Humayun Ahmed (Bengali: হুমায়ূন আহমেদ; 13 November 1948 – 19 July 2012) was a Bangladeshi author, dramatist, screenwriter, playwright and filmmaker. He was the most famous and popular author, dramatist and filmmaker ever to grace the cultural world of Bangladesh since its independence in 1971. Dawn referred to him as the cultural legend of Bangladesh. Humayun started his journey to reach fame with the publication of his novel Nondito Noroke (In Blissful Hell) in 1972, which remains one of his most famous works. He wrote over 250 fiction and non-fiction books, all of which were bestsellers in Bangladesh, most of them were number one bestsellers of their respective years by a wide margin. In recognition to the works of Humayun, Times of India wrote, "Humayun was a custodian of the Bangladeshi literary culture whose contribution single-handedly shifted the capital of Bengali literature from Kolkata to Dhaka without any war or revolution." Ahmed's writing style was characterized as "Magic Realism." Sunil Gangopadhyay described him as the most popular writer in the Bengali language for a century and according to him, Ahmed was even more popular than Sarat Chandra Chattopadhyay. Ahmed's books have been the top sellers at the Ekushey Book Fair during every years of the 1990s and 2000s.
Early life: Humayun Ahmed was born in Mohongonj, Netrokona, but his village home is Kutubpur, Mymensingh, Bangladesh (then East Pakistan). His father, Faizur Rahman Ahmed, a police officer and writer, was killed by Pakistani military during the liberation war of Bangladesh in 1971, and his mother is Ayesha Foyez. Humayun's younger brother, Muhammed Zafar Iqbal, a university professor, is also a very popular author of mostly science fiction genre and Children's Literature. Another brother, Ahsan Habib, the editor of Unmad, a cartoon magazine, and one of the most famous Cartoonist in the country.
Education and Early Career: Ahmed went to schools in Sylhet, Comilla, Chittagong, Dinajpur and Bogra as his father lived in different places upon official assignment. Ahmed passed SSC exam from Bogra Zilla School in 1965. He stood second in the merit list in Rajshahi Education Board. He passed HSC exam from Dhaka College in 1967. He studied Chemistry in Dhaka University and earned BSc (Honors) and MSc with First Class distinction.
Upon graduation Ahmed joined Bangladesh Agricultural University as a lecturer. After six months he joined Dhaka University as a faculty of the Department of Chemistry. Later he attended North Dakota State University for his PhD studies. He grew his interest in Polymer Chemistry and earned his PhD in that subject. He returned to Bangladesh and resumed his teaching career in Dhaka University. In mid 1990s he left the faculty job to devote all his time to writing, playwright and film production.
Marriages and Personal Life: In 1973, Humayun Ahmed married Gultekin. They had three daughters — Nova, Sheela, Bipasha and one son — Nuhash. In 2003 Humayun divorced Gultekin and married Meher Afroj Shaon in 2005. From the second marriage he had two sons — Nishad and Ninit.
Death: In 2011 Ahmed had been diagnosed with colorectal cancer. He died on 19 July 2012 at 11.20 PM BST at Bellevue Hospital in New York City. He was buried in Nuhash Palli, his farm house.
‘যশোহা বৃক্ষের দেশে’ হুমায়ূন আহমেদের আমেরিকা ভ্রমণ লগ। নর্থ ডাকোটাতে পিএইচডি’র ছাত্র থাকাকালের অভিজ্ঞতা নিয়ে এর আগে তিনি লিখেছেন ‘হোটেল গ্রেভার ইন’ আর ‘মে ফ্লাওয়ার’। এই বইটির রচনাকাল ১৯৯৪ সাল, যখন তিনি ‘আগুণের পরশমণি’ চলচ্চিত্রের কাজ করছেন। যখন হুমায়ূন আহমেদ ‘হুমায়ূন আহমেদ’ হয়ে উঠেছেন। আমাদের চোখে বিষম অদ্ভুত আমেরিকান জাতির বিচিত্র জীবন পদ্ধতি তাঁর অনেক লেখাতেই ঘুরে ফিরে এসেছে। এ বইটি আমেরিকা সংক্রান্ত তাঁর পূর্ব অভিজ্ঞতার একরকম বর্ধিত অংশ বলা চলে। ছোট ছোট অধ্যায়ে বর্ণনা করেছেন সপরিবারে আমেরিকা ভ্রমণের অভিজ্ঞতা, যে আমেরিকা তাঁর ছাত্রাবস্থার আমেরিকা থেকে অনেকটাই পাল্টে গেছে এক যুগের ব্যবধানে। নব্বই এর দশকের হুমায়ূন আহমেদ, অতএব, বইটির মান নিয়ে প্রশ্নই উঠতে পারেনা!
