এ.টি.এম. শামসুদ্দীন এর মানিকজোর পড়েই বুঝেছিলাম তার বৈদেশিক গল্প অবলম্বনে লেখার ক্ষমতা কিংবদন্তী। এই গল্পেও তার বিন্দুমাত্র ব্যতিক্রম হয়নি! বইটি নাকি রুশ লেখক অ্যালেক্সিনের কাহিনী অবলম্বনে লেখ!! কিন্তু কিসের কি? আমার তো পড়ে নিপাট একটি স্বদেশী গল্প বই কিছুই মনে হলনা। ^_^
গল্পের কাস্টিং বেশ বিস্তৃত এবং প্রতেক্যের রয়েছে মৌলিকতা। নাম না বললেও কেবল স্বভাব দিয়ে চিনে নেওয়া যায় তাদের। তবে গল্পের মূল প্লট টুইস্ট তেমন একটা আহামরি কিছু মনে হয়নি। বলা যায় সেটা বেশ অনুমেয়। সেটা যদিও সমস্যা না। এই বই কিশোরদের উদ্দেশ্য করে লেখা, তাদের আমার মতো অগ্রিম চিন্তা করার বদভ্যাস নাও থাকতে পারে। :P
গল্পে সবচেয়ে ভালো লেগেছে যে বিষয়টি তা হল নিশাদের প্রতি আনন্দের প্রেমের প্রকৃতি। যা যথার্থ বাস্তবিক। কাউকে ভালো লাগে, অথচ বলতে সঙ্কোচ। আবার তার কাছে নিজেকে প্রমাণ করার জন্য সদা মরিয়া। তার সামান্য একটু ছোঁয়া পেলেই বুকে কাঁপন ওঠে, সামান্য একটু প্রশংসা পেলেই সাহস বেড়ে যায় বহুগুন! এমনই আনন্দের একতরফা প্রেম। নিশাদ কি অমন ভাবে? সে রহস্য লেখক সমাধান করেননি। সব রহস্যের সমাধান হয়না, সে হোক কল্পনাতে কিংবা বাস্তবে।
যাই হোক। গল্পটা মোটামুটি ভালোই লেগেছে। আমার কাছে প্রজাপতি প্রকাশনীর ভার্সনটা রয়েছে, ওটার প্রচ্ছদ অপেক্ষাকৃত সুন্দর। সেবার যে প্রচ্ছদটা গুডরিডস এ দেওয়া হয়েছে তার সাথে বইয়ের বিন্দু মাত্র মিলও নেই। বইটি যথেষ্ট মজাদার, এবং অ্যাডভেঞ্চার প্রবণ। ভালো লাগার মতোই। এবং ভালো লাগবেও। :)
যতটা না থ্রিলার তারচেয়ে ফানি বেশি। অন্তত এখন এই বয়সে মনে হচ্ছে। ১০-১৩ বছরে হয়ত থ্রিলার ই লাগত। চমৎকার কিশোর গল্প, অনেক মজা করে লেখা চরিত্র গুলো নিয়ে। কিশোর বয়সে ফিরে গেলাম হাল্কা পাতলা, খুব বেশি যেতে পারিনি, ৩০+ এ এসে জাওয়াটা এত সহজ না।