Manik Bandopadhyay (Bengali: মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়) was an Indian Bengali novelist and is considered one of the leading lights of modern Bangla fiction. During a short lifespan of forty-eight years, plagued simultaneously by illness and financial crisis, he produced 36 novels and 177 short-stories. His important works include Padma Nadir Majhi (The Boatman on The River Padma, 1936) and Putul Nacher Itikatha (The Puppet's Tale, 1936), Shahartali (The Suburbia, 1941) and Chatushkone (The Quadrilateral, 1948).
সাধারণত মানুষ বাঁচতে ভালবাসে।বেঁচে থাকার তার কত ইচ্ছা।এটা ভালো বোঝা যায় ডুবন্ত মানুষকে উদ্ধার করতে গিয়ে,উদ্ধারকারীকে পর্যন্ত ডুবিয়ে মারতে ছাড়ে না! মানুষের বাঁচার ইচ্ছা প্রবল হলে সে কি কি করতে পারে,কতটা হীন কাজ করতে পারে তার খুব সুক্ষ্ণ ধারণা পাওয়া যায় প্রাগৈতিহাসিক গল্পের ভিখু চরিত্রের মাধ্যমে।
সেই যে কতকাল ধরে মানুষ তীব্র চেষ্টা করে যাচ্ছে তার অস্তিত্ব আর আধিপত্য বিস্তারের জন্য,সৃষ্টি হয়েছে বৈষম্য।আবার সেই সাথে মানুষের সে কি চেষ্টা প্রিয় মানুষদের নিয়ে আরামে-সম্মানের সাথে একটু সুখে থাকবার!আবার একই সাথে মানুষ হয়ে ওঠে হিংস্র আর স্বার্থপর।
প্রাগৈতিহাসিক গ্রন্থে সংকলিত ১১ টি গল্পে মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় তুলে ধরেছেন- ভালোবাসা, বৈষম্য,স্বার্থপরতা, মনস্তাত্ত্বিক বিষয়,চিন্তাধারা!
১. প্রাগৈতিহাসিক: ৫/৫ হয়ত ওই চাঁদ আর এই পৃথিবীর ইতিহাস আছে। কিন্তু যে ধারাবাহিক অন্ধকার মাতৃগর্ভ হইতে সংগ্রহ করিয়া দেহের অভ্যন্তরে লুকাইয়া ভিখু ও পাঁচী পৃথিবীতে আসিয়াছে এবং যে অন্ধকার তাহারা সন্তানের মাংসল আবেষ্টনীর মধ্যে গোপন রাখিয়া যাইবে তাহা প্রাগৈতিহাসিক, পৃথিবীর আলো আজ পর্যন্ত তাহার নাগাল পায় নাই, কোনোদিন পাইবেও না।
২. চোর: ৪/৫ ভালোবাসার জন্য সংসারে সবাই চুরি করে; কেউ সিধ কাটিয়া অর্থ চুরি করে, কেউবা অন্যের বউ চুরি করে।
চোরেরা জীবনে বড়ো একা। ওদের আপন কেহ নাই। কবির মতো, ভাবুকের মতো, নিজের মনের মধ্যে ওরা লুকাইয়া বাস করে। যে স্তরের অনুভূতিই ওদের থাক, যে রুক্ষ শ্রীহীন সীমানার মধ্যেই ওদের কল্পনা সীমাবদ্ধ হোক, ওদের অনুভূতি, ওদের কল্পনা ক্ষণে ক্ষণে বিচিত্র, পরিবর্তনশীল। অনেক ভদ্রলোকের চেয়ে ওরা বেশি চিন্তা করে। জীবনের এমন অনেক সত্যের সন্ধান ওরা পায়, বহু শিক্ষিত সুমার্জিত মনের দিগন্তে যাহার আভাস নাই। কবির নেশা নারী, চোরের নেশা চুরি। আসলে ও দুটো নেশাই মানসিক উর্বরতা বিধানের পক্ষে সমান সারবান। সংসারে এমন লক্ষ লক্ষ সাধু আছে, যাহাদের লইয়া আমি গল্প লিখিতে পারি না। জীবনে তাহাদের গল্প নাই। প্রেমিকের মতো, অন্যায় অসংগত চুরি-করা প্রেমে ব্যুৎপন্ন প্রেমিকের মতো চোরের জীবন গল্পময়।
