১৯৭১। রাজশাহী ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র সেলিম। ২৫শে মার্চের রাত তার জীবনটা ওলোট-পালোট করে দিলো একেবারে। ছাত্র রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকায় অতি অল্প সময়ে পথ করে নিলো সমরক্ষেত্রে।
পাকিস্তানের বিখ্যাত চলচ্চিত্রকার এবং পূর্ব পাকিস্তানের জনপ্রিয় ঔপন্যাসিক জহির রায়হান। বাঙালি জাতির পরিচয় তছনছ করে দেওয়া সেই রাতের পর পথে নামলেন তিনি। গন্তব্য? ভারত। উদ্দেশ্য? স্বাধীন বাংলাদেশের জন্য আন্তর্জাতিক মনোযোগ নিয়ে আসা। জহির রায়হান জানেন, সে দক্ষতা তাঁর আছে।
একজন যুদ্ধ করে গেলেন শক্ত মাটিতে দাঁড়িয়ে, চাক্ষুস শত্রুর সঙ্গে। অপরজন লড়ে গেলেন এক অন্যরকম যুদ্ধ। মিডিয়া ওয়ার। এ লড়াইয়ের দাবীতেই যুদ্ধরত বাংলাদেশের কিছু মুখোশধারী শত্রুর বিরুদ্ধে কাজ করে গেলেন নিরলস।
১৯৭২। দুইজন অকুতোভয় দেশপ্রেমিকের পথ একটা সময় ছেদ করলো। স্বাধীন বাংলায় দাঁড়িয়ে একত্রে কাজ করতে শুরু করলেন তাঁরা। কিন্তু তাঁরা কি জানতেন, আগুনের দিন তখনও শেষ হয়নি?
১৯৭২ সালে বাংলাদেশের দুইজন শহীদ সূর্যসন্তানের জীবনের বাস্তব ঘটনা অবলম্বনে রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাসিকা, “আগুনের দিন শেষ হয়নি”।
Kishor Pasha Imon is a famous Bangladeshi crime writer.
Musa Ibne Mannan, known by the pen name KP Imon, is an accomplished writer who initially gained recognition through his short stories on social media. Over the course of his career, he has written over 220 short stories, captivating his online audience with his vivid imagination and storytelling skills. Building on his success in the digital realm, Imon went on to establish himself as a prominent novelist, with his works being published in both Bangladesh and India.
His regular publishers are Batighar publications, Abosar Prokashona Songstha, and Nalonda in Bangladesh. Abhijan Publishers solely publish his books in India. He is the author of 13 novels and translated 9 books to Bengali till date (5/10/23).
He graduated from the Department of Mechanical Engineering at Rajshahi University of Engineering & Technology. Presently, he resides in Dallas, TX, focusing on his PhD studies in Mechanical Engineering at UT Dallas after completing his MS at Texas State University.
