স্বপ্ন জমা থাকে মুঠোর ভেতর। যেই স্বপ্ন থেকে সৃষ্টি হয় গল্প। যা আমাদের ঘিরে বেড়ে ওঠে বুনোলতার মতো। আমাদের অজান্তেই, কিন্তু প্রগাঢ় মায়ায়। কোন গল্প থাকে ফেলে আসা সময়ের র্দীঘশ্বাসের। কোন গল্প থাকে দু’জনের, অযুত নিযুত দূরত্বের। কিছু গল্প থাকে ছেঁড়া ছেঁড়া আনমনা স্বপ্নে বোনা। যেখানে কখনও জমে মোহাবিষ্ট শিশিরকণা, আর কখনও ভিড় করে আসে নরম কোমল সন্ধ্যা। মনের অতলে থেকে থেকে ডুবুরী হয়ে ভেসে আসে পুরানো স্মৃতি, ভীষণ পরিচিত কোন মুখের। যাকে কেউ মুছে ফেলেছিলো এমনই এক সন্ধ্যাবেলায়। যেখানে নীড় বাঁধে না শব্দ, ফিরে আসে না স্বপ্ন। কিন্তু বেলাশেষে বিশাল এক বেগুনী আকাশের নিচে দাঁড়িয়ে কেউ কেউ খুঁজে পায় জীবনের নতুন অর্থ, কেউবা এই ছোট্ট সময়ের ছোট্ট জীবনে খুঁজে ফিরে এক পশলা বৃষ্টি... নিতান্ত ব্যক্তিগত আপন এক অন্যরকম বৃষ্টি... ব্যক্তিগত বৃষ্টি...
আমার ব্লগ নিক একুয়া রেজিয়া। মূল নাম, মাহরীন ফেরদৌস। ২০১৩ সাল থেকে বিভিন্ন জায়গায় কাজ করে, বর্তমানে একটা ডিজিটাল ক্রিয়েটিভ ফার্মে কাজ করছি। ২০১০ সাল থেকে ব্লগিংয়ের মাধ্যমে লেখালেখির জগতে আসা হলেও, জীবনে প্রথম গল্প লিখেছিলাম মাত্র ক্লাস ফোরে পড়ার সময়। সাহিত্য নিয়ে জুড়ে ছিলাম স্কুল ও কলেজ ম্যাগাজিন, মহাকাশ বার্তা, বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্র এবং ছায়ানটে। আমি স্বাধীনচেতা, অন্যমনা। ভালোবাসি স্বপ্ন দেখতে, মানুষকে নিয়ে ভাবতে। আবুল হাসান আর জীবনানন্দ দাশের কবিতায় জীবন খুঁজে পাই। আর রবিঠাকুরের কবিতাই পাই প্রেম ও প্রার্থনা। বিদেশি লেখকদের মধ্যে প্রিয়র তালিকায় আছেন মাক্সিম গোর্কি, ও হেনরি এবং পাওলো কোয়েলহো। বইয়ের জগতে আত্মপ্রকাশ একুশের বইমেলা ২০১৩ তে, ছোটগল্প সংকলন “নগরের বিস্মৃত আঁধার” এর মাধ্যমে। ২০১৪ তে প্রকাশিত হয় আমার দ্বিতীয় বই এবং প্রথম উপন্যাস “কিছু বিষাদ হোক পাখি”। সেই উপন্যাসটি অনেক পাঠকপ্রিয় হবার পর ২০১৫ সালে বইমেলায় প্রকাশিত হয় আমার তৃতীয় বই ও দ্বিতীয় উপন্যাস “এই শহরে মেঘেরা একা”। যা কিনা আরও বেশি জয় করে নেয় পাঠকদের মন। চার সপ্তাহ জুড়ে টানা বইমেলায় টপলিস্টে থাকে এই উপন্যাসটি। আমার তিনটি বই-ই প্রকাশিত হয়েছে অন্যপ্রকাশ থেকে। এছাড়াও ঢাকা এবং কলকাতা মিলিয়ে বিভিন্ন পত্র-পত্রিকা ও সংকলনে লেখা প্রকাশিত হয়েছে আশিটির মতো।
আমার জীবনে কিছু 'কোটেশন' আমাকে শক্তি এবং আশা দিয়ে যায়। যেমন-
আকাশ তো ছুঁইনি, তবু আকাশের মাঝে তো মেঘ হয়ে ভেসে আছি। বেঁচে আছি, দিব্যি জেগে আছি। রোদকে আমায় ভেদ করে স্পর্শ করতে দিচ্ছি। এই তো আমি...