যৌনতা নিয়ে আমাদের ও আমেরিকানদের দৃষ্টিভঙ্গির মাঝে একটি সুস্পষ্ট, সুবৃহৎ ও আপাতত টপকানোর অতীত পার্থ্যকের দেয়াল আছে। বিশ্বায়নের যুগে এ দেয়ালের উচ্চতা অবশ্য ইদানিং ধীরে ধীরে কমে আসছে, ইন্টারনেট ও আমেরিকান চলচ্চিত্রের সহজলভ্যতার কারণে। আমাদের দৈনন্দিন অনেক আচরণই এখন বেশ আমেরিকানাইজড হয়ে পড়ছে। তবে কিছু ব্যাপার এখানে এখনও অলঙ্ঘ্যনীয় ও অচিন্তনীয়। আমেরিকার অনেক অঞ্চলে ‘টপলেস’ রেস্টুরেন্ট আছে, যেখানে নারী ওয়েটারদের ঊর্ধাঙ্গ থাকে উন্মুক্ত। ‘হোটেল গ্রেভার ইন’-এ এই ধরণের রেস্টুরেন্ট এর উল্লেখ ছিলো। এবার ‘যশোহা বৃক্ষের দেশে’ পড়ে জানলাম ‘পাপের নগরী’ লাস ভেগাসে বটমলেস রেস্টুরেন্টও চালু হয়ে গেছে, অর্থাৎ এসব জায়গায় নারী ওয়েটাররা কোমরের নিচে কোন কিছু না পরেই টেবিলে খাবার সরবরাহ করেন। এটাও ২০ বছর আগের চিত্র। এখন তাহলে কি হয় এ রেস্টুরেন্ট গুলোতে? জানতে হলে বোধহয় নিজেকেই গিয়ে অভিজ্ঞতা ‘অর্জন’ করে আসতে হবে। কারণ ভেগাস যাত্রা করতে হলে যে কথাটি প্রত্যেককে মাথায় রাখতে হয় তা হল “What happens in Vegas, stays in Vegas”। পাপের নগরীর (সিন সিটি) অভিজ্ঞতা কে আর আমাকে নিজমুখে শোনাতে চাইবেন! সুসভ্য দেশ আমেরিকাতে যৌনতা সংক্রান্ত বিষয়গুলোর নিষ্পত্তি খোলাখুলি ভাবেই হয়। আমাদের দেশের মত এত হাশ হাশ-লুকোছাপা নেই। টপলেস/ বটমলেস রেস্টুরেন্টগুলোর মত সেখানের পতিতাবৃত্তির ব্যবসাও যথেষ্ট শক্তিশালী। ঢাকার ফার্মগেট, বনানীর ব্যস্ত ফুটপাথে খুব দ্রুত হাঁটতে হাঁটতে যদি এক মুহূর্তের জন্য আপনার গতি হ্রাস পায়, যদি ঢিলে হয়ে যাওয়া জুতোর ফিতে শক্ত করতে থেমে পড়েন, যদি ফুটপাথের ওপর ভাসমান হকারদের সাজিয়ে রাখা পণ্যের ওপর একবার চোখ বোলাতে দাঁড়িয়ে পড়েন, কানের কাছে খুব নিচু স্বরে কেউ আন্তরিকভাবে এসে জিজ্ঞেস করবে “স্যার, লাগবে?”, আমেরিকাতে ওসবের বালাই নেই। সেখানে নাকি হাতে বিজ্ঞাপনের কার্ড দিয়ে যায়। হুমায়ূন আহমেদ এমন একটি বিজ্ঞাপনের ভাষা শুনিয়েছেন,
“তুমি যদি ফোনে তোমার রুম নাম্বার আমাকে জানিয়ে দাও, আমি সম্পূর্ণ নগ্ন হয়ে তোমার দরজায় গিয়ে হাজির হব। আমাকে পছন্দ হলে আমরা একসাথে অনেক মজা করতে পারি। এর জন্য তোমাকে খরচ করতে হবে মাত্র ১০০ ডলার। তুমি যদি আনন্দ আরো বাড়াতে চাও, আমি আমার এক বান্ধবীকে নিয়ে আসতে পারি। এর জন্য তোমাকে আর মাত্র ১৫০ ডলার খরচ করতে হবে।”
