What do you think?


স্মৃতির শহর
তাসনীম হোসেন বাংলা অনলাইন রাইটার্স কমিউনিটি ব্লগ সচলায়তনে লিখছেন অনেকগুলো বছর ধরে।
প্রবাসে, বহুদূরে বসে, নস্টালজিয়ার মনোসরণিতে হেটে যাওয়া মনোভ্রমণের গল্প স্মৃতির শহর।
বেলা-অবেলায় কী আশ্চর্য সেই ভ্রমণ!
প্রবাসে, বহুদূরে বসে, নস্টালজিয়ার মনোসরণিতে হেটে যাওয়া মনোভ্রমণের গল্প স্মৃতির শহর।
বেলা-অবেলায় কী আশ্চর্য সেই ভ্রমণ!
73 pages, ebook
Published May 11, 2011
About the author
Tasnim Hossain
4 books80 followersতাসনীম হোসেনের জন্ম, বেড়ে ওঠা ঢাকায়, বর্তমানে স্থায়ীভাবে প্রবাসী। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক এবং টেক্সাস টেক থেকে স্নাতকোত্তরের পর দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছেন আইবিএমে।
অবসরে শখের লেখালেখির শুরু ২০১০ থেকে, সচলায়তন.কমে।
অবসরে শখের লেখালেখির শুরু ২০১০ থেকে, সচলায়তন.কমে।
Ratings & Reviews
Friends & Following
Create a free account to discover what your friends think of this book!
Community Reviews
Displaying 1 - 30 of 33 reviews
March 2, 2016
চলচ্চিত্রানুরাগী নই। ভিজুয়াল জিনিসপাতিতে বেশিক্ষণ আগ্রহ ধরে রাখতে পারি না বলে টিভি বা মুভি আসক্তি আসলে তৈরি-ই হয়নি কখনো। সম্প্রতি অস্কার পাওয়া লিওনার্দোর The Revenant দেখে মুগ্ধ হবার বদলে উল্টো ভয়ে আধমরা হয়ে গিয়েছিলাম। অধমের বেশিরভাগ ভ্রমণ-ই তাই মানসভ্রমণ।
আমার আগ্রহ বইতে, মূলত আত্মজীবনী আর স্মৃতিচারণে। পেশাগত পাঠ হিসাবে মানবসম্পদ পড়েছি বলে হয়তো অপেশাদারির বেলাতেও মানুষকে পড়তেই ভাল্লাগে।
সচলায়তন ব্লগ যারা পড়েন (এবং লেখেন), 'তাসনীম' নিকটা চেনার কথা। 'স্মৃতির শহর' সচলের জনপ্রিয় সিরিজগুলোর একটা, ব্যক্তিগত ভাবে নিজেরও সবচেয়ে পছন্দের সিরিজ ছিলো ওটা। পরে ই-বুক হিসেবে বের হয়, ২০১১র মাঝের দিকে। টুকটাক জড়িত ছিলাম ইলাস্ট্রেশনের কাজে। অবশ্য সচলের পাতায় কিংবা ইবুক হিসেবে আসার আগেই প্রত্যেকটা পর্ব-ই পড়তাম।
স্মৃতিকাতরতায় ভুগলে এখনো পড়ি।
স্মৃতির শহরে যেই শহরের কথা আছে, সে ঢাকা আমার শহর নয়। মাঝের দু'বছর প্রবাসের অংশটুকু বাদ দিলে আবাল্য স্মৃতির সবটুকু জুড়ে আমার যে শহর, তার নাম চট্টগ্রাম। ঢাকার পলাশি, ফার্মগেট, তেজগাঁও, ধানমন্ডি, টিএসসি কিংবা রমনার কোথাও আমার কোন স্মৃতি নেই। এই শহর আমার কিছুই জানে না, যা ছেড়ে পালাতে গিয়েছিলাম, সেই শহর ঢাকা নয়।
কিন্তু সিরিজটা যখন পড়েছি, পড়তাম কিংবা পড়ি, সেই বোধ ঠিক কাজ করে না। স্বাধীনতা উত্তরকালের বিধস্ত বাংলাদেশে বেড়ে ওঠা দুরন্ত বালকবেলার চোখে দেখা শহরের যে গল্প, যে গল্পে আছেন শামসুর রাহমান, ওভারব্রিজ পেরিয়ে হেঁটে যাওয়া স্কুলগামী কিশোরের অমলিন দিন, মনে করে নেয়াই যায় সেই আমি। অমনটাই মনে হয়, সময়ে-অসময়ে। সেই কিশোর হেঁটে যায় নিউমার্কেট, বাংলামোটর, পরীবাগ, শাহবাগের মোড়, সায়েন্স ল্যাব, নানার হাত ধরে বেড়াতে যায় ধানমণ্ডি লেকের পাড়ে। তার হাত ধরে অনায়াসে আমিও পৌঁছে যাই অবলীলায়, আচারওয়ালা কিংবা ঝালমুড়িওয়ালার ঝাঁকার সামনে। অথচ আমার শৈশব তার ঢের পেছনের সময়ে, তবু কতো কিছু মিলে যায়..
তারো ঢের সময় পর, ২০১৫তে তাসনীম ভাই থার্টি ফাস্ট নাইটে, হাড় কাঁপানো শীতের মাঝরাতে অস্টিন এয়ারপোর্টে আমাকে পিক করতে আসেন। পাশের ভদ্রলোককেও চট করে চিনে ফেলি আমি-- ভাইয়া বই'তে উনার কথা লিখেছিলেন না, আপনার বাল্য বন্ধু, গভঃ ল্যাবে একসঙ্গে পড়তেন?
উনি হেসে ফেলেন, হ্যাঁ, ও লোদী, আমার স্মৃতির শহরের আবাল্য সঙ্গী।
তার মাস দেড়েক বাদে দেশে ফিরে অনেকদিনের পুনঃপাঠ শেষে গুডরিডসের জন্য আমি রিভিউটা লিখতে বসি। আমাদেরও যে শৈশব ছিলো, স্বপ্ন ছিলো, যা খুশি তাই ভাবার আর বড় হবার স্পর্ধা ছিলো, পেরিয়ে আসা ঐসব দিনগুলিকে গতজন্মের স্মৃতি মনে হয় এখন। তবু ন্যাপথলিনের গন্ধ মাখা কিশোরের হারিয়ে যাওয়া সেইসব সোনালি দিনের শব্দ এবং নৈঃশব্দের ঘ্রাণে সময় কোথাও যেন স্থির হয়ে আছে কী মায়ামন্ত্রবলে! বারবার নস্টালজিয়ার মনোসরণীতে ঘুরে আসা যায় ই-বুকটার পাতা উল্টে। যা হারিয়ে যায়, যা গেছে, যা আগলে তবু বসে আছে বহুকাল, শৈশব নামের সেই নিখাদ আনন্দমেলায় অবলীলায় ঢোকার দরোজা খুলে দেয় স্মৃতির শহর।
উদ্ভট উটের পিঠে চলতে গিয়ে আশাহীন ধুঁকতে থাকা স্বদেশভূমিতে এক নিমেষে পোঁছে যাবেন একেকটা পর্বের পাঠক হয়ে, ভূগোলের বিচারে তা সে সময় আপনি যেখানেই নির্বাসিত থাকুন না কেন।
বেলা- অবেলায় কী আশ্চর্য সেই ভ্রমণ!
আমার আগ্রহ বইতে, মূলত আত্মজীবনী আর স্মৃতিচারণে। পেশাগত পাঠ হিসাবে মানবসম্পদ পড়েছি বলে হয়তো অপেশাদারির বেলাতেও মানুষকে পড়তেই ভাল্লাগে।
'মনুষ্যজন্ম বড় যাতনার মা!
পাখি কিংবা গাছেদের সমাজে স্মৃতিদণ্ড নেই,
কিন্তু মানুষ?
ভুবন ভ্রমিয়া শেষে ফের এসে ঘর বাঁধে স্মৃতিশ্বরী নদীপাড়েই!'
সচলায়তন ব্লগ যারা পড়েন (এবং লেখেন), 'তাসনীম' নিকটা চেনার কথা। 'স্মৃতির শহর' সচলের জনপ্রিয় সিরিজগুলোর একটা, ব্যক্তিগত ভাবে নিজেরও সবচেয়ে পছন্দের সিরিজ ছিলো ওটা। পরে ই-বুক হিসেবে বের হয়, ২০১১র মাঝের দিকে। টুকটাক জড়িত ছিলাম ইলাস্ট্রেশনের কাজে। অবশ্য সচলের পাতায় কিংবা ইবুক হিসেবে আসার আগেই প্রত্যেকটা পর্ব-ই পড়তাম।
স্মৃতিকাতরতায় ভুগলে এখনো পড়ি।
স্মৃতির শহরে যেই শহরের কথা আছে, সে ঢাকা আমার শহর নয়। মাঝের দু'বছর প্রবাসের অংশটুকু বাদ দিলে আবাল্য স্মৃতির সবটুকু জুড়ে আমার যে শহর, তার নাম চট্টগ্রাম। ঢাকার পলাশি, ফার্মগেট, তেজগাঁও, ধানমন্ডি, টিএসসি কিংবা রমনার কোথাও আমার কোন স্মৃতি নেই। এই শহর আমার কিছুই জানে না, যা ছেড়ে পালাতে গিয়েছিলাম, সেই শহর ঢাকা নয়।
কিন্তু সিরিজটা যখন পড়েছি, পড়তাম কিংবা পড়ি, সেই বোধ ঠিক কাজ করে না। স্বাধীনতা উত্তরকালের বিধস্ত বাংলাদেশে বেড়ে ওঠা দুরন্ত বালকবেলার চোখে দেখা শহরের যে গল্প, যে গল্পে আছেন শামসুর রাহমান, ওভারব্রিজ পেরিয়ে হেঁটে যাওয়া স্কুলগামী কিশোরের অমলিন দিন, মনে করে নেয়াই যায় সেই আমি। অমনটাই মনে হয়, সময়ে-অসময়ে। সেই কিশোর হেঁটে যায় নিউমার্কেট, বাংলামোটর, পরীবাগ, শাহবাগের মোড়, সায়েন্স ল্যাব, নানার হাত ধরে বেড়াতে যায় ধানমণ্ডি লেকের পাড়ে। তার হাত ধরে অনায়াসে আমিও পৌঁছে যাই অবলীলায়, আচারওয়ালা কিংবা ঝালমুড়িওয়ালার ঝাঁকার সামনে। অথচ আমার শৈশব তার ঢের পেছনের সময়ে, তবু কতো কিছু মিলে যায়..
তারো ঢের সময় পর, ২০১৫তে তাসনীম ভাই থার্টি ফাস্ট নাইটে, হাড় কাঁপানো শীতের মাঝরাতে অস্টিন এয়ারপোর্টে আমাকে পিক করতে আসেন। পাশের ভদ্রলোককেও চট করে চিনে ফেলি আমি-- ভাইয়া বই'তে উনার কথা লিখেছিলেন না, আপনার বাল্য বন্ধু, গভঃ ল্যাবে একসঙ্গে পড়তেন?
উনি হেসে ফেলেন, হ্যাঁ, ও লোদী, আমার স্মৃতির শহরের আবাল্য সঙ্গী।
তার মাস দেড়েক বাদে দেশে ফিরে অনেকদিনের পুনঃপাঠ শেষে গুডরিডসের জন্য আমি রিভিউটা লিখতে বসি। আমাদেরও যে শৈশব ছিলো, স্বপ্ন ছিলো, যা খুশি তাই ভাবার আর বড় হবার স্পর্ধা ছিলো, পেরিয়ে আসা ঐসব দিনগুলিকে গতজন্মের স্মৃতি মনে হয় এখন। তবু ন্যাপথলিনের গন্ধ মাখা কিশোরের হারিয়ে যাওয়া সেইসব সোনালি দিনের শব্দ এবং নৈঃশব্দের ঘ্রাণে সময় কোথাও যেন স্থির হয়ে আছে কী মায়ামন্ত্রবলে! বারবার নস্টালজিয়ার মনোসরণীতে ঘুরে আসা যায় ই-বুকটার পাতা উল্টে। যা হারিয়ে যায়, যা গেছে, যা আগলে তবু বসে আছে বহুকাল, শৈশব নামের সেই নিখাদ আনন্দমেলায় অবলীলায় ঢোকার দরোজা খুলে দেয় স্মৃতির শহর।
উদ্ভট উটের পিঠে চলতে গিয়ে আশাহীন ধুঁকতে থাকা স্বদেশভূমিতে এক নিমেষে পোঁছে যাবেন একেকটা পর্বের পাঠক হয়ে, ভূগোলের বিচারে তা সে সময় আপনি যেখানেই নির্বাসিত থাকুন না কেন।
বেলা- অবেলায় কী আশ্চর্য সেই ভ্রমণ!
March 21, 2016
অনেকেই আমাকে জিজ্ঞেস করেন যে, যদি দেশের বাইরে যাই তবে কোন জিনিসটা বেশী মিস করব? প্রতিবারই আমি নির্দ্বিধায় উত্তর দেই - ঢাকা, আমার ঢাকা । অনেকেই অবাক হন । এই ধুঁকতে থাকা নগরীকে মনে পড়ার কি আছে? কিন্তু এই শহরেই যে আমার বেড়ে ওঠা । শুধু বেড়ে ওঠা না, সবকিছু- সব! কখনোই ভুলতে পারব না ঢাকাকে । এর সবচেয়ে বড় প্রমাণ হচ্ছে কয়েকদিনের জন্যে ঢাকা ছেড়ে বাইরে গেলেই কেমন যেন হাঁসফাঁস লাগে । উল্টোটাই হওয়ার কথা ছিলো বরং । :) তো হঠাৎ ঢাকার প্রতি এই ভালোবাসার উপলব্ধিটা কেন? সব কৃতিত্ব এই বইটার ।
আমি ব্লগ তেমন একটা পড়িনা । তাই আইডিয়াও ছিলো না সচলায়তনের স্মৃতির শহর নামের এই সিরিজটার । গুডরীডসেই ঘুরতে ঘুরতে আকস্মাত খুঁজে পাওয়া (রিফাত সানজিদা আপুকে ধন্যবাদ) । লেখকের একান্ত ব্যক্তিগত স্মৃতিচারণাই বলতে হবে । তবুও পড়ে কম ভালো লাগেনি । বারবার ঢাকার সেই পুরনো দিনগুলোতে হারিয়ে যাচ্ছিলাম ।
এক দিন হয়ত আমিও স্মৃতিকাতর হব এই প্রিয় শহর নিয়ে । লেখককে ধন্যবাদ ।
আমি ব্লগ তেমন একটা পড়িনা । তাই আইডিয়াও ছিলো না সচলায়তনের স্মৃতির শহর নামের এই সিরিজটার । গুডরীডসেই ঘুরতে ঘুরতে আকস্মাত খুঁজে পাওয়া (রিফাত সানজিদা আপুকে ধন্যবাদ) । লেখকের একান্ত ব্যক্তিগত স্মৃতিচারণাই বলতে হবে । তবুও পড়ে কম ভালো লাগেনি । বারবার ঢাকার সেই পুরনো দিনগুলোতে হারিয়ে যাচ্ছিলাম ।
এক দিন হয়ত আমিও স্মৃতিকাতর হব এই প্রিয় শহর নিয়ে । লেখককে ধন্যবাদ ।
March 11, 2017
আত্মজীবনী বা স্মৃতিকথামূলক বই আমি পড়ি না বললেই চলে। খুব হঠাত করে একটি বা দুটি পড়ি। কেন জানো নন-ফিকশনের প্রতি আমার আগ্রহ খুব কম। এই বইটির কয়েকটি ভালো রিভিউ আগেও পড়েছি। তবুও পড়ার আগ্রহ হয়নি। কালকে আসমা হঠাত করেই পড়তে দিল। সে নিজেও গতকাল পড়ে ফেলেছে। তাই আমিও আজকে পড়ে ফেললাম।
স্মৃতির শহর লেখকের দেখা ঢাকা শহরের বর্ণনা। তার শৈশবের, কৈশোরের আর যৌবনের দেখা ঢাকা। সেই ঢাকার সাথে আমার ঢাকার মিল খুব কম পাই। আমার ঢাকা ধুলোবালি আর জ্যামে পূর্ণ। নেই নিঃশ্বাস ফেলার জায়গা। বারান্দায় দাঁড়িয়ে দেখা যায় না একচিলতে আকাশ।
তবে আমার শৈশবের ঢাকা কিন্তু এমন ছিল না। ছিল আরও বর্ণিল। রাস্তায় বেড়িয়ে ধুলোবালিতে অস্থির হতে হয়নি। হতে হয়নি জ্যামে নাজেহাল। স্কুলের পথে একটা বাড়িতে ফুলের গাছ ছিল। কি ফুল নাম আমি এখনো মনে করতে পারি না। প্রায়ই আম্মুর কাছে বায়না করতাম আমাকে একটি ফুল ছিঁড়ে দেয়ার জন্য। আর ছিল একটি কদম গাছ। ফুল ফুটলে রাস্তার পিচ্চি ছেলেগুলা গাছে চড়ে ফুল ছিঁড়ত। সেইসময় আমি আর আম্মু হেঁটে গেলে আম্মু ছেলেদের কাছ থেকে আমার জন্য ফুল চেয়ে নিত। কদম ফুলের পাপড়ি ছিঁড়ে আমি ন্যাড়া মাথা দেখতাম। আর ছিল একটা বিরাট বট গাছ। রাস্তাঘাট এখন খাঁ খাঁ করে। আমার প্রিয় সব গাছ এখন আর একটিও নেই।
লেখকের সাথে যখন শৈশবের ২/১ টি ঘটনা মিলে যায় তখন খুব ভালো লাগে। এই যেমন, রঙ্গন ফুল থেকে মধু খাওয়ার কথা। যে বাসায় ছিলাম সেটা ছিল আমার খালার বাসা। খালার রঙ্গন ফুলের গাছ ছিল। খালাতো বোনদের সাথে খেলতে খেলতে এইসব ফুল থেকে মধু খেতাম। আম্মু দেখলে শুধু বলত ফুলের ভিতর পিঁপড়া থাকবে, পেটে চলে যাবে। অতএব, আম্মুর কাছ থেকে লুকিয়েই মধু খাওয়া হত। সেই বাড়ি ছেড়ে এসেছি আজ ১২ বছর হল। রঙ্গন ফুলের গাছ আর একটিও নেই।
আবার লেখকের শৈশবের উদ্দেশ্যহীন ঘুরাঘুরির কথা পড়ে মনে পড়ে গেল বিকেলবেলা মামার সাথে হাঁটতে যাওয়ার কথা। মাঠে বসে বাদাম খাওয়া আর ক্রিকেট খেলা দেখা। ছুটির দিন সকালে ছোট মামা আমাকে নিয়ে হাঁটতে বের হত। আমি ছোটবেলা থেকেই হাঁটতে ভালোবাসি। মামার সাথে হাঁটতে আমার বেশ মজা লাগত। আর মামাও আমাকে ছাড়া যেত না কখনও। নানা যখন রংপুর থেকে ঢাকা আসতেন বেড়াতে, তখন নানার সাথেও হাঁটতে যেতাম। নানার সাথে হেঁটে একদিন মিরপুর ১২ নাম্বার থেকে ১০ নাম্বার চলে গিয়েছিলাম। আর এখন অত সকালে আমি কিছুতেই ঘুম থেকে উঠতে পারি না।
শেষটায় লেখক লিখেছেন, "এই সিরিজ পড়ে কেউ কেউ স্মৃতিভারাক্রান্ত হয়ে নিজের শৈশব নিয়ে লিখেছেন, এটা আমার পরম পাওয়া।" আমি লিখালিখি একদম পারি না। কিন্তু লেখকের এই কথাটি পড়ে মনে হল, যে বই পড়ে শৈশবের এত কথা মনে পড়ে গেল সেটা নিয়ে দু'লাইন না লিখলেই না। সেই দু'লাইন গড়িয়ে বহুলাইন হয়ে গেল। লেখককে ধন্যবাদ এরকম চমৎকার স্মৃতিচারণ উপহার দেয়ার জন্য। ৪ তারাই দিতাম। কিন্তু এতখানি নস্টালজিয়ায় ভুগার পর ৫ তারা না দিয়ে পারলাম না।
বইটির আরও একটি ভালো লাগা দিক হল, প্রতি অধ্যায়ের শুরুতে কবিতাগুলো। কবিতা পড়ে আমি কিচ্ছু বুঝি না। কিন্তু এই কবিতাংশগুলো পড়তে খুব ভালো লেগেছে। সময় সুযোগমত কবিতাগুলো পড়ার ইচ্ছা আছে।