'If a writer falls in love with you, you can never die'- Mik Everett
“And, when you want something, all the universe conspires in helping you to achieve it.”
-Paulo Coelho, The Alchemist
Writing means sharing. It's part of the human condition to want to share things - thoughts, ideas, opinions.
-Paulo Coelho
The most important thing is to enjoy your life - to be happy - it's all that matters.
-Audrey Hepburn
“This life is yours. Take the power to choose what you want to do and do it well. Take the power to love what you want in life and love it honestly. Take the power to walk in the forest and be a part of nature. Take the power to control your own life. No one else can do it for you. Take the power to make your life happy.”
উপন্যাসের নামটা কিন্তু সুন্দর। মনোসরণি। কারো মনে প্রবেশের পথ। নামটা দেখেই অনেকটা আকর্ষিত হয়েছিলাম বইটার প্রতি। কিন্তু লেখিকার আরেকটি উপন্যাস আগে পড়ার ফলস্বরূপ একটু দ্বিধায় ছিলাম যে কিনব নাকি। শেষ পর্যন্ত কৌতূহলেরই জয় হল। তবে আরেকটা কারণ আছে বইটি কেনার পেছনে। প্রতি বছর যে পরিমাণ বাংলা বই কিনি তার মধ্যে সবগুলোই লেখকদের। "লেখিকা" কিন্তু নেই বললেই চলে। এর কারণ কি আমাদের দেশে সুলেখিকার অভাব নাকি প্রচারবিমুখতা? সুলেখিকার যে অভাব নেই সেটি এই বইটা পড়লে বেশ বুঝতে পারবেন।
পুরোপুরি জীবনধর্মী উপন্যাসটার শুরু এবং শেষ হঠাত করে। এরকম গল্পে যেমনটা হয়। আর গল্পটা হচ্ছে আমাদের আশেপাশের পরিচিত মানুষগুলোর সম্পর্কের। কাছের সম্পর্ক কিভাবে দূরের হচ্ছে, কিনবা ব্যস্ততা অথবা ব্যস্ততার অজুহাত কিভাবে নিকটজনকে দূরে সরিয়ে দিচ্ছে তার কাব্য। চরিত্রগুলোর চিত্রায়ন খুব ভালো লেগেছে। আপন আপন লাগছিল সবাইকে। যদিও কিছু চরিত্রের আরেকটুখানি ডিটেইলিং থাকলে আরো বেশী ভালো লাগত।
সব মানুষের জীবনেই যে নোঙর ফেলার জন্যে একজন সংগি দরকার সেই উপলব্ধিই হল পড়া শেষ করার পর। লেখিকার লেখায় আগের তুলোনায় পরিপক্বতা এসেছে বহুগূণে। আরেকটা জিনিস বলব যে জীবনধর্মী উপন্যাস বলতেই যে জোছনা কিংবা চোখের পানির আধিক্য আর অহেতুক হাস্যরস বর্জন করার জন্যে লেখিকাকে বিশেষ ধন্যবাদ। :)
মনোসরণি। যে পথ দিয়ে প্রবেশ করা যায় কারো মনে। উপন্যাসের নাম শুনেই বইটি পড়ার তুমূল আগ্রহ জন্মেছিল। লেখক একুয়া রেজিয়ার লেখা সবসময় আমাকে দিন শেষে ঘরে ফেরা মানুষের কথা মনে করিয়ে দেয়। সন্ধ্যা ঘনিয়ে এলেই বাড়ী ফেরার যে টান কাজ করে, তার কথা মনে করিয়ে দেয়। মাল্টি রঙা আকাশের কথা পড়তে পড়তে অজন্তা, শাহানা, জামান কখন যে নিজের চারপাশের চরিত্র হয়ে যায় বুঝতে পারিনা নিজেও।