৪. প্রকৃতি:৪/৫ আমাদের চারপাশে অনেকের অর্থনৈতিক শ্রেণীর পদোন্নতি হলেও বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দেখা যায় সংস্কৃতিগত শ্রেণীর পরিবর্তন হয় না। ফলে প্রচুর অর্থের মালিক হয়েও দেখা যায় জীবন যাত্রার মানের তেমন কোনো পরিবর্তন হয় না বা উন্নতি হয় না। এর ফলে একই সমাজে একই কৃষ্টি নিয়ে বসবাস করা তাদের কাছে খুব বেশি কঠিন হয় না। কিন্তু বিপাক বাধে তখনই যখন কারো অর্থনৈতিক শ্রেণীর পদোন্নতি হওয়ার সাথে সাথে সংস্কৃতিগত শ্রেণীরও পদোন্নতি হয়। তখন সে তার সমাজে সহজে মিশতে পারে না আবার উপরের সমাজের সাথেও মিশতে তার কোথায় যেনো বাধে।
মানুষের সহচর্য ছাড়া কি মানুষ বাঁচে? ঘৃণা করিয়া, ভালো না বাসিয়া? অন্তত তার একটা খুব বাস্তব অভিনয় বিনা? হোক মিথ্যা, হোক ফাঁকি, মানুষের এই রকম প্রকৃতি।
সংসারে এমন অনেক মানুষ থাকে, জীবন যাহাদের এমন শিক্ষাই দেয় যে প্রত্যাশা করিতে তারা ভুলিয়া যায়।
৫. ফাঁসি: ৪/৫ আদালতের বিচার হইতে মানুষ সত্য অসত্য গোপন করিয়া পার পাইতে পারে কিন্তু সমাজের বিচার হইতে পার পাওয়া যায় না। তা হোক সত্য অথবা মিথ্যা, সমাজের বিচার বড়ই জটিল এবং রুক্ষ। এই বিচার থেকে মানুষের মুক্তি মিলে না।
৬. ভূমিকম্প: ৩/৫ জীবনের এককালে ভূমিকম্পের এক ভয় ঢুকে গেলে, প্রসন্নের ভিতর এক ভয় ঢুকে যায়। এই ভয় মাঝে মাঝেই উঁকি দিতো দিনে রাতে কিংবা স্বপ্নে। এবং অবশেষে বাসর রাত্রেও এই ভয় তাহাকে মুক্তি দিল না।
৭. অন্ধ: ৪/৫ মানুষ কৃপণ হয়, কিন্তু কৃপণতাকে লালন করতে গিয়ে মানুষের মনশ্চক্ষুও মাঝে মাঝে অন্ধ হয়ে যায়, সেই চোখ কখনো ভালো হয় না।
৮. চাকরি: ৩.৫/৫ বন্ধুর চাকরি কারিয়া নিয়া সেই বন্ধুর বাড়িতেই গাড়ি সমেত দুর্ঘটনা করিবার মতন বিড়ম্বনা আর নাই।
৯. মাথার রহস্য: ৩/৫ জীবনে বড়ো কোনো অঘটন ঘটিয়া গেলে সেই অঘটন জাস্টিফাই করার জন্য সত্য সত্য মাথা নষ্ট হয়ে যাওয়া ভালো অথবা যদিবা তানা হয়, সেই অভিনয় করাও খারাপ না।
প্রাগৈতিহাসিক একটি মনস্তাত্ত্বিক ও সমাজতাত্ত্বিক দৃষ্টিভঙ্গিতে রচিত উপন্যাস। গল্পটি মূলত মানুষের আদিম যুগ এবং আধুনিক যুগের জীবনযাত্রার মধ্যে একটি তুলনামূলক বিশ্লেষণ তুলে ধরে। উপন্যাসের কাহিনী মূলত এক বিজ্ঞানীর আবিষ্কারের ওপর ভিত্তি করে এগিয়েছে, যিনি প্রাগৈতিহাসিক যুগের জীবাশ্ম ও চিহ্ন থেকে মানুষের উৎপত্তি ও বিবর্তন নিয়ে গবেষণা করেন। গল্পে মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় মানুষের আদিম প্রবৃত্তি, চাহিদা, লোভ, ভালোবাসা এবং সহিংসতার মিশ্র রূপকে অত্যন্ত সূক্ষ্মভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন। মানুষের ভেতরের পশুসত্তা এবং নৈতিকতার দ্বন্দ্ব অত্যন্ত সূক্ষ্মভাবে তুলে ধরা হয়েছে। উপন্যাসটি পাঠ করার অভিজ্ঞতা অত্যন্ত মনোমুগ্ধকর। আদিম মানুষের জীবনযাত্রা এবং বর্তমান সমাজের প্রকৃতি নিয়ে মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় যে