স্মৃতির শহর লেখকের দেখা ঢাকা শহরের বর্ণনা। তার শৈশবের, কৈশোরের আর যৌবনের দেখা ঢাকা। সেই ঢাকার সাথে আমার ঢাকার মিল খুব কম পাই। আমার ঢাকা ধুলোবালি আর জ্যামে পূর্ণ। নেই নিঃশ্বাস ফেলার জায়গা। বারান্দায় দাঁড়িয়ে দেখা যায় না একচিলতে আকাশ।
তবে আমার শৈশবের ঢাকা কিন্তু এমন ছিল না। ছিল আরও বর্ণিল। রাস্তায় বেড়িয়ে ধুলোবালিতে অস্থির হতে হয়নি। হতে হয়নি জ্যামে নাজেহাল। স্কুলের পথে একটা বাড়িতে ফুলের গাছ ছিল। কি ফুল নাম আমি এখনো মনে করতে পারি না। প্রায়ই আম্মুর কাছে বায়না করতাম আমাকে একটি ফুল ছিঁড়ে দেয়ার জন্য। আর ছিল একটি কদম গাছ। ফুল ফুটলে রাস্তার পিচ্চি ছেলেগুলা গাছে চড়ে ফুল ছিঁড়ত। সেইসময় আমি আর আম্মু হেঁটে গেলে আম্মু ছেলেদের কাছ থেকে আমার জন্য ফুল চেয়ে নিত। কদম ফুলের পাপড়ি ছিঁড়ে আমি ন্যাড়া মাথা দেখতাম। আর ছিল একটা বিরাট বট গাছ। রাস্তাঘাট এখন খাঁ খাঁ করে। আমার প্রিয় সব গাছ এখন আর একটিও নেই।
লেখকের সাথে যখন শৈশবের ২/১ টি ঘটনা মিলে যায় তখন খুব ভালো লাগে। এই যেমন, রঙ্গন ফুল থেকে মধু খাওয়ার কথা। যে বাসায় ছিলাম সেটা ছিল আমার খালার বাসা। খালার রঙ্গন ফুলের গাছ ছিল। খালাতো বোনদের সাথে খেলতে খেলতে এইসব ফুল থেকে মধু খেতাম। আম্মু দেখলে শুধু বলত ফুলের ভিতর পিঁপড়া থাকবে, পেটে চলে যাবে। অতএব, আম্মুর কাছ থেকে লুকিয়েই মধু খাওয়া হত। সেই বাড়ি ছেড়ে এসেছি আজ ১২ বছর হল। রঙ্গন ফুলের গাছ আর একটিও নেই।
আবার লেখকের শৈশবের উদ্দেশ্যহীন ঘুরাঘুরির কথা পড়ে মনে পড়ে গেল বিকেলবেলা মামার সাথে হাঁটতে যাওয়ার কথা। মাঠে বসে বাদাম খাওয়া আর ক্রিকেট খেলা দেখা। ছুটির দিন সকালে ছোট মামা আমাকে নিয়ে হাঁটতে বের হত। আমি ছোটবেলা থেকেই হাঁটতে ভালোবাসি। মামার সাথে হাঁটতে আমার বেশ মজা লাগত। আর মামাও আমাকে ছাড়া যেত না কখনও। নানা যখন রংপুর থেকে ঢাকা আসতেন বেড়াতে, তখন নানার সাথেও হাঁটতে যেতাম। নানার সাথে হেঁটে একদিন মিরপুর ১২ নাম্বার থেকে ১০ নাম্বার চলে গিয়েছিলাম। আর এখন অত সকালে আমি কিছুতেই ঘুম থেকে উঠতে পারি না।
শেষটায় লেখক লিখেছেন, "এই সিরিজ পড়ে কেউ কেউ স্মৃতিভারাক্রান্ত হয়ে নিজের শৈশব নিয়ে লিখেছেন, এটা আমার পরম পাওয়া।" আমি লিখালিখি একদম পারি না। কিন্তু লেখকের এই কথাটি পড়ে মনে হল, যে বই পড়ে শৈশবের এত কথা মনে পড়ে গেল সেটা নিয়ে দু'লাইন না লিখলেই না। সেই দু'লাইন গড়িয়ে বহুলাইন হয়ে গেল। লেখককে ধন্যবাদ এরকম চমৎকার স্মৃতিচারণ উপহার দেয়ার জন্য। ৪ তারাই দিতাম। কিন্তু এতখানি নস্টালজিয়ায় ভুগার পর ৫ তারা না দিয়ে পারলাম না।
বইটির আরও একটি ভালো লাগা দিক হল, প্রতি অধ্যায়ের শুরুতে কবিতাগুলো। কবিতা পড়ে আমি কিচ্ছু বুঝি না। কিন্তু এই কবিতাংশগুলো পড়তে খুব ভালো লেগেছে। সময় সুযোগমত কবিতাগুলো পড়ার ইচ্ছা আছে।
July 12, 2016
মুহূর্তের ভিতরে নস্টালজিক করে দিল । এইটুকু লিখেই হাসি আসল , এই নস্টালাজিয়া জিনিসটা কি আসলেই আসার সময় হয়েছে। অবশ্যই না। কিন্তু বইটা পড়তে পড়তে শৈশবের আনাচে কানাচে এক পাক ঘুরে আসলাম । ঢাকা আমার অতি অপছন্দের শহর । আমি ১-২ দিনের জন্য গেলেও হাফিয়ে উঠি মনে কেউ আমাকে আজবাকানে আটকায় রাখছে চার পাশে ভয়াল সব ডিমেন্টর ঘুরে বেড়াচ্ছে। আবার নিজের ও যে স্মৃতির শহর আছে সেটাও না । কিভাবে থাকবে এখন ও যে চট্রগ্রামের বাইরে এক পাও ফেলা হয় নি।স্মৃতির শহর হয়েছে কিনা বুঝার জন্য তো আগে এই শহর থেকে দূরে থাকতে হবে। বসবাসের সূত্রে আমি চট্রগ্রামের বাসিন্দা। হয়ত কিছুদিনের ভিতরেই এই ভাগ্যটা নাই হয়ে যাবে। পড়তে পড়তে এই ভয়টাই কাজ করছিল চট্রগ্রাম ছাড়া আমি কিভাবে থাকব?
লেখকের বাচ্চাকালের/ স্কুলের স্মৃতি পড়ে খুবই ভাল লেগেছে। আমি পৃথিবীর মোটামুটি সেই সব দুর্ভাগাদের একজন যারা এই বাচ্চাকাল কিংবা স্কুল লাইফ ভয়াবহ গিয়েছে। বাবা রেলের কর্মকর্তা , যাদের রেলের বাসা গুলো নিয়ে কিছুটা ধারনা আছেন তারা বুঝবেন এক একটা বাসা আরেকটা বাসার সাথে ঠিক কতটা দূরত্ব বজার রাখে :3 আবার আমার নিজের ও কারো সাথে যেচে মিশার ক্ষমতাটাও নাই । সেই হিসাবে বলতে গেলে পুরো জীবনটাই একা একা কাটিয়ে দিয়েছি।
বাচ্চাকালে স্কুলে দেবার পর যেটা হল হটাত করেই আব্বু ধরতে পারল আমি মুখে যত বিশাল বিশাল কবিতা বলে ফেলি না কেন লিখা কিংবা পড়ার ক্ষমতা আমার নাই। সুন্দর ভাষায় যেটাকে ডিস্লেক্সিয়া বলে, সেই সাথে ফ্রি হিসাবে আছে ADHD । মা-বাপ ২টার মাথায় হাত পড়ল , পড়াশুনা পারছি না এইটা খুব একটা সমস্যা না হলেও কারো সাথে মিশতে পারছি না কিংবা ক্লাসে কোনভাবেই মনোযোগ দিতে পারছি না এইটা বিশাল লেভেলের সমস্যা ছিল ।
আমার সারাজীবনের পরম ভাগ্য যে আমার বাপ-মা ২টাই অসাধারন। একমাত্র বাচ্চার হবার কারনেই হোক অন্য কোন কারন থাকলেই হোক আমি এই জীবনে আব্বু- আম্মুর হাতে মাইর খাই নি । এই ২ মহামানব তাদের অসম্ভব এনার্জি দিয়ে আমার পিছনে লেগে থাকলেন কিভাবে পড়াশুনা করানো যায়। তাদের টেকনিক ছিল অসাধারন ক্লাসের বই পড়ার দরকার নাই গল্পের বই কমিকস ডিজনির বই পড়তে শিখ!!!!! । এই বই যখন পড়ে শেষ করে রিভিউ লিখতে পারছি তার মানে তারা সফল হয়েছেন। আনন্দের বিষয়টুকু এইখানেই শেষ :( আব্বু –আম্মু না মারলে কি হবে স্কুলের টিচাররা এত দয়ার সাগর ছিলেন না। ফলাফল যেটা ছিল প্রতি ক্লাসে মাইর খাওয়া আমার একে বারে নিয়ম হয়ে গেল । সাথে অবশ্যই ফেইল করা !!!! মাইরের কারনেই হোক ফেইলের কারনেই হোক স্কুলের তেমন কেউ আমার সাথে মিশত না। আমার বেশির ভাগ সময় কাটত বাচ্চাদের খেলা দেখে কিংবা লাস্ট বেঞ্চে বসে থেকে।
রেলের প্রায় সব অফিসারের বাচ্চারাই এই স্কুলে পড়ত এই স্কুলের কারনে যেটা হল বেশির ভাগ বাচ্চাদের ধারনা হল আমি অতি গাধা (যদিও আমি আসলেই স্টুডেন্ট খারাপ কিন্তু সরাসরি শুনতে খারাপ লাগে) এর ফলাফলা দাঁড়ালো বিকালে বাসায় ফিরে কেউ আমার সাথে খেলতে চাইত না । বড় মাঠে সব বাচ্চারা খেলত এইখানেও আমি নিরব দর্শক
প্রতিবছর ফেইল করার পর ও আমাকে পরের ক্লাসে তুলে দেওয়া হত এবং রেজাল্ট কার্ডে বড় করে লেখা থাকত বিশেষ বিবেচনায় পাশ !!!
এই খানেও আমার যথেষ্ট দুঃখ বোধ কাজ করে। আনফরচুনেটলি আমি এক টিচারকে বলতে শুনেছিলাম “ ও যদি স্পেশাল চাইল্ডই হয় তাহলে ওকে কেন আপনারা প্রতিবন্ধীদের স্কুলে নিয়ে যাচ্ছেন না?”
এত কিছুর পর ও কিভাবে নিজের বাচ্চাকালটাকে ভাল বলি? নাহ আমার বাচ্চাকাল ভয়াবহ খারাপ ।
এইখারাপের ভিতরে যা ভাল ছিল সেটুকু হল আব্বু –আম্মু ।
ক্লাস ৬ এ ঊঠার পড়ে আবার ঝামেলা। আশে পাশের সব বাচ্চা কাচ্চা চট্রগামের যত ধরনের স্বনামধন্য স্কুল আছে চান্স পেয়ে গেল। আমি পড়ে রইলাম বিশেষ বিবেচনার জন্য। এই বিশেষ বিবেচনা যে আধমরা/ অখ্যাত স্কুলে করল সেখানে এসে প্রথম বারের মত কিছুটা শান্তি পেলাম । টিচারের মাইর খেতে হচ্ছে না, ইচ্ছা মত ক্লাস ফাঁকি দেওয়া যায়। টানা ১০ দিন না গেলেও কেউ কিছু বলছে না । ততদিনে হাতের লেখা যাই থাকুক মোটামুটি লেখা পড়া ভালই শিখে গেছি । টেনে টুনে হলেও পাশ করে যাচ্ছি । তবে এই লাইফের সবচেয়ে বড় সার্থকতা হল গল্পের বই পড়া। স্কুলের কাছেই ২টা বইয়ের দোকান ছিল যারা বই ভাড়া দিত। এই স্কুল লাইফটা আমার গিয়েছে বই ভাড়া নিয়ে আর টেবিলের নিচে লুকিয়ে লুকিয়ে বই পড়ে। অবশ্য ক্লাস ৯-১০ এ উঠে লুকিয়ে লুকিয়ে পড়ার দরকার হয় নি বেশির ভাগ টিচারই অনুমতি দিয়ে দিয়েছিলেন ক্লাসে কথা না বললে যেখানে খুশি যত খুশি বই পড়।
চট্রগ্রামে আমার খারাপ স্মৃতিই বেশি এমন ও সময় গিয়েছে আমি এবং যাচ্ছে আমি মনে প্রানে চেয়েছি দূর সব কিছু ছেড়ে ছুঁড়ে এই শহর থেকে কেটে পড়ি । এই লিখাটা পড়ার পর বুঝলাম আমার স্মৃতি যাই থাকুক না কেন আমি শহরটাকে মিস করব !!
লেখকের মত আমিও বলি ভাল থাকুক স্মৃতির শহর গুলো
বইয়ের রিভিউওর চাইতে নিজের গীতই বেশি গাইলাম কি করব বইটা পড়ে ঝা ঝা করে সব মনে পড়ে গেল।
রিফাত আপুকে ধন্যবাদ রিকোমেন্ড করার জন্য। ওনাকে আমি মনে হচ্ছে যাদের হিংসা করি সেই মানুষদের লিস্টে রাখতে হবে
উনি বই পড়েম, বইয়ের অসাধারন রিভিউ দেন, বইয়ের সুন্দর সুন্দর ছবিও তোলেন আবার বইয়ে ইলাস্ট্রেশনও করেন!!!
জেনারালি কেউ বাচ্চাকাল আনন্দে কাটছে বাচ্চাকালে ফিরে যেতে চাই বললে আমার হিংসা লাগে তাই লেখকের প্রতিও একগাদা হিংসা!!!!
লেখকের বাচ্চাকালের/ স্কুলের স্মৃতি পড়ে খুবই ভাল লেগেছে। আমি পৃথিবীর মোটামুটি সেই সব দুর্ভাগাদের একজন যারা এই বাচ্চাকাল কিংবা স্কুল লাইফ ভয়াবহ গিয়েছে। বাবা রেলের কর্মকর্তা , যাদের রেলের বাসা গুলো নিয়ে কিছুটা ধারনা আছেন তারা বুঝবেন এক একটা বাসা আরেকটা বাসার সাথে ঠিক কতটা দূরত্ব বজার রাখে :3 আবার আমার নিজের ও কারো সাথে যেচে মিশার ক্ষমতাটাও নাই । সেই হিসাবে বলতে গেলে পুরো জীবনটাই একা একা কাটিয়ে দিয়েছি।
বাচ্চাকালে স্কুলে দেবার পর যেটা হল হটাত করেই আব্বু ধরতে পারল আমি মুখে যত বিশাল বিশাল কবিতা বলে ফেলি না কেন লিখা কিংবা পড়ার ক্ষমতা আমার নাই। সুন্দর ভাষায় যেটাকে ডিস্লেক্সিয়া বলে, সেই সাথে ফ্রি হিসাবে আছে ADHD । মা-বাপ ২টার মাথায় হাত পড়ল , পড়াশুনা পারছি না এইটা খুব একটা সমস্যা না হলেও কারো সাথে মিশতে পারছি না কিংবা ক্লাসে কোনভাবেই মনোযোগ দিতে পারছি না এইটা বিশাল লেভেলের সমস্যা ছিল ।
আমার সারাজীবনের পরম ভাগ্য যে আমার বাপ-মা ২টাই অসাধারন। একমাত্র বাচ্চার হবার কারনেই হোক অন্য কোন কারন থাকলেই হোক আমি এই জীবনে আব্বু- আম্মুর হাতে মাইর খাই নি । এই ২ মহামানব তাদের অসম্ভব এনার্জি দিয়ে আমার পিছনে লেগে থাকলেন কিভাবে পড়াশুনা করানো যায়। তাদের টেকনিক ছিল অসাধারন ক্লাসের বই পড়ার দরকার নাই গল্পের বই কমিকস ডিজনির বই পড়তে শিখ!!!!! । এই বই যখন পড়ে শেষ করে রিভিউ লিখতে পারছি তার মানে তারা সফল হয়েছেন। আনন্দের বিষয়টুকু এইখানেই শেষ :( আব্বু –আম্মু না মারলে কি হবে স্কুলের টিচাররা এত দয়ার সাগর ছিলেন না। ফলাফল যেটা ছিল প্রতি ক্লাসে মাইর খাওয়া আমার একে বারে নিয়ম হয়ে গেল । সাথে অবশ্যই ফেইল করা !!!! মাইরের কারনেই হোক ফেইলের কারনেই হোক স্কুলের তেমন কেউ আমার সাথে মিশত না। আমার বেশির ভাগ সময় কাটত বাচ্চাদের খেলা দেখে কিংবা লাস্ট বেঞ্চে বসে থেকে।
রেলের প্রায় সব অফিসারের বাচ্চারাই এই স্কুলে পড়ত এই স্কুলের কারনে যেটা হল বেশির ভাগ বাচ্চাদের ধারনা হল আমি অতি গাধা (যদিও আমি আসলেই স্টুডেন্ট খারাপ কিন্তু সরাসরি শুনতে খারাপ লাগে) এর ফলাফলা দাঁড়ালো বিকালে বাসায় ফিরে কেউ আমার সাথে খেলতে চাইত না । বড় মাঠে সব বাচ্চারা খেলত এইখানেও আমি নিরব দর্শক
প্রতিবছর ফেইল করার পর ও আমাকে পরের ক্লাসে তুলে দেওয়া হত এবং রেজাল্ট কার্ডে বড় করে লেখা থাকত বিশেষ বিবেচনায় পাশ !!!
এই খানেও আমার যথেষ্ট দুঃখ বোধ কাজ করে। আনফরচুনেটলি আমি এক টিচারকে বলতে শুনেছিলাম “ ও যদি স্পেশাল চাইল্ডই হয় তাহলে ওকে কেন আপনারা প্রতিবন্ধীদের স্কুলে নিয়ে যাচ্ছেন না?”
এত কিছুর পর ও কিভাবে নিজের বাচ্চাকালটাকে ভাল বলি? নাহ আমার বাচ্চাকাল ভয়াবহ খারাপ ।
এইখারাপের ভিতরে যা ভাল ছিল সেটুকু হল আব্বু –আম্মু ।
ক্লাস ৬ এ ঊঠার পড়ে আবার ঝামেলা। আশে পাশের সব বাচ্চা কাচ্চা চট্রগামের যত ধরনের স্বনামধন্য স্কুল আছে চান্স পেয়ে গেল। আমি পড়ে রইলাম বিশেষ বিবেচনার জন্য। এই বিশেষ বিবেচনা যে আধমরা/ অখ্যাত স্কুলে করল সেখানে এসে প্রথম বারের মত কিছুটা শান্তি পেলাম । টিচারের মাইর খেতে হচ্ছে না, ইচ্ছা মত ক্লাস ফাঁকি দেওয়া যায়। টানা ১০ দিন না গেলেও কেউ কিছু বলছে না । ততদিনে হাতের লেখা যাই থাকুক মোটামুটি লেখা পড়া ভালই শিখে গেছি । টেনে টুনে হলেও পাশ করে যাচ্ছি । তবে এই লাইফের সবচেয়ে বড় সার্থকতা হল গল্পের বই পড়া। স্কুলের কাছেই ২টা বইয়ের দোকান ছিল যারা বই ভাড়া দিত। এই স্কুল লাইফটা আমার গিয়েছে বই ভাড়া নিয়ে আর টেবিলের নিচে লুকিয়ে লুকিয়ে বই পড়ে। অবশ্য ক্লাস ৯-১০ এ উঠে লুকিয়ে লুকিয়ে পড়ার দরকার হয় নি বেশির ভাগ টিচারই অনুমতি দিয়ে দিয়েছিলেন ক্লাসে কথা না বললে যেখানে খুশি যত খুশি বই পড়।
চট্রগ্রামে আমার খারাপ স্মৃতিই বেশি এমন ও সময় গিয়েছে আমি এবং যাচ্ছে আমি মনে প্রানে চেয়েছি দূর সব কিছু ছেড়ে ছুঁড়ে এই শহর থেকে কেটে পড়ি । এই লিখাটা পড়ার পর বুঝলাম আমার স্মৃতি যাই থাকুক না কেন আমি শহরটাকে মিস করব !!