পড়তে পড়তে লেখার গভীরতার সাথে চরিত্রগুলোর জন্য বাড়ে মায়া, তাদের জানার তৃষ্ণা হয় দ্বিগুণ। উপন্যাসে লেখক জীবনের আশ্চর্য কঠিন দিকগুলো নির্মাণ করেছেন যত্নে। এখানে গল্পটা মনের সাথে মনের দূরত্বের। চেনা পৃথিবী অচেনা হয়ে ওঠার। ব্যস্ততার বেড়াজালে আমাদের পাশের মানুষটির ছায়া হয়ে ওঠার। তাই শাহানা আর জামানের মনের সংযোগ রক্ষাকারী সেতুটি যখন একটু একটু করে নড়ে উঠে অজানা আশঙ্কায় বুক কেঁপে উঠে বৈকি। গল্পটা ছন্নছাড়া শিহাব আর অজন্তার জীবনের। তাদের প্রেমের, প্রাপ্তির। পড়তে পড়তে কখনও মনে হবে জামানের সব ভাবনাই হয়ত বা ঠিক, কখনও মনে হবে শাহানার দৃঢ়তা যেন অদ্ভুত রকমের আকর্ষণীয়। মনে হবে, সম্পর্ক যদি কোন চারাগাছ হয়, তবে সদ্য জন্ম নেয়া সেই চারাগাছটিকে আগলে রাখতে হবে গভীর যত্নে। গল্পটা আকাঙ্ক্ষার। গল্পটা ভালোবাসার। জীবনকে ভালোবাসার। নতুন চোখে জীবনকে দেখার।
একুয়া রেজিয়ার এটি তৃতীয় উপন্যাস। ব্যক্তিগতভাবে আমার মনে হয়েছে, বিগত দুই উপন্যাস কিছু বিষাদ হোক পাখি, এই শহরে মেঘেরা একা- এর চেয়ে এই উপন্যাসটিতে লেখক সবচেয়ে বেশি পরিপক্ক্বতা দেখিয়েছেন। প্রতিটি চরিত্রের বেড়ে ওঠা, জীবনবোধ নতুন করে যে কাউকে ভাবাতে সাহায্য করবে। জামানের বাবার চরিত্রটি আমার অদ্ভুত রকমের ভালো লেগেছে। আমাকে বিস্মিত করেছে। এবং মনে হয়েছে এই চরিত্রটি নিয়ে আরও অনেক কাজ করা যেত। তবে সত্যি কথা হচ্ছে, অনেকদিন বই পড়া হয়ে উঠে না। সেই বিশাল বিরতি ভেঙ্গে যখন ভালো একটা বই পড়ি, সবাইকে ধরে ধরে পড়তে বলতে ইচ্ছা হয়। এই বইমেলায় এই উপন্যাসটি সংগ্রহ করা হচ্ছে একটি অবশ্য করণীয় কর্তব্য। নিঃসন্দেহে এই বইটি আমার প্রিয় বই এর তালিকায় যুক্ত হতে যাচ্ছে।
উপন্যাসের ভূমিকায় লেখা আছে- "একজন অজন্তা, শিহাব, শাহানা কিংবা জামান আমাদের চারপাশ থেকে জেগে ওঠা চরিত্র। ঝুম বৃষ্টির মাঝে বৃষ্টি ফুঁড়ে এদের মতোই কেউ হয়ত আমাদের জীবনে চলে আসতে পারে। বাড়িয়ে দিতে পারে তাঁদের সুখ-দুখ ভরা হাত। সেই হাত আমরা স্বেচ্ছায় ধরব নাকি ধরব না তা একান্তই আমাদের নিজস্ব ব্যাপার। "
আমাকে যদি কেউ প্রশ্ন করে আমি কার হাত ধরবো, আমি তাহলে উত্তর দেব- অজন্তার। যারা এই বইটি সামনে পড়বেন তাদের কে আমার প্রশ্ন করার ইচ্ছে আছে- ঝুম বৃষ্টির মাঝে আপনি কার হাত ধরবেন?
