কলকাতার কাছেই উপকণ্ঠে, পৌষ-ফাগুনের পালা - এই ট্রিলজি বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ সম্পদ। কথাসাহিত্যিক গজেন্দ্র কুমার মিত্রের সর্বোত্তম সাহিত্যসৃষ্টি। উনবিংশ শতাবিংশ শতাব্দীর শেষ ও বিংশ শতাব্দীর শুরু -এই রকম সময়ের পটভূমিতে এই ট্রিলজি কাহিনীর সূত্রপাত। কুলীন ব্রাহ্মণের বিধবা পত্নী রাসমণি ও তার তিনি কন্যার জীবন নিয়ে এই উপন্যাস-ত্রয়ীর কাহিনী শুরু। যদিও অধিকাংশ ক্ষেত্রে মধ্যমা শ্যামাকে কেন্দ্র করে কাহিনী আবর্তিত হয়েছে, তবু রাসমণির তিন কন্যার ক্রমবর্ধমান পরিবারের বিভিন্ন শাখা-প্রশাখার নরনারী বিভিন্ন ঘটনাসূত্রে কাহিনীতে অসাধারণ বৈচিত্রের সৃষ্টি করেছে এবং শেষ পর্যন্ত কাহিনীর অখন্ডতা লাভ করেছে। সংস্কারে সংস্কৃতিতে উন্নত অথবা নিদারুণ দারিদ্রক্লিষ্ট মধ্যবিত্ত সমাজের এই সব মানুষের ব্যক্তিগত ক্ষুদ্র স্বার্থ-সংকীর্ণতা, আশা-নিরাশা, ছোট বড়, সুখ দুঃখ. বিপদ আপদ সবকিছুর মধ্যদিয়েও তাদের অপরাজেয় জীবনাকোঙ্ক্ষার এবং জীবনযুদ্ধের এক নিটোল অনবদ্য কাহিনী শুনিয়েছেন লেখক যা আমরা আগে শুনিনি, আজকাল শোনা যায় না, অদূর আগামীকালে শুনব কিনা সন্দেহ। বাংলা উপন্যাস সাহিত্যের ইতিহাসে এই টিলজি নিঃসন্দেহে একটি দিকচিহৃ।
Gajendra Kumar Mitra was born on 11 November 1908. He was a versatile writer. He wrote many novels, short stories, plays, essays and poems. Mitra also translated a few English novels into Bengali, such as Dickens's A Tale of Two Cities. He used to write with his left hand. His genuine love and concern for Bengali literature inspired him to co-found the famous Mitra and Ghosh Publishers. Mitra was childless. He died on 16 October 1994 in Calcutta (now Kolkata).
Mr Mitra along with his friend Sumathanath Ghosh established Mitra & Ghosh Publishers on 9 March 1934. Novels: Kanta Prem Pānchajanya Rai Jāgo Rai Jāgo Kolkatar Kāchei (Translated as A Stone's Throw from Kolkata) Paush Phāguner Pālā Upakanthe Bahnibanyā Rātrir Tapashyā Pashaner Khuda
শেষ হলো এক সুদীর্ঘ,স্মরণীয়,উত্থান পতনে ভরা যাত্রা।পৌষ ফাগুনের পালা ট্রিলজির রিভিউ দেওয়া যায় একটা গান দিয়েই, "But there's no happy endings Not here and not now This tale is all sorrows and woes." দুঃখ,দুঃখের পরে দুঃখ,তারপরে আরো দুঃখ,এক দুঃখ শেষ হলে আরেক দুঃখ -এই হলো শ্যামা,তার দুই বোন,তাদের সন্তানদের জীবনের গল্প।কষ্ট সহ্য করতে করতে একসময় মানুষের সবকিছু সয়ে যায়,অনুভূতি ভোতা হয়ে আসে।শ্যামার অবস্থা অনেকটা তেমনি,সেই সাথে পাঠক হিসেবে আমাদের।লেখক কাহিনি বড় বেশি দীর্ঘায়িত করে ফেলেছেন।স্বর্ণলতা আর অরুণের গল্প আলাদা উপন্যাস হিসেবে বেশি মানানসই হতো। এতো বেশি চরিত্র,লেখক সবসময় সবার প্রতি সুবিচার করতে পারেননি।বিশেষ করে শ্যামার দুই ছেলে বাড়ি থেকে আলাদা হওয়ার পরই তাদের গল্পের অপ্রত্যাশিত সমাপ্তি ঘটেছে।অন্যদিকে শ্যামা আর তার মেয়েদের আলাদা গল্পগুলোর সমাপ্তি টানা হয়েছে খুব আয়োজন করে,দক্ষ হাতে।মেজো মেয়ে ঐন্দ্রিলার কর্মকাণ্ড যথেষ্ট মজার।মৃত্যুদৃশ্যগুলো মর্মস্পর্শী,চোখে জল এনে দেয়।বলাইয়ের পরিণতি সবচেয়ে মর্মান্তিক।
এই সুবিশাল কাহিনি আমাদের সমাজ পরিবর্তনের আলেখ্যও বটে।সামন্ততান্ত্রিক সমাজব্যবস্থা ভেঙে পুঁজিবাদের বিস্তার,কালো টাকার প্রবেশ,মূল্যবোধের ক্ষয়,চিরায়ত পেশা ছেড়ে জীবনের তাগিদে অন্য বৃত্তি গ্রহণ,যৌথ পরিবার ভেঙে একক পরিবারের বিকাশ-এই সবকিছুর ধারাবাহিক ইতিহাস বর্ণিত আছে সিরিজের তিনটা বইতে। এই উপন্যাসের মানুষজন বড় বেশি সামাজিক,বড় বেশি যূথবদ্ধ।তারপরও তারা শেষ বিচারে একা।আবুল হাসানের ভাষায়, "অবশেষে জেনেছি মানুষ একা!