তুলনা করেছেন, তা অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক এবং চিন্তাশীল। বিশেষত মানুষের অন্তর্নিহিত লোভ, হিংসা, এবং ভালোবাসার চিরন্তন দ্বন্দ্ব এই কাহিনীর মূল আকর্ষণ। প্রাগৈতিহাসিক কেবল একটি কল্পকাহিনী নয়; এটি মানুষের আদিম প্রকৃতি এবং আধুনিক সভ্যতার সীমাবদ্ধতার একটি তীক্ষ্ণ বিশ্লেষণ। মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই রচনা বাংলা সাহিত্যের এক অমূল্য সম্পদ। এটি সময়োপযোগী এবং চিন্তার খোরাক জোগায়। সকল সাহিত্যানুরাগীর জন্য এই উপন্যাসটি অবশ্যপাঠ্য।
"হয়তো ওই চাঁদ আর এই পৃথিবীর ইতিহাস আছে। কিন্তু যে ধারাবাহিক অন্ধকার মাতৃগর্ভ হইতে সংগ্রহ করিয়া দেহের অভ্যন্তরে লুকাইয়া ভিখু ও পাঁচী পৃথিবীতে আসিয়াছিল এবং যে অন্ধকার তাহারা সন্তানের মাংসল আবেষ্টনীর মধ্যে গোপন রাখিয়া যাইবে তাহা প্রাগৈতিহাসিক, পৃথিবীর আলো আজ পর্যন্ত তাহার নাগাল পায় নাই, কোনোদিন পাইবেও না।"
অসাধারণ 💜 দাদা,তোমার পছন্দ করা বইয়ের কোনো তুলনাই হয়না আসলেই
প্রাগৈ��িহাসিক শব্দটা পড়লেই আমার কেন জানি ডাইনোসরের কথা মনে হয়। আদতে, প্রাগৈতিহাসিক এখানে ইতিহাসেরও অতীত, আদিম কিছু ধ্যান, ধারণা, অভ্যাস ইত্যাদ�� নিয়ে রচিত কিছু ছোট গল্প। ডাইনোসর বিলুপ্ত হয়ে গেছে, কিন্তু বিলুপ্ত হয়নি মানবের মনে লুকিয়ে থাকা আদিম অন্ধকার। প্রাগৈতিহাসিককে মনে হয়েছে এমন কিছু অন্ধকারের গল্প।
এখানে একটু বলে রাখি যে, মানিক বন্দোপাধ্যায়ের এই গল্পগ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৯৩৭ সালে। কাজেই গল্পগুলো পড়ার সময় এই সময়টা মাথায় রাখলে ঐ সময়কার প্রেক্ষাপট বুঝতে সুবিধা হবে।
এবার আসা যাক, গল্পে।
প্রথম দুই গল্প "প্রাগৈতিহাসিক" আর "চোর" এই গল্প দুটি অসাধারণ। পৃথিবীর সৃষ্টিলগ্ন থেকে যে দুই অপরাধ আজ অবধি চলে এসেছে এই দুটি তারই গল্প। বিচার, বিবেক বিসর্জিত হয়ে অন্যের অধিকারে হস্তলাঘব করার এই নগ্ন প্রভৃতি যেন সব মানুষের ডি এন এর সাথেই মিশে আছে। শুধু কারও কারো বা অনেকেরই এই কুচিন্তা প্রস্ফুটিত হয়না যথেষ্ট সাহসের অভাবে।
#যাত্রা" গল্পটি পণপ্রথার মতো কুৎসিত অন্যায় আচার নিয়ে লেখা।
#প্রকৃতি# ও "ভূমিকল্প" গল্পগুলো নিয়ে কিছু লিখতে ইচ্ছে হচ্ছেনা৷ সহজ এবং অসাধারণ দুটি গল্প।
"ফাঁসি" গল্পের রমা নামের গৃহবধুটির পরিণতির সাথে এই কবিতাংশটিত দারুণ মিল লক্ষ্য করেছি।
এই অন্ধকারে বিচরণ করতে করতেও এক আধটু হেসেছি "অন্ধ" গল্পে। প্রথম প্রথম মনে অনুতাপ হয়েছে, বেচারি অন্ধ। কিন্তু, যখনি এই সমস্যাকে ব্যবহার করে নিজের বেয়াইনের হাটু, মাথায় আঘাত করে বিড়াল তাড়ানোর ছলে, মনে মনে বলে উঠেছি, "বেশ করেছে"।
"চাকরি"। আহারে চাকরি। বেকারের দুর্ভোগের মতো ভগবান বোধহয় আর কিছু সৃষ্টি করেননি। প্রকৃত বেকারের জন্যে বোধহয় নরকভোগ আর দরকার হয় না। গল্পটাকে আসলে কিসের গল্প বলা যায়? বেকারত্বের গল্প? প্রতারণার গল্প?