কেন জানি ভাল লাগে নি। সেই হূমায়ন আহমেদ টাইপের লেখা লেগেছে। গুটি কয়েক চরিত্র নিয়ে এগিয়ে যাওয়া হয়েছে অথচ কাহিনীর কোন বৈচিত্র নেই। শেষ পর্যন্ত মূল চরিত্র কে একাই রেখে দেওয়া হয়েছে "এই শহরে মেঘেরা একা " উপন্যাসের মতই।
মনোসরণি- মনের রাস্তা! সুন্দর একটা শব্দ না? সবার একটা করে মনোসরণি থাকে কি? নাকি তাকে খুঁজে নিতে হয়? বোধয় খুঁজে নিতে হয়। তারপর সে রাস্তায় চলতে গিয়ে নানাজনের সাথে দেখা হয়। গল্প করতে করতে চলা হয়। কিছু কিছু মানুষ হয়তো সারাজীবন একসাথে গল্প করে রাস্তাতা পাড়ি দিতে পারে, কেউবা মাঝপথে ছিটকে পরে।
নিজের পরিচিত কারো লেখার রিভিউ দিতে বা সে লেখা পড়তেও খুব ভয় হয়। প্রথমত, আলাদা এক্সপেক্টেশন থাকে। দ্বিতীয়ত ভালো বই হলে , ভালো রিভিউ দিলেও অন্যরা বলে স্বজনপ্রীতি হচ্ছে, খারাপ কিছু লিখলে সেই চেনাজন হয়তো মনে মনে রাগ করে। একুয়া রেজিয়ার লেখা সেদিক থেকে এক বিশাল চাপমুক্ত লেখা আমার জন্য। পরিচিত হলেও কখনো তার লেখার ভালো কি খারাপ নিয়ে কি সমালোচনা হলো সেটা একান্ত পাঠকের মত বলেই আপু ধরে নেন।
আমার এক্সপেক্টেশন বরাবরের মত বেশি থাকলেও আমি জানি একুয়া রেজিয়ার লেখা একটা নির্ভরতার জায়গা তৈরি করে ফেলেছে। আমি জানি তার গল্পের প্লট বা চরিত্রগুলো একেবারে আমাদের আসেপাশের, রোজকার চলার পথের কেউ হবে। ফলে যেটা হয় তা হলো আমরা পাঠকরা তার লেখার সাথে সহজেই নিজেদের একটা সম্পর্ক খুঁজে পাই। যার জন্য সহজে আপন করে নিতে পারি। এই বইটাও ব্যাতিক্রম না! মানুষের সম্পর্কের টানাপড়েন, যন্ত্রযুগের ব্যাস্ততায় নিজেরদের ছোট ছোট আনন্দের সময়গুলো হারিয়ে ফেলা, দূরে সরে যাওয়া, বন্ধুত্ব সব আছে, এবং আশাজাগানিয়া কিছু অসম্ভব সুন্দর কথাও আছে।
চোখে যা লেগেছে তা হলো প্রুফরিডিং এর প্রতি অযত্নশীলতা। শাহানা কোথাও হয়ে গেছে অজন্তা। কোথাও বা শাহানার কথা বলতে বলতে প্যারাগ্রাফে স্পেস না দিয়ে দৃশ্যপট পরিবর্তন হয়ে চলে গেছে জামানের গল্পে। তাছাড়া শাহানার সাথে অফিসে যে দুর্ঘটনা হয় তার একটা হেস্তনেস্ত কেন দেখানো হলো না তা নিয়ে মনে একটা খেদ থেকে যায় যেন।