লেখকের মত আমিও বলি ভাল থাকুক স্মৃতির শহর গুলো
বইয়ের রিভিউওর চাইতে নিজের গীতই বেশি গাইলাম কি করব বইটা পড়ে ঝা ঝা করে সব মনে পড়ে গেল।
রিফাত আপুকে ধন্যবাদ রিকোমেন্ড করার জন্য। ওনাকে আমি মনে হচ্ছে যাদের হিংসা করি সেই মানুষদের লিস্টে রাখতে হবে
উনি বই পড়েম, বইয়ের অসাধারন রিভিউ দেন, বইয়ের সুন্দর সুন্দর ছবিও তোলেন আবার বইয়ে ইলাস্ট্রেশনও করেন!!!
জেনারালি কেউ বাচ্চাকাল আনন্দে কাটছে বাচ্চাকালে ফিরে যেতে চাই বললে আমার হিংসা লাগে তাই লেখকের প্রতিও একগাদা হিংসা!!!!
March 10, 2017
'মনুষযজনম বড় যাতনার মা!
পাখি কিংবা গাছেদের সমাজে সমৃতিদণড নেই,
কিনতু মানুষ?
ভুবন ভরমিয়া শেষে ফের এসে ঘর বাঁধে সমৃতিশবরী নদীপাড়েই!'
স্মৃতির শহর অসাধারণ।শুধুমাত্র কবিতাগুলোর জন্য হলেও এবইটা ভালো লাগতে বাধ্য।
পাখি কিংবা গাছেদের সমাজে সমৃতিদণড নেই,
কিনতু মানুষ?
ভুবন ভরমিয়া শেষে ফের এসে ঘর বাঁধে সমৃতিশবরী নদীপাড়েই!'
স্মৃতির শহর অসাধারণ।শুধুমাত্র কবিতাগুলোর জন্য হলেও এবইটা ভালো লাগতে বাধ্য।
July 15, 2016
আমার কাছে এই বইটা ঢাকার কাছে লেখা কোনো প্রেমপত্রের মতোই...
https://shuhanrizwan.com/2021/04/30/b...
https://shuhanrizwan.com/2021/04/30/b...
March 20, 2017
বুকের মধ্যে বাহান্নটা মেহগনি কাঠের আলমারি।
আমার যা কিছু প্রিয় জিনিস, সব সেইখানে।
যে সব মেঘ গভীর রাতের দিকে যেতে যেতে ঝরে পড়েছে বনে তাদের শোক,
যে সব বন পাখির উল্লাসে উড়তে গিয়ে ছারখার হয়েছে কুঠারে কুঠারে তাদের কান্না,
যে সব পাখি ভুল করে বসন্তের গান গেয়েছে বর্ষার বিকেলে তাদের সর্বনাশ
সব ঐ আলমারির ভিতরে।
আজ এমন একটা মেঘলা দিন , কেমন একটা বিষণ্ণতা জাগে। দুপুর থেকে অরহান পামুকের ইস্তানবুল বইয়ের আমার পছন্দের Hüzün(melancholy)নিয়ে লেখা চ্যাপ্টার টা মনে পড়ছে। এক কথায় বলব নাগরিক বিষণ্ণতা ।
একদম ছোটবেলায় তখন ৫ কি ৬ বছর একদিন বৃষ্টির দিন সন্ধ্যায় জানালা দিয়ে ভেজা রাস্তায় কোন একটা বাসার লাইটের রিফ্লেকশন দেখে সেই যে ছবিটা মনে গেঁথে গেল, এতগুলো বছর ধরে নস্টালজিয়ায়, কল্পনায় একাকী বা কারো সাথে
এমন একটা বৃষ্টি ভেজা রাস্তার জন্য আকাঙ্ক্ষাটা যেন সেই ছোটবেলার ঐ সন্ধ্যার ছবিটা দিয়ে এখনও মনে রয়ে গেছে ।
বারেবারে একই রকম মনে হয়, এই জায়গাগুলো ছেড়ে যেতে কত কষ্ট হবে, কষ্ট হয়। তারপর বোধহয় সেন্টার টা কোনভাবে শিফট হয়ে যায়, রেডিয়াসে নতুন জিনিস চলে আসে , পুরোনো কথা মনে পড়ে but it's okay.
ছোটবেলায় যেখানে থাকতাম একবার ফিরে গিয়ে সেই জায়গার পরিবর্তন টা দেখে (ততদিন পর্যন্ত সব আগের মতই থাকবে ভেবে রেখেছিলাম বোধহয়) ভালো লাগে নি, মনে হয়েছে জিনিসগুলো যেভাবে ছেড়ে গেছে বা আমি যেই ছবি নিয়ে চলে এসেছি তাই অক্ষত থাকুক , আর ফিরে না আসুক, আর ফিরে না আসি।
সময়গুলো বদলে গেছে । ছোটবেলায় জানালা দিয়ে বেলুন ওয়ালার থেকে লম্বা ডান্ডা ওয়ালা বেলুন( এগুলো আর দেখা যায় না, বেলুনওয়ালার কাছে বাঘের প্লাস্টিকের মুখোশ থাকত, এখন সব স্পাইডারম্যান মিকি মাউস এইসবের মাস্ক দেখি ) কিনতাম বিছানাতে দাঁড়িয়ে।
বেলুনটা কেনার সাথে সাথে বিছানায় দাঁড়িয়ে থাকার জন্য ফ্যানে লেগে ফুটে যেত আর আমি কেঁদে দিতাম। আইস্ক্রিম ওয়ালা আসত রং , আমি সবসময় টিয়া রঙের আইসক্রিম কিনতাম, ছোটবেলায় ঐটাই আমার পছন্দের রং ছিল। কটকটিওয়ালা ছিল , আম্মু আমাকে এই জিনিস ভুলেও খেতে দিত না। তাও আমি একবার আমার সাথে খেলত এক পিচ্চির থেকে চেয়ে খেয়েছিলাম। সেই শন পাপড়িও আর নেই, মাঝে একবার বেকারী থেকে আম্মু কি একটা শন পাপড়ি এনেছিল, ছোটবেলার সাথে তার চেহারা টেস্ট কিছুই মিলে না । এখনকার গোলাপি হাওয়াই মিঠাই গুলার আরেকটা ভার্সন বের হত তখন, গোল গোল মিষ্টির শেপে কাঁচের বড় জারে থাকত। দোকানে গেলে ম্যাচবক্সের মতন একটা বক্সে ছোট একদম ছোট গোল গোল এক ধরণের চকলেট(?) পাওয়া যেত, আমি বলতাম টিকটিকির ডিম ,একবার ছোটবেলায় একটা টিকটিকির ডিম দেখেছিলাম ঠিক ওরকম সাইজের।
আরও অনেক জিনিস নেই, লাট্টু লেত্তি দিয়ে কেউ হাতে তুলে দিলে কয়েক সেকেন্ড হাতে রাখতে না রাখতে টুক করে ফেলে দেওয়া নেই, সেই সবুজ রঙের মার্বেল গুলা নেই , লেইছফিতাওয়ালা নেই, চানাচুররররর বলে চোঙ্গা ওয়ালা অদ্ভুত সাজপোশাক পরা যে চানাচুরওয়ালা আসত সে নেই, মাটির ব্যাংকে টাকা জমানো নেই, কানামাছি , ছোঁয়াছুঁয়ি , মাংস চোর, ফুল টোক্কা , লুকোচুরি খেলা নেই, কারো গাছ থেকে বরই পাড়া নেই, বাড়ির ছাদে ওঠার সময় নেই, বারান্দায় গিয়ে আকাশ দেখারও সময় নেই, কেবলই নেই নেই আর নেই।
স্মৃতিকথা পড়তে সবসময়ই ভালো লাগে। লেখক প্রতিটা লেখার শুরুতে পছন্দের কবিতার লাইনগুলো দিয়ে এমন চমৎকার করে সাজিয়েছেন! ছোট পরিসর, কিন্তু কী সাজানো গোছানো সুন্দর ছিমছাম...
চিনতিস তুই যাকে সে আমার
মধ্য থেকে উঠে
বিষম সুদূর ধু-ধু অন্তরালে চ' লে গেছে। তুইও যা, চ' লে যা ।
আমার যা কিছু প্রিয় জিনিস, সব সেইখানে।
যে সব মেঘ গভীর রাতের দিকে যেতে যেতে ঝরে পড়েছে বনে তাদের শোক,
যে সব বন পাখির উল্লাসে উড়তে গিয়ে ছারখার হয়েছে কুঠারে কুঠারে তাদের কান্না,
যে সব পাখি ভুল করে বসন্তের গান গেয়েছে বর্ষার বিকেলে তাদের সর্বনাশ
সব ঐ আলমারির ভিতরে।
আজ এমন একটা মেঘলা দিন , কেমন একটা বিষণ্ণতা জাগে। দুপুর থেকে অরহান পামুকের ইস্তানবুল বইয়ের আমার পছন্দের Hüzün(melancholy)নিয়ে লেখা চ্যাপ্টার টা মনে পড়ছে। এক কথায় বলব নাগরিক বিষণ্ণতা ।
একদম ছোটবেলায় তখন ৫ কি ৬ বছর একদিন বৃষ্টির দিন সন্ধ্যায় জানালা দিয়ে ভেজা রাস্তায় কোন একটা বাসার লাইটের রিফ্লেকশন দেখে সেই যে ছবিটা মনে গেঁথে গেল, এতগুলো বছর ধরে নস্টালজিয়ায়, কল্পনায় একাকী বা কারো সাথে
এমন একটা বৃষ্টি ভেজা রাস্তার জন্য আকাঙ্ক্ষাটা যেন সেই ছোটবেলার ঐ সন্ধ্যার ছবিটা দিয়ে এখনও মনে রয়ে গেছে ।
বারেবারে একই রকম মনে হয়, এই জায়গাগুলো ছেড়ে যেতে কত কষ্ট হবে, কষ্ট হয়। তারপর বোধহয় সেন্টার টা কোনভাবে শিফট হয়ে যায়, রেডিয়াসে নতুন জিনিস চলে আসে , পুরোনো কথা মনে পড়ে but it's okay.
ছোটবেলায় যেখানে থাকতাম একবার ফিরে গিয়ে সেই জায়গার পরিবর্তন টা দেখে (ততদিন পর্যন্ত সব আগের মতই থাকবে ভেবে রেখেছিলাম বোধহয়) ভালো লাগে নি, মনে হয়েছে জিনিসগুলো যেভাবে ছেড়ে গেছে বা আমি যেই ছবি নিয়ে চলে এসেছি তাই অক্ষত থাকুক , আর ফিরে না আসুক, আর ফিরে না আসি।
সময়গুলো বদলে গেছে । ছোটবেলায় জানালা দিয়ে বেলুন ওয়ালার থেকে লম্বা ডান্ডা ওয়ালা বেলুন( এগুলো আর দেখা যায় না, বেলুনওয়ালার কাছে বাঘের প্লাস্টিকের মুখোশ থাকত, এখন সব স্পাইডারম্যান মিকি মাউস এইসবের মাস্ক দেখি ) কিনতাম বিছানাতে দাঁড়িয়ে।
বেলুনটা কেনার সাথে সাথে বিছানায় দাঁড়িয়ে থাকার জন্য ফ্যানে লেগে ফুটে যেত আর আমি কেঁদে দিতাম। আইস্ক্রিম ওয়ালা আসত রং , আমি সবসময় টিয়া রঙের আইসক্রিম কিনতাম, ছোটবেলায় ঐটাই আমার পছন্দের রং ছিল। কটকটিওয়ালা ছিল , আম্মু আমাকে এই জিনিস ভুলেও খেতে দিত না। তাও আমি একবার আমার সাথে খেলত এক পিচ্চির থেকে চেয়ে খেয়েছিলাম। সেই শন পাপড়িও আর নেই, মাঝে একবার বেকারী থেকে আম্মু কি একটা শন পাপড়ি এনেছিল, ছোটবেলার সাথে তার চেহারা টেস্ট কিছুই মিলে না । এখনকার গোলাপি হাওয়াই মিঠাই গুলার আরেকটা ভার্সন বের হত তখন, গোল গোল মিষ্টির শেপে কাঁচের বড় জারে থাকত। দোকানে গেলে ম্যাচবক্সের মতন একটা বক্সে ছোট একদম ছোট গোল গোল এক ধরণের চকলেট(?) পাওয়া যেত, আমি বলতাম টিকটিকির ডিম ,একবার ছোটবেলায় একটা টিকটিকির ডিম দেখেছিলাম ঠিক ওরকম সাইজের।
আরও অনেক জিনিস নেই, লাট্টু লেত্তি দিয়ে কেউ হাতে তুলে দিলে কয়েক সেকেন্ড হাতে রাখতে না রাখতে টুক করে ফেলে দেওয়া নেই, সেই সবুজ রঙের মার্বেল গুলা নেই , লেইছফিতাওয়ালা নেই, চানাচুররররর বলে চোঙ্গা ওয়ালা অদ্ভুত সাজপোশাক পরা যে চানাচুরওয়ালা আসত সে নেই, মাটির ব্যাংকে টাকা জমানো নেই, কানামাছি , ছোঁয়াছুঁয়ি , মাংস চোর, ফুল টোক্কা , লুকোচুরি খেলা নেই, কারো গাছ থেকে বরই পাড়া নেই, বাড়ির ছাদে ওঠার সময় নেই, বারান্দায় গিয়ে আকাশ দেখারও সময় নেই, কেবলই নেই নেই আর নেই।
স্মৃতিকথা পড়তে সবসময়ই ভালো লাগে। লেখক প্রতিটা লেখার শুরুতে পছন্দের কবিতার লাইনগুলো দিয়ে এমন চমৎকার করে সাজিয়েছেন! ছোট পরিসর, কিন্তু কী সাজানো গোছানো সুন্দর ছিমছাম...
চিনতিস তুই যাকে সে আমার
মধ্য থেকে উঠে
বিষম সুদূর ধু-ধু অন্তরালে চ' লে গেছে। তুইও যা, চ' লে যা ।
Read
July 16, 2022ফের এই বইটা পড়লাম, শেষ বার যখন পড়ছিলাম তখন ছিলাম আলতাই পর্বতের পাদদেশে অবস্থির কাজাখস্তানের অপূর্ব পার্বত্য শহর ও পুরাতন রাজধানী আলমতিতে ( Almaty), ভ্রমণের সময় নানা কারণে অসম্ভব আনন্দময় সময়ের সাথে সাথে প্রচুর উৎকণ্ঠা, ঝুঁকি এইগুলোও থাকে, তাই অনেকটা stress drain করার জন্য ভ্রমণের মাঝে আমি সবসময়ই খুব সুখপাঠ্য প্রিয় বইগুলো ফের পড়তে থাকি, বিশেষ করে কৈশোরের প্রিয় বইগুলো। যাহোক শেষ বিকেলের আলো যখন আলাতাও পর্বতমালার শিখরের বরফকে ক্ষণে ক্ষণে নানা রঙে রাঙাচ্ছিলো, আসলেই মনে করাচ্ছিল যে রঙধনুর ৭ বর্ণ মিলেই সাদা হয়, তখন ৭০ আর ৮০ দশকের ঢাকা নিয়ে লেখা মায়াময় এই বইটা পড়তে আমার খুব সাধ হলো। ফের পড়লাম, এবং পড়ার মাঝেই লেখক তাসনীম ভাইকে ফোন দিয়ে বললাম যে আলমাতি শহরে বসে উনার ‘স্মৃতির শহর’ পড়ছি।
শুনেই তাসনীম ভাই বললেন, “আলমাতি, আরে দাড়াও দাড়াও, আলমাতি আর ঢাকার তো কোন সময়ের পার্থক্য নাই তাই না? আমাদের ছোট বেলায় ঢাকার উপরের দিকে এগোলেই ম্যাপে যে কটা শহর দেখতাম যারা ঢাকার সাথে একই সময় শেয়ার করে, অক্ষাংশ-দ্রাঘিমাংশের জটিল সব হিসেব এড়িয়ে সেই সোভিয়েত ইউনিয়নের কত দূরের আলমাতি শহর তাদের একটি! একই সময় সেখানে ভাবে খুবই অবাক হতাম, আহা তুমি এখন সেখানে, ঢাকারই সময়ে”।
কণ্ঠ শুনেই বুঝলাম তাসনীম ভাই ফের ডুব দিয়েছেন, তিনি আমার সাথে কথা বললেও ফোনের অপরপ্রান্তে তিনি আর ডালাসে নেই, তিনি তখন স্মৃতির শহর ঢাকায়, যে শহরে চাইলেই তিনি ফিরে যান যে কোন মুহূর্তে, স্মৃতির রঙ্গিন কাঁচের মধ্য দিয়ে স্বচ্ছতোয়া সব স্মৃতিরা ফিরে আসে, বা নির্মিত হয় কল্পনায়, যেখানে তাসনীম হোসেন বাস করেন নিরন্তর।
“স্মৃতির শহর কিন্তু থাকার জন্য দারুণ! ওখানে না-গরম, না-ঠাণ্ডা, লোকজনের ব্যবহার মধুর, রিকশাভাড়াও বেশ কম। কলে পানি পাওয়া যায় ঠিকমতোই, ধুলাবালির প্রকোপ তেমন নেই, মশার উপদ্রব সহনীয়, অসুখ-বিসুখের বালাই নেই, কাজকর্ম করলেও চলে, না করলেও অসুবিধা নেই। লোডশেডিং শুধু পূর্ণিমা রাতেই হয়, সাথে একটু উতল হাওয়াও থাকে। বিনা টিকেট, বিনা পাসপোর্টে সেখানে ঢোকা যায়, যতদিন খুশি থাকুন সেখানে, কেউ কিছু বলবে না। আমি প্রায়ই যাই সেখানে, আমার ভূমিকা শুধু চোখ মেলে দেখা। আব্বাই সবকিছু সামলান, আমি তো বালক মাত্র। সকালে উঠে উনি আমাকে আইনস্টাইন আর সত্যেন বোসের গল্প শোনান। আমাকে মসজিদে নেওয়ার কথা উনার মনেই নেই। কোনো কোনো দিন ভোরে রেডিওতে ভাসে আব্দুল আলীমের উথালপাথাল সুর। আজম খানও যুদ্ধফেরত যুবক, গান তাঁর ক্রোধ আর অভিমান। রবীন্দ্রনাথ থাকেন ভিনাইল রেকর্ডে, আর ভাইয়ার দরাজ গলার কবিতায়। বৃষ্টির রাতে মাঝে মাঝে সন্ন্যাসী উপগুপ্ত মথুরাপুরী ছেড়ে ভিজতে ভিজতে তেজগাঁয়ে চলে আসেন। এই শহরে না ফিরে উপায় আছে? “
তাসনীম ভাই এবং বাংলাদেশে প্রায় সমবয়সী, উনি সামান্য বড়, তাই ৮০ পাতার এই এক চিলতে বইতে উনার সাথে সাথে বাংলাদেশের ইতিহাসও সমান্তরাল ভাবে বয়েছে, বঙ্গবন্ধুর হত্যা, রাজাকারদের পুনর্বাসন, এরশাদ বিরোধী আন্দোলন সবই এসেছে স্মৃতিচারণার ফাঁকে ফাঁকে, কিন্তু সেই সাথে তাসনীম হোসেন অপূর্ব মুন্সিয়ানার বারবার ফিরেই নিয়ে গেছেন তাঁর শৈশবে, এক নয়, আমাদেরকেও-
“আমার স্মৃতির শহরটা বড়ই সুন্দর। সেখানের বিকেলগুলো লম্বা আর নরম, মোলায়েম রোদের আলোতে স্নান করে রাস্তার পাশের বড় বড় কৃষ্ণচূড়া গাছ, তাতে বসে থাকে হলুদ রঙের কুটুম পাখি। শব্দ আছে হরেক রকমের, গাড়ির হর্ন থেকে ঝালমুড়িওয়ালার হাঁকডাক, আছে সুরের মতো রিকশার টুংটাং আওয়াজ। দূর থেকে কান পাতলে মনে হবে যেন সংগীত শুনছি। সেই শহরে হেমন্তের সকালগুলো ঘুম ঘুম কুয়াশামাখা, বসন্ত হাজির হয় সংগোপনে; গ্রীষ্মের খরতাপ যেমন আছে তেমনি আছে শ্রাবণের প্রবল ধারাতে কাকভেজা হওয়ার সুব্যবস্থা।“
জীবনের অর্ধেক ঢাকাতে আর বাকী অর্ধেক এখন অবধি সব পেয়েছির দেশে যুক্তরাষ্ট্রেই আছেন তিনি, যে দেশে উনার মা মাস্টার্স করে সাথে সাথেই ঢাকায় ফিরেছিলেন, দেশ ছাড়ার বেদনার লিপিবদ্ধ করছেন গনগনে আগুনে পুড়ে,