সর্বশেষ "মাথার রহস্য" গল্প। এক বাবা, রিটায়ার্মেন্টের অর্জিত ২০০০ টাকা ব্যাংকে জমা দিতে যায়। কিন্তু, তার হদিস আর সঠিক ভাবে বলতে পারে না। শেষমেশ, ২০০০ টাকা কোথায় গেল সেই রহস্যের উন্মোচন যখন হয়, বই তখন শেষ।😬
এই বই সার্থক। এই বইয়ের নামকরণ সার্থক।
শেষে দুইটা লাইন হুবুহু বই থেকে তুলে দিই।
"হয়তো ওই চাঁদ আর এই পৃথিবীর ইতিহাস আছে। কিন্তু যে ধারাবাহিক অন্ধকার মাতৃগর্ভ হইতে সংগ্রহ করিয়া দেহের অভ্যন্তরে লুকাইয়া ভিখু ও পাঁচী পৃথিবীতে আসিয়াছিল এবং যে অন্ধকার তাহারা সন্তানের মাংসল আবেষ্টনীর মধ্যে গোপন রাখিয়া যাইবে তাহা প্রাগৈতিহাসিক, পৃথিবীর আলো আজ পর্যন্ত তাহার নাগাল পায় নাই, কোনোদিন পাইবেও না।"
'প্রাগৈতিহাসিক' মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দ্বিতীয় গল্পগ্রন্থ। বইটিতে মোট নয়টি গল্প রয়েছে। প্রতিটি গল্পই নিজ নিজ অবস্থান থেকে অনন্য।যেগুলোতে মানুষের আদিম কামনা-বাসনা ও মনস্তাত্ত্বিক বিষয়গুলো গভীরভাবে চিত্রায়িত করেছেন লেখক। প্রথম গল্পটির নাম 'প্রাগৈতিহাসিক'। এটি ভিখু নামক এক দুর্দান্ত ডাকাতের ইতিবৃত্ত। তারই জীবনের নির্মমতা, নির্দয়তা, অকৃতজ্ঞতা,যৌনাবেগ,বেচে থাকার দুর্নিবার প্রয়াস সুনিপুণভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে এই গল্পে। দ্বিতীয় গল্প 'চোর' আমার কাছে অসাধারণ লেগেছে৷ এ গল্পটি মধু ঘোষ নামক এক অলস চোরের।চুরি করে উপার্জিত অর্থ নিঃশেষ না হওয়া পর্যন্ত সে নিজেকে নতুন কার্যে লিপ্ত করতে পারে না।সে ভাবে চৌর্যবৃত্তি ছেড়ে দিবে কিন্তু সে তার পুরানো অভ্যাসের কাছে বারবার পরাভূত হয়।এ গল্পের গুরুত্বপূর্ণ দিক শেষের দিকে যে রাতে মধু ঘোষ রাখাল মিত্রের অর্থ চুরির জন্য সিদ কাটে সেই রাতেই তার স্ত্রী কাদু চুড়ি হয় রাখাল মিত্রের পুত্র পান্নালাল কর্তৃক।যেটি চমৎকারভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন লেখক। 'যাত্রা' গল্পটিতে লেখক তুলে ধরেছেন পণপ্রথার এক নির্মম সত্যকে। প্রকৃতি গল্পে শ্রেণী-সংগ্রামের বৈশিষ্ট্যসহ সমাজ বাস্তবতার নতুন দিক উন্মোচিত হয়েছে 'চাকরি' গল্পে বিপরীতধর্মী দুই বাল্যবন্ধুর কাহিনি উপস্থাপিত হয়েছে।আমাদের সমাজের আদিম বৈশিষ্ট্য হচ্ছে তেল মাথায় তেল দেয়া। আর গরীবকে নিঃশেষ করা।এ গল্পে লেখক বিত্তবান ও বিত্তহীনতার চরিত্রকে চিত্রায়িত করেছেন সমাজবাস্তবতা ও মনোবাস্তবতার এক চমৎকার নাটকীয় আঙ্গিকে। 'ফাঁসি' গল্পে খুনের আসামীর স্ত্রী রমার নির্মম পরিণতি ফুটে উঠেছে।যিনি সামজিক দুর্নাম, নিন্দা ও অবজ্ঞার হাত থেকে বাচতে আত্মহত্যাকে বেছে নেয়। এছাড়া অন্ধ,মাথার রহস্য গল্প দুটিও দুর্দান্ত ছিল। 'ভূমিকম্প' মোটামুটি ভালো লেগেছে।
সম্ভবত এই সংকলনটা দিয়েই মানিকবাবুর লেখার সঙ্গে আমার পরিচয়। এর আগে কিছু পড়েছিলাম কি না মনে করতে পারি না । গল্পগুলো পড়তে গেলে এখনো আমি কেমন নড়েচড়ে বসি।এখনো মাতাল হই, বিস্মিত হই। তারাশঙ্কর বা বিভূতিভূষণের লেখা আমার যতটা পড়া হয়েছে, তার তুলনায় মানিক খুব কমই পড়া হয়েছে।সেই আক্ষেপ সবচেয়ে বেশি জাগ্রত হয়ে উঠে যখন প্রাগৈতিহাসিকের গল্পগুলোর কথা মনে পড়লে। এত লাবণ্য লেগে আছে গল্পগুলোর গায়ে। মানিকবাবু যুগ যুগ জিয়ে।