His other addictions are PC gaming, watching cricket, and trekking.
মনে আছে ক্লাস নাইনের বাংলা বই এ লেখক পরিচিতিতে পড়েছিলাম যে ১৯৭২ সালের ৩০ জানুয়ারি বড় ভাইকে খুঁজতে বের হয়ে নিখোঁজ হয়ে যান ঔপন্যাসিক-চলচিত্রকার জহির রায়হান। কিন্তু আসলে কি ঘটেছিল সেদিন? এই প্রশ্ন কয়েকবারই করেছি নিজেকে। লেখক যুক্তিযুক্ত ভাবেই বলতে চেয়েছেন সে গল্প। সফলও হয়েছেন বলা যায়। সাথে মুক্তিযোদ্ধা সেলিম এর গল্প ও তুলে ধরেছেন সুন্দর ভাবে। তাকে অভিনন্দন এই প্রচেষ্টার জন্যে। কিন্তু লেখা এবং ভাষার ব্যাবহার আরো সুন্দর হতে পারতো কয়েকজায়গায়। :)
চমৎকার কাজ। ছোটবেলা থেকে জহির রায়হানের হারিয়ে যাওয়া নিয়ে মনের মধ্যে যে প্রশ্নবোধক চিহ্ন ছিল তার কিছু যুক্তিযুক্ত জবাব পেয়েছি। আসলে উনার বই পড়ে কোনোভাবেই মেলাতে পারছিলাম না যে উনার মতো একজন লেখক আমাদের মাঝে থেকে এমন রহস্যজনক ভাবে হারিয়ে যাবে। নেতাজী হারিয়ে যাওয়ার মতো আমাদের জহির কি সেভাবে হারিয়ে গেছে নাকি তাকে পরিকল্পিত ভাবে হত্যা করা হয়েছে এসব প্রশ্নের উত্তর দিয়েছে বইটি। জহির রায়হানের হারিয়ে যাওয়া নিয়ে অনেক আর্টিকেল পড়লেও এই বইয়ের যুক্তি ও তথ্য আমাদের কাছে এখন অধিক গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে।
ছোট্ট একটা বই। কিন্তু দৃষ্টিভঙ্গি পাল্টে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট।
বইটা পড়ার পর অনেক দিন আমি ঘোরের ভেতরে ছিলাম। সাহিত্য ঘোর সৃষ্টি করে, কষ্ট উপভোগের সুযোগ করে দেয়। বাস্তবতা অনেক ভিন্ন। মুক্তিযুদ্ধের পরপরই অমন কিছু হওয়ার অর্থ কী হতে পারে, এর বাস্তবতা আমরা এখন হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছি। এই বইটা আমাদেরকে আরেকবার এই কঠিন বাস্তবতার কথা চোখে আঙ্গুল দিয়ে স্মরণ করিয়ে দেয়।
শেষদিকটা খুব ইমোশানাল ছিলো। ভালোই লেগেছে। আমার বাবা একজন মুক্তিযোদ্ধা, এবং উনি খুব আগ্রহ নিয়েই বইটা পড়েছেন। উনিও খুব প্রশংসা করেছেন বইটার। কেপির জন্য শুভকামনা।
❛....𝙤𝙣 𝙗𝙚𝙝𝙖𝙡𝙛 𝙤𝙛 𝙤𝙪𝙧 𝙜𝙧𝙚𝙖𝙩 𝙣𝙖𝙩𝙞𝙤𝙣𝙖𝙡 𝙡𝙚𝙖𝙙𝙚𝙧, 𝙩𝙝𝙚 𝙨𝙪𝙥𝙧𝙚𝙢𝙚 𝙘𝙤𝙢𝙢𝙖𝙣𝙙𝙚𝙧 𝙤𝙛 𝘽𝙖𝙣𝙜𝙡𝙖𝙙𝙚𝙨𝙝, 𝙎𝙝𝙚𝙞𝙠𝙝 𝙈𝙪𝙟𝙞𝙗𝙪𝙧 𝙍𝙖𝙝𝙢𝙖𝙣 𝙙𝙤 𝙝𝙚𝙧𝙚𝙗𝙮 𝙥𝙧𝙤𝙘𝙡𝙖𝙞𝙢 𝙩𝙝𝙚 𝙄𝙣𝙙𝙚𝙥𝙚𝙣𝙙𝙚𝙣𝙘𝙚 𝙤𝙛 𝘽𝙖𝙣𝙜𝙡𝙖𝙙𝙚𝙨𝙝....