“আমি দেশ ছাড়ি ১৯৯৬ সালের আগস্ট মাসে। দিনটাও মনে আছে, আগস্ট মাসের পাঁচ তারিখ। গুমোট একটা গরম ছিল সেই সকালে। আকাশটাও অনেক মেঘলা ছিল, সেই রঙের সাথে মিল রেখে আমার মনটাও ছিল বেশ ভারী। বর্ষা আমার প্রিয় ঋতু, কিন্তু সেই সকালের প্রবল বর্ষণটা আর দেখা হয় নি, ম্যাকডোনাল্ড ডগলাসের বিমানটা বৃষ্টির আগেই আমাকে একটানে নিয়ে গেছে অনেক দূরে। ছিল দুটো স্যুটকেস, তাতে বোঝাই বঙ্গবাজারের বেঢপ কাপড়চোপড়, কিছু পড়ার বই, জীবনানন্দ আর শামসুর রাহমানের কবিতা। আমার যা কিছু পার্থিব সম্পত্তি সব এঁটে গেছে সত্তর পাউন্ডের দুটো বাক্সে। স্যুটকেসে আঁটে নি শুধু দীর্ঘশ্বাস, বরং বুক থেকে সেটা বেরিয়ে এসেছে ক্ষণে ক্ষণে। আমেরিকা নাকি মানুষকে গিলে ফেলে, আবার ফিরতে পারব তো এই শহরে? কেউ কি অপেক্ষায় থাকবে? “
আসলেই কেউ কি অপেক্ষায় থাকে? ঐ যে কেউ না থাকলে স্মৃতিরা থাকে, সযত্নে, সংগোপনে ভিতরে-
“স্মৃতির শহরের দিনগুলো ঝকঝকে হয়, মলিনতা ঝেড়ে ওরা সর্বদাই তরতাজা। ওখানে আব্বা রীতিমতো যুবক পুরুষ, সকালে গুনগুন করে গান করেন, নাস্তার টেবিলে টুকটাক আলাপ করেন আর অজান্তেই জীবনদর্শন ঢুকিয়ে দেন মাথার মধ্যে। রান্নাঘর থেকে রেশমি ধোঁয়া উড়ছে, মিষ্টি গন্ধটা ফুলের নয়, মিষ্টি কুমড়া নিয়ে তৈরি সব্জির। আর ছ্যাঁৎছ্যাঁৎ শব্দটাতেও ভয় পাওয়ার কিছু নেই, ওটা পরোটা ভাজার শব্দ। দূরে কোথাও সাগর সেন গাইছেন, “তুমি এপার-ওপার করো কে গো ওগো খেয়ার নেয়ে...”, এই সকালের চলচ্চিত্রে ব্যাকগ্রাউন্ড সংগীতের মতো ছড়িয়ে পড়ে তাঁর অপূর্ব কণ্ঠের ব্যাকুলতা। এই আশ্চর্য ভোরবেলাটা যেন বিস্মৃতির আড়াল থেকে উঠিয়ে আনে একমুঠো স্মৃতির শহর। সেই শহরে আর ফেরা হয় না, তার অপার্থিব সৌন্দর্যের জলছবি দেখি শুধু।“
ঢাকার নাগরিক কবি খ্যাত শামসুর রাহমানের কবিতার লাইন দিয়ে বইটির ১৬টির অধ্যায়েরই শুরু, বোঝা যায় আজীবন ঢাকাকে লালন করে যাওয়া কবিকে তাসনীম ভাই হৃদয়ের খুব কাছেই লালন করে যাচ্ছেন এখনো,
“এরপর ঢাকা থেকে এনেছি তাঁর শ্রেষ্ঠ কবিতার সংকলন, আনন্দ ও বেদনায় আঁকড়ে রাখি বইটাকে, কখনো চোখের জলে বইয়ের পাতা ভিজে গেলে সন্তর্পণে মুছে রেখে দেই শেলফে। মাঝে মাঝে ব্যস্ত দিনের কাজের ফাঁকে বাচ্চুর মতো এক অবুঝ বালক এসে আমাকেও বড় জ্বালাতন করে। কাজ ফেলে সেই বালকের সঙ্গে ঢুকে যাই স্মৃতির শহরে, মিথ্যে হয়ে যায় যা যা কিছু পার্থিব আছে এই সংসারে। ক্ষণিকের জন্য ভুলে যাই আমার সময়ও সুমিষ্ট পিঠার মতোই ভাগ করে খাচ্ছে সবাই। কবি, আপনার সাথেই যেন চলে আমার এই আশ্চর্য ভ্রমণ। “
মাঝে আমাদের সকলেই কালের ঘোড়ায় চাপিইয়ে ১০ মিনিটের জন্য তাঁর নিজস্ব ঢাকায় নিয়ে বের হন লেখক,
“শীতের পাতা ঝরা দিন অথবা বসন্তের ঝলমলে সকাল, অথবা ঝমঝমে বর্ষা সবই পাবেন দশ মিনিটের সফরে, বেড়ানোর এমন জায়গা কি আর কোথাও আছে? কী আশ্চর্য স্মৃতির শহর! আজ আমরা দুই পৃথিবীর বাসিন্দা, ভৌগোলিক দূরত্বের বাইরেও এই দুই জগতের দূরত্ব যেন প্রায় অনতিক্রম্য। এখান থেকে সেই জগতে ফেরাটা অসম্ভব। সেই দূরত্ব অতিক্রম করতে পারে শুধুই স্মৃতির শহর, বিনাটিকেটে, বিনাখরচে, বিনাবাধায় সেই জগতে প্রবেশ করা যায়, এইটুকু আছে বলেই আমার সেই পৃথিবীটা এখনো হারিয়ে যায় নি। স্মৃতির শহর আছে বলেই বর্তমান পৃথিবীটাকে এখনো মায়াময় লাগে।
বেঁচে থাকুক আমার এক ফোঁটা স্মৃতির শহর! “
পরম মমতায় ছুঁয়ে ছেনে দেখান প্রতিটি স্মৃতিময় জনপদ,
“পলাশী, সায়েন্স ল্যাব, ধানমন্ডি, লালমাটিয়া, মোহাম্মদপুর, শ্যামলী, ইন্দিরা রোড, শুক্রাবাদ, কলাবাগান, এলিফ্যান্ট রোড, ফার্মগেট, মিরপুর, মগবাজার, গ্রীন রোড, নিউমার্কেট, রাজারবাগ, বনানী, গুলশান, উত্তরা, মালিবাগ, শাহবাগ, টিএসসি, বিজয়নগর তোমাদের কথা মনে পড়ে যায় ঠিকঠাক, গত জন্মের স্মৃতির মতো। “
নিজের জীবনের লক্ষ্য নিয়ে দ্বিধাহীন ভাবেই লেখক বলেছেন, “ঠিক করা ছিল বড় হয়েই ঘুরতে বের হবো, যতটা পারব ঘুরে দেখব এই পৃথিবী। জীবনের লক্ষ্যের কাছাকাছি না হলেও আমি যখনই পেরেছি তখনই মোটামুটি চষে বেড়িয়েছি। কিন্তু কোনো ভ্রমণই শৈশবের সেই ভ্রমণকে অতিক্রম করতে পারে নি। কল্পনার রথে চড়ে যে যাত্রা, তাকে জেট প্লেন, রেন্ট-এ-কার, ট্রেন বা বাস কীভাবে হার মানায়? “
আর সেই সাথে বাস্তবতা জর্জরিত আজকের জীবনে যেন আমাদের ফিরেই নিয়ে যান সেই শৈশবে অনেকটা নিঃশ্বাস নেবার মতো, এই স্মৃতিরাই যেন প্রাণদায়িনী,
“ফিরবেন বাসায় নাকি থেকে যাবেন লেকের পাড়ে? আপনার ইচ্ছে। তবে শৈশবের শব্দ, গন্ধ আর ছবি বুকে মেখে নিয়ে ফিরে আসতেই হবে এই পোড়া পোড়া গন্ধওয়ালা বাস্তবে, ফিরলেই ঘিরে ধরবে নানান ধান্ধা আর যাবতীয় মিথ্যে সব কাজ। কিন্তু এরপরও বুকের মাঝে যেই চিনচিনে ব্যথাটা লাগছে, সেটা কিন্তু ব্যথা নয়, এক টুকরো আনন্দ। ওইখানটাতেই আছে আপনার স্মৃতির শহর। “
অনেকটা জীবনের escape tunnel এর মতোই আমাদের সবারই এই স্মৃতিতে বা নিজস্ব জগতে ডুব দেবার ব্যাপার আছে, অতি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি নিয়ে তাইই হয়তো বারংবার আলোকপাত করেছেন লেখক,
“জীবন নিয়ে যদি আমার অভিমত জানতে চাওয়া হয়, তবে আমি বলব জীবন অত্যন্ত বিস্ময়কর এক যাত্রা, যতই এর ভেতর দিয়ে যাচ্ছি সেই বিস্ময় যেন শুধু রঙ পালটাচ্ছে এবং আরও নতুন রূপে আসছে আমার কাছে। তবুও এই মাঝবয়েসের কাছে এসেও যেন বালকবেলার বিস্ময় রয়ে গেছে অমলিন অথবা হয়ত এখনো আমি শৈশবকে অতিক্রম করতে পারি নি। এতদিনেও যদি না পারি, তবে বাকি জীবনেও যে এর থেকে মুক্তি নেই, সেটাও সুনিশ্চিত। তবে শৈশব কৈশোরের স্মৃতি আছে বলেই জীবনযাপন বাস্তবতার কষাঘাত থেকে একটু সুরক্ষা পায়।“
কিন্তু আবার সেই চেনা শহরের বদলে যাওয়া, জানা মানুষদের হারিয়ে যাওয়া যে আমাদের অন্য মানুষ করে ফেলে, জীবিত নির্বাসনের মতই সেটাও হাহাকার করে তাঁর লেখায়,
“আমি মনে হয় আজও ঘুরে বেড়াচ্ছি গন্তব্যহীন... সফর শেষ করে মন ফিরতে চায় সেই স্বপ্নঘেরা সবুজ শহরে, যদিও আজকের ঢাকা থেকে আম, জাম, লিচু, নারিকেল, টিয়া, প্রজাপতি, পুকুর, ভূতপ্রেত সবাই বিতাড়িত হয়েছে। আমিও কি নির্বাসিত নই ওদের মতোই? “
তাসনীম হোসেন বাংলা ব্লগের সবচেয়ে জনপ্রিয় লেখকদের একজন। বিশেষ করে সচলায়তনে লেখা উনার ‘স্মৃতির শহর’ এবং ‘শিশু পালন’ এখনো পাঠকদের মুখেমুখে ফিরে। অনেক বছর আগেই ‘স্মৃতির শহর’এর ই-বুক পড়েছিলাম সচলায়তনের সৌজন্যে, এখন ফের ছাপা কপি পড়ে প্রভুত আনন্দ হল।
বইটি প্রকাশ করেছে ‘অনার্য’, গায়ের মূল্য ২৫০ টাকা ।
ছাপা, বাঁধাই সুন্দর। পরের সংস্করণের কিছু স্কেচ সংযুক্ত হলে আরও ভালো লাগবে সম্ভবত।
পরিশেষে প্রিয় তাসনীম ভাই,
দু-হাত খুলে লিখতেথাকুন, আমাদের ঋণী করুন আরও। আর শেষ বার যখন মেক্সিকোর কানকুনে মায়ান রাজ্য আমাদের দেখা হল, বলেছিলাম কিন্তু যে বাংলাদেশকে অন্যভাবে ঘুরিয়ে ফিরিয়ে দেখাব আপনাকে, সেই কথায় রইলো-
শুনেই তাসনীম ভাই বললেন, “আলমাতি, আরে দাড়াও দাড়াও, আলমাতি আর ঢাকার তো কোন সময়ের পার্থক্য নাই তাই না? আমাদের ছোট বেলায় ঢাকার উপরের দিকে এগোলেই ম্যাপে যে কটা শহর দেখতাম যারা ঢাকার সাথে একই সময় শেয়ার করে, অক্ষাংশ-দ্রাঘিমাংশের জটিল সব হিসেব এড়িয়ে সেই সোভিয়েত ইউনিয়নের কত দূরের আলমাতি শহর তাদের একটি! একই সময় সেখানে ভাবে খুবই অবাক হতাম, আহা তুমি এখন সেখানে, ঢাকারই সময়ে”।
কণ্ঠ শুনেই বুঝলাম তাসনীম ভাই ফের ডুব দিয়েছেন, তিনি আমার সাথে কথা বললেও ফোনের অপরপ্রান্তে তিনি আর ডালাসে নেই, তিনি তখন স্মৃতির শহর ঢাকায়, যে শহরে চাইলেই তিনি ফিরে যান যে কোন মুহূর্তে, স্মৃতির রঙ্গিন কাঁচের মধ্য দিয়ে স্বচ্ছতোয়া সব স্মৃতিরা ফিরে আসে, বা নির্মিত হয় কল্পনায়, যেখানে তাসনীম হোসেন বাস করেন নিরন্তর।
“স্মৃতির শহর কিন্তু থাকার জন্য দারুণ! ওখানে না-গরম, না-ঠাণ্ডা, লোকজনের ব্যবহার মধুর, রিকশাভাড়াও বেশ কম। কলে পানি পাওয়া যায় ঠিকমতোই, ধুলাবালির প্রকোপ তেমন নেই, মশার উপদ্রব সহনীয়, অসুখ-বিসুখের বালাই নেই, কাজকর্ম করলেও চলে, না করলেও অসুবিধা নেই। লোডশেডিং শুধু পূর্ণিমা রাতেই হয়, সাথে একটু উতল হাওয়াও থাকে। বিনা টিকেট, বিনা পাসপোর্টে সেখানে ঢোকা যায়, যতদিন খুশি থাকুন সেখানে, কেউ কিছু বলবে না। আমি প্রায়ই যাই সেখানে, আমার ভূমিকা শুধু চোখ মেলে দেখা। আব্বাই সবকিছু সামলান, আমি তো বালক মাত্র। সকালে উঠে উনি আমাকে আইনস্টাইন আর সত্যেন বোসের গল্প শোনান। আমাকে মসজিদে নেওয়ার কথা উনার মনেই নেই। কোনো কোনো দিন ভোরে রেডিওতে ভাসে আব্দুল আলীমের উথালপাথাল সুর। আজম খানও যুদ্ধফেরত যুবক, গান তাঁর ক্রোধ আর অভিমান। রবীন্দ্রনাথ থাকেন ভিনাইল রেকর্ডে, আর ভাইয়ার দরাজ গলার কবিতায়। বৃষ্টির রাতে মাঝে মাঝে সন্ন্যাসী উপগুপ্ত মথুরাপুরী ছেড়ে ভিজতে ভিজতে তেজগাঁয়ে চলে আসেন। এই শহরে না ফিরে উপায় আছে? “
তাসনীম ভাই এবং বাংলাদেশে প্রায় সমবয়সী, উনি সামান্য বড়, তাই ৮০ পাতার এই এক চিলতে বইতে উনার সাথে সাথে বাংলাদেশের ইতিহাসও সমান্তরাল ভাবে বয়েছে, বঙ্গবন্ধুর হত্যা, রাজাকারদের পুনর্বাসন, এরশাদ বিরোধী আন্দোলন সবই এসেছে স্মৃতিচারণার ফাঁকে ফাঁকে, কিন্তু সেই সাথে তাসনীম হোসেন অপূর্ব মুন্সিয়ানার বারবার ফিরেই নিয়ে গেছেন তাঁর শৈশবে, এক নয়, আমাদেরকেও-
“আমার স্মৃতির শহরটা বড়ই সুন্দর। সেখানের বিকেলগুলো লম্বা আর নরম, মোলায়েম রোদের আলোতে স্নান করে রাস্তার পাশের বড় বড় কৃষ্ণচূড়া গাছ, তাতে বসে থাকে হলুদ রঙের কুটুম পাখি। শব্দ আছে হরেক রকমের, গাড়ির হর্ন থেকে ঝালমুড়িওয়ালার হাঁকডাক, আছে সুরের মতো রিকশার টুংটাং আওয়াজ। দূর থেকে কান পাতলে মনে হবে যেন সংগীত শুনছি। সেই শহরে হেমন্তের সকালগুলো ঘুম ঘুম কুয়াশামাখা, বসন্ত হাজির হয় সংগোপনে; গ্রীষ্মের খরতাপ যেমন আছে তেমনি আছে শ্রাবণের প্রবল ধারাতে কাকভেজা হওয়ার সুব্যবস্থা।“
জীবনের অর্ধেক ঢাকাতে আর বাকী অর্ধেক এখন অবধি সব পেয়েছির দেশে যুক্তরাষ্ট্রেই আছেন তিনি, যে দেশে উনার মা মাস্টার্স করে সাথে সাথেই ঢাকায় ফিরেছিলেন, দেশ ছাড়ার বেদনার লিপিবদ্ধ করছেন গনগনে আগুনে পুড়ে,
“আমি দেশ ছাড়ি ১৯৯৬ সালের আগস্ট মাসে। দিনটাও মনে আছে, আগস্ট মাসের পাঁচ তারিখ। গুমোট একটা গরম ছিল সেই সকালে। আকাশটাও অনেক মেঘলা ছিল, সেই রঙের সাথে মিল রেখে আমার মনটাও ছিল বেশ ভারী। বর্ষা আমার প্রিয় ঋতু, কিন্তু সেই সকালের প্রবল বর্ষণটা আর দেখা হয় নি, ম্যাকডোনাল্ড ডগলাসের বিমানটা বৃষ্টির আগেই আমাকে একটানে নিয়ে গেছে অনেক দূরে। ছিল দুটো স্যুটকেস, তাতে বোঝাই বঙ্গবাজারের বেঢপ কাপড়চোপড়, কিছু পড়ার বই, জীবনানন্দ আর শামসুর রাহমানের কবিতা। আমার যা কিছু পার্থিব সম্পত্তি সব এঁটে গেছে সত্তর পাউন্ডের দুটো বাক্সে। স্যুটকেসে আঁটে নি শুধু দীর্ঘশ্বাস, বরং বুক থেকে সেটা বেরিয়ে এসেছে ক্ষণে ক্ষণে। আমেরিকা নাকি মানুষকে গিলে ফেলে, আবার ফিরতে পারব তো এই শহরে? কেউ কি অপেক্ষায় থাকবে? “
আসলেই কেউ কি অপেক্ষায় থাকে? ঐ যে কেউ না থাকলে স্মৃতিরা থাকে, সযত্নে, সংগোপনে ভিতরে-
“স্মৃতির শহরের দিনগুলো ঝকঝকে হয়, মলিনতা ঝেড়ে ওরা সর্বদাই তরতাজা। ওখানে আব্বা রীতিমতো যুবক পুরুষ, সকালে গুনগুন করে গান করেন, নাস্তার টেবিলে টুকটাক আলাপ করেন আর অজান্তেই জীবনদর্শন ঢুকিয়ে দেন মাথার মধ্যে। রান্নাঘর থেকে রেশমি ধোঁয়া উড়ছে, মিষ্টি গন্ধটা ফুলের নয়, মিষ্টি কুমড়া নিয়ে তৈরি সব্জির। আর ছ্যাঁৎছ্যাঁৎ শব্দটাতেও ভয় পাওয়ার কিছু নেই, ওটা পরোটা ভাজার শব্দ। দূরে কোথাও সাগর সেন গাইছেন, “তুমি এপার-ওপার করো কে গো ওগো খেয়ার নেয়ে...”, এই সকালের চলচ্চিত্রে ব্যাকগ্রাউন্ড সংগীতের মতো ছড়িয়ে পড়ে তাঁর অপূর্ব কণ্ঠের ব্যাকুলতা। এই আশ্চর্য ভোরবেলাটা যেন বিস্মৃতির আড়াল থেকে উঠিয়ে আনে একমুঠো স্মৃতির শহর। সেই শহরে আর ফেরা হয় না, তার অপার্থিব সৌন্দর্যের জলছবি দেখি শুধু।“
ঢাকার নাগরিক কবি খ্যাত শামসুর রাহমানের কবিতার লাইন দিয়ে বইটির ১৬টির অধ্যায়েরই শুরু, বোঝা যায় আজীবন ঢাকাকে লালন করে যাওয়া কবিকে তাসনীম ভাই হৃদয়ের খুব কাছেই লালন করে যাচ্ছেন এখনো,
“এরপর ঢাকা থেকে এনেছি তাঁর শ্রেষ্ঠ কবিতার সংকলন, আনন্দ ও বেদনায় আঁকড়ে রাখি বইটাকে, কখনো চোখের জলে বইয়ের পাতা ভিজে গেলে সন্তর্পণে মুছে রেখে দেই শেলফে। মাঝে মাঝে ব্যস্ত দিনের কাজের ফাঁকে বাচ্চুর মতো এক অবুঝ বালক এসে আমাকেও বড় জ্বালাতন করে। কাজ ফেলে সেই বালকের সঙ্গে ঢুকে যাই স্মৃতির শহরে, মিথ্যে হয়ে যায় যা যা কিছু পার্থিব আছে এই সংসারে। ক্ষণিকের জন্য ভুলে যাই আমার সময়ও সুমিষ্ট পিঠার মতোই ভাগ করে খাচ্ছে সবাই। কবি, আপনার সাথেই যেন চলে আমার এই আশ্চর্য ভ্রমণ। “
মাঝে আমাদের সকলেই কালের ঘোড়ায় চাপিইয়ে ১০ মিনিটের জন্য তাঁর নিজস্ব ঢাকায় নিয়ে বের হন লেখক,