মানিকদার এই গল্পগ্রন্থটি মূলত ততকালীন সমাজের নিম্ন ও নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারের হরেক রকম দিককে ফুটিয়ে তুলেছে বিভিন্ন গল্পে। আর যেকোনো লেখার মতোই এই বইয়েও তিনি আকর্ষণীয়ভাবে এই দুই শ্রেনির মানুষের জীবনের সুখ দুঃখের বৈচিত্র্যময়তা ব্যক্ত করেছেন। বইটির সেরা দুইটি গল্প চোর ও ফাঁসি। চোর গল্পটি একজন বউপ্রেমী চোরকে নিয়ে। বউয়ের অভিমান ভাঙতে তার সাময়িক ন্যায়বিচার এর সাথে টানাপোড়েনের ঘটনা নিয়ে গল্প এগিয়ে চলে। কিন্তু শেষে জগতের প্রাকৃতিক নিয়মে ব্যালান্স রাখতে চোরের সাথেই সবচেয়ে বড় চুরি হয়। ফাঁসি গল্পেও এমনই একদম শেষ প্যারায় যেয়ে পুরা গল্পের রূপ বদলে দেওয়া ঘটনায় সমাপ্তি আছে। এই ইতি টানার ধরণেই গল্প দুইটি অন্য গুলোর চেয়ে অতুলনীয়। প্রকৃতি ও প্রাগৈতিহাসিক গল্পটি যথাক্রমে ধনাঢ্য ও ভিখারি সমাজের কিছু নিত্য চিত্র নিয়ে লেখা। যদিও প্রকৃতিতে একজন মানুষ কিভাবে ধন-সম্পদের কারণে বদলে যেতে পারে তার সুন্দর ব্যাখ্যা করেছে। বইয়ের শিরোনাম গল্পে, ভিখারিদের মধ্যেও যে হিংসা বিদ্বেষ, আকাঙ্ক্ষা অনেকাংশেই তাদের গোষ্ঠীকে নিয়ন্ত্রণ করে তা তুলে ধরেছেন লেখক। অন্ধ আর মাথার রহস্য গল্প দুইটি মূলত ব্যঙ্গাত্মক ও পরোক্ষ হাস্যরসের সম্মিলন। হাসির ফাঁক দিয়েই লেখক জীবনের কিছু চিরন্তন সত্যকে তুলে ধরেছেন। দুঃখজনকভাবে, ভূমিকম্প আর যাত্রা গল্প দুইটি পড়ে নিতান্তই হতাশ হয়েছি৷ মানিকদার এই প্রথম কোনো লিখার উদ্দ্যেশ্য বা অর্থ খুঁজে পাইলাম না :3. অতি সাদামাটা ঘটনা, যার কোনো শুরু শেষ বা মাঝ পাই নাই। বইটি পড়লে এই গল্প দুটি বাদ দিতেই সাজেস্ট করব। তবে চোর আর ফাঁসি গল্প দুইটি পড়ে দেখা ফরজ😌
সুন্দর একটা গল্প সংকলন। লেখক হিসেবে মানিক এখানে আশ্চর্য দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন চরিত্র নির্মাণে, তাদের মানসিক দ্বন্দ্ব অঙ্কণে, বিষয়বস্তু বাছাইয়ে। অসাধারণভাবে ব্যবহার করেছেন অস্তিত্ববাদী দর্শন, মার্ক্সের সমাজ ভাবনা আর ফ্রয়েডীয় মনোবিজ্ঞান। আবার বইটির নামে একটি গল্প ���াকলেও বইয়ের সবগুলো গল্পেই লেখক আমাদের সমাজের চিরায়ত কিছু চিত্র তুলে ধরেছেন যা প্রাগৈতিহাসিক কাল থেকেই চলছে।
বইয়ের প্রথম গল্প বা নাম গল্পে লেখক তুলে ধরেছেন ভিখু নামের এক চরিত্রকে। বাঁচার জন্য কি না সে করেছে! চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, ধর্ষণ, ভিক্ষাবৃত্তি কিছুই বাদ রাখে নি সে, তবু তাঁর একটাই ইচ্ছে সে বাঁচবে। এই ইচ্ছাটা যে আমাদের সকলের, পরিস্থিতি যতই খারাপ হোক না, আমরা যেমন সকল অবস্থায় বাঁচতে চাই, ভিখু ঠিক তেমনি। কিন্তু বাঁচার সাথে দুইটি বিষয় তো স্বাভাবিকভাবেই চলে আছে আর তা হলো পেটের ক্ষুধা এবং বিপরীত লিঙ্গের প্রতি আকর্ষণ। তাইতো সর্বাবস্থায়ই বাঁচার জন্য এই দুইটি শর্ত পূরণ করতে চায়। পেটের ক্ষুধা দূর করতে প্রথম জীবনে চুরি, ডাকাতি আর শেষ জীবনে ভিক্ষা করেছে সে। আর পরের ক্ষুধার জন্য প্রথমদিকে ধর্ষণ, হাত অকেজো হয়ে গেলে আশ্রয়দাতার স্ত্রীকেও সে কামনা করেছে আর শেষদিকে ভিখারিনী পাঁচীকে পাওয়ার জন্য তো একহাতেই খুন করে বসে সে। এভাবে গল্পটিতে লেখক দেখাতে চেয়েছেন পরিস্থিতি যাই হোক না কেন আমরা সবসময়ই বাঁচতে চাই এবং বাঁচার জন্য কোনো পদক্ষেপ নিতেই আমরা পিছুপা হয়না, তা যতই অনৈতিক আর কষ্টসাধ্য হোক না কেন। এই স্বভাব আমাদের জিনগত,,প্রাগৈতিহাসিক কাল থেকেই ভিখুসহ আমরা সকলেই এই স্বভাব বয়ে বেড়াচ্ছি।