জেনেছি মানুষ তার চিবুকের কাছেও ভীষণ অচেনা ও একা! দৃশ্যের বিপরীতে সে পারে না একাত্ম হতে এই পৃথিবীর সাথে কোনদিন।" একা হওয়াই এই পৃথিবীতে আমাদের নিয়তি,শ্যামার মতো।
এই বইয়ের বা এই ট্রিলজির রিভিউ কিভাবে লিখব আমার মাথায় আসছেনা। দু'চার লাইনে অনুভূতি প্রকাশ করতে গেলেও সবকিছু গুলিয়ে ফেলে একটা জগাখিচুরি রচনা করে বসব। আমার অনুভূতি এখনো বিহ্ববল হয়ে আছে। সুদীর্ঘ এই যাত্রায় জীবনের যে বৈচিত্র্যময় রূপ আমি দেখেছি তা ভাষায় প্রকাশ করার মতো শব্দ আমার মধ্যে নেই। এ যেন এক জীবনে অন্য অনেকগুলো জীবনের স্বাদ আস্বাদন করলাম।
ঔপন্যাসিক গজেন্দ্রকুমার মিত্রের ত্রিপিটক উপন্যাস, খাস আংরেজিতে যাকে বলে 'ট্রিলজি' পৌষ- ফাগুনের পালা। সূচনায় 'কলকাতার কাছেই', মধ্যমায় 'উপকণ্ঠে' এবং শেষেরটি 'পৌষ-ফাগুনের পালা' দিয়ে যবনিকা। পড়েছি শুধু শেষখানা, গত রাতে। ৫০২ পাতার বই, এক বৈঠকে।
নিম্ন-মধ্যবিত্ত সমাজের এক কুলীন ব্রাহ্মণের ক্রমবর্ধমান দারাপুত্রপরিবারের নানা শাখা-প্রশাখার জালে জড়ানো নরনারীদের আশ্চর্য সব সংস্কারমাখা জীবনযুদ্ধ, সংকীর্ণতা, নিদারুণ দারিদ্র, হীনমন্যতা, ক্ষুদ্র স্বার্থ, বৈচিত্র্যময় মনন আর জীবনের আদিমতম সব কুৎসিত দিকের অদ্ভুত কথন 'পৌষ-ফাগুনের পালা'।
কলকাতার কাছেই আর উপকণ্ঠে পড়তে দুটো মিলিয়ে পড়তে যা সময় লেগেছিল তার থেকে আরো বেশি সময়ই নিয়ে শেষ করলাম পৌষ ফাগুনের পালা (যদিও পাঠক হিসেবে গতি আমার জোয়ার ভাটার মত বাড়ে কমে ভালো বই পেলে কখনো পাগলা ঘোড়ার পিঠে চড়ে রাতদিন সব এক করে নাওয়া খাওয়া ভুলে যেমন ঘাপটি মেরে থাকতে পারি তাকে নিয়ে যেন স্বর্গ মর্ত্যে সর্বসুখ এখানেই থেমে গেছে😅 তেমনি আবার ইচ্ছে করেই রসগোল্লার সবটুকু রস নিংড়ে নেওয়ার মত ধীরে সুস্থে উপভোগের অ্যাখান নেহাত কম নেই😅)
শ্যামা উমা আর কমলা রাসমনির তিন আত্মজাকে নিয়ে শুরু হওয়া এই গল্পটা পড়তে গেলে মনে হবে বিধাতাপুরুষ বোধহয় ভাগ্যলিপি লিখতে যেয়ে সুখের ভাঁড়ার থেকে সুখ দিতে গিয়ে খোশগল্প করতে করতে ভুলোমনে দুঃখের সবটুকু সাগর সেচে শেষ বিন্দু পর্যন্ত তাদের উজার করে দিয়েছেন.