“শীতের পাতা ঝরা দিন অথবা বসন্তের ঝলমলে সকাল, অথবা ঝমঝমে বর্ষা সবই পাবেন দশ মিনিটের সফরে, বেড়ানোর এমন জায়গা কি আর কোথাও আছে? কী আশ্চর্য স্মৃতির শহর! আজ আমরা দুই পৃথিবীর বাসিন্দা, ভৌগোলিক দূরত্বের বাইরেও এই দুই জগতের দূরত্ব যেন প্রায় অনতিক্রম্য। এখান থেকে সেই জগতে ফেরাটা অসম্ভব। সেই দূরত্ব অতিক্রম করতে পারে শুধুই স্মৃতির শহর, বিনাটিকেটে, বিনাখরচে, বিনাবাধায় সেই জগতে প্রবেশ করা যায়, এইটুকু আছে বলেই আমার সেই পৃথিবীটা এখনো হারিয়ে যায় নি। স্মৃতির শহর আছে বলেই বর্তমান পৃথিবীটাকে এখনো মায়াময় লাগে।
বেঁচে থাকুক আমার এক ফোঁটা স্মৃতির শহর! “
পরম মমতায় ছুঁয়ে ছেনে দেখান প্রতিটি স্মৃতিময় জনপদ,
“পলাশী, সায়েন্স ল্যাব, ধানমন্ডি, লালমাটিয়া, মোহাম্মদপুর, শ্যামলী, ইন্দিরা রোড, শুক্রাবাদ, কলাবাগান, এলিফ্যান্ট রোড, ফার্মগেট, মিরপুর, মগবাজার, গ্রীন রোড, নিউমার্কেট, রাজারবাগ, বনানী, গুলশান, উত্তরা, মালিবাগ, শাহবাগ, টিএসসি, বিজয়নগর তোমাদের কথা মনে পড়ে যায় ঠিকঠাক, গত জন্মের স্মৃতির মতো। “
নিজের জীবনের লক্ষ্য নিয়ে দ্বিধাহীন ভাবেই লেখক বলেছেন, “ঠিক করা ছিল বড় হয়েই ঘুরতে বের হবো, যতটা পারব ঘুরে দেখব এই পৃথিবী। জীবনের লক্ষ্যের কাছাকাছি না হলেও আমি যখনই পেরেছি তখনই মোটামুটি চষে বেড়িয়েছি। কিন্তু কোনো ভ্রমণই শৈশবের সেই ভ্রমণকে অতিক্রম করতে পারে নি। কল্পনার রথে চড়ে যে যাত্রা, তাকে জেট প্লেন, রেন্ট-এ-কার, ট্রেন বা বাস কীভাবে হার মানায়? “
আর সেই সাথে বাস্তবতা জর্জরিত আজকের জীবনে যেন আমাদের ফিরেই নিয়ে যান সেই শৈশবে অনেকটা নিঃশ্বাস নেবার মতো, এই স্মৃতিরাই যেন প্রাণদায়িনী,
“ফিরবেন বাসায় নাকি থেকে যাবেন লেকের পাড়ে? আপনার ইচ্ছে। তবে শৈশবের শব্দ, গন্ধ আর ছবি বুকে মেখে নিয়ে ফিরে আসতেই হবে এই পোড়া পোড়া গন্ধওয়ালা বাস্তবে, ফিরলেই ঘিরে ধরবে নানান ধান্ধা আর যাবতীয় মিথ্যে সব কাজ। কিন্তু এরপরও বুকের মাঝে যেই চিনচিনে ব্যথাটা লাগছে, সেটা কিন্তু ব্যথা নয়, এক টুকরো আনন্দ। ওইখানটাতেই আছে আপনার স্মৃতির শহর। “
অনেকটা জীবনের escape tunnel এর মতোই আমাদের সবারই এই স্মৃতিতে বা নিজস্ব জগতে ডুব দেবার ব্যাপার আছে, অতি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি নিয়ে তাইই হয়তো বারংবার আলোকপাত করেছেন লেখক,
“জীবন নিয়ে যদি আমার অভিমত জানতে চাওয়া হয়, তবে আমি বলব জীবন অত্যন্ত বিস্ময়কর এক যাত্রা, যতই এর ভেতর দিয়ে যাচ্ছি সেই বিস্ময় যেন শুধু রঙ পালটাচ্ছে এবং আরও নতুন রূপে আসছে আমার কাছে। তবুও এই মাঝবয়েসের কাছে এসেও যেন বালকবেলার বিস্ময় রয়ে গেছে অমলিন অথবা হয়ত এখনো আমি শৈশবকে অতিক্রম করতে পারি নি। এতদিনেও যদি না পারি, তবে বাকি জীবনেও যে এর থেকে মুক্তি নেই, সেটাও সুনিশ্চিত। তবে শৈশব কৈশোরের স্মৃতি আছে বলেই জীবনযাপন বাস্তবতার কষাঘাত থেকে একটু সুরক্ষা পায়।“
কিন্তু আবার সেই চেনা শহরের বদলে যাওয়া, জানা মানুষদের হারিয়ে যাওয়া যে আমাদের অন্য মানুষ করে ফেলে, জীবিত নির্বাসনের মতই সেটাও হাহাকার করে তাঁর লেখায়,
“আমি মনে হয় আজও ঘুরে বেড়াচ্ছি গন্তব্যহীন... সফর শেষ করে মন ফিরতে চায় সেই স্বপ্নঘেরা সবুজ শহরে, যদিও আজকের ঢাকা থেকে আম, জাম, লিচু, নারিকেল, টিয়া, প্রজাপতি, পুকুর, ভূতপ্রেত সবাই বিতাড়িত হয়েছে। আমিও কি নির্বাসিত নই ওদের মতোই? “
তাসনীম হোসেন বাংলা ব্লগের সবচেয়ে জনপ্রিয় লেখকদের একজন। বিশেষ করে সচলায়তনে লেখা উনার ‘স্মৃতির শহর’ এবং ‘শিশু পালন’ এখনো পাঠকদের মুখেমুখে ফিরে। অনেক বছর আগেই ‘স্মৃতির শহর’এর ই-বুক পড়েছিলাম সচলায়তনের সৌজন্যে, এখন ফের ছাপা কপি পড়ে প্রভুত আনন্দ হল।
বইটি প্রকাশ করেছে ‘অনার্য’, গায়ের মূল্য ২৫০ টাকা ।
ছাপা, বাঁধাই সুন্দর। পরের সংস্করণের কিছু স্কেচ সংযুক্ত হলে আরও ভালো লাগবে সম্ভবত।
পরিশেষে প্রিয় তাসনীম ভাই,
দু-হাত খুলে লিখতেথাকুন, আমাদের ঋণী করুন আরও। আর শেষ বার যখন মেক্সিকোর কানকুনে মায়ান রাজ্য আমাদের দেখা হল, বলেছিলাম কিন্তু যে বাংলাদেশকে অন্যভাবে ঘুরিয়ে ফিরিয়ে দেখাব আপনাকে, সেই কথায় রইলো-
January 8, 2022
একটু বেশিই সুন্দর ^_^
ঈগল হ্যাজ ল্যান্ডেড পড়ার পর থেকে বেশ কয়েকদিন আর কোন বইয়ে মন বসাতে পারি নাই। কার্ট স্টাইনার আর তার দলের অন্য দু:সাহসীদের দু:খে কাতর হয়ে ছিলাম। এই বইটা মন ভালো করে দিল। ♥ এতো সুন্দর করে কিভাবে লেখে মানুষ?
ঈগল হ্যাজ ল্যান্ডেড পড়ার পর থেকে বেশ কয়েকদিন আর কোন বইয়ে মন বসাতে পারি নাই। কার্ট স্টাইনার আর তার দলের অন্য দু:সাহসীদের দু:খে কাতর হয়ে ছিলাম। এই বইটা মন ভালো করে দিল। ♥ এতো সুন্দর করে কিভাবে লেখে মানুষ?
Read
March 3, 2016বইটা পড়ার পর অদৃশ্য একটা খারাপ লাগা কাজ করছিলো। আমার নিজের শৈশবকাল কেটেছে লেখকের মতো প্রায় দুরন্ত গতিতে।আম্মা ঘুম পাড়াতে গিয়ে নিজে ঘুমিয়ে যেতেন আর আমি মহান কলম্বাস এর মত ঘুরেফিরে নতুন কিছু আবিষ্কার করতাম আর দিন শেষে 'চোরের দশদিন আর গেরস্থের একদিন ' ওই তত্ত্ব অনুসারে ধোলাই খেতাম।আম্মার ভাঁজ করা শাড়ির মধ্যে কর্পূর এর গন্ধ শুকা,পাশের বাসার ছেলেটাকে আচ্ছা ধোলাই দেওয়া,গাছের কোনো ডালে ফল আকারে কতটুক হলো তা নিষ্ঠার সাথে পর্যবেক্ষণ করা, অন্যের পুকুরে ছিপ ফেলা আরো কত কি!!! আজ বড় হয়ে গিয়েছি। সেই শৈশবকাল হারিয়ে গেছে কালের নিয়মে।বইটা পড়ে আবার যেন শৈশবকাল থেকে ঘুরে এলাম আর কেন আবার শৈশবে ফিরতে পারছি না তা নিয়ে নির্ভেজাল বাচ্চার মত খারাপ লাগছে। জীবনের সবচেয়ে ভালো সময়টা পার করে ফেলেছি। বইটা পড়ার পর এই কয়েক লাইন মাথায় ঘুরছিলো-
"আজ আমরা দুই পৃথিবীর বাসিন্দা, ভৌগোলিক দূরত্বের বাহিরেও এই দুই জগতের দূরত্ব যেন প্রায় অনতিক্রম্য। এখান থেকে সেই জগতে ফেরাটা অসম্ভব। এই দূরত্ব অতিক্রম করতে পারে শুধুই স্মৃতির শহর, বিনা টিকেটে,বিনা খরচে,বিনা বাধায় সেই জগতে প্রবেশ করা যায়।এইটুকু আছে বলে আমার সেই পৃথিবীটা এখনো হারিয়ে যায়নি। স্মৃতির শহর আছে বলেই বর্তমান পৃথিবী এখনো মায়াময় লাগে"।
"আজ আমরা দুই পৃথিবীর বাসিন্দা, ভৌগোলিক দূরত্বের বাহিরেও এই দুই জগতের দূরত্ব যেন প্রায় অনতিক্রম্য। এখান থেকে সেই জগতে ফেরাটা অসম্ভব। এই দূরত্ব অতিক্রম করতে পারে শুধুই স্মৃতির শহর, বিনা টিকেটে,বিনা খরচে,বিনা বাধায় সেই জগতে প্রবেশ করা যায়।এইটুকু আছে বলে আমার সেই পৃথিবীটা এখনো হারিয়ে যায়নি। স্মৃতির শহর আছে বলেই বর্তমান পৃথিবী এখনো মায়াময় লাগে"।
April 5, 2026
"চলুন আজ ঘুরে দেখি আমার সেই নগরী, একটা সিটি ট্যুর নিলে আজ মন্দ হয় না।"
এতটুকু পড়লেই মনে হয় যে চমৎকার একটা যাত্রা হতে যাচ্ছে! মনে হয় যেন লেখক গল্প শোনাচ্ছেন লিখেছেন না।
‘স্মৃতির শহর’ “তাসনীম হোসেনের” একটি স্মৃতিকথামূলক গ্রন্থ / গদ্যগ্রন্থ, যা মূলত “সচলায়তন ব্লগে” ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়েছিল ২০১০ সালের ফেব্রুয়ারি মাস থেকে। পরবর্তী সময়ে ই-বুক আকারে প্রকাশিত হয় ২০১১ সালে। বইটি ষোলটি পর্বে বিভক্ত, প্রতিটি পর্বের শিরোনামে শামসুর রাহমান, আবুল হাসান, আহসান হাবীব, পূর্ণেন্দু পত্রী, নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীসহ কয়েকজন বাঙালি কবির পঙক্তি ব্যবহৃত হয়েছে, পঙক্তিগুলো প্রতিটি পর্বের ভাবের সাথে মিলেও যায়।
লেখক নিজেই বলেছেন যে “এটা শুধু আমার একার নয়, এটা আমাদের সবার শহর।”
সম্ভবত একজন মানুষের সাথে আরেকজন মানুষের সবচেয়ে বেশি মিল থাকে শৈশবেই, এরপর পথগুলো সব নানান দিকে যেতে থাকে। তাই হয়ত শৈশবই আমাদের সম্মিলিত ঐক্যের স্থান।।
সেই হিসেবে বইটাকে খাড়াভাবে আত্মজীবনীমূলক বলাও যায় না।
লেখকের শৈশব এখানে একটি প্রজন্মের আত্মার দর্পণ!
বইটির আখ্যান/সময় তিনটি স্তরে বিভক্ত।
• সত্তর-আশির দশকের ঢাকা বিশেষ করে তেজগাঁও এলাকার।
• লেখকের বিশ্ববিদ্যালয়-জীবন এবং এরশাদ-বিরোধী আন্দোলনের উত্তাল সময়।
• আমেরিকায় প্রবাসী পরিণত বয়সের বর্তমান।
এই বর্তমানেই লেখক অতীতের স্মৃতি পুনর্নির্মাণ করেছেন।
বইয়ের সময়কাল তিনস্তরে থাকলেও পড়তে সমস্যা হয়না। বরং পাঠক এটাকে উপভোগ করবে। এক্ষেত্রে লেখকের গদ্যশৈলীর প্রশংসা করতে হয়।
“একটি দুপুরের রোদ বা রেলগাড়ির শব্দ হঠাৎ তিরিশ বছর পেরিয়ে চলে আসে”।
এটা অনেকটা “মার্শেল প্রুস্তের” ‘ইন সার্চ অব লস্ট টাইম’র সাথে রিলেট/মিলানো করা যায়।
বইয়ের ভাষাবিন্যাস একেবারেই সহজ। কিছু লাইনে বাক্য দীর্ঘ হলেও কঠিন হয়নি।
বইটা শেষ করার পরে দুটো প্রশ্ন মাথায় ঘুরপাক খেতে থাকে— স্মৃতি আসলে কী? এবং শৈশব কোথায় শেষ হয়?
যারা সত্তর-আশির দশকের ঢাকায় বড় হয়েছেন, তাঁদের কাছে এই বইয়ের প্রতিটি পাতা নিজের হারানো শহর ফিরে পাওয়ার অনুভব হবে। আর যারা ৯০ দশক, সহজ শৈশব, পরিবার, মহল্লার চমৎকার স্মৃতি ইত্যাদি পছন্দ করেন তারাও বইটা নিশ্চিন্তে পড়তে পারেন।
বইটা এমন-ই যে আপনি চাইলে যেকোনো জায়গা থেকে শুরু করে দিতে পারেন।
নিজের শৈশবকে হয়তো ফিরে পাবেন .
এতটুকু পড়লেই মনে হয় যে চমৎকার একটা যাত্রা হতে যাচ্ছে! মনে হয় যেন লেখক গল্প শোনাচ্ছেন লিখেছেন না।
‘স্মৃতির শহর’ “তাসনীম হোসেনের” একটি স্মৃতিকথামূলক গ্রন্থ / গদ্যগ্রন্থ, যা মূলত “সচলায়তন ব্লগে” ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়েছিল ২০১০ সালের ফেব্রুয়ারি মাস থেকে। পরবর্তী সময়ে ই-বুক আকারে প্রকাশিত হয় ২০১১ সালে। বইটি ষোলটি পর্বে বিভক্ত, প্রতিটি পর্বের শিরোনামে শামসুর রাহমান, আবুল হাসান, আহসান হাবীব, পূর্ণেন্দু পত্রী, নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীসহ কয়েকজন বাঙালি কবির পঙক্তি ব্যবহৃত হয়েছে, পঙক্তিগুলো প্রতিটি পর্বের ভাবের সাথে মিলেও যায়।
লেখক নিজেই বলেছেন যে “এটা শুধু আমার একার নয়, এটা আমাদের সবার শহর।”
সম্ভবত একজন মানুষের সাথে আরেকজন মানুষের সবচেয়ে বেশি মিল থাকে শৈশবেই, এরপর পথগুলো সব নানান দিকে যেতে থাকে। তাই হয়ত শৈশবই আমাদের সম্মিলিত ঐক্যের স্থান।।
সেই হিসেবে বইটাকে খাড়াভাবে আত্মজীবনীমূলক বলাও যায় না।
লেখকের শৈশব এখানে একটি প্রজন্মের আত্মার দর্পণ!
বইটির আখ্যান/সময় তিনটি স্তরে বিভক্ত।
• সত্তর-আশির দশকের ঢাকা বিশেষ করে তেজগাঁও এলাকার।
• লেখকের বিশ্ববিদ্যালয়-জীবন এবং এরশাদ-বিরোধী আন্দোলনের উত্তাল সময়।
• আমেরিকায় প্রবাসী পরিণত বয়সের বর্তমান।
এই বর্তমানেই লেখক অতীতের স্মৃতি পুনর্নির্মাণ করেছেন।
বইয়ের সময়কাল তিনস্তরে থাকলেও পড়তে সমস্যা হয়না। বরং পাঠক এটাকে উপভোগ করবে। এক্ষেত্রে লেখকের গদ্যশৈলীর প্রশংসা করতে হয়।
“একটি দুপুরের রোদ বা রেলগাড়ির শব্দ হঠাৎ তিরিশ বছর পেরিয়ে চলে আসে”।
এটা অনেকটা “মার্শেল প্রুস্তের” ‘ইন সার্চ অব লস্ট টাইম’র সাথে রিলেট/মিলানো করা যায়।
বইয়ের ভাষাবিন্যাস একেবারেই সহজ। কিছু লাইনে বাক্য দীর্ঘ হলেও কঠিন হয়নি।
বইটা শেষ করার পরে দুটো প্রশ্ন মাথায় ঘুরপাক খেতে থাকে— স্মৃতি আসলে কী? এবং শৈশব কোথায় শেষ হয়?
যারা সত্তর-আশির দশকের ঢাকায় বড় হয়েছেন, তাঁদের কাছে এই বইয়ের প্রতিটি পাতা নিজের হারানো শহর ফিরে পাওয়ার অনুভব হবে। আর যারা ৯০ দশক, সহজ শৈশব, পরিবার, মহল্লার চমৎকার স্মৃতি ইত্যাদি পছন্দ করেন তারাও বইটা নিশ্চিন্তে পড়তে পারেন।
বইটা এমন-ই যে আপনি চাইলে যেকোনো জায়গা থেকে শুরু করে দিতে পারেন।
নিজের শৈশবকে হয়তো ফিরে পাবেন .
October 15, 2017
স্মৃতির শহর ঢাকার গল্প--আজকের বিষণ্ণ, ক্লেদাক্ত ধুঁকতে থাকা ঢাকার গল্প নয়, সত্তর-আশির তিলোত্তমা ঢাকার গল্প।
বইটা পড়া শুরু করেছি ঢাকার রাস্তায় রিকশায় বসে, শেষ করেছি ঢাকার রাস্তায় হাঁটতে হাঁটতে। মাঝখানের সময়টুকু কেটে গেছে লেখকের শৈশব-কৈশোর-যৌবনের স্মৃতির তিলোত্তমা নগরীর মায়া জড়ানো বর্ণনা পড়তে পড়তে।
এ এক অনন্য পাঠ-অভিজ্ঞতা। লেখককে ধন্যবাদ চমৎকার এক স্মৃতিকথার জন্য, অন্য এক ঢাকার গল্প শোনানোর জন্য। গুডরিডসকে এবং রিফাত আপুকে ধন্যবাদ চমৎকার এই বইয়ের খোঁজ দেয়ার ও রিকমেন্ড করার জন্যে।
বইটা পড়া শুরু করেছি ঢাকার রাস্তায় রিকশায় বসে, শেষ করেছি ঢাকার রাস্তায় হাঁটতে হাঁটতে। মাঝখানের সময়টুকু কেটে গেছে লেখকের শৈশব-কৈশোর-যৌবনের স্মৃতির তিলোত্তমা নগরীর মায়া জড়ানো বর্ণনা পড়তে পড়তে।
এ এক অনন্য পাঠ-অভিজ্ঞতা। লেখককে ধন্যবাদ চমৎকার এক স্মৃতিকথার জন্য, অন্য এক ঢাকার গল্প শোনানোর জন্য। গুডরিডসকে এবং রিফাত আপুকে ধন্যবাদ চমৎকার এই বইয়ের খোঁজ দেয়ার ও রিকমেন্ড করার জন্যে।
June 22, 2017
"Memories warm you up from the inside. But they also tear you apart."