লেখার ধরন সম্পর্কে নতুন করে কিছু বল্বার নেই। চোখ ও মনের আরামের খোরাক। আর কভারের কথা নাই বা বললাম আলাদা করে। শুধু ছুঁয়ে বসে থাকতে ইচ্ছা করে।
একটি অনায়াস গল্প, যা পড়তে পড়তে উদাস হয়ে গেলাম।
এক কথায়, এর থেক�� সহজে মনোসরনি উপন্যাসটি সম্ভবত ব্যাখ্যা করা যাবে না। একুয়া রেজিয়া ওরফে মাহরীন ফেরদৌস-এর উপন্যাস এই প্রথম পড়লাম। এবং কিছু সূক্ষ���ম ত্রুটি বাদ দিলে সত্যিই দারুণ লেগেছে গল্পটা।
গল্প আনন্দদায়ক নয়, এক অর্থে হয়তো বেদনাদায়কও নয়। এই গল্প দূরত্বের কথা বলেছে, সম্পর্কে টানাপোড়নের কথা বলেছে, ব্যক্তির আত্মনির্ভরতা এবং পারপস্পরিক সমঝোতার সূক্ষ্ম সীমারেখাকে চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়েছে। সব থেকে বড় কথা হচ্ছে গল্পের চরিত্রদের খুব চেনা মনে হয়। জামানের মত চরিত্র যেন আমার বন্ধুই! শাহানাকেও স্পষ্ট দেখতে পাই, কিংবা অজান্তার দ্বন্দ্ব, সেও তো বড্ড পরিচিত! শিহাবের চোখে ভালবাসার রূপ আরও শতশত যুবকের প্রেমের মত, তন্বী মেয়েটির নির্ভরশীলতাও যেন অনেক আপন। এছাড়াও দেখেছি মাহাতাবের মত এক শ্রেণীর মানুষকে যারা নিজেদের দুর্বলতা অন্যের উপর চাপিয়ে দিতে চায়, এবং অনেক ক্ষেত্রে হয়তোবা সফলও হয়ে যায়
গল্পটা যে কোনও স্থান থেকে শুরু হতে পারত, এবং শেষ হতে পারত। যেখানে শুরু হয়েছে এবং শেষ হয়েছে তাতে আমার কোনও আপত্তি নেই। গল্পের বিভিন্ন উপমা এবং লেখিকার আত্মোক্তি দারুণ সত্য। এতটা গুছিয়ে বলার ব্যাপারটা ভাল লেগেছে।
যারা সামাজিক উপন্যাস পছন্দ করে বইটি তাদের জন্য বেশ ভাল। তবে এই বই থেকে হাস্যরস খুঁজতে যাবেন না, লেখিকা হাসির খোঁড়াক জুগিয়ে পাঠককে বাঁধতে চাননি বরং জীবনের কিছু বাস্তব চিত্র তুলে ধরে তাদের ভাবাতে চেয়েছেন। বোঝাতে চেয়েছে সম্পর্কের প্রকৃতি ও পরিস্থিতিগুলোকে। এবং সম্পূর্ণ নিজস্ব ধাঁচে তা চিত্রায়নও করেছেন।
পড়তে খারাপ লাগে না আবার গল্প কিংবা বর্ণনাভঙ্গিও ইউনিক কিছু না৷ তবে সব চেয়ে বড়ো সমস্যা হলো, লেখক লিখে প্রকাশ করার ব্যাপারে কম আগ্রহী৷ এই বইটাতেই আরও অনেক কিছু বলা যেত। দুই তিনটা চরিত্রের ব্যাপ্তিও অনেক হতে পারত৷ অনেক ঘটনা মাঝপথে এসে থেমে গেছে৷ এগুলাও শেষ করা উচিত ছিল। লেখকের প্রতিটা বইয়ের নাম নির্বাচন আমাকে দারুণভাবে আকর্ষণ করেছে৷