❜ ঠিক এই ঘোষণাটির আগে পূর্ব পাকিস্তান নামক ভূখণ্ডটি প্রত্যক্ষ করেছিল নারকীয় এক হ ত্যাযজ্ঞ। ঘোষণাটির মাধ্যমে নি র্যাতিত আর র ক্ত খুঁইয়ে দেয়া পূর্ব পাকিস্তান বাংলাদেশ হিসেবে মাথা চাড়া দিয়ে ওঠার এক সূচনা করলো। সেলিম মোঃ কামরুল হাসান এবং জহির রায়হান, ৭১ এর উত্তাল সময়ের দুই ভিন্ন নির্ভীক যো দ্ধা। একজন অংশ নিয়েছেন সম্মুখ সমরে, আরেকজন অংশ নিয়েছেন পরোক্ষভাবে। দেশের বাইরে থেকে প্রমাণ জোগাড় করেছেন সরষের মধ্যে থাকা ভূতেদের বিরুদ্ধে। ১৯৭১ সালের ১৭ই ডিসেম্বর স্বাধীন বাংলাদেশের মাটিতে পা দিয়ে নির্মাতা সাংবাদিক জানতে পারলেন ১৪ই ডিসেম্বরের ঘটনা। এও জানতে পারলেন একইসাথে নিখোঁজ তার প্রাণপ্রিয় সহোদর শহীদুল্লাহ কায়সার। ভাইকে খুঁজে পাওয়ার জন্য মরিয়া হয়ে গেলেন তিনি। বুদ্ধিজীবী হ ত্যার পিছে শুধু পাক বাহিনী ছাড়াও আর কাদের লাভ আছে সে বিষয়ে তদন্ত করতে নিজ উদ্যোগে তদন্ত কমিটি খুলেছিলেন। যু দ্ধের পুরোটা সময় কলকাতায় অভ্যন্তরীণ বিশ্বাসঘা তকদের মুখোশ খুলতে প্রমাণ জোগাড় করেছিলেন তিনি। এবার সেসব প্রকাশের পালা। দেশটা পরদেশী শ ত্রুমুক্ত হলেও পুরোপুরি কি শ ত্রুমুক্ত হয়েছিল? সেলিম প্রত্যক্ষ যু দ্ধের ভয়াবহতা দেখেছেন। দেখেছেন সহযো দ্ধাদের চোখের নিমিষে হারিয়ে যেতে। সতর্কতা আর নিজস্ব গুণে যু দ্ধে গাজী হয়ে ফিরেছেন তিনি। তবে দেশটা স্বাধীন হলেও অনেক প্রশ্ন কুড়ে খাচ্ছে তাকে। ১৪ই ডিসেম্বরের ঘটনা কি শুধুই দেশকে বুদ্ধিহীন করে দেয়ার জন্য পাকিদের একটা চাল, না এর শিকড় আরো গভীরে? এই নিয়ে তদন্ত করছেন তিনি। আপাতদৃষ্টিতে জহির এবং সেলিমের মধ্যে কোনো যোগ না থাকলেও তারা মিলেছেন এই একটা কাজে। দুজনেই ১৪ই ডিসেম্বরের ঘটনার পিছনের আসল ঘটনা জানতে বদ্ধ পরিকর। একজন সরকারিভাবে, আরেকজন নিজ উদ্যোগে। ভাইকে খুঁজে পেতে কী না করেছেন জহির! সাথে মুজিববাহিনীর ভেতরে থাকা সুখের মৌমাছিদের মুখোশ উন্মোচনের কাজও অনেকটাই গুছিয়ে এনেছেন। আসছে ৩০শে জানুয়ারি, ১৯৭২ প্রকাশ হবে তার বই। ঠিক একইদিনে বঙ্গভবনে সেলিম জরুরি ফোন পেলেন মিরপুর ১২-তে রেই ড দেয়ার। ওদিকে জহির ফোন পেলেন একই স্থানে শহীদুল্লাহ কায়সারের অবস্থান নিয়ে। ভাইকে ফিরে পেতে তাই ছুট দিলেন। হয়তো কোথাও রান্না হচ্ছে বিশাল কোনো ষ ড়যন্ত্রের। এরপর কী হলো? সত্যটা জানা সবারই। ৩০ তারিখে ববিতা, সুচন্দার অপেক্ষা আর শেষ হলো না। পান্নার ফিরে পাওয়া হলোনা স্বামী আর দেবরকে। হারিয়ে গেলেন জহির, হারিয়ে গেলেন সেলিম। সাথে উধাও হয়ে গেল কিছু দলিল দস্তাবেজ। চাপা পরে গেলো সত্য। পাঠ প্রতিক্রিয়া: ❛আগুনের দিন শেষ হয়নি❜- এটি লেখকের প্রথম লেখা উপন্যাসিকা। রুয়েটিয়ান এই লেখক