-Haruki Murakami
"স্মৃতির শহর" ঠিক আত্মজীবনী নয়, এলোমেলো স্মৃতিচারণ। সচলায়তন ব্লগে লেখা একটা সিরিজ তাসনীম হোসেন ইবুক হিসেবে বের করেছেন।
লেখকের স্মৃতির শহরটা আমারও ভালোবাসার শহর। যদিও সত্তর আশি দশকের সবুজ ঢাকার সাথে এখনকার ইট কাঠের ঘিঞ্জি ঢাকার মিল নেই কিছু। তবুও যেন চোখের সামনে ভেসে উঠছিল লেখকের শৈশব কৈশোরের একটা শহর.. যুদ্ধাহত ঢাকা.. উদ্ভট উটের পিঠে চলা স্বদেশ.. স্বৈরাচারী শাসনের দিন.. ইতিহাস পাল্টে দেয়ার চেষ্টা.. কিশোরের চোখে দেখা স্বপ্ন ভঙ্গের গল্প।।
সবচেয়ে ভাল লেগেছে ছোট ছোট শিরোনামে লেখা প্রতিটা অধ্যায়ে জুড়ে দেয়া টুকরো কবিতাগুলো! অদ্ভুত সুন্দর একেকটা কবিতা!
-Haruki Murakami
"স্মৃতির শহর" ঠিক আত্মজীবনী নয়, এলোমেলো স্মৃতিচারণ। সচলায়তন ব্লগে লেখা একটা সিরিজ তাসনীম হোসেন ইবুক হিসেবে বের করেছেন।
লেখকের স্মৃতির শহরটা আমারও ভালোবাসার শহর। যদিও সত্তর আশি দশকের সবুজ ঢাকার সাথে এখনকার ইট কাঠের ঘিঞ্জি ঢাকার মিল নেই কিছু। তবুও যেন চোখের সামনে ভেসে উঠছিল লেখকের শৈশব কৈশোরের একটা শহর.. যুদ্ধাহত ঢাকা.. উদ্ভট উটের পিঠে চলা স্বদেশ.. স্বৈরাচারী শাসনের দিন.. ইতিহাস পাল্টে দেয়ার চেষ্টা.. কিশোরের চোখে দেখা স্বপ্ন ভঙ্গের গল্প।।
সবচেয়ে ভাল লেগেছে ছোট ছোট শিরোনামে লেখা প্রতিটা অধ্যায়ে জুড়ে দেয়া টুকরো কবিতাগুলো! অদ্ভুত সুন্দর একেকটা কবিতা!
July 12, 2016
আমার সবচেয়ে প্রিয় কবিতাগুলোর একটা জীবনানন্দের আট বছর আগে একদিন। এর প্রত্যেকটা লাইন যেন আমার নিজের জীবনের কথা। জীবনবাবু কী করে আমার, এবং হয়তো আমাদের সবার জীবনের গল্প জানলেন কে জানে! কবিতার "তার" মত আমিও একদিন আত্মহত্যা করেছি। আট বছর এখনও হয়নি, বছর দুয়েক হল মাত্র। সেই থেকে লাশকাটা ঘরে পড়ে আছি, পৃথিবী একটু একটু করে লাশ কাটছে, খুঁজছে মৃত্যুর কারণ। কিন্তু সব মৃত্যুর কারণ কি ময়নাতদন্ত বের করতে পারে? বিষপানে মৃত্যু, এই কথা ময়নাতদন্ত বলতে পারবে, কিন্তু কীসের জন্য বিষপান, সে কথাই কি কোন বিষে মৃত্যু তার চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নয়? এই জিনিস জানার জন্য আমার ময়নাতদন্তের কোনো দরকার আছে? আমি তো এই মৃত্যুর কারণ ময়নাতদন্ত ছাড়াই জানি। যে জীবন ফড়িঙের,দোয়েলের, তার সাথে আমার দেখা হয়েছিল। জীবনের গতিতে অবিরাম ছুটতে ছুটতে আমি নিজেই কখন মনের অজান্তে ফড়িঙের,দোয়েলের জীবন থেকে আত্মহত্যা করেছি, আমার নিজের পৃথিবী ছেড়ে এই ইট-পাথরে ঢাকা 'ঢাকা' নামের পৃথিবীতে একরকম জৈবিক যন্ত্র হয়ে জন্ম নিয়েছি।
লাশকাটা ঘরে শুয়ে কি তার মনে পড়ত ফড়িঙের,দোয়েলের জীবনের কথা, সেই জীবনের সাথে দেখা করার কথা? আমার কিন্তু বেশ মনে পড়ে। মনে পড়ে ক্রিকেট খেলা, নদীর পার ধরে হেঁটে বেড়ানো, মানচিত্রে সিলেট কোন দিকে আছে তা দেখে খুঁজতে বেরুনো, এবং ৫-১০ ফুট উঁচু কোনো জায়গা দেখে সিলেটের পাহাড়ে পৌঁছেছি এই কথা বুঝতে পারার কথা। কখনও মনে পড়ে আমার পৃথিবীর কথা, যেখানে আমি কখনও ক্রিকেটার হয়ে সতেরো বলে সেঞ্চুরি করে বল হাতে দশ বলে দশ উইকেট নিচ্ছি, কখনও বা সিনেমার নায়ক হয়ে সব ভিলেনকে মেরে ফেলছি অথবা কখনও গল্পে পড়া ভুতের সাথে বন্ধুত্ব করে অসাধ্য সাধন করছি।
পরিবারের বড় ছেলে হওয়ায় ছোটোদের সব প্রশ্নের উত্তর দিতে হত আমাকে। কিন্তু আমি নিজেই কতটুকু বড়? দেড়-দু'বছরের ব্যবধান আমাদের বয়সে। কিন্তু 'আমি জানি না', এই কথা ছোটোদের বললে কি মানসম্মান থাকবে? তাই আমায় সব জানতে হবে। কিন্তু সব কী করে জানবো? তাই নিজের মনের জগতে নিজে সব আমার মত করে তৈরি করলাম। সেই তৈরি জগতটার স্রষ্টাই যে আমি, সেখানে আমার অজানা কী? সেই আসন থেকে নেমে গেছি বহুদিন, তাই জানার ঘাটতি বেড়েছে। তার চেয়েও বেড়েছে অপ্রিয় কিছু জানার পরিমাণ। আমরা যে আসলে সিলেটের পাহাড়ে পৌঁছাইনি, কিংবা সতেরো বলে সেঞ্চুরি করারর সামর্থ্য যে আমার নেই, এইসব জানা আমাদের বিচলিত করে, ফিরিয়ে নিয়ে যেতে চায় শৈশবে। আর তাই
হয়তো এই একই ক্লান্তি, অথবা ঠিক এটা না, তবে এক কাছাকাছি ক্লান্তি থেকেই লেখা স্মৃতিচারণ "স্মৃতির শহর"।
লেখার ধরন বেশ ভালো লেগেছে, আরাম করে একটানা পড়ে চলে যাওয়া যায়। লেখায় অনেকগুলো কবিতাংশ ব্যবহার করা হয়েছে। আর সব বাদ দিয়ে কেবল ওদের জন্যই পাঁচতারা দেয়া যায়। এদের মাঝে শামসুর রাহমানেরও আছে অনেকগুলো। উনার কবিতা পাঠ্যবইয়ের বাইরে খুব একটা পড়িনি, নিজেদের দেশের আর সময়ের প্রতিভাদের আমরা দাম দিইনা বলেই হয়ত। কিন্তু যা বুঝলাম, লোকটার কবিতা পড়তে হবে।
লেখকের স্মৃতির শহর সত্তর আর আশির দশকের ঢাকা। মজার ব্যাপার, আমার মাও এই স্মৃতির শহরেরই বাসিন্দা। দুয়েকবছর এদিক-সেদিক করে তিনিও ছিলেন এখানে। সে যাক, সেই সময়ের ঢাকা, যা আমার প্রজন্মের কাছে আসলেই ঢাকা, আবৃত, সেই সময়ের কথা বলেছেন তিনি, বলেছেন তার পরিবারের কথা, দেশের কথা স্কুলের কথা, বন্ধুবান্ধবের কথা। সব এক আশ্চর্য জালে গেঁথে তৈরি করেছে তার স্মৃতির শহর। কে বলে টাইম মেশিন বলে কিছু নেই? এইতো আমি উনার সাথে টাইম মেশিনে করে ঘুরে এলাম সেই স্মৃতির শহরে। লেখক প্রায়ই যান সেই শহরে। পুরনো সেই দিনের কথা কী ভোলা যায়?
স্মৃতি সত্যিই খুব খারাপ— সে ভাল থাকতে দেয়না মানুষকে, একটু করে কেড়ে নেয় তার বর্তমান, ভবিষ্যত। কিন্তু তাও কি তাকে ছাড়া যায়? মনে হয় না। আর ছাড়ার দরকারই বা কী? অতীত যদি আনন্দের হয়, সেই আনন্দে বেঁচে থাকতে দোষ কোথায়? আমরা সবাই যেন আমাদের আমাদের আনন্দের সময়ে বেঁচে থাকি, তা অতীত-বর্তমান-ভবিষ্যৎ যাই হোক।
আর হ্যাঁ, শেষকথা, অসাধারণ বইটা রিকমেন্ড করায় রিফাত আপুকে ধন্যবাদ।
লাশকাটা ঘরে শুয়ে কি তার মনে পড়ত ফড়িঙের,দোয়েলের জীবনের কথা, সেই জীবনের সাথে দেখা করার কথা? আমার কিন্তু বেশ মনে পড়ে। মনে পড়ে ক্রিকেট খেলা, নদীর পার ধরে হেঁটে বেড়ানো, মানচিত্রে সিলেট কোন দিকে আছে তা দেখে খুঁজতে বেরুনো, এবং ৫-১০ ফুট উঁচু কোনো জায়গা দেখে সিলেটের পাহাড়ে পৌঁছেছি এই কথা বুঝতে পারার কথা। কখনও মনে পড়ে আমার পৃথিবীর কথা, যেখানে আমি কখনও ক্রিকেটার হয়ে সতেরো বলে সেঞ্চুরি করে বল হাতে দশ বলে দশ উইকেট নিচ্ছি, কখনও বা সিনেমার নায়ক হয়ে সব ভিলেনকে মেরে ফেলছি অথবা কখনও গল্পে পড়া ভুতের সাথে বন্ধুত্ব করে অসাধ্য সাধন করছি।
পরিবারের বড় ছেলে হওয়ায় ছোটোদের সব প্রশ্নের উত্তর দিতে হত আমাকে। কিন্তু আমি নিজেই কতটুকু বড়? দেড়-দু'বছরের ব্যবধান আমাদের বয়সে। কিন্তু 'আমি জানি না', এই কথা ছোটোদের বললে কি মানসম্মান থাকবে? তাই আমায় সব জানতে হবে। কিন্তু সব কী করে জানবো? তাই নিজের মনের জগতে নিজে সব আমার মত করে তৈরি করলাম। সেই তৈরি জগতটার স্রষ্টাই যে আমি, সেখানে আমার অজানা কী? সেই আসন থেকে নেমে গেছি বহুদিন, তাই জানার ঘাটতি বেড়েছে। তার চেয়েও বেড়েছে অপ্রিয় কিছু জানার পরিমাণ। আমরা যে আসলে সিলেটের পাহাড়ে পৌঁছাইনি, কিংবা সতেরো বলে সেঞ্চুরি করারর সামর্থ্য যে আমার নেই, এইসব জানা আমাদের বিচলিত করে, ফিরিয়ে নিয়ে যেতে চায় শৈশবে। আর তাই
"অর্থ নয়, কীর্তি নয়, সচ্ছলতা নয়—
আর এক বিপন্ন বিষ্ময়
আমাদের অন্তর্গত রক্তের ভিতরে
খেলা করে;
আমাদের ক্লান্ত করে,
ক্লান্ত-ক্লান্ত করে"।
হয়তো এই একই ক্লান্তি, অথবা ঠিক এটা না, তবে এক কাছাকাছি ক্লান্তি থেকেই লেখা স্মৃতিচারণ "স্মৃতির শহর"।
"একজন মানুষের সাথে আরেকজন মানুষের সবচেয়ে বেশি মিল মনে হয় শৈশবেই, এরপর পথগুলো নানা দিকে যেতে থাকে। তাই হয়ত শৈশবই আমাদের সম্মিলিত ঐক্যের স্থান।"এই ঐক্যের কারণেই লেখকের স্মৃতিচারণ পড়তে পড়তে আমি হারিয়ে যাচ্ছিলাম নিজের সদ্যসমাপ্ত শৈশবে। একটু আগে করা প্রলাপ সেই কারণেই।
লেখার ধরন বেশ ভালো লেগেছে, আরাম করে একটানা পড়ে চলে যাওয়া যায়। লেখায় অনেকগুলো কবিতাংশ ব্যবহার করা হয়েছে। আর সব বাদ দিয়ে কেবল ওদের জন্যই পাঁচতারা দেয়া যায়। এদের মাঝে শামসুর রাহমানেরও আছে অনেকগুলো। উনার কবিতা পাঠ্যবইয়ের বাইরে খুব একটা পড়িনি, নিজেদের দেশের আর সময়ের প্রতিভাদের আমরা দাম দিইনা বলেই হয়ত। কিন্তু যা বুঝলাম, লোকটার কবিতা পড়তে হবে।
লেখকের স্মৃতির শহর সত্তর আর আশির দশকের ঢাকা। মজার ব্যাপার, আমার মাও এই স্মৃতির শহরেরই বাসিন্দা। দুয়েকবছর এদিক-সেদিক করে তিনিও ছিলেন এখানে। সে যাক, সেই সময়ের ঢাকা, যা আমার প্রজন্মের কাছে আসলেই ঢাকা, আবৃত, সেই সময়ের কথা বলেছেন তিনি, বলেছেন তার পরিবারের কথা, দেশের কথা স্কুলের কথা, বন্ধুবান্ধবের কথা। সব এক আশ্চর্য জালে গেঁথে তৈরি করেছে তার স্মৃতির শহর। কে বলে টাইম মেশিন বলে কিছু নেই? এইতো আমি উনার সাথে টাইম মেশিনে করে ঘুরে এলাম সেই স্মৃতির শহরে। লেখক প্রায়ই যান সেই শহরে। পুরনো সেই দিনের কথা কী ভোলা যায়?
'মনুষ্যজন্ম বড় যাতনার মা।
পাখি কিংবা গাছেদের সমাজে স্মৃতিদণ্ড নেই। কিন্তু মানুষ?
ভুবন ভ্রমিয়া শেষে ফের এসে ঘর বাঁধে স্মৃতিশ্বরী নদীপাড়েই।'
স্মৃতি সত্যিই খুব খারাপ— সে ভাল থাকতে দেয়না মানুষকে, একটু করে কেড়ে নেয় তার বর্তমান, ভবিষ্যত। কিন্তু তাও কি তাকে ছাড়া যায়? মনে হয় না। আর ছাড়ার দরকারই বা কী? অতীত যদি আনন্দের হয়, সেই আনন্দে বেঁচে থাকতে দোষ কোথায়? আমরা সবাই যেন আমাদের আমাদের আনন্দের সময়ে বেঁচে থাকি, তা অতীত-বর্তমান-ভবিষ্যৎ যাই হোক।
আর হ্যাঁ, শেষকথা, অসাধারণ বইটা রিকমেন্ড করায় রিফাত আপুকে ধন্যবাদ।
March 21, 2017
আমার অভ্যাস অফিসে কাজের ফাঁকে ফাঁকে এক দুই লাইন করে পড়া। এমনিতেই বই পড়ার তেমন সময় পাই না বললেই চলে। জীবিকার তাগিদ বড় খারাপ জিনিস। :( যাই হোক গুডরিডস থেকেই পিডিএফটা নামানো ছিলো অনেক আগে থেকেই, কয়েকদিন ধরে অনেকের রিভিউ দেখে দেখে নিজেও শুরু করেছিলাম আজ। খুব সাবলীল লেখা বলে পড়তে আরাম লেগেছে। অফিসে আর অফিস ফেরতা বাসে বসে ফোনে পড়ে ফেললাম।
আমার জন্ম, বেড়ে ওঠা গ্রামে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় যখন সুযোগ দিলো তখন থেকে লেখকের স্মৃতির শহরে আমার আপাত স্থায়ী বসবাস। তবে আমার স্মৃতির শহর নয়, স্মৃতির গ্রাম। স্মৃতির শহর শৈশবের কথা বলে, আমার শৈশব মানে আমার গ্রাম। পদ্মানদীর পাড়ে দাঁড়িয়ে আছে আমার গ্রাম। সেই ছায়া সুনিবিড়, শ্যামল কোমল গ্রাম এখন আর নাই। পিচঢালা রাস্তা, ইটের বাড়িঘর, ঘরে ঘরে রঙিন টেলিভিশন, ফ্রিজ আর রাস্তায় মোটর চালিত যানবাহন আমার শৈশবের অজ পাড়া গাঁকে আধা শহর বানিয়ে দিয়েছে।
আমার শৈশব মানে স্কুল থেকে ফেরার পথে বাড়ির সামনের জমিতে জমা বৃষ্টির পানিতে সাঁতার কাটা, কাঁচা তেঁতুল খেয়ে খেয়ে জিহ্বা ছিলে ফেলা, একাই নিজের চেয়ে বয়সে বড় দুই কাজিনকে একসাথে ধোলাই নিয়ে বীরদর্পে দাদুর পিছনে লুকানো আব্বুর ভয়ে, আব্বুর সাইকেলের পিছনে বসে নিজেকে সুপার পাওয়ারের অধিকারী কেউ ভাবা, শৈশব লালিত জীবনের একমাত্র লক্ষ্য ডাকাত হওয়ার জন্য গোপন আস্তানা খুঁজে বের করা, মায়ের চোখ ফাঁকি দিয়ে গোসল করতে গিয়ে পুকুরে ডুবে ভরপেট পানি খেয়ে আবার মায়ের ধোলাই খাওয়া, ক্লাসের বইয়ের ফাঁকে লুকিয়ে গল্পের বই পড়া, ক্লাস থ্রিতে পড়া আমি মাসুদ রানা পড়ে ইঁচড়েপাকা হয়ে যাওয়া, ঈদের নতুন জামা গাছ থেকে লাফিয়ে পড়ে ছিঁড়ে আনা.............