সবারটা যেমন তেমন শ্যামার ললাটে বোধহয় একদিনের জন্যও এক দন্ড সুখ লিখতে নারাজ ছিলেন ভাগ্যদেবতা,নইলে কুলীন ব্রাহ্মণ বংশে বিয়ে হয়েও কপালে জুটল এক অশিক্ষিত বর্বর স্বামী, সারাজীবন কষ্টের নদী একলা পাড়ি দিতে দিতে বড় করেছিলেন ছয়টি সন্তান, দুরাশার মধ্যে আশা করেছিলেন শিব রাত্রির সলতে হয়ে কেউ না কেউ দেখবে, কিন্তু না বরাবরের মতো এবারও ফলপ্রসূ হয়নি তার চিন্তা উল্টে অভাবে স্বভাব নষ্টের মতো একূল ওকূল সব হারিয়ে ঊনআশি বছর বয়স নিয়ে এখনো তিনি বেঁচে আছেন কলকাতাই কাছে
এক জীবনে কিছু কাজ বাকি থেকে যায়। চলতে ফিরতে হঠাৎ মনে হয়, 'ইশ, কাজটা এখনও করা হলো না। সময় ফুরানোর আগেই করতে হবে।' আমার জন্য 'পৌষ ফাগুনের পালা' ঠিক এমন একটা বই।
সেই যখন আমি পল্টনের ফুটপাতে ঘুরতাম, তখন একদিন 'উপকন্ঠে' পেয়ে গেলাম। মনে হয় এখন থেকে বছর ছয়েক আগের কথা। ট্রিলজি পড়ার ক্ষেত্রে বহুবার আমি মাঝের বই আগে পড়েছি। এর বেলায়ও তাই। ওই সময় মোটা মোটা বই পড়ার খুব নেশা ছিল। সম্ভবত তখন জানতামও না 'উপকন্ঠে' আসলে একটা ত্রয়ী উপন্যাসের দ্বিতীয় পর্ব। ষাট টাকা দামের পুরনো ঝুরঝুরে সেই বই থেকেই 'কলকাতার কাছেই' আর 'পৌষ ফাগুনের পালা'র খবর পাই। মাস ছয়েক পরে চল্লিশ টাকায় আরও ঝুরঝুরে একটা কপি পাই 'কলকাতার কাছেই' এর।
গৌরচন্দ্রিকা করে এই কেপ্পনতার কথাটুকু বলা জরুরী কেননা ছয় বছর ধরে 'পৌষ ফাগুনের পালা' কিনতে না পারার কারণ এর দাম। মিত্র ঘোষের কপিটা এখন সম্ভবত ৯০০/- টাকা পড়ে। মুক্তধারারটা ছাড় বাদে ৩৭৫/- এর মতো। কিন্তু কথাটুকু আরও জরুরী কেননা এই বইয়ের মূল চরিত্র শ্যামা ঠাকরুনকে যারা চেনেন, মাহমুদের আখ্যানের ব্যাখ্যাটা তারা বুঝবেন।
উনিশ শতকের শেষ কিংবা মধ্যবর্তী সময় থেকে এই ত্রয়ী উপন্যাসের শুরু। রাসমণি থেকে শুরু হয়ে তার মেয়ে এবং নাতি নাতনীদের আখ্যান বললে ভুল হবে না। বিধবা হয়ে যাবার পর রাসমনির জীবন আর সেই জীবনের দুর্দশা তার উত্তর-নারীদের (এমন কোন শব্দ বোধয় নেই) জীবনের গল্প লিখেছেন গজেন মিত্তির। সেই সময়ের কথা যারা জানেন না, তারা এই ত্রয়ী পড়তে গেলে বিরক্ত হতে পারেন। বিশেষত অনেকে মনে করেন 'পৌষ ফাগুনের পালা' না লিখলেও চলত। কিন্তু এই লেখাটা যে কথা দিয়ে শুরু করেছি, গজেন মিত্তিরেরও হয়ত মনে হয়েছিল শ্যামার শেষটা লেখা দরকার। অভয়পদর জীবনের শেষটাও দেখা দরকার।
পুরনো হিন্দু সমাজে নারীর দুর্দশা নিয়ে শরৎ লিখেছেন। তার পরে আরও অনেকে লিখেছেন। বিংশ গজেন মিত্তির সেখানে ভিন্ন বৈশিষ্ট্যের অধিকারী তার ভাষা এবং গল্প বলার ধরনে। নারী-প্রধান যে গল্প তিনি বলছেন সেখানে তিনি নারীদের মন আর মুখের ভাষার প্রকৃত চিত্র তুলে এনেছেন। নতুন তৈরী হওয়া বা বর্ধনশীল কলকাতার উপকন্ঠে সেকালের মানুষের জীবনযাত্রা, সংস্কার, ভাষা আর নৈমিত্তিক আচরণের অন��তরঙ্গ চিত্রের কারণে বইগুলো ভিন্ন মাত্রা পেয়েছে।
কেউ কেউ বলে থাকেন, 'একটা মানুষের জীবনে এত কষ্টও থাকতে পারে নাকি? এরকমও সম্ভব?'
বস্তত, শ্যামার জীবনে এবং তার রক্তধারার মধ্যে যে ক্রম-দুর্দশা (পোড়া কপাল) দেখা যায় তা পড়ে আমাদের আজকালকার আধুনিক মানসে মনে হতেই পারে এসব বানোয়াট৷ কিন্তু যে সময়, শ্রেণী এবং অবস্থানের কথা গজেন্দ্রকুমার মিত্র লিখেছেন সেখানে এই রকম উদাহরণ মোটেও বিরল নয়। এমনকি খুব সম্ভব লেখকের নিজের জীবন-ঘনিষ্ঠ কারও জীবন থেকেই তিনি এই গল্প নিয়েছেন এবং যদি মিত্র মশাইর 'আদি আছে অন্ত নেই' পড়া থাকে, তাহলে আমরা বুঝতে পারবো যে এই মানুষগুলো তাঁর খুব কাছের।
রাসমণি থেকে শ্যামা, শ্যামা থেকে মহাশ্বেতা, ঐন্দ্রিলা, তরু এমনকি কণক যে জীবন যাপন করে তা উনবিংশ এবং বিংশ শতাব্দীর পুরুষ প্রধান সমাজ ও রীতিনীতির ফল, তা নতুন করে বলে দিতে হয় না। গজেন্দ্রর সৃষাট চরিত্রদের মাঝে সময় বা রীতি নিয়ে কোন প্রতিবাদ নেই, বিপ্লব নেই। আছে টিকে থাকার জান্তব চেষ্টা। প্রায় শূন্য থেকে টিকে থাকার সেই চেষ্টার করুণ গল্প আজকের পাঠককে কতটা নাড়া দেবে, আমি জানি না। তবে লেখক বা সাহিত্যিক হতে হলে জীবনকে কতটা গভীর দৃষ্টিতে দেখতে হয়, সেটা মিত্তির মশাইয়ের কাছ থেকে শেখার আছে। আর কিছু না হোক, অভয়পদর মৃত্যু এবং অর্থগৃধ্নু হয়ে যাওয়া শ্যামার শূন্য জীবনটাকে তুলে ধরার জন্যও বেঁচে থাকবেন গজেন্দ্রকুমার মিত্র।
মন্দ না। মানে ঐ একই জিনিস-ই, প্রথম দুইটার তুলনায় তিন নম্বর আসলে আলদা কিছু না, তবে আগের দুইটার চেয়ে ঢের বেশি জোলো, আরো অনেক বেশি তাড়াহুড়াও, যেনো গল্প শেষ করে দিতে হবে বলে লেখককে একটা মেশিনগান নিয়ে নামতে হলো গল্পের ভেতরেই, উড়ায়ে দিতে হলো সব ভবিষ্যৎ। কিন্তু তাড়া দিয়েও লাভ হলো না, এত এত চরিত্র আর এত এত পরিবার ততক্ষণে তৈয়ার হয়ে গেছে, এক এক করে মারতেও সময় লাগলো প্রায় পাঁচশো পাতার মতন। এতে লাভটা হলো কী?