এরপরের আটটি গল্পেও লেখক তুলে এনেছেন কিছু চিরায়ত বিষয়কে। ‘চোর’ গল্পে চুরির, চোরের মনস্তত্ত্ব এবং চুরির স্বরূপ, ‘যাত্রা’ গল্পে পণপ্রথার শিকার হওয়া এক অসহায় নারীর দুঃখ, ‘প্রকৃতি’ ও ‘চাকরি’ গল্পে সমাজে বিদ্যমান শ্রেণি বৈষম্য এবং তার স্বরূপ, ‘ফাঁসি' গল্পে চিরায়ত বাঙালি স্ত্রীর স্বামীর প্রতি ভালোবাসা ও একাত্মতা, ‘ভূমিকম্প’ ‘অন্ধ’ ও ‘মাথার রহস্য’ গল্পে মানুষের মনস্তত্ত্বের রকমফেরকে তিনি তুলে ধরেছেন অসাধারণভাবে। এভাবে প্রাগৈতিহাসিক নামটি শুধু এর নামগল্পের জন্য নয় বরং প্রতিটা গল্পের বিষয়বস্তুর জন্য প্রযোজ্য।
আহা কি লাঞ্ছনায়, কি যাতনায়, কি অবহেলায় আমাদের এই উপমহাদেশের মেয়েরা সেই অনাদিকাল থেকে ট্রিট হয়ে আসছে। আহা কি কষ্ট। 😞
"একেবারেই কিছু হয় নাই। কী হইবে ওই পাথরের মতো শক্ত মেয়েমানুষটার? এই যে এতকাল গণপতি জেলখানায় আটক ছিল, ফাঁসি এড়ানোর ভরসা কয়েকদিন আগেও তাহার ছিল না,-রমা কি একদিন আবেগে ভাঙিয়া পড়িয়াছিল, কাঁপিতে কাঁপিতে কাঁদিতে কাঁদিতে ননদ, জা কারও বুকে একবার আশ্রয় খুঁজিয়াছিল, কারওকে টের পাইতে দিয়াছিলকাঁতার কিছুমাত্র সত্ত্বনার প্রয়োজন আছে? এ কথা সত্য যে, যেদিন হইতে গণপতিকে পুলিশে ধরিয়াছিল, সেদিন হইতে সে হাসিতে ভুলিয়া গিয়াছে, দিনের পর দিন কথা কমাইয়া কমাইয়া প্রায় বোবা হইয়া গিয়াছে, রোগা হইতে হইতে সোনার বরণ হইয়াছে কালি। তা সেটা আর এমন বেশি কি! দুঃখের ভাগ তো সে দেয় নাই, সান্ত্বনাও তো সে নেয় নাই, লুটাইয়া বুকফাটা কান্না তো কাদে নাই।"
সাইকোলজিল্যাল বই পড়ার পর এরকম একটা বই মনের উপর অন্য রকম প্রভাব ফেলেছে। অনেক ভাল লাগলো গল্পগুলো। মাটির খুব কাছের মানুষজনকে নিয়ে লেখা গল্প গুলো। অসাধারণ।
মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের মধ্যে যে গুণ সবচেয়ে বেশি দেখা যায় তা হলো সমাজের একদম নিচু স্তরের মানুষের মন ও জীবন সূক্ষ্মভাবে ফুটিয়ে তোলার সক্ষমতা। গল্পের প্রধান চরিত্র ভিখু সমাজের এমনি শ্রেণীর প্রতিনিধি যাদের জীবন নির্ভর করে অন্যের জীবনের ওপরে। অন্যের অর্থ, সম্পত্তিকে কাজে লাগিয়ে বেঁচে থাকে ভিখুরা। এই পদ্ধতি অনেকের কাছে প্রচন্ডভাবে আপত্তিকর লাগতে পারে, তবে এই চরিত্র সমাজে ঠিকই বেঁচে আছে প্রাগৈতহাসিক কাল থেকে। দারুণ উপভোগ্য একটি গল্প নিঃসন্দেহে।
কী কমু বুঝতাম পারছি না।এক ডাকাতের গল্প।একবার ডাকাতি করতে গিয়ে খুন করে এবং ধরা পরে।তার পর পালাতে গিয়ে তার এক হাত অচল জখম হয়। পরে তা অচল হয়ে যায়।ডকাতি থেকে ভিখারী জীবনে চলে যায়।সেই জীবনে আবার এক ভিক্ষারীনির প্রেমে পরে..... যেটাই হোক। রেটিং দেওয়ার সময় ভাবতেছিলাম কী রেটিং দিমু পরে চিন্তা ভাবনা কইরা ৪ দিলাম।এই সব ঘটনা আগে গ্রাম বাংলায় ঘটতো।এখন ঘটে না।গ্রাম বাংলার এক পুরানো ছবি।সময়ের বিবর্তনে এই সব ঘটনা ঘটে না।যাই হোক শেষ দিক টা আমার কাছে মর্মান্তিক লাগছে যার কারনে আমি ১ স্টার কমায় দিছি।
ছোট গণ্প সংকলন হিসেবে চমৎকার বই। প্রত্যোক গল্পের চরিত্রগুলো নিজেদেরকে মানিকের লেখনীতে ফুটিয়ে তুলেছে যথার্থভাবে। প্রাগৈতিহাসিকে যেমন মানব চরিত্রের যুগপৎ নিষ্ঠুরতা ও প্রেমময়তা প্রতিভাসিত হয়েছে তেমনি চোর গল্পে একজন চোরেরও যে নারীর প্রতি মোহমুগ্ধময় ভালোবাসা থাকতে পারে তা স্পষ্টভাষিত হয়েছে। যাত্রা গল্পের যৌতুক প্রথা, ফাঁসি গল্পের মানবমনের পারস্পরিক মমত্ববোধ সংকলনটিকে প্রকৃত মাধুর্য দিয়েছে।