শ্রদ্ধা জানিয়েছেন আরেক রুয়েটিয়ান মুক্তিযো দ্ধা সেলিমকে। সাথে তুলে এনেছেন ইতিহাসের গভীরে চাপা পড়া জহির রায়হানের অন্তর্ধানকে। জহির রায়হান আমার খুব প্রিয় লেখক এবং চলচ্চিত্রকার হওয়ায় এই গল্পটা নিয়ে আশা এবং আগ্রহ দুই-ই বেশি ছিল। উপন্যাসিকার মূল প্রেক্ষাপট জহির রায়হানের অন্তর্ধান। লেখক অনেক রিসার্চ করে, অনেক তথ্য যাচাই করে সর্বাধিক গ্রহণযোগ্য ঘটনাগুলোকে নিয়েই কল্পনার মিশেলে লিখেছেন লেখাটি। জহির রায়হানের পাশাপাশি গল্প এগিয়েছে সেলিম মোঃ কামরুল হাসানকে নিয়েও। তরুণ এই যো দ্ধার মনোবল, দৃঢ়তা আর সাহসিকতার অনন্য এক চিত্র এঁকেছেন লেখক। স্বাধীনতার এত বছর পরেও দেশটা কতটা স্বাধীন, কতটা নিরপেক্ষ তাই লেখক শেষে আক্ষেপ করে গেছেন। জহির কিংবা সেলিমের হ ত্যাকারীরা স্বাধীন দেশে খোলা হাওয়ায় বিচরণ করে বেড়ায় কিন্তু সত্য উদঘাটনের দ্বারপ্রান্তে এসে জহির বা সেলিমেরা অতলে হারিয়ে যায়। সব পাখি ঘরে আসে— সব নদী—ফুরায় এ-জীবনের সব লেনদেন; গল্পটা শেষ করে বারবার এই লাইনটাই কেন জানি মনে পড়ছিল। ২৫শে মার্চের ভয়াল রাতের পরেও বাংলাদেশ পরবর্তী ৯ টা মাস কতো কঠিন সময় পার করেছে, কোনরকম একটা ট্রেনিং নিয়ে লড়েছে তখনকার পৃথিবীর এক নাম্বার সেনাবাহিনীর সাথে, হারিয়েছে তাদের, ছিনিয়ে এনেছে স্বাধীনতার সূর্য- এই ঘটনাগুলো গল্পে প্রাধান্য পেয়েছে কিছু বাস্তব আর কাল্পনিক চরিত্রের মাধ্যমে। ❛আগুনের দিন শেষ হয়নি❜ কে এক বাক্যে অসাধারণ হিসেবেই আখ্যা দেয়া যায়। ঘটনার পিছনেও ঘটনা থাকে, রহস্য থাকে। আর কিছু রহস্য মিথের মতো নানাভাবে চর্চা হতে থাকে। এই লেখাটিও তেমন রহস্যগুলোর মাঝে একটা রহস্যের আদলে গল্প। উপন্যাসিকার সত্যতা যাচাই বিজ্ঞ মহল আরো ভালো করতে পারবেন। তবে ইতিহাসের আশ্রয়ে লেখা ফিকশন হিসেবে আমার মতে লেখকের অন্যান্য লেখা এটি। এই উপন্যাসিকা নিয়ে অনায়েসেই একটা শর্টফিল্ম তৈরি করা যায়। হলে বরং খুশিই হবো। স্বাধীনতা অর্জনের চেয়ে স্বাধীনতা রক্ষা করা কঠিন - এই প্রবাদের সমার্থক ই মনে হয়েছে আগুনের দিন শেষ হয়নি কে।
"নিরপেক্ষ অবস্থানে দাঁড়িয়ে কথা বলার চেষ্টা করা হলেও, প্রতিটি পক্ষই এদেশের নিরপেক্ষ নাগরিককে আক্রমণ করে। কিছু ঘুণে ধরা পক্ষ বাছাই করেই সময়ের স্রোতে ধ্বংসের দিকে এগিয়ে যায় দেশ।"
হিস্টোরিক্যাল ফিকশন হিসেবে ১১২ পৃষ্ঠা কমই হয়ে যায়। কিন্তু মূল চরিত্র যেহেতু দুইটি, আর শুধু তাদেরকেই ফোকাস করা হয়েছে, ছোট হলেও পড়তে ভালো লেগেছে।