প্রথম দুই বইয়ে চরিত্রেরা আসছে, আর গেছে-ও, এবং যেহেতু পৃথিবীতে চরিত্র আসলে খুব বেশি নাই, মিত্র সাহেব দ্রুতই তার ঝুলি ফাঁকা করে ফেলেছিলেন, যে কারণে ঐ বইয়ে মড়া চরিত্রেরাই যেনো নতুন নতুন নাম নিয়ে ফিরে ফিরে এসেছিলো। এতে অবশ্য সমস্যা নাই, এই বই আপনি পড়বেন-ই এইসব চরিত্রদের নিয়ে কিছু শুনতে চাচ্ছেন বলে, গজেন মিত্রের ভাষা যেমন ভালো, তেমনি ভালো তার গল্পরে তাড়ায়ে তাড়ায়ে বলে যাওয়ার ক্ষমতা। কিন্তু এই বইটায় এসে, হুঁ হুঁ, এই বইটায়, তিনি নতুন তেমন কোনো চরিত্র গড়েন-ই নাই, পুরনো চরিত্রদের আক্ষরিক মুণ্ডুপাত করেছেন শুধু। এর মাঝেও দুই চারটা যারা এসেছে, আগের বইয়ের মড়া ভূত হলেও মোটের উপর ঐ অংশগুলো ভালোই ছিলো।
এর উপর যোগ হয়েছে গল্প অনেক আগে ফুরায়ে যাওয়া জায়গায় জায়গায়। যেমন, এই গল্পের এক মূল চরিত্রের গল্প যা ঘটবার তা আসলে দ্বিতীয় বইয়েই পাট চুকানো হয়ে গেছে, তবুও এই পাঁচশো পাতা অনর্থক তারে বাঁচায়ে রাখা, তারে দিয়ে লেখক বই শেষ করবেন বলে কথা। আগের বই দুইখান ক্লান্ত করে নাই আর যাই করুক, পুনরাবৃত্তি কোনোরকমে এদিক করে সেদিক করে হলেও মিত্র সাহেব খারিজ করিয়ে নিয়েছিলেন, এই বই পড়তে গিয়ে কীরকম দেড়শো পাতাতে এসেই উসখুস করতে হলো আমার। আর, পাঁচশো পাতা টেনেও লেখক খুব সুবিধা করে উঠতে পারেন নাই শেষটায়।
এই ত্রিপিটকে এটারেই দুর্বলতম মনে হচ্ছে আমার, আগেরগুলির ফেলে যাওয়া ভার কোনোমতে বইতে পেরেছে এইটা, এদ্দূরই। তবে সব মিলায়ে গজেন-সাব খুবই ইন্টারেষ্ট-জাগানিয়া, আর, বাঙ্গালীর ওয়েষ্টার্ন মনে হয় এই বইগুলিই, এইসব লম্বা পরিবারের কথন, মাইলের পর মাইল চলবে ত চলবেই, অনেক মানুষ থাকবে, তাদের এইসব সংসারের পাঁচালী থাকবে, এইসবই চায় বোধহয় মানুষ পড়তে। এনার লেখার হাতটাও ভালো, সুতরাং আমি দোতারা দিয়েছি বলে এই বই পড়বেন না, এমনটা হতে পারে না। এক হাজার পাতা এক পরিবারের ফিরিস্তি, এই জিনিস এত চমৎকার করে লেখাটারেও ত তার যোগ্য সম্মান দিতে হবে, বই ভালো লাগুক না লাগুক।
ত্রিপিটক উপন্যাস অর্থাৎ ইংরেজিতে 'ট্রিলজি' বলতে যেমনটা বুঝানো হয়ে থাকে, সেরকম বলতে বাঙলা চিরায়ত সাহিত্যে'পৌষ-ফাগুনের পালা'-র কথাই সবার প্রথমে মনে আসে। 'কলকাতার কাছেই', 'উপকণ্ঠে' এবং সবশেষে 'পৌষ-ফাগুনের পালা' দিয়ে ঔপন্যাসিক গজেন্দ্রকুমার মিত্রের এই তিন উপন্যাসের সার্থক যবনিকা।
মনুষ্য চরিত্র ভয়াবহ আশ্চর্য, তার থেকেও আরও আশ্চর্য মনুষ্য জীবনের বৈচিত্র্যময় পরিক্রমন। আদি-অন্ত এই দুইয়ের মাঝেই থাকে জীবনের সকল আদ্যোপান্ত। সেই আদ্যোপান্তের অনন্ত বিচিত্রতার এক দুর্লভ সাক্ষর 'পৌষ-ফাগুনের পালা'।
'কলকাতার কাছেই' পড়ে মুগ্ধ হয়েছিলাম অনেক বেশি। উপকণ্ঠেও ভালোই লেগেছিল। কিন্তু মনে হল যেন এই বইটি না লিখলেও হত। একজন মানুষের জীবনে এত কষ্ট থাকে কীভাবে? একের পর এক সবাই মরেই বা যায় কীভাবে? অতিরিক্ত দুঃখ-কষ্ট আসলে মনে আর সহানুভূতি জাগায় না, ক্ষেত্রবিশেষে বিরক্তিই জাগায়। বইটা পড়তে আমাকে তাই একটু বেগই পেতে হয়েছে।
A weird country story. Pages after pages there is description of various ladies' various habits and mentalities and struggles. Able to illustrate vivid picture on mind.
পৌষ ফাগুনের পালা এক সুবিশাল ট্রিলজী, বাংলার নারীর সংগ্রামী সত্যকথন। প্রত্যেকটি লাইন যেন একএকটি সত্যঘটনা। লেখক ট্রিলজীতে সংসার জীবনের প্রতিটি খুটিনাটি ঘটনা তুলে ধরতে সক্ষম হয়েছেন। মাঝের পার্টটি পড়তে গিয়ে একটু বিরক্তি এসে গিয়েছিল কারন একঘেয়ি সংসারিক সমস্যা আর সমাধান আসলে বিরক্তি কর হয়ে উঠতে পারে,কিন্তু আমাদের বাস্তবিক জিবনে এই ঘটনা বহু জায়গায় দেখেছি।
পুরা ট্রিলজী মূল চরিত্র শ্যামা ঠাকুরণ। আসলে এই ছোট রিভিউ এ তার কথা বলা যাবে না। সংগ্রামী মানুষ, জীবনের প্রতিটী পদের অভিজ্ঞতা তাদের অনেক কঠিন,প্রাণহীন, মমতাহীন পশুতে পরিনত করেছে ঠিকই কিন্তু বাস্তব জীবনে এমন সংগ্রামী মানুষ বহু আছেন। ট্রিলজীতে রাসমণির ক্যারেক্ট্রার সব থেকে ভাল ছিল। নিজের সব থেকে পছন্দের ক্যারেক্টার মহাশেতার মেয়ে স্বর্নলতা এবং অরুন। শেষ সময়ে লেখক এটুকি না লিখকে পুরা ট্রিলজীটা একবারে বিরক্তি কর হয়ে যেত। সব থেকে বেশি খারাপ লেগেছে তরুর ছেলে বলাইটার জন্যে , বেচারা! হেম, কনণ আর রানীবৌদির ক্যারেক্টার ছিল অস্থির।
কত রকমের কুসংস্কার যে ছিল আগেকার বাংলায় তা এই বই না পড়তে বুঝতে পারতাম না। এই রকম আরেকটি বই পড়েছিলাম বিভূতিভূষণ বন্দোপাধ্যায়ের দৃষ্টি-প্রদীপ , এক প্রজন্মের অত্যন্ত কষ্টের জীবন সেখানে গজেন্দ্রকুমার মিত্র লিখছেন তিন প্রজন্ম নিয়ে।
গজেন্দ্র কুমারের ট্রায়োলজির তিনটি উপন্যাসই পড়লাম। কলকাতার কাছেই,উপকন্ঠে,পৌষ ফাগুনের পালা।প্রথমটির জন্য সাহিত্য আকাদেমি পুরস্কার এবং শেষটির জন্য লেখককে রবীন্দ্র পুরস্কারে ভূষিত করা হয়। কিন্তু আমি হলে এই লেখককে কাঠগড়ায় দাঁড় করাতাম। উনি এটা কি করলেন; উনি এটা কোনভাবেই করতে পারেন না। প্রথমত কান্তির সাথে রতনের মিলটা করিয়ে দিলে মহাভারত এমন কি অশুদ্ধ হত, রতনের বোনও তো তাই করেছে তাহলে এখানে লেখক কেন যে পিউরিট্যান হল বুঝতে পারলাম না। হেম আর নলিনীকে (দুটো আলাদা নাম, রবীন্দ্র উপন্যাসের হেমনলিনী নন) মিল করিয়ে দিলেন না, তাদের গল্প হঠাৎ শেষ হয়ে যায়, এইখানে না হয় দিতেন। দ্বিতীয়ত ডাক্তারের সাথে ঐন্দ্রিলার মিল করালেই হত। তৃতীয়ত অরুণের সাথে স্বর্ণার মিল করাতেন, চতুর্থত পরিবারের সাথে পুনর্মিলন না হোক তবুও শ্যামার ছোটছেলের একটা খোঁজ খুব সহজেই কয়েকটি লাইনে বর্ণনা না হয় করে দিতেন। এছাড়া আরও অনেক জায়গায় আছে যেমন সীতার দুর্দশা বা অভয়পদ'র। বিভূতির ভূষণ থেকে গজেন্দ্রর এ ভূষণ যেন আরও বেশি ভারাক্রান্ত। আমি বলছি না যে সব জায়গাতেই মধুর মিলন চাই কিন্তু সব জায়গাতেই বিষন্নতা বা দুঃখও তো চাই না। বাস্তবে তো এরকম হয় না সাধারণত। যাইহোক রতন-কান্তির জন্য লেখককে আমি ক্ষমা করবো না। আপনারা উপন্যাস তিনখানা পড়লেই বুঝবেন কেন আমি বিহ্বল হয়েছি বা এসব বিভৎস কথাই কেন বলছি। দুঃখ দুঃখ দুঃখ দুঃখ দুঃখ, শ্যামার জীবন শুধু এই নিয়েই।
এ অংশটুকু না পড়াই ভালো(নিজস্ব অভিজ্ঞতা)
শেষে একা হয়েই গেলেন, মানা যায় , আমার মামারবাড়ির এক বৃদ্ধা এরকমই একজন যার সন্তান সন্ততি দূরে থাকতো। আমার মা তাকে সামনাসামনি ক্ষুরিমা এবং অলক্ষ্যে 'কানার ঘরের ক্ষুরিমা' ডাকতো, মজার ব্যাপার হলো আমিও তাকে ওই 'কানার ঘরের ক্ষুরিমা' ডাকতাম। এজন্য মায়ের হাতে অনেক বকা খেয়েছি, মা বলতেন দিদিমা ডাকতে কিন্তু আমার আর ডাকা হয়ে ওঠেনি। মামাবাড়িতে গেলেই প্রথমে ওই বাড়িতে যেতাম, আমি বাচ্চা ছেলে যতটুকু পারি ততটুকু সাহায্য করতাম, একবার তার কাস্তে পেতে দিয়ে সুপুড়ির বাকল ছাঁড়াতে(peeled off) গিয়ে ডান হাতের থিনার মাসল বরাবর কেটে গিয়েছিল, স্কর র্মাক এখানো আছে তার। মামাবাড়ির সাথে কলহের কারণে আর সেখানে যাওয়া হয়নি শেষ দশ পনেরো বছর। তবে খবর পেয়েছি কয়েকবছর আগে তার মৃত্যু হয়েছে। কানার ঘরের ক্ষুরিমাও শ্যামর মত পাতা জমা করতেন গাছ লাগাতেন ঘন করে, ঘরের পাশেই পুকুর মত ছিল যাতে সবসময় পানি থাকতো যেন শ্যামারই পুকুর। তবে তার জীবনে এত দুঃখ ছিল তবে এতটা ছিল না শ্যামার মত এই যা পার্থক্য।
This entire review has been hidden because of spoilers.
As I finished reading this book, my heart felt heavy. Finishing this final instalment in the Kolkatar Kachhei trilogy, made me feel like I have lived through an entire era and witnessed the trials and travails of several succeeding generations. While the first book of this trilogy focused on the dignified life of Rashmoni, the second book offered a glimpse into the difficult life of Shyma, and this third book gave more attention to the lives of Shyma's children and grandchildren. It is an undoubtedly well-written book with an acute observation of human traits and tendencies. However, I thought the author didn't have much to offer in this book, which he already hadn't portrayed in the first two books. At times, the narration felt dragged unnecessarily. If the author had trimmed certain parts from this novel, I think the pacing would have improved especially in the latter half of the novel. What I really liked about Mitra's writing is that he can retain his readers. After the end of each book in this trilogy I kept wanting more, it seemed I couldn't get enough of the characters. However, reading the final book made my heart satiated, the author does know to give closure to the world he has created. In the prologue to the first book, Kolkatar Kachei, Mitra offers a brief glimpse of the 89-year-old Shyma. Hence, while reading the final section of the third novel, which described how the once young and beautiful Shyma had become this cantankerous octagenarian, it felt that life had come full circle. It took me about 1.5 years to complete this trilogy, as I was very inconsistent with my reading. I am really glad that I took the plunge into this immersive world of bygone era that Mitra had created, it was definitely a rewarding experience. My most favourite character of this trilogy, as I had already mentioned in my reviews of the first two books, is Uma. Her death felt like a personal loss to me, and I couldn't stop the tears rolling down my cheeks while reading that episode. This trilogy is a testimony to the resilience and perseverance of human life against an impersonal destiny. My rating for this book is 4 stars, and for the trilogy is 5 stars.
এ এক অদ্ভুত কাহিনী। বছরের পর বছর ধরে কাহিনী চলছে, কিন্তু শ্যামার জীবনের যেন কোনো পরিবর্তন হচ্ছে না। পরিস্থিতি ভিন্ন হলেও শ্যামার জীবনের গল্প যেন একই রয়ে যাচ্ছে - দু:খ আর হতাশায় ভরা। সত্যি বলতে কি, শ্যামা বাড়ি ও টাকা নিয়ে বাড়াবাড়ি আচরণের জন্য সব হারালেও সে আচরণের পিছনে কারণও আছে যথেষ্ট। সেজন্যই শ্যামাকে কিংবা তার ছেলেমেয়েদেরকে, কারোকেই খুব একটা দোষ দেওয়া যায় না৷ দু:খ লেগেছে স্বর্ণলতার জন্য। আর মনে মনে অপেক্ষা করছিলাম খোকা ফিরে আসার জন্য। এমন বিস্তৃত কাহিনী পড়লে মনে হয়, মানুষের জীবন কি এমনই? এভাবেই বয়ে চলে কোথায় কেউ জানে না?
পৌষ ফাগুনের পালা এখনো আমি শেষ করে উঠিনি।শেষ করতেও ইচ্ছে হচ্ছেনা।আরও কয়েকটা খন্ড থাকলে ভালো হত।
শ্যামা ট্রিলজি নাম হলেও আমার প্রিয় চরিত্র উমা।শুধু প্রিয় বললে ভুল হবে।আমার মনে হচ্ছে উমা আমার আপনজন।অন্য কারও দুঃখ দূর্দশায় আমার এতটা খারাপ লাগেনি।কিন্তু উমার বেলায় আমার কান্না আমি আটকাতে পারতেছিনা কিছুতেই।
শুধু মনে হচ্ছে এই বইটা আমার আত্নার সাথে সম্পর্কযুক্ত হয়ে গেছে 🍃
তিনটি উপন্যাস মিলে দীনদরিদ্র মানুষের আর্থসামাজিক অবস্থা তাদের দুঃখ কষ্ট এবং চিন্তাভাবনার অবনমন স্পষ্ট করে তুলে ধরেছেন। এর সাথে এই পর্বে বাঙ্গালীর সামাজিক অবক্ষয় এবং লোভ্লালসা, অধঃপতন এবং দারিদ্র হইতে উৎপন্ন মানসিক সঙ্কীর্নতা পরিস্ফুট করেছেন... এই সিরিজ নিয়ে কলকাতা দুরদর্শন একটি সিরিয়াল করেছিল যা ইউটিউব বা অন্যত্র পাওয়া যাচ্ছে না, তবে সেটাও খুব জনপ্রিয় হয়েছিল...
দুনিয়ায় যেমন হরেনের মতো মানুষ আছে তেমনি অরুনের মতো ও আছে।কারো কারো জন্য আজীবন কাজ করে গেলেও যেমন নূন্যতম কৃতজ্ঞতা পাওয়া যায় না অন্যদিকে কাউকে একটু নূন্যতম ভালোবাসলেও তার হাজার গুণ ফেরত পাওয়া যায়। শ্যামার কি দোষ ছিলো?? প্রথমে বিরক্ত লাগলেও পরে মনে হলো না।নিজে ভেতর থেকে পুড়লে বাহিরেও তার প্রকাশ ঘটে।
শেষে বলবো এই ট্রিলজির প্রত্যেকেই যেন খুব করে মানুষ।
I fell in love with Rashmoni, Uma, Obhoypodo, Rani, Konok, Torola, Shornolota and Orun. Shyama is a very strong character no doubt, but not sure what I felt towards her. And absolutely hated Durgapodo, Horen and yeah, Kanti somewhat.
This entire review has been hidden because of spoilers.
এই খন্ডে শ্যামার সন্তানদের জীবনযাপনের গল্প এসেছে। এই সিরিজের গল্পগুলো বুদ হয়ে পড়ার মতো গল্প। এই বছরে পড়া সেরা একটা ট্রিলজি গজেন্দ্রকুমার মিত্রের কলকাতা ট্রিলজির।
লেখক এই বইটি একটু বেশিই দীর্ঘায়িত করে ফেলেছেন। বইয়ের বিভিন্ন চরিত্র নিয়ে আলাদা বই লেখা যেত। অরুণ- স্বর্ণলতা, অভয়পদ এমনকি রাণী মারা যাবার পর হেম-কনককে নিয়েও আলাদা সুন্দর উপন্যাস রচনা করা যেত।
There are quite a few famous trilogies in Bengali literature and the "Shyama Trilogy", named after the main character, is one of the most popular among them. Written by Gajendra Kumar Mitra the trilogy starts with "Kolkatar Kachei" (Near Kolkata), continues with "Upakanthe" (Outskirts) and ends with the longest book of three, the famous "Poush Faguner Pala" (Tales of Winter and Spring). Mitra rose to prominence in post Tagore era of Bengali literature. The scene was dominated by the Bandopadhyay trio of Manik, Tarashankar, Bibhutibhushan, whose stories focused on harsh realities and uncertainities of post war India, with a socialistic element. Mitra, on the other hand, chose to follow the path set by Sarat Chandra Chattopadhyay in the previous era, writing stories which were not so gritty and focused more on individual struggles, rather than highlighting larger social problems. Mitra didn't win as much criticial acclaim as the trio but his simpler stories written in a fluid language were widely read.
There isn't much of a plot, not uncommon in bengali stories which focus on social elements. The story revolves around two main characters, sisters Shyama and Uma and their struggles in life. Other major players in this story is respective husbands of each character, their mother and as the story progresses their sons and daughters. The story begins towards the end of 19th century and continues through the decades into 1940s. The greatest bengali trilogies are built on character depth and Mitra spins a wide array of characters, each memorable in their own way. When India struggled for freedom there were people who wanted to have nothing to do with it, they just wanted to earn their daily bread - Mitra talks about these unremarkable people and makes them remarkable in eyes of the reader.
There was a significant chance of the story losing its charm thanks to the often trivial incidents that get repeated thorughout the trilogy but Mitra's lucid writing style makes sure that the reader is hooked. His female characters are strong and the conversation between them makes a great reading, where you can pick up words which are no longer in used but were integral to the vocabulary of a housewife in that era. Mitra also has the ability to make the reader empathize with his characters. Mitra's depiction of his female protagonists is only comparable to the high standards set by Sarat Chandra and Ashapurna Devi.
There are downsides to this trilogy, though. Lack of plot is a problem and the timeline often gets warped when Mitra links any historical incident with any of his characters. Some things, like a character's life getting ruined because of an awful marriage, get repeated too many times.
বইয়ের নামঃ পৌষ ফাগুনের পালা লেখকঃ গজেন্দ্রকুমার মিত্র ধরণঃ সামাজিক উপন্যাস প্রথম প্রকাশঃ ১৯৭৯ প্রকাশনীঃ মিত্র ও ঘোষ মোট পৃষ্ঠাসংখ্যাঃ ৫০২
কলকাতার কাছেই-উপকন্ঠে-পৌষ ফাগুনের পালা ট্রিলজির ২য় উপন্যাস “উপকন্ঠে” প্রকাশের চার বছরের মাথাতেই শ্যামাঠাকরুনের বর্ধিষ্ণু পরিবারের পৌষ ফাগুনের আখ্যান লিখে বসেন মিত্রসাহেব। এই চারটি বছর উপন্যাসের প্লট নিয়ে তার মাথায় ঠিক কি খেলেছিলো জানিনা, কিন্তু উপন্যাসটা শেষ করতে যেয়ে আমাকে বেগ পেতে হয়েছে বেশ!
কলকাতার কাছেই এবং উপকন্ঠে—দুটো গোগ্রাসে গিলবার পর ভেবেছিলাম পৌষ ফাগুনের পালাও হয়ত তেমনই হবে, অনেকটা এক বসায় শেষ করার মত। কিন্তু উপন্যাসের পাতায় পাতায় যে আমার জন্য ধাক্কা অপেক্ষা করে আছে তা কেই বা জানত? স্বয়ং শ্যামাঠাকরুন নিজেও বুঝি জানতেন না যে বিধাতা তার রঙ্গমঞ্চের নাটকের প্রতিটি অংকের যবনিকাপাত এতো নির্মমতার সাথে ঘটাবেন।
এই উপন্যাসে বেশকিছু চরিত্রের মৃত্যু দেখতে হয়েছে আমাকে-কখনো তা দৈহিক মৃত্যু, আবার কখনোবা আত্মার মৃত্যু। মানবিকতার অবক্ষয় বুঝি সেই আত্মার মৃত্যুরই আরেক নাম। কিছু চরিত্রের সাথে যেন আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে আছে হিংসা, দ্বেষ, জীবনের প্রতি ক্ষোভ, নিজের প্রতি হীনমন্যতা, লালসা, পরকীয়া কিংবা কুৎসার মতো রিপু। আর এদের সাথে সমন্বয় ঘটেছে তৎকালীন হিন্দুসমাজের বেশকিছু সংস্কার পালনের প্রতি দৃঢ়তা ও গোঁড়ামো!
তবে হ্যাঁ, একটা বিষয়ে আমি একমত। উপন্যাসের প্রতিটি পাত্র পাত্রীর ব্যথিত জীবনের এই ধাক্কাগুলোই তাদের ভুল ধরিয়ে দিয়ে উঠে দাঁড়াতে শেখায়, নতুন বোধের জন্ম দেয়। কেউ কেউ প্রিয়জনকে হারিয়েও সেই বোধকে আঁকড়ে ধরে বেঁচে থাকে, যেমনটি বেঁচে ছিলেন শরত। আবার কেউবা জীবনসংগ্রামে হেরেও যায়, বলাইয়ের মত!
জীবনের এত টানাপোড়েনের একটানা আখ্যান পড়তে যেয়ে খানিকটা হলেও স্বস্তির নিঃশ্বাস আমাকে ফেলতে দিয়েছে স্বর্ণলতা, অরুণ, তরলার আত্মজাগরণ! প্রমীলা বরাবরের মতই তার নিজস্ব বুদ্ধিজ্ঞান ও বিচক্ষণতায় ভাস্বর, এক্ষেত্রে মহাশ্বেতার অদূরদর্শীতা তাকে কোনরূপ সাহায্য করেনি। জীবনের ধাক্কা সামলে উঠে দাঁড়াতে চেয়েছিলো কান্তিও, কিন্তু ভাগ্য কি তা দিয়েছিলো হতে?
জি, এই মানসিক টানাপোড়েন সম্বলিত জীবনের রঙ্গমঞ্চের মধ্যমণি শ্যামাঠাকরুনই বটে- সেই শ্যামাঠাকরুন, যিনি এখনো হয়ত তার নিবিড় বাঁশঝাড় ও কলা-ডুমুর-হাসনাহেনায় ঘেরা ঘন বাগানে প্রেতিনীর মত ঘুরে বেড়ান। সেই শ্যামাঠাকরুনের একসময় ছিলো খুব দৃঢ় মনোবল এবং ধৈর্য, যা কালের আবর্তে রূপ নিয়েছে এক আশ্চর্য কাঠিন্যে, যে কাঠিন্য জগতসংসারের কোন বাঁধনকে তোয়াক্কা করেনা, যে কাঠিন্য কুরে খেয়ে নেয় হৃদয়ের মমতাবোধকে। তবুও কোন না কোন দিক থেকে শ্যামাঠাকরুনের মনেও হয়ত ছিলো একাকীত্বের ভয়। উপন্যাসে খুব প্রকটভাবে না দেখানো হলেও হয়ত তিনি এখনো তার এই একাকীত্বের হুতাশনে গুমড়ে মরেন। কিংবা কে জানে, হয়ত তিনি তার এই একাকীত্বে বেশ আছেন!
পরিশেষে এটুকুই বলব, "পৌষ-ফাগুন" শব্দগুচ্ছ দিয়ে যদি ঔপন্যাসিক জীবনের উত্থান-পতনকে উদ্দেশ্য করে থাকেন, তবে সেক্ষেত্রে তিনি সার্থক!
কলকাতার কাছেই উপকণ্ঠে, পৌষ-ফাগুনের পালা - এই ট্রিলজি কথাসাহিত্যিক গজেন্দ্র কুমার মিত্রের অসাধারণ সৃষ্টি। উনবিংশ শতাব্দীর শেষেএই ট্রিলজি কাহিনীর সূত্রপাত। কুলীন ব্রাহ্মণের বিধবা পত্নী রাসমণি ও তার তিনি কন্যার জীবন নিয়ে এই উপন্যাস। সমাজের মানুষের ব্যক্তিগত আশা-নিরাশা, সুখ দুঃখ. এবং জীবনযুদ্ধের অনবদ্য কাহিনী । বাংলা উপন্যাস সাহিত্যের ইতিহাসে এই টিলজি নিঃসন্দেহে একটি সম্পদ।