংবা অবশ্যপাঠ্য লাগেনি। গ্রামীণ পরিবেশে যৌথ পরিবারের নস্টালজিয়ার সাথে আমি ঠিক পরিচিত না। এটার সাথে রিলেট করতে পারিনি তাই।
January 18, 2019
অদ্ভুত সুন্দর বই বললেও কম হবে । আমার ভালো লাগা একমাত্র বই যেটা বারবার পড়লেও তৃষ্ণা মেটে না। কিছু কিছু বইয়ের রিভিউ হয়না, এট তেমনি একটা বই।
July 20, 2020
হুমায়ূন আহমেদের এই বইটি আমাকে জীবনানন্দের বিষণ্ণ নির্জন জগতে নিয়ে যায়!
September 21, 2020
এ যেন এক অন্য হুমায়ূন.... এক অন্য ধরণের বিষাদের কাব্য
January 3, 2022
"অচিনপুর" খুব সাধারণ কিছু মানুষের গল্প। স্বল্প পরিসরে কথক রঞ্জু আর তার নানার বাড়ির গল্প।
রঞ্জুর বোনের মনে হতো তারা পরগাছা। খুব মায়া-মমতায় বড়ো না হলেও, অত্যাচারের কোন কথা পাওয়া যায় না। নবু মামা খেয়ালি মানুষ। তিনি বলতেন জোছনা নাকি হা করে খেতে হয়। বাদশা মামা শিল্পী মানুষ, লাল মামিকে আমি ঠিক বুঝে উঠতে পারিনি।
বাড়িটা কেমন যেনো ভুতুড়ে, গা ছমছম করে। আয়োজন করে দুঃখের কথা না লিখলেও বইটি জুড়ে আছে বিষণ্নতা। পড়লে মন খারাপ হয়।
আমার মনে হয়েছে, স্যার তার নিজের নানার বাড়ির অভিজ্ঞতা এখানে কাজে লাগিয়েছেন। বিশেষ করে জোছনা খাওয়ার বিষয়টি। তার নিজের নানার বাড়িতে আলাউদ্দিন নামে একজন ছিল, যিনি এই 'চান্নিপসর' স্যারের মাথায় ঢুকিয়ে দিয়েছেন।
পুরো জীবন জুড়ে যারা একসময় থাকে, সময় আর জীবনের প্রয়োজনে তাদের ছেড়ে চলেও যেতে হয়। সময়ই বলে দেয়, কখন যাওয়ার সময় হয়েছে।
রঞ্জুর বোনের মনে হতো তারা পরগাছা। খুব মায়া-মমতায় বড়ো না হলেও, অত্যাচারের কোন কথা পাওয়া যায় না। নবু মামা খেয়ালি মানুষ। তিনি বলতেন জোছনা নাকি হা করে খেতে হয়। বাদশা মামা শিল্পী মানুষ, লাল মামিকে আমি ঠিক বুঝে উঠতে পারিনি।
বাড়িটা কেমন যেনো ভুতুড়ে, গা ছমছম করে। আয়োজন করে দুঃখের কথা না লিখলেও বইটি জুড়ে আছে বিষণ্নতা। পড়লে মন খারাপ হয়।
আমার মনে হয়েছে, স্যার তার নিজের নানার বাড়ির অভিজ্ঞতা এখানে কাজে লাগিয়েছেন। বিশেষ করে জোছনা খাওয়ার বিষয়টি। তার নিজের নানার বাড়িতে আলাউদ্দিন নামে একজন ছিল, যিনি এই 'চান্নিপসর' স্যারের মাথায় ঢুকিয়ে দিয়েছেন।
পুরো জীবন জুড়ে যারা একসময় থাকে, সময় আর জীবনের প্রয়োজনে তাদের ছেড়ে চলেও যেতে হয়। সময়ই বলে দেয়, কখন যাওয়ার সময় হয়েছে।
Displaying 1 - 30 of 119 reviews