মাত্র শেষ করলাম, Aqua Rezia আপুর লেখা মনোসরণি-Monoshoroni
মানুষের গল্প, তাদের জীবনে কিছু কাঙ্ক্ষিত আশা কিংবা অনাকাঙ্ক্ষিত বেদনার কেচ্ছা। সংসার জীবনে দুটি মানুষের মধ্যে মনোবল, সংকল্প, জিদের যে ব্যাপার, এইসব ব্যাপারই উঠে এসেছে বইটাতে। প্রাতিষ্ঠানিকভাবে প্রতিষ্ঠিত হলেই যে জীবনের সকল সুখ হাতে এসে ধরা দিবেতা যে সত্য নয় সকল ক্ষেত্রে, জামানের জীবন থেকে আমরা তা দেখতে পাই। আবার, শাহানা নিজেকে আত্নঅবলম্বী বললেও, ভাবলেও, ভেতরে ভেতরে যে সেও একটা মানুষের ছায়া চায়, ভালবাসা চায়, তা প্রকাশ পেয়েছে। জামানের বাবা জামানকে উপন্যাসের শেষ দিকে এসে জীবনবোধ নিয়ে যে উপদেশগুলো দিয়েছে, তা আমার মন ছুঁয়ে গেছে। ভালবাসার ক্ষেত্রে দুজনকেই ছাড় দিতে হয়, তেমনি নিজেদের ভিতরকার সব ব্যাপারগুলোও শেয়ার করতে হয়।
শিহাব মেয়েদের প্রতি যে অশ্রদ্ধা রেখে চলতো, যা করতো, তার নতুন মা এসে তাকে যে ভালবাসা, আদর দিয়ে সঠিক পথে এনেছে, এটা পজিটিভ, আনন্দ দিয়েছে আমায়।
তবে উপন্যাসটা শেষ হয়েছে অনেকটা পাঠকের নিজের উপরে ছেড়ে দিয়ে...অজন্তার আসলে কি হয়! ওর জীবনে কি দুঃখ দূর করার বৃষ্টি আর আসবেই না! ...
উনার বইগুলো একটু পরপর পড়ি আর বুকে চেপে ধরে চুপ করে বসে থাকি। আমার অনুভূতির জায়গাগুলো যেন খুব সহজেই স্পর্শ করে বইগুলো। কোন এক জায়গায় খুব মিল আমার আর উনার বইয়ের। আমি ধরতে পারি না। এত সুন্দর!
বইটা ছিমছাম কাহিনী নির্ভর। কাহিনী কারো না কারো প্রতিদিনের। কাহিনী আমাদের আশেপাশের। কাহিনী চিরচেনা।
এত পরিচিত কাহিনী তবুও কেন পড়তে একটু অন্য রকম লাগে? এক্ষেত্রে হয়তো তারিফ করতে হয় লেখকের গল্প বলার ধরণ আর উপস্থাপনার।
'প্রত্যেক মানুষেরই দরকার নিজেস্ব এক পশলা বৃষ্টির, ব্যক্তিগত বৃষ্টির!'- সব মানুষের জীবনের পরিপূর্ণতা একভাবে আসে না। জীবন নামক গ্রন্থের কোন অধ্যায়ে এসে কে, কখন, কীভাবে জীবনের সার্থকতা খুঁজে পাবে তার হিসেব ব্যক্তি বিশেষে একান্তই আপন। আর তাই হয়তো লেখক বলতে চেয়েছেন 'মনোসরণি' গল্প মলাটের আড়ালে।
এক শীতের সকাল কিংবা বসন্তের বিকেল অনায়াসেই দিয়ে দেওয়া যায় হালকা চালের এই বইটাকে।