এসব স্মৃতির তো কোন শেষ নাই আসলে। শহুরে যান্ত্রিকতায় এখন শুধু বিষণ্ণতা বাড়ায় এসব স্মৃতি, তাই মনের সবচেয়ে গহীন কোণে যত্ন করে সাজিয়ে গুছিয়ে রাখা ছাড়া কিছুই করার নাই।
বই নিয়ে কিছু বলার কথা আমি খুঁজে পাই না সাধারণত। তাই নিজের ভুলে থাকতে চাওয়া টুকরো টুকরো স্মৃতির জাবড় কাটা হয়ে গেলো মনে হচ্ছে। লেখক তাঁর স্মৃতির শহরের কথায় আমার শৈশবটাকেও আবার মনে করতে বাধ্য করলেন।
আমার জন্ম, বেড়ে ওঠা গ্রামে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় যখন সুযোগ দিলো তখন থেকে লেখকের স্মৃতির শহরে আমার আপাত স্থায়ী বসবাস। তবে আমার স্মৃতির শহর নয়, স্মৃতির গ্রাম। স্মৃতির শহর শৈশবের কথা বলে, আমার শৈশব মানে আমার গ্রাম। পদ্মানদীর পাড়ে দাঁড়িয়ে আছে আমার গ্রাম। সেই ছায়া সুনিবিড়, শ্যামল কোমল গ্রাম এখন আর নাই। পিচঢালা রাস্তা, ইটের বাড়িঘর, ঘরে ঘরে রঙিন টেলিভিশন, ফ্রিজ আর রাস্তায় মোটর চালিত যানবাহন আমার শৈশবের অজ পাড়া গাঁকে আধা শহর বানিয়ে দিয়েছে।
আমার শৈশব মানে স্কুল থেকে ফেরার পথে বাড়ির সামনের জমিতে জমা বৃষ্টির পানিতে সাঁতার কাটা, কাঁচা তেঁতুল খেয়ে খেয়ে জিহ্বা ছিলে ফেলা, একাই নিজের চেয়ে বয়সে বড় দুই কাজিনকে একসাথে ধোলাই নিয়ে বীরদর্পে দাদুর পিছনে লুকানো আব্বুর ভয়ে, আব্বুর সাইকেলের পিছনে বসে নিজেকে সুপার পাওয়ারের অধিকারী কেউ ভাবা, শৈশব লালিত জীবনের একমাত্র লক্ষ্য ডাকাত হওয়ার জন্য গোপন আস্তানা খুঁজে বের করা, মায়ের চোখ ফাঁকি দিয়ে গোসল করতে গিয়ে পুকুরে ডুবে ভরপেট পানি খেয়ে আবার মায়ের ধোলাই খাওয়া, ক্লাসের বইয়ের ফাঁকে লুকিয়ে গল্পের বই পড়া, ক্লাস থ্রিতে পড়া আমি মাসুদ রানা পড়ে ইঁচড়েপাকা হয়ে যাওয়া, ঈদের নতুন জামা গাছ থেকে লাফিয়ে পড়ে ছিঁড়ে আনা.............
এসব স্মৃতির তো কোন শেষ নাই আসলে। শহুরে যান্ত্রিকতায় এখন শুধু বিষণ্ণতা বাড়ায় এসব স্মৃতি, তাই মনের সবচেয়ে গহীন কোণে যত্ন করে সাজিয়ে গুছিয়ে রাখা ছাড়া কিছুই করার নাই।
বই নিয়ে কিছু বলার কথা আমি খুঁজে পাই না সাধারণত। তাই নিজের ভুলে থাকতে চাওয়া টুকরো টুকরো স্মৃতির জাবড় কাটা হয়ে গেলো মনে হচ্ছে। লেখক তাঁর স্মৃতির শহরের কথায় আমার শৈশবটাকেও আবার মনে করতে বাধ্য করলেন।
March 20, 2018
আমার শহর...
আনন্দের শহর
বিষণ্ণতার শহর
কবিতার শহর!
আহা!
কী চমৎকার কাটলো সময়টুকু!
প্রেমেন্দ্র মিত্রের 'শহর' কবিতাটা খুব বেশি বেশি ঘুরছিলো মাথায়, আর জ্বালাচ্ছিলো বড্ড পড়বার সময়।
অফিসে কফি ব্রেক, লাঞ্চ ব্রেক, আর টয়লেট ব্রেক শব্দগুলো ব্ল্যাকমেল করে যখন 'আরেক পাতা...এই আর একটা চ্যাপ্টার' করে করে এগুচ্ছিলাম, বুঝতে পারছিলাম আজও সেদিনের মতো বিভৎস অবস্থা হবে যেদিন দু'মিনিটের জন্য 'গোয়িং টু ক্যালিফোর্নিয়া' শুনতে বসেছিলাম। এবং সারাদিনের জন্যই ভীষণ বিশ্রিভাবে আটকে গিয়েছিলাম।
আমার মতো 'আনপ্রফেশনাল' বিশুদ্ধ অপদার্থ ছাড়া আর কেউ এসবের জ্বালা বুঝবে না।
অফিস একটা বাজে যায়গা, এখানে এসব শুনতে নেই। এসব পড়তে যেতে নেই। কবে আমার শিক্ষা হবে!
অতীত যাদের যন্ত্রণা দেয় না, অতীত যাদের আনন্দ দেয় না,
যারা সব ভুলেটুলে যায়, খুব সহজে সব সরিয়ে যারা স্মৃতিহীন জীবনযাপন করতে পারে... তাদের প্রতি আমার হিংসা; তাদের জন্য আমার করুণা!
আমার শহর..
স্মৃতির শহর...
সব সম্ভবের শহর...
"Standing on a hill in my mountain of dreams...
Telling myself it's not as hard... hard... hard as it seems.."
(থ্যাংক ইউ সো মাচ, তাসনীম!)
আনন্দের শহর
বিষণ্ণতার শহর
কবিতার শহর!
আহা!
কী চমৎকার কাটলো সময়টুকু!
প্রেমেন্দ্র মিত্রের 'শহর' কবিতাটা খুব বেশি বেশি ঘুরছিলো মাথায়, আর জ্বালাচ্ছিলো বড্ড পড়বার সময়।
অফিসে কফি ব্রেক, লাঞ্চ ব্রেক, আর টয়লেট ব্রেক শব্দগুলো ব্ল্যাকমেল করে যখন 'আরেক পাতা...এই আর একটা চ্যাপ্টার' করে করে এগুচ্ছিলাম, বুঝতে পারছিলাম আজও সেদিনের মতো বিভৎস অবস্থা হবে যেদিন দু'মিনিটের জন্য 'গোয়িং টু ক্যালিফোর্নিয়া' শুনতে বসেছিলাম। এবং সারাদিনের জন্যই ভীষণ বিশ্রিভাবে আটকে গিয়েছিলাম।
আমার মতো 'আনপ্রফেশনাল' বিশুদ্ধ অপদার্থ ছাড়া আর কেউ এসবের জ্বালা বুঝবে না।
অফিস একটা বাজে যায়গা, এখানে এসব শুনতে নেই। এসব পড়তে যেতে নেই। কবে আমার শিক্ষা হবে!
অতীত যাদের যন্ত্রণা দেয় না, অতীত যাদের আনন্দ দেয় না,
যারা সব ভুলেটুলে যায়, খুব সহজে সব সরিয়ে যারা স্মৃতিহীন জীবনযাপন করতে পারে... তাদের প্রতি আমার হিংসা; তাদের জন্য আমার করুণা!
আমার শহর..
স্মৃতির শহর...
সব সম্ভবের শহর...
"Standing on a hill in my mountain of dreams...
Telling myself it's not as hard... hard... hard as it seems.."
(থ্যাংক ইউ সো মাচ, তাসনীম!)
October 25, 2016
রিফাত সানজিদা আপুকে অনেক ধন্যবাদ এই অসাধারণ বইটির সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেবার জন্য।
ব্লগের সঙ্গে আমার কোন যোগ নেই বলে এই সিরিজ সম্পর্কে কোন পূর্ব ধারণা ছিলনা। তবে অপরিচিত এই লেখকের কাব্য প্রেম, দেশের অবস্থা, ঘুম ঘুম তেজগাঁ আর শহরের খুঁটিনাটি পড়তে পড়তে আমি নিজেও নিজের স্মৃতির শহরে ডুবে ছিলাম। তাসনিম হোসাইনের প্রতি শুভ কামনা রইল।
ব্লগের সঙ্গে আমার কোন যোগ নেই বলে এই সিরিজ সম্পর্কে কোন পূর্ব ধারণা ছিলনা। তবে অপরিচিত এই লেখকের কাব্য প্রেম, দেশের অবস্থা, ঘুম ঘুম তেজগাঁ আর শহরের খুঁটিনাটি পড়তে পড়তে আমি নিজেও নিজের স্মৃতির শহরে ডুবে ছিলাম। তাসনিম হোসাইনের প্রতি শুভ কামনা রইল।
December 31, 2024
"আমরা শৈশবকে ছেড়ে গেলেও শৈশব আমাদের ছাড়ে না"
লেখক সুদূর প্রবাসে ব্যস্ত কর্মজীবন পার করে অবসরে গিয়ে ছোটবেলার স্মৃতিচারণ করেছেন। প্রতিটা চ্যাপ্টার শুরু হয়েছে সুনীলের "ছবির দেশে কবিতার দেশের" মতো একটা করে কবিতাংশ দিয়ে। প্রাঞ্জল ভাষায় কাব্যিক লেখনী। লেখকের শৈশব, কৈশোর, পরিবার, বন্ধু ও স্কুলের বর্ণনার পাশাপাশি আশির দশক থেকে নব্বইয়ের দশকের ঢাকার সামাজিক - রাজনৈতিক খন্ডচিত্র উঠে এসেছে। সামরিক একনায়কতন্ত্রের প্রতি সাধারণ জনগণের ক্ষুব্ধ চিন্তাভাবনার পাশাপাশি ইনস্টিটিউশনাল ইতিহাস বিকৃতির ক্রেজ যে আমাদের স্বাধীনতার পর থেকে এখন পর্যন্ত সবগুলো সময়েই বিরাজমান ছিল, এইটা আরো একবার খেয়াল করলাম।
৪.৫/৫
আমার বড়ো বেলার অনেকগুলো আফসোসের একটা হচ্ছে সচলায়তন ব্লগ চলার সময়ে ওটার নিয়মিত পাঠক না হওয়া। এই প্লাটফর্ম থেকে পরবর্তীতে অনেক ভালো ভালো লেখক বেরিয়েছেন। তাসনীম হোসেনের "স্মৃতির শহর" ও ধারাবাহিকভাবে ওখানে প্রকাশিত হয়েছিল। পরবর্তীতে অনার্য প্রকাশনী এটাকে বই আকারে প্রকাশ করলেও, এটা বর্তমানে বাজারে নেই, আর প্রকাশনীতে কথা বলে জানলাম, অদূর ভবিষ্যতে এর পুনর্মুদ্রণ করার ইচ্ছাও তাদের নেই। তাই আলিফ ভাইয়ের কাছ থেকে নিয়ে কিন্ডলেই পড়লাম।
লেখক সুদূর প্রবাসে ব্যস্ত কর্মজীবন পার করে অবসরে গিয়ে ছোটবেলার স্মৃতিচারণ করেছেন। প্রতিটা চ্যাপ্টার শুরু হয়েছে সুনীলের "ছবির দেশে কবিতার দেশের" মতো একটা করে কবিতাংশ দিয়ে। প্রাঞ্জল ভাষায় কাব্যিক লেখনী। লেখকের শৈশব, কৈশোর, পরিবার, বন্ধু ও স্কুলের বর্ণনার পাশাপাশি আশির দশক থেকে নব্বইয়ের দশকের ঢাকার সামাজিক - রাজনৈতিক খন্ডচিত্র উঠে এসেছে। সামরিক একনায়কতন্ত্রের প্রতি সাধারণ জনগণের ক্ষুব্ধ চিন্তাভাবনার পাশাপাশি ইনস্টিটিউশনাল ইতিহাস বিকৃতির ক্রেজ যে আমাদের স্বাধীনতার পর থেকে এখন পর্যন্ত সবগুলো সময়েই বিরাজমান ছিল, এইটা আরো একবার খেয়াল করলাম।
৪.৫/৫
আমার বড়ো বেলার অনেকগুলো আফসোসের একটা হচ্ছে সচলায়তন ব্লগ চলার সময়ে ওটার নিয়মিত পাঠক না হওয়া। এই প্লাটফর্ম থেকে পরবর্তীতে অনেক ভালো ভালো লেখক বেরিয়েছেন। তাসনীম হোসেনের "স্মৃতির শহর" ও ধারাবাহিকভাবে ওখানে প্রকাশিত হয়েছিল। পরবর্তীতে অনার্য প্রকাশনী এটাকে বই আকারে প্রকাশ করলেও, এটা বর্তমানে বাজারে নেই, আর প্রকাশনীতে কথা বলে জানলাম, অদূর ভবিষ্যতে এর পুনর্মুদ্রণ করার ইচ্ছাও তাদের নেই। তাই আলিফ ভাইয়ের কাছ থেকে নিয়ে কিন্ডলেই পড়লাম।
October 16, 2017
মারুফ ভাই রিকমেন্ড করাতে ভাবলাম একবার চোখ বুলিয়েই আসি। কিন্তু শুরু করার পর এটা আর শুধু লেখকের স্মৃতিকথা থাকেনি। প্রায় দশ/বারো বছরের সময়ের ব্যবধান থাকলেও আমার স্মৃতিগুলো লেখকের বাড়ির পাশেই অবস্থান করছে। লেখক যখন বাড়ির পূর্ব দিকের ট্রেনের লাইন, একটু দূরেই পুরনো কল কারখানা, নাবিস্কো বিস্কুটের সুবাস, বিজ্ঞান কলেজের মাঠ, খ্রিস্টান চার্চ, হলিক্রস কলেজ, তেজগাঁও এয়ারপোর্টের বিমানের কথা বলেন সেটাকে কষ্ট কল্পনায় ধরতে হয়না। শৈশব, কৈশোরের পুরোটা স্মৃতি জড়িয়ে 'স্মৃতির এই শহরটা' আছে বলেই এই বইয়ের প্রতি একটু বেশি ভালোবাসা...
April 24, 2023
তাসনীম হোসেনের লেখনীতে ঘুরে এলাম তার স্মৃতির শহর, ঢাকায়। ঢাকা আমার শহর নয়। মফস্বলে বড় হওয়া আমার কাছে ঢাকা ছিলো কেবলই একটা অনেক বড় শহর, যেখানে খুব বড় বড় রাস্তা, রাস্তা ভর্তি বড় বড় বাস আর গাড়ি, অনেক শব্দ, আর হাঁটতে গেলেই বুঝি বাসের নিচে চাপা পড়তে হবে!
তাসনীম হোসেন এই বইটায় পাঠককে তার স্মৃতির সাথে হাত ধরে ধরে ঘুরিয়ে এনেছেন। এমন এক ঢাকা আমি দেখলাম তার স্মৃতিতে, যা আমার কল্পনার অতীত, যেখানে ঢাকার তেজগাঁ মফস্বল শহরের মতই মিষ্টি! ঠিক বাংলাদেশের জন্মের সময় থেকে শুরু করে লেখকের শৈশব, কৈশোর এবং যৌবনের প্রারম্ভ পর্যন্ত যে ঢাকাকে পড়লাম সে যেন কোনও অলীক শহর! এখনকার ঢাকার সাথে তার কোনও যোগাযোগ নেই। পড়তে পড়তেই আবার অনুভব করলাম, মানুষের শৈশব, তা যত ভিন্ন শহরে, ভিন্ন সময়েই হোক না কেন, মিলে যায়; সমস্ত ভিন্নতার মাঝেও শৈশবের সারল্যের কোনও ভিন্নতা থাকে না বলেই হয়তো।
তাসনীম হোসেন এই বইটায় পাঠককে তার স্মৃতির সাথে হাত ধরে ধরে ঘুরিয়ে এনেছেন। এমন এক ঢাকা আমি দেখলাম তার স্মৃতিতে, যা আমার কল্পনার অতীত, যেখানে ঢাকার তেজগাঁ মফস্বল শহরের মতই মিষ্টি! ঠিক বাংলাদেশের জন্মের সময় থেকে শুরু করে লেখকের শৈশব, কৈশোর এবং যৌবনের প্রারম্ভ পর্যন্ত যে ঢাকাকে পড়লাম সে যেন কোনও অলীক শহর! এখনকার ঢাকার সাথে তার কোনও যোগাযোগ নেই। পড়তে পড়তেই আবার অনুভব করলাম, মানুষের শৈশব, তা যত ভিন্ন শহরে, ভিন্ন সময়েই হোক না কেন, মিলে যায়; সমস্ত ভিন্নতার মাঝেও শৈশবের সারল্যের কোনও ভিন্নতা থাকে না বলেই হয়তো।
June 22, 2026
স্মৃতির শহর পড়তে পড়তে জাদুর শহরকে ঘিরে নিজের ১২ বছরের জমানো স্মৃতি হাতড়ে ফিরে আসা! যদি জাদুর শহরকে ছেড়ে বছর ৪-৫ আগে এভাবে চলে না আসতাম তাহলে হয়তো এই বই ভিতর থেকে এত নাড়া দিতো না।
একটা একটা জায়গার নাম এক একটা স্মৃতির ভাণ্ডার!
একটা একটা জায়গার নাম এক একটা স্মৃতির ভাণ্ডার!
January 1, 2020
২০২০ সালের প্রথম দিন শুরু হলো এই "স্মৃতির শহর" পড়ে। ধন্যবাদ যারা এই বইয়ের রিভিউ দিয়েছিলেন। নাহলে এই বইটার কথা অজানাই থেকে যেতো।
বইটা পড়ে ভালো লাগলেও ব্যক্তিগতভাবে কোনো স্মৃতির সমুদ্রে ডুব দিতে পারিনি। কারণ আমার শৈশবের কোনো গল্প নেই। স্মৃতির শহরের সাথেও না। অথচ খুব ছোটবেলাতেই এই শহরে আমার আসা এবং সেই থেকে এখানেই জীবনযাপন।
এরকম স্মৃতিকথা পড়লে তাই মনে হয় যেন রুপকথার কোনো বই পড়ছি। কিন্তু আমি জানি রুপকথা মনে হলেও এসব সত্যি। আমার নিজের জীবনে না থাকলেও সত্যি।
বইটা পড়ে ভালো লাগলেও ব্যক্তিগতভাবে কোনো স্মৃতির সমুদ্রে ডুব দিতে পারিনি। কারণ আমার শৈশবের কোনো গল্প নেই। স্মৃতির শহরের সাথেও না। অথচ খুব ছোটবেলাতেই এই শহরে আমার আসা এবং সেই থেকে এখানেই জীবনযাপন।
এরকম স্মৃতিকথা পড়লে তাই মনে হয় যেন রুপকথার কোনো বই পড়ছি। কিন্তু আমি জানি রুপকথা মনে হলেও এসব সত্যি। আমার নিজের জীবনে না থাকলেও সত্যি।
July 3, 2021
লেখকের সাথে ফিরে গিয়েছিলাম আমার স্মৃতির শহর ঢাকাতে। এক একটা চ্যাপ্টার পড়েছি, আর ফিরে গিয়েছি আমার নিজের শৈশবে কৈশোরে। আমরা যারা ঢাকায় বড় হয়েছি, এবং কিছুটা স্বাধীনতা পেয়েছি, তাদের সবার স্মৃতির শহর মনে হয় এরকমই। তফাৎ বর্ণনাতে, এইখানেই লেখকের মুন্সিয়ানা। বইয়ের শেষ লাইনটা এখনো মনের ভিতরে বাজছে - "আমরা শৈশব ছেড়ে গেলেও শৈশব আমাদের ছাড়ে না!"
March 5, 2016
রিফাত কে ধ্যনবাদ, স্মৃতির শহরের রিভিউ টা না পড়লে হয়তো তাসনীম হোসেনের সাথে শৈশবের স্বপ্ন তরী তে সওয়ার হওয়া হতো না এবং সেক্ষেত্রে যে একটা বিশাল উপলব্ধি থেকে বঞ্চিত হতাম তা বলাই বাহুল্য।
অনেকদিনের জমে থাকা ধুলো গুলো যেন হটাতি সরে গেল। সেই আলস্য মাখা দুপুরগুলো, আনন্দমেলা, কিশোর ভারতী, শুকতারায় ডুবে থাকা, বিকেলে হাঁটতে যাওয়া অথবা সবুজ মাঠেতে সবাই মিলে বসে কতই না গল্প গুজব, সন্ধ্যার সময় বাড়ি ফেরার মুখে গরম গরম তেলে ভাজা। অনবদ্য। আমাদের প্রতেকের কোথাও না কোথাও তাই স্মৃতির শহর লুকিয়ে আছে, আর যত কাহিনি এগিয়েছে তেজগাঁ হয়ে উঠেছে শিলিগুড়ি,২৯ নাম্বার বাড়ি পরিবর্তন হয়ে গেছে আমার নিজের বাড়ি , মূল কাঠামো টা কে একি রেখে চরিত্র আর স্থান গুলো পরিবর্তন করে নিলে এ যেন আমারি কথা। আর এখনেই তাসনীম বাবুর সার্থকতা।
সঙ্গে দুটি উপরি পাওনা, ঢাকা ভ্রমন এবং মুক্তিযুদ্ধের পরবর্তী সময়ের রাজনীতি। তাই সময়ের দাগে ক্ষতবিক্ষত সেই শৈশব, কৈশোরের দিনগুলো আবার ফিরে পেতে ডুব দিন স্মৃতির শহরে।
অনেকদিনের জমে থাকা ধুলো গুলো যেন হটাতি সরে গেল। সেই আলস্য মাখা দুপুরগুলো, আনন্দমেলা, কিশোর ভারতী, শুকতারায় ডুবে থাকা, বিকেলে হাঁটতে যাওয়া অথবা সবুজ মাঠেতে সবাই মিলে বসে কতই না গল্প গুজব, সন্ধ্যার সময় বাড়ি ফেরার মুখে গরম গরম তেলে ভাজা। অনবদ্য। আমাদের প্রতেকের কোথাও না কোথাও তাই স্মৃতির শহর লুকিয়ে আছে, আর যত কাহিনি এগিয়েছে তেজগাঁ হয়ে উঠেছে শিলিগুড়ি,২৯ নাম্বার বাড়ি পরিবর্তন হয়ে গেছে আমার নিজের বাড়ি , মূল কাঠামো টা কে একি রেখে চরিত্র আর স্থান গুলো পরিবর্তন করে নিলে এ যেন আমারি কথা। আর এখনেই তাসনীম বাবুর সার্থকতা।
সঙ্গে দুটি উপরি পাওনা, ঢাকা ভ্রমন এবং মুক্তিযুদ্ধের পরবর্তী সময়ের রাজনীতি। তাই সময়ের দাগে ক্ষতবিক্ষত সেই শৈশব, কৈশোরের দিনগুলো আবার ফিরে পেতে ডুব দিন স্মৃতির শহরে।
April 14, 2025
নাহ, আমার স্মৃতির শহর ঢাকা না। আমার জন্ম ঢাকাতে হলেও, বেড়ে ওঠার পুরোটাই গাজীপুরের জয়দেবপুর নামের একটি ছোট শহরে। শহর বললে ভুল হবে, তখন সেটা পুরোদস্তুর মফস্বল এলাকা ছিল। হ্যাঁ, ঐ মফস্বলেই আমার বেড়ে ওঠা। সেই মফস্বল নিয়ে অবশ্য আমার গর্বের শেষ ছিল না। কারণ ওখানেই আছে টাকার ফ্যাক্টরি-টাকশাল, সমরাস্ত্র কারখানা, কৃষি গবেষণা ইন্সটিটিউট, ধান গবেষণা ইন্সটিটিউট! ছোটবেলায় এগুলো বলতে গিয়ে কেমন গর্বে বুক ভরে যেত, সে কথা এখনো স্মৃতিতে অমলিন! পড়াশোনার জন্য সেই প্রিয় জয়দেবপুর ছেড়ে ঢাকায় চলে আসি ২০১২-তে। এর আগে ঢাকা আসা পড়তো বাবা-মা'র সাথে ঐ একআধটু দিনের জন্যই। ২০১২ থেকেই শুরু হয় আমার আসল ঢাকা দেখা। অদ্ভুত ব্যাপার হল, আমি এই বইয়ে স্মৃতিচারণ করা ঢাকার সাথে আমার দেখা ঢাকার কোন মিল পাই না। তাসনীম হোসেনের ঢাকা যেন আমার কাছে ঠিক ফ্যান্টাসি বইয়ের কোন এক অধ্যায়! যারা অনেক বছর ধরে ঢাকায় আছেন, তাদের কাছে শুনেছি সেই পুরনো ঢাকার গল্প। মানুষ ছিল কম, গাড়ি-ঘোড়া ছিল কম, গাছপালা ছিল বেশি! তারই একটি সামগ্রিক রূপ খুঁজে পেলাম এই বইয়ে। সুন্দর বই। বইয়ের প্রচ্ছদটা খুবই ভালো লেগেছে আমার। লেখকের লেখাও বেশ মনকাড়া। আর প্রত্যেক অধ্যায়ের শুরুতে যে কবিতার কিছু লাইন জুড়ে দিয়েছেন, তা আরও ভালো লেগেছে। লেখক সত্তর দশকে জন্মানো স্বাধীন ঢাকায় তার বেড়ে ওঠার গল্প বলেছেন বইয়ে। তিনি সেই নয়নাভিরাম ঢাকার গল্প শুনিয়েছেন যা এক উদ্ভট উটের পিঠে চলতে চলতে আজ এ পর্যন্ত এসেছে। সেরকম একটা সুন্দর ঢাকা, ধুলোবালিহীন ঢাকা, যানজট ছাড়া ঢাকা, আবাহনী-মোহামেডান নিয়ে গর্ব করা ঢাকা আসলেই ছিল! হায়রে আমরা আত্মঘাতী মানুষের দল! হায়রে!স্মৃতি নামের জায়গাটাতে ঘুরতে যাওয়াটা খানিকটা কষ্টের, আবার অনেকটা আরামের। ঐ যে ওখানে রিকশা ভাড়া কম, হাঁটতে-চলতে আরাম যে! সত্যি কিন্তু এগুলো! আমার স্পষ্ট মনে আছে আমি মঙ্গলবার বিকালে মা’র সাথে গানের স্কুলে যেতাম চার টাকা রিকশা ভাড়া দিয়ে। এখন সেই রিকশা ভাড়া বেড়ে হয়েছে প্রায় ত্রিশ টাকা!!ছুটিছাটায় আমি অনেক জ্যাম ঠেলে, মেজাজ খারাপ করে গাজীপুর যাই। যদিও সবকিছু বদলে গিয়েছে সেখানে। আগেরমতো সৌন্দর্য নেই বললেই চলে। তারপরও সেই খেজুর পাতার চরকা ঘোরানো পুরনো দিনগুলো চোখের সামনে ভেসে উঠে মনকে বেশ বেকায়দায় ফেলে দেয়! "মনুষ্যজন্ম বড় যাতনার মা!পাখি কিংবা গাছেদের সমাজে স্মৃতিদণ্ড নেই,কিন্তু মানুষ?ভুবন ভ্রমিয়া শেষে ফের এসে ঘর বাঁধে স্মৃতিশ্বরী নদীপাড়েই!"
August 11, 2022
স্মৃতির শহর!
আমরা যারা ৯০ দশকের বাচ্চারা এখন বড় হচ্ছি, তাদের কাছে এই বইটা একটা রত্নের মত হতে পারে। ৮০/৯০ দশকের যারা বেঁচে আছি তারা জানি আসলে সেই দিনগুলো কি ছিল! এখনকার জেনারেশন সেই দিনের স্বাদ কখনো পাবেনা ভেবে খারাপই লাগে। তখন খেলাধুলা, নতুন নতুন আবিষ্কার, বই পড়া, খেলনা বাস থেকে চুম্বক বের করে তা নিয়ে খেলা এরকম আরো কত কিছু যে শুধুই মুখ্য ছিল তা এই জেনারেশন বুঝতে পারবেনা। এই জেনারেশন এখন শুধু মোবাইল ফোন, কম্পিউটার গেমসে মত্ত। আর সেই সময়! খোলা মাঠে খেলাধুলা করে বাড়ি ফিরে মায়ের এত্তগুলো বকা খাওয়াও ছিল যেন অমৃত। সত্যি বলতে এরকম দিন যে আমাদের কাছেই আর ফিরে আসবেনা তা ভেবে ভিতরটা খাঁ খাঁ করে।
আমার মনে আছে, আমি তখন ক্লাস ৫-এ পড়ি৷ বাসার পাশেই মাঠ ছিল। সেই মাঠে রোজ খেলতাম আমি। শীতের মধ্যে ব্যাডমিন্টন খেলতাম। পাড়ার কিছু বড় ভাই ছিল, যারা অনেক স্নেহ করতো, খেলা শিখাতো। সেই দিনগুলো বেশ ছিল। কিন্তু আস্তে আস্তে মাঠটাতে বখাটেদের আনাগোনা শুরু হয়। মা আর খেলতে যেতে দিতনা৷ আমি আর বান্ধবীরা তখন বাসার মধ্যেই খেলনা বাটি খেলতাম। আজ এর বাড়ি, কাল তার বাড়ি, পরশু আমার বাড়ি, এভাবেই একেকজনের বাসায় বসে খেলতাম। তারপর সেই এলাকা ছেড়ে একদিন চলে যাই। এরপর আমি স্কুলের শেষের ক্লাসগুলোতে উঠে যাই। আর খেলাধুলা করতে পারিনা! আস্তে আস্তে চোখের সামনে খোলা মাঠগুলো বসত-বাড়ি দিয়ে ভরাট হয়ে যেতে দেখি। আমাদের জেনারেশন তাদের বাল্যকালে খোলা মাঠ দেখা থেকে শুরু করে সেই মাঠ গুড়িয়ে যাওয়া পর্যন্ত দেখেছি। সেইদিন বুঝিনি, একদিন এই নিয়ে বুকের ভিতর হাহাকার হবে। 🥺
আমি আজও সেসব মনে করি, আজও ভাবি যদি আগের মত স্কুলে যেতে পারতাম! জানিনা এই স্মৃতিগুলো ইদানীং বেশি মনে পড়ে কেন। আমি ইদানীংকাল প্রায়ই স্কুল নিয়ে স্বপ্ন দেখি, আমার সেই স্মৃতির শহর নিয়ে স্বপ্ন দেখি, আমার বাল্যকাল নিয়ে স্বপ্ন দেখি, আমার সেই বন্ধু-বান্ধবীদের নিয়ে স্বপ্ন দেখি যাদের সাথে স্কুলে সময় কাটানোর জন্যই স্কুল মিস দিতাম না। প্রচন্ডভাবে মিস করি সেসব!
.
এই বইটা পড়ে প্রতি মুহুর্তে আমার সেসব দিন চোখে ভাসতে থাকে। আমি দুদিনে বইটা শেষ করলাম। সময় নিয়ে লেখকের অনুভূতি পড়েছি, আর স্মৃতিচারণ করেছি। আমি সত্যিকারেই সেই ছেলেবেলাতে ফিরে যেতে চাই, সেই শহরে আগের মত করে দিন কাটাতে চাই।
আমরা যারা ৯০ দশকের বাচ্চারা এখন বড় হচ্ছি, তাদের কাছে এই বইটা একটা রত্নের মত হতে পারে। ৮০/৯০ দশকের যারা বেঁচে আছি তারা জানি আসলে সেই দিনগুলো কি ছিল! এখনকার জেনারেশন সেই দিনের স্বাদ কখনো পাবেনা ভেবে খারাপই লাগে। তখন খেলাধুলা, নতুন নতুন আবিষ্কার, বই পড়া, খেলনা বাস থেকে চুম্বক বের করে তা নিয়ে খেলা এরকম আরো কত কিছু যে শুধুই মুখ্য ছিল তা এই জেনারেশন বুঝতে পারবেনা। এই জেনারেশন এখন শুধু মোবাইল ফোন, কম্পিউটার গেমসে মত্ত। আর সেই সময়! খোলা মাঠে খেলাধুলা করে বাড়ি ফিরে মায়ের এত্তগুলো বকা খাওয়াও ছিল যেন অমৃত। সত্যি বলতে এরকম দিন যে আমাদের কাছেই আর ফিরে আসবেনা তা ভেবে ভিতরটা খাঁ খাঁ করে।
আমার মনে আছে, আমি তখন ক্লাস ৫-এ পড়ি৷ বাসার পাশেই মাঠ ছিল। সেই মাঠে রোজ খেলতাম আমি। শীতের মধ্যে ব্যাডমিন্টন খেলতাম। পাড়ার কিছু বড় ভাই ছিল, যারা অনেক স্নেহ করতো, খেলা শিখাতো। সেই দিনগুলো বেশ ছিল। কিন্তু আস্তে আস্তে মাঠটাতে বখাটেদের আনাগোনা শুরু হয়। মা আর খেলতে যেতে দিতনা৷ আমি আর বান্ধবীরা তখন বাসার মধ্যেই খেলনা বাটি খেলতাম। আজ এর বাড়ি, কাল তার বাড়ি, পরশু আমার বাড়ি, এভাবেই একেকজনের বাসায় বসে খেলতাম। তারপর সেই এলাকা ছেড়ে একদিন চলে যাই। এরপর আমি স্কুলের শেষের ক্লাসগুলোতে উঠে যাই। আর খেলাধুলা করতে পারিনা! আস্তে আস্তে চোখের সামনে খোলা মাঠগুলো বসত-বাড়ি দিয়ে ভরাট হয়ে যেতে দেখি। আমাদের জেনারেশন তাদের বাল্যকালে খোলা মাঠ দেখা থেকে শুরু করে সেই মাঠ গুড়িয়ে যাওয়া পর্যন্ত দেখেছি। সেইদিন বুঝিনি, একদিন এই নিয়ে বুকের ভিতর হাহাকার হবে। 🥺
আমি আজও সেসব মনে করি, আজও ভাবি যদি আগের মত স্কুলে যেতে পারতাম! জানিনা এই স্মৃতিগুলো ইদানীং বেশি মনে পড়ে কেন। আমি ইদানীংকাল প্রায়ই স্কুল নিয়ে স্বপ্ন দেখি, আমার সেই স্মৃতির শহর নিয়ে স্বপ্ন দেখি, আমার বাল্যকাল নিয়ে স্বপ্ন দেখি, আমার সেই বন্ধু-বান্ধবীদের নিয়ে স্বপ্ন দেখি যাদের সাথে স্কুলে সময় কাটানোর জন্যই স্কুল মিস দিতাম না। প্রচন্ডভাবে মিস করি সেসব!
.
এই বইটা পড়ে প্রতি মুহুর্তে আমার সেসব দিন চোখে ভাসতে থাকে। আমি দুদিনে বইটা শেষ করলাম। সময় নিয়ে লেখকের অনুভূতি পড়েছি, আর স্মৃতিচারণ করেছি। আমি সত্যিকারেই সেই ছেলেবেলাতে ফিরে যেতে চাই, সেই শহরে আগের মত করে দিন কাটাতে চাই।
January 14, 2022
বেশ কিছু পজিটিভ রিভিউ দেখে বইটা হাতে নিলাম এবং বই শেষ করার পর আমার মনে হলো, এক্সপেক্টেশন ফিল আপ হয়েছে।
তাসনীম হোসাইন চমৎকার ভাবে বর্ণনা করেছেন তার 'স্মৃতির শহর' ঢাকাকে। উনি ঢাকার যে সময়ের বর্ণনা করেছেন সে সময়ের ঢাকা বেস করা বই আমি খুব কম পড়েছি। যেগুলো পড়েছি সেগুলোতে ঢাকাকে এই রকম বিস্তারিত ভাবে পোট্রে করা হয়নি। সে হিসেবে বলা যায়, 'স্মৃতির শহর' এ ঢাকাকে আমি নতুনভাবে চিনেছি। যে শহরে টাউন ছিলো মতিঝিল আর এখনকার ঢাকার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা তেজগাঁ ছিলো মফস্বল শহর। সেই মফস্বল শহরে লেখক যেভাবে দাপিয়ে বেড়িয়েছেন, তার বর্ণনা আমি খুব উপভোগ করেছি। কখনো বা লেখকের সাথে ডুবে গেছি স্মৃতিকাতরতার বিষাদে। কখনো বা লেখকের সাথে রিকশায় ঘুরে বেড়িয়েছি তেজগাঁ থেকে সায়েন্সল্যাব। যাওয়ার পথে সাথে ছিলো রশীদ ভাই আর থেমে হয়তো খেয়েছি কোন রেস্টুরেন্টে। সেই রেস্টুরেন্ট কালের বিবর্তনে হারিয়ে গেলেও লেখকের জন্য তার কাবাবের স্বাদ আস্বাদন করা সম্ভব হয়েছে।
যদিও এটা ইতিহাস নিয়ে লেখা বই নয় কিন্তু তা সত্ত্বেও এখানে উঠে এসেছে ৮০ দশকের ঢাকার রাজনীতির কিছু অংশ। ধর্ম নিয়ে রাজনীতিবিদদের ব্যবসা তখন থেকে শুরু হয়েছিলো। আজও ঢাকা তথা বাংলাদেশের দিকে তাকিয়ে দেখছি, ব্যবসা আগের মতই চলছে। মাঝখান থেকে হারিয়ে গেছে সেই নূর হোসেন আর তার বুকভরা সাহস।
শুধু ইতিহাস, স্মৃতিকাতরতা ছাড়াও এই বইতে লক্ষ্য করার মত বিষয় হচ্ছে লেখকের বর্ণনাভঙ্গি। খানিকটা আলাদা এই বর্ণনাভঙ্গি এতটাই সুন্দর যে পাঠকের মনে হবে লেখক যেখানে যেখানে যাচ্ছেন পাঠককে সাথে নিয়ে যাচ্ছেন। পাঠক একদম নিজের চোখে দেখতে পাচ্ছেন ৮০'র দশকেরে ঢাকাকে। আমার ধারণা এই দারুণ বর্ণনা পাঠককে নিয়ে যাবে পাঠকের নিজের কিশোর-যৌবনের স্মৃতিতে আর করে ফেলবে নস্টালজিক। বেশ দারুণ কাজ দেখিয়েছেন লেখক এখানে।
আমার মনে হয় ইট কাঠের এই যান্ত্রিক ঢাকাকে অন্যভাবে চেনার জন্য কিংবা নিজের স্মৃতির রঙীন দিনগুলোকে আরেকবার জীবন্ত করে তোলার জন্য সবারই এই বইটা পড়া উচিত। তাই পাঠক, আপনি যে জনরার ফ্যানই হোন না কেন, আমি মনে করি এ বইটি আপনার অবশ্যই পড়া উচিত।
পরিশেষে Farzana Raisa আপাকে অসংখ্য ধন্যবাদ বইটা সম্পর্কে জানানো এবং শেয়ার করার জন্য।
তাসনীম হোসাইন চমৎকার ভাবে বর্ণনা করেছেন তার 'স্মৃতির শহর' ঢাকাকে। উনি ঢাকার যে সময়ের বর্ণনা করেছেন সে সময়ের ঢাকা বেস করা বই আমি খুব কম পড়েছি। যেগুলো পড়েছি সেগুলোতে ঢাকাকে এই রকম বিস্তারিত ভাবে পোট্রে করা হয়নি। সে হিসেবে বলা যায়, 'স্মৃতির শহর' এ ঢাকাকে আমি নতুনভাবে চিনেছি। যে শহরে টাউন ছিলো মতিঝিল আর এখনকার ঢাকার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা তেজগাঁ ছিলো মফস্বল শহর। সেই মফস্বল শহরে লেখক যেভাবে দাপিয়ে বেড়িয়েছেন, তার বর্ণনা আমি খুব উপভোগ করেছি। কখনো বা লেখকের সাথে ডুবে গেছি স্মৃতিকাতরতার বিষাদে। কখনো বা লেখকের সাথে রিকশায় ঘুরে বেড়িয়েছি তেজগাঁ থেকে সায়েন্সল্যাব। যাওয়ার পথে সাথে ছিলো রশীদ ভাই আর থেমে হয়তো খেয়েছি কোন রেস্টুরেন্টে। সেই রেস্টুরেন্ট কালের বিবর্তনে হারিয়ে গেলেও লেখকের জন্য তার কাবাবের স্বাদ আস্বাদন করা সম্ভব হয়েছে।
যদিও এটা ইতিহাস নিয়ে লেখা বই নয় কিন্তু তা সত্ত্বেও এখানে উঠে এসেছে ৮০ দশকের ঢাকার রাজনীতির কিছু অংশ। ধর্ম নিয়ে রাজনীতিবিদদের ব্যবসা তখন থেকে শুরু হয়েছিলো। আজও ঢাকা তথা বাংলাদেশের দিকে তাকিয়ে দেখছি, ব্যবসা আগের মতই চলছে। মাঝখান থেকে হারিয়ে গেছে সেই নূর হোসেন আর তার বুকভরা সাহস।
শুধু ইতিহাস, স্মৃতিকাতরতা ছাড়াও এই বইতে লক্ষ্য করার মত বিষয় হচ্ছে লেখকের বর্ণনাভঙ্গি। খানিকটা আলাদা এই বর্ণনাভঙ্গি এতটাই সুন্দর যে পাঠকের মনে হবে লেখক যেখানে যেখানে যাচ্ছেন পাঠককে সাথে নিয়ে যাচ্ছেন। পাঠক একদম নিজের চোখে দেখতে পাচ্ছেন ৮০'র দশকেরে ঢাকাকে। আমার ধারণা এই দারুণ বর্ণনা পাঠককে নিয়ে যাবে পাঠকের নিজের কিশোর-যৌবনের স্মৃতিতে আর করে ফেলবে নস্টালজিক। বেশ দারুণ কাজ দেখিয়েছেন লেখক এখানে।
আমার মনে হয় ইট কাঠের এই যান্ত্রিক ঢাকাকে অন্যভাবে চেনার জন্য কিংবা নিজের স্মৃতির রঙীন দিনগুলোকে আরেকবার জীবন