এমন অনেক গল্প থাকে যা সরাসরি জীবনের উপর আলোকপাত করে। আবার এমনও গল্প থাকে যা আমাদের জীবনের কতগুলো খন্ডিতাংশের উপর আঁতশকাঁচের দৃষ্টি ফেলে। মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় এই বইটির মাধ্যমে তেমনি জীবনকে দেখেছেন এবং আমাদেরকেও দেখিয়েছেন কখনো দূরবীণের চোখে, কখনো আঁতশকাঁচের তলায় ফেলে...
প্রাগৈতিহাসিক' শেষ হইয়াও যেন শেষ ���লো না। বিকেল বেলার রোদ্দুর্র মত ছায়াহীন বিস্তৃত মাঠের শেষ রাঙা সফেদ হাওয়ার মত বইটা সাড়া জাগাচ্ছে। প্রতিটি গল্প শেষ হচ্ছে আর মনে হচ্ছে, আরেকটু লিখলে কি এমন হতো! রবীন্দ্রনাথ হওয়ার দরকার নেই, মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় বাবু। আরেকটু লিখুন না, আমার মাঝে আকাঙ্ক্ষা গুলো জাগিয়ে তাদের মেরে ফেলছেন কেন?
নয়টি গল্পের সমন্বয়ে বইটি তিনি লিখেছেন। প্রাগৈতিহাসিক, ফাঁসি, চাকরি, ভূমিকম্প আর মাথার রহস্য চিরদিন মনে থাকবে। বৃদ্ধ বয়সে গিয়ে আমিও হয়তো 'মাথার রহস্য' গল্পের পতিতপাবনের মত ভুলে যাব। হারিয়ে ফেলবে আমার নিউরনে কোন মানুষের বসবাস ছিল। সামান্য আঘাতে ভেঙে চূড়মার হয়ে যাব।
'ফাঁসি' গল্পটা পুরো মানবসমাজকে আষ্টেপৃষ্ঠে আঁকড়ে আছে। মানুষ পাপী না হয়েও যদি জেলে যায়, সমাজের কাছে মহত্ত্ব মানুষও পাপী হয়। তাকে যেন সমাজ আর গ্রহণ করতে পারে না। তার সহধর্মিণী ও হয়তো গল্পের নায়িকা 'রমার' মত মারা যাবে সহ্য করতে না পেরে। সমাজের কটাক্ষ তার বক্ষবিদীর্ণ করে বারবার হারিয়ে দিচ্ছে বাঁচার তাগিদ।
কিংবা ভিখু আমাদের পাশে থাকা কোন উল্কাপিণ্ড। শত আঘাতেও যারা ভুলে যায় না তাদের ধর্ম ছিল হত্যা। সামান্য প্রতিঘাত কিংবা নিজের স্বার্থের জন্য তারা নিজের পাষন্ড রূপ দেখাতে পিছপা হয় না।
'চাকরি' গল্পটা আমার মনের মত করে লেখক অঙ্কিত করেছে। চাকরির জন্য কতটা অসহায় হয়ে থাকতে হয় কিংবা চাচা-মামাদের জন্য যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও চাকরিটা আমাদের হচ্ছে না লেখক তা আঙুল দিয়ে আমাদের পাঠক মহলকে দেখিয়েছেন।
অসাধারণ একটি বই। তানসেনের সুরের মত, বব ডিলানের টান হারা ভোকালের ধ্বনির মত গল্প গুলো মস্তিষ্কের নিউরনে ঘুরা ফিরা ঘুরবে অনেক দিন।
I read only the first story 1.প্রাগৈতিহাসিক, when started to read I realised this is my second reading. Its a book of collection of small stories. The first story is about crime instinct representing by the central character Bikhu. Bikhu was a robber group leader, got severely injured during robbing and lost some organ due to that injury. Another fellow robber Pehlad took care of him during his illness from injury, but Bikhu had a bad offering for his wife, so he got angry, he and his wife beat Bikhu and get him out of their house. To take revenge Bikhu burnt their house at night and left that area. Later Bikhu converted to a professional beggar, killed fellow beggar Bashir to get the love of another fellow beggar Pachi.
মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ১২ টি ছোট গল্পের সংকলনগ্রন্থ "প্রাগৈতিহাসিক"। মানিকের বই মানেই তো সাধারণ লোকের জীবনকে বিচিত্র ভঙ্গিমায় ফুটিয়ে তোলা....
অনেক আগে থেকে মানুষ কিভাবে অধিকার প্রতিষ্ঠায় সংগ্রাম করেছে একে অপরের সঙ্গে, কাড়াকাড়ি করেছে খাদ্য নিয়ে, আচ্ছাদন নিয়ে, কখনো বা প্রিয় নারীকে নিয়ে তাই এই বইয়ে দারূনভাবে তোলে ধরা হয়েছে। জৈবিক ক্ষুধার জন্য মানুষ যে পশুতে পরিণত হতে পারে এই ধারণাটি খুব করে বুঝা যায় বইটা থেকে।
"দূরে গ্রামের গাছপালার পিছন হইতে নবমীর চাঁদ আকাশে উঠিয়া আসিয়াছে। ঈশ্বরের পৃথিবীতে শান্ত স্তব্ধতা। হয়তো ওই চাঁদ আর এই পৃথিবীর ইতিহাস আছে। কিন্তু যে ধারাবাহিক অন্ধকার মাতৃগর্ভ হইতে সংগ্রহ করিয়া দেহের অভ্যন্তরে লুকাইয়া ভিখু ও পাঁচী পৃথিবীতে আসিয়াছিল এবং যে অন্ধকার তাহারা সন্তানের মাংসল আবেষ্টনীর মধ্যে গোপন রাখিয়া যাইবে তাহা প্রাগৈতিহাসিক, পৃথিবীর আলো আজ পর্যন্ত তাহার নাগাল পায় নাই, কোনোদিন পাইবেও না।" This is the last para, and it tells 'us'.
ঈশ্বরের পৃথিবীতে শান্ত স্তব্ধতা। হয়তো ওই চাঁদ আর এই পৃথিবীর ইতিহাস আছে। কিন্তু যে ধারাবাহিক অন্ধকার মাতৃগর্ভ হইতে সংগ্রহ করিয়া দেহের অভ্যন্তরে লুকাইয়া ভিখু ও পাঁচী পৃথিবীতে আসিয়াছিল এবং যে অন্ধকার তাহারা সন্তানের মাংসল আবেষ্টনীর মধ্যে গোপন রাখিয়া যাইবে তাহা প্রাগৈতিহাসিক, পৃথিবীর আলো আজ পর্যন্ত তাহার নাগাল পায় নাই, কোনোদিন পাইবেও না।
ছোটগল্পের খুব একটা ভক্ত নই৷ সেই কারণেই হয়ত বইটাকে পছন্দের তালিকায় স্থান দিতে পারিনি৷ গল্পের শেষ গুলো বড্ড হঠাৎ। তবে বেশ কিছু গল্পের চরিত্রে নিজের প্রতিচ্ছবি পেয়েছি, যেটা সচরাচরই লেখকের অন্য বইয়েও পেয়ে থাকি৷ সুখের কথা এইযে, গল্প গুলো লেখকের লেখনী এবং বৈশিষ্ট্য ধরে রেখেছে।
বর্ষাকালে যে বনে বাঘ বাস করিতে চায় না এমনি অবস্থায় সেই বনে জলে ভিজিয়া মশা. ও পোকার উৎপাত সহিয়া, দেহের কোনো না কোনো অংশ হইতে ঘণ্টায় একটি করিয়া. জোঁক টানিয়া ছাড়াইয়া জ্বরে ও ঘায়ের ব্যথায় ঝুঁকি সুন্দর একটা গল্প সংকলন!
"প্রাগৈতিহাসিক" মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় এর শ্রেষ্ঠ গল্পগুলির অন্যতম। মানুষের আদিম প্রবৃত্তির রূপায়ণ-দক্ষতা,আকাঁড়া বাস্তবতা ও পরিণতির দার্শনিকতামন্ডিত ব্যঞ্জনা গল্পটির শ্রেষ্ঠত্বের উৎস।