বইটিতে প্রবাসী বাঙালীদের জীবন যাপনের ছোট্ট কিছু চিত্র এসেছে। যাঁরা দেশের শ্রেষ্ঠ সন্তান, আমেরিকাতে পড়াশোনা করে বড় বড় ডিগ্রী অর্জন করেছেন, তাঁদের বেশীর ভাগই সেখানেই থেকে গেছেন। ব্যক্তিগত জীবনকেই প্রাধান্য দিয়েছেন তাঁরা। অনেকেই আছেন অবৈধ অভিবাসী। এনারা খেটে খান এবং কিভাবে বেঁচে যান, তা এক রহস্য। এঁরাই নাকি দেশকে সবচেয়ে বেশী অনুভব করেন, উচ্চশিক্ষিত বড় পদে চাকুরীরত বাংলাদেশীদের চেয়ে। ১৯৯৪ সালেই হুমায়ূন আহমেদ ধারণা করেছিলেন একদিন বাংলাদেশের অর্থনীতি শক্ত করবে অন্য কেউ নয়, এই খেটে খাওয়া অর্ধ/ অল্প শিক্ষিত বাংলাদেশীরাই, তাঁদের পাঠানো রেমিট্যান্স এর মাধ্যমে। শিক্ষিত-অশিক্ষিত বাংলাদেশীদের এই বিপরীতমুখী চিত্র দেখে হুমায়ূন দীর্ঘশ্বাস ফেলেছেন বারবার। আমেরিকাতে বসবাসরত বাংলাদেশীদের একটি আচরণের কথা এখানে উল্লেখ না করে পারছিনা, যা এই বইটি থেকে জেনেছি। প্রায় বেশীরভাগ বাংলাদেশীরাই প্রতি বছর তাদের মা’দের দেশ থেকে নিয়ে আসেন নিজেদের কাছে, কয়েক মাস রেখে আবার দেশে পাঠিয়ে দেন। এই মা’দের আমেরিকাতে কিচ্ছু করবার নেই। তাঁরা ইংরেজী বোঝেননা, তাঁদের নাতি-নাতনীরা বাংলা বোঝেনা। তাঁরা আমেরিকার চুলায় রান্না চড়াতে পারেননা, টিভিতে তাঁদের বোধগম্য কোন অনুষ্ঠানও নেই দেখবার মত। ছেলে এবং ছেলের বউ সারাদিন অফিসে থাকে, কথা বলার লোকও তাই বিশেষ পান না। এত কষ্ট সহ্য করেও এই মা’রা প্রতি বছর আমেরিকা এসে কয়েকমাস থেকে যাচ্ছেন সন্তানের সাথে এটি হুমায়ূনকে খুব মুগ্ধ করে, আমাকেও। কিন্তু আসল চিত্রটা একটু অন্যরকম যা হুমায়ূন কে তাঁর অনুজ ডঃ মুহম্মদ জাফর ইকবাল বুঝিয়ে বলেন। এই সন্তানেরা আসলে গ্রীন কার্ডের সন্ধানে আছেন, যা আমেরিকায় তাঁদের চিরস্থায়ী নাগরিকত্ব নিশ্চিত করবে। প্রথমে মা’র গ্রীন কার্ড নিশ্চিত হলে ধীরে ধীরে সন্তান ও পরিবারের অন্যান্যদেরটাও নিশ্চিত হতে থাকে। প্রতি বছর আমেরিকা এসে কয়েক মাস করে থেকে হাজিরা না দিয়ে গেলে সন্তানদের গ্রীন কার্ড আর পাওয়া হবেনা। জীবনের ক্ষেত্রগুলোতে মুহূর্তে মুহূর্তে এত বাঁক, এত মোড়, এত রঙের পরিবর্তন, ন্যায়-অন্যায়ের সংজ্ঞা অনেকদিন হলো ভুলতে বসেছি। টিকে থাকার জন্য সম্ভাব্য যা কিছু করতে হয়, হয়ত সেটাই ন্যায়। অন্যায় বলে হয়ত কিছুই নেই, কে জানে?
জাপানী চিত্রপরিচালক আকিরা কুরোসাওয়া’র পৃথিবী বিখ্যাত ছবি ‘রশোমন’ (১৯৫০)। ছবিতে একটি খুন ও ধর্ষণের বিবরণী চারজন চারভাবে দেয়। কোনটির সাথেই কোনটির মিল নেই। ছবির অন্যতম চরিত্র এক বৌদ্ধ ভিক্ষু। ঈশ্বরের আরাধনায় সারাজীবন উৎসর্গ করা এই ভিক্ষু মানুষের হিংস্রতা, মিথ্যাবাদিতা ও স্বার্থপরতার পরিচয় পেয়ে মানুষের ওপর বিশ্বাস হারিয়ে ফেলতে থাকেন। তাঁর বিশ্বাস আরো নড়ে যায় যখন তিনি একটি নবজাতক শিশুকে কুড়িয়ে পান, যার বাবা-মা তাকে ফেলে পালিয়ে গেছে। শতচ্ছিন্ন বেশের এক হতদরিদ্র কাঠুরে, যার ঘরে ইতোমধ্যে ছয়টি সন্তান আছে, সে ভিক্ষুর কাছে এই নবজাতকের দায়িত্ব নেবার আগ্রহের কথা জানায়। একেবারে অচেনা, হঠাৎ কুড়িয়ে পাওয়া এক শিশুর দায়িত্ব নেয়ায় দরিদ্র কাঠুরেকে ভিক্ষু ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন যে তিনি অবশেষে মানুষের ওপর বিশ্বাস ফিরে পেয়েছেন।
আমি হতাশাবাদী নই। তবুও কেন যেন ওই ভিক্ষুর মত এত সহজেই মানব চরিত্রকে বিশ্বাস করে ফেলতে পারিনা। মনে পড়ে যায় পৃথিবীতে টপলেস-বটমলেস রেস্টুরেন্ট এর অস্তিত্ব আছে। যুদ্ধ, ধর্ষণ আছে। আর আছে মা’কে ব্যবহার করার ইতিহাস।
১৯৯৪ সালে সপরিবারে হুমায়ুন আহমেদের আমেরিকা ভ্রমণ আর তার সাথে খুচরো কিছু স্মৃতিচারণ নিয়ে এই ভ্রমণকাহিনী।হুমায়ুন আহমেদের পরিচিত লিখনশৈলী,মেলোড্রামা,রচনার শেষদিকে দু'একটা পাঞ্চলাইন সবই আছে।একবার পড়তে মন্দ লাগবে না!
এই বইটির একটি কাহিনীতে এক বিপুল ধনী ব্যক্তি লেখককে সোনায় বাঁধানো একটি কলম উপহার দিতে চেয়েছিলেন। আমার তো মনে হয় হুমায়ুন আহমেদের সব কলমই সোনায় বাঁধানো, যা-ই লেখেন, হাপুসহুপুস করে পড়ে ফেলতে ইচ্ছে করে৷
এই বইটি লেখকের সপরিবারে আমেরিকা ভ্রমনের অভিজ্ঞতা নিয়ে লিখিত। নায়াগ্রা, গ্র্যান্ড ক্যানিয়ন, লাস ভেগাস ইত্যাদি প্রভৃতি জায়গা ঘুরে বেড়ানোর কাহিনী যেমন এখানে আছে, তেমনই ওঁনার অনন্যসাধারণ স্টাইলে উনি এর মধ্যেই গভীর জীবনবোধের গল্পও শুনিয়ে দিয়েছেন। ভীষনই স্বাদু আর সুখপাঠ্য।
"অপসংস্কৃতি-নগ্নতা-আত্মকেন্দ্রিকতা"—লেখক হুমায়ূন আহমেদ যতগুলি আমেরিকা কেন্দ্রিক ভ্রমণকাহিনী বা আত্মজীবনী লিখেছেন এই তিনটি তার মূল বিষয়বস্তু।
তিঁনি যেখানেই গেছেন সেখানেই নগ্নতা আর অবাধ যৌণাচার দেখেছেন। "দেখেছেন" নাকি "খুঁজেছেন" সে বিতর্কে না যাই। ১৯৯৫ সালের লেখা তো! তখন পাঠকরা এসবই পছন্দ করত। আর তিঁনি যেভাবে পাঠকের পালস বুঝে লিখতেন এ ধারণাটা হয়তো কম বেশি সবারই আছে।
এটা পড়ুন— "....বর্তমানে আমেরিকায় বিয়ের রমরমা ব্যাবসা শুরু হয়েছে। বড় বড় কোম্পানি খোলা হয়েছে, এদের কাজ হলো গরীব দেশের রুপবতীদের সঙ্গে ধনবান প্রৌঢ় ও বৃদ্ধ আমেরিকানদের বিয়ের ব্যবস্থা করা। কোম্পানি ক্যাটালগ দিচ্ছে। ক্যাটালগে বিবাহযোগ্যা কন্যাদের নানান ভঙ্গিমায় ছবি। নগ্ন ছবিও আছে।....."
ওয়েইট! উনি কীভাবে জানলেন ক্যাটালগ এ নগ্ন ছবি আছে? ক্যাটালগ উনি পেলেন-ই বা কোথায়?
জায়গায় জায়গায় এমন মেয়েদের পোষাক আর অবাধ যৌনতার 'পুশড হিউমর' আমার ভালো লাগে নি।
সরি! ভালো লাগে নি।
পুনশ্চঃ ডেভিড লেটারম্যানের Coast To Coast with Mujibur Sirajul এই শো সম্পর্কে আমার জানা ছিলোনা। আমি এই লেখার মাধ্যমেই সেটা জানলাম। আর ইউটিউবের বদৌলতে সেটার কয়েকটা এপিসোডও দেখলাম। মুজিবুর-সিরাজুল জুটি নব্বই দশকে আমেরিকানদের ভালোই বিনোদন দিয়ে গেছেন!
হুমায়ূন আহমেদের আমেরিকার ভ্রমণ কাহিনীর সংকলন যশোহা বৃক্ষের দেশে বইখানা সেই কিশোর বেলায় পড়েছিলাম। বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের বইয়ের গাড়ি থেকে বইটা নিয়ে পড়েছিলাম। গত সপ্তাহে বাতিঘরে বই কিনতে গিয়ে এই পড়া বইখানাও তুলে এনেছি। গত দুই মাস বেশ ঢাউস আকারের বইগুলো পড়া হয়েছে। এখন তাই লাইট টাইপ বইগুলো পড়ার ইচ্ছে হচ্ছিল।
এক বসাতেই শেষ করে ফেলেছি ৯৪ পৃষ্ঠার বইটি। আমেরিকায় বেড়াতে গিয়ে মজার সব কাহিনীর বিবরন দিয়েছেন লেখক। তবে কথা প্রসঙ্গে এসেছে লেখকের ছোট ভাই মুহম্মদ জাফর ইকবাল আর তাদের মায়ের কথাও।
বইটির কিছু কিছু লাইন মনে ধরেছেঃ
'ভয়াবহ সৌন্দর্যের সামনে বেশিক্ষণ থাকতে নেই।'
'কিছু কিছু দৃশ্য আছে যেগুলো বর্ণনায় ধরা পড়ে না, ধরতে হয় চেতনার উপলব্ধীতে।'
'মোটামুটি ধরনের ভালোবাসা নিয়ে চল্লিশ বছর পাশাপাশি বাস করার চেয়ে তীব্র ভালোবাসা নিয়ে চার বছর জীবনযাপন করা অনেক ভালো।'
হুমায়ূন আহমেদের শুরুর দিকের কয়েকটি পরিচয়ের মধ্যে কয়েকটি হচ্ছে তিনি একজন দেশপ্রেমিক, সৌন্দর্য পিপাসু মানুষ এবং তিন কন্যা সন্তানের জনক। এবং এ বইটা পড়লে বুঝা যায় তিনি তার দেশকে, পরিবেশকে এবং তার মেয়েদেরকে নিজের মতো করে কতটা ভালোবাসেন। হুমায়ূন আহমেদের এই ব্যক্তিগত দিকগুলোই হয়ত মানুষ হিসেবে তাকে তার পাঠকদের আরো কাছাকাছি নিয়ে গিয়েছে। ডিজনিল্যান্ড দেখতে গিয়ে দেশের বঞ্চিত বাচ্চাদের কথা ভেবে তার হৃদয় ম্লান হয়ে আসা, বিদেশে দেশের লোকজনদের দেশপ্রীতি দেখে মন ভরে আসা, মরুভূমিতে জ্যোছনা দেখতে পাওয়াকে নিজের সৌভাগ্যকে অবিশ্বাস করা এই ছোটখাটো ব্যাপারগুলোই হয়ত এই বইটাকে বিশাল বানিয়েছে।
আমি অনেক দিন পর ভ্রমণ সাহিত্য পড়লাম। হুমায়ূন আহমেদের এই বইটি তার আমেরিকা ভ্রমণের উপর লেখা। তিনি তার পরিবার কিভাবে কোথায় গিয়েছেন সেসব বর্ণনা উঠে এসেছে এই বইটিতে। বইটি বেশ ছোট পরিসরে লেখা। তবে মজার সব ভ্রমণ অভিজ্ঞতায় ভরপূর। . নায়াগ্রা ফলস, গ্রান্ড ক্যানিয়ন, থেকে মরুভূমিতে রাত কাটানো বেশ সুন্দর ভাবে তুলে ধরেছেন। আবার আমেরিকায় কেনাকাটার একটি সুন্দর বর্ণনা তুলে এনেছেন। বেশ সাবলিল ও প্রাঞ্জল ভাবে লেখার কারণে বেশ ভাল লেগেছে। . আর হুমায়ূণ আহমেদ মানে বেশ মজার কিছু।
হুমায়ুন আহমেদ সাহেবের ভ্রমণ সাহিত্য আসলে অন্যরকম। খুব ভালো লাগে। ওনার প্রত্যেকটা লেখা হৃদয় দিয়ে অনুভব করতে হয়। ঠিকঠাক অনুভব করতে পারলে বুঝা যায় আসলে উনি কী লিখেছেন বা কী বুঝাতে চেয়েছেন।
যশোহা বৃক্ষের দেশে। লেখকের ‘হোটেল গ্রেভার ইন’ আর ‘মে ফ্লাওয়ার’ যাদের পড়া থাকবে তাদের এই বইটা ভালো নাও লাগতে পারে। মরুভূমির জোসনা যশোহা বৃক্ষের বর্ণনার অংশগুলো ভালো লেগেছে। যাদের সময় কাটানোর সময় আছে তারা পড়তে পারেন।
ভ্রমণকাহিনী নির্ভর রচনা, লেখকের পরিবারকে নিয়ে আমেরিকা যায়,একমাসের মত সেখানে।নানান জায়গায় ঘুরাঘুরি ঘটনা বর্ণিত করেছেন বইয়ে। আমেরিকার অজানা তথ্যও দিয়েছেন এ বইয়ে। হুমায়ূন আহমেদ অনেক ভ্রমণ প্রিয় মানুষ ছিলেন।
প���িবারসহ আমেরিকা ভ্রমণের এক মনোজ্ঞ স্মৃতিকথা এটি। লেখকের প্রাঞ্জল বর্ণনায় ভ্রমণের প্রতিটি মুহূর্ত যেন জীবন্ত হয়ে উঠেছে। বইটিতে থাকা অজস্র মজার ও রোমাঞ্চকর ঘটনা পাঠককে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত বুঁদ করে রাখে। তবে পড়ার শেষে কেবল একটি অতৃপ্তিই থেকে যায়—বইটির ব্যাপ্তি যদি আরও কিছুটা বড় হতো!"
মে ফ্লাওয়ার পড়ার পরেই এই বইটা পড়ার খুব ইচ্ছা জেগেছিল৷ এই বইয়ে ভ্রমণের পাশাপাশি আমেরিকা আর বাংলাদেশের মধ্যবর্তী যে সুখ-দুঃখ আর বিভেদগুলো আছে সব উঠে এসেছে।
The writer thinks about his stay in the snow areas in North Dakota amid the arid environment at his shooting set. Fortuitously, he gets a call that night as an invitation to go to the states. He goes with his family. The book contains descriptions of his various experiences, family stories and some philosophy. His daughters get mesmerised after visiting disneyland. The writer gets mesmerised after watching Joshoha. A cactus type trees on his way to Nevada. A good read indeed.
This entire review has been hidden because of spoilers.
গল্পের শুরু হয় এপ্রিলের অসহনীয় গরমে শীতের 'ফার্গো' শহরের স্মৃতিচারণ দিয়ে। সেই স্মৃতিবিজড়িত 'ফার্গো' শহর আরেকবার দেখার জন্য লেখক সস্ত্রীক আরেকবার যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণে বেরিয়ে পরেন। প্রায় এক মাস পরিবার নিয়ে আমেরিকার নানা জায়গায় ঘুরে বেড়ালেও কোন এক অদ্ভুত কারণে তিনি সেই ভ্রমণে 'ফার্গো' শহরে আর যান নি। না যাওয়ার কারণটিও চমৎকারভাবে বর্ণনা করেছেন -
"সব দেখা হয়েছে, শুধু যে কারণে আমেরিকায় যাওয়া সেই নর্থ ডাকোটার 'ফার্গো' শহর দেখা হয় নি। আমার জন্যই দেখা হয় নি। নর্থ ডাকোটায় যাওয়ার পর সব পরিকল্পনা শেষ হওয়ার পর মনে হলো - আমি একটা বড় ভুল করছি। পুরনো স্মৃতির কাছে কখনো ফিরে যেতে নেই। এখন যদি নর্থ ডাকোটায় যায় দেখব - সব বদলে গেছে। স্মৃতির সঙ্গে মিলবে না, মন খারাপ হবে; বরং স্মৃতি অবিকৃত থাকুক।"
আমার এই নোংরা ঢাকা শহর যে ডিজনিল্যান্ডের চেয়েও মোহনীয় তা কি আমার মেয়েরা বুঝতে পারছে? তাদের আমি আমেরিকা দেখিয়ে আনেছি-এখন তারা অবশ্যই বুঝবে তাদের নিজের দেশ নেভার নেভার ল্যান্ড আমেরিকার চেয়েও লক্ষগুন সুন্দর। আমার জীবন ধন্য, আমি জন্মেছি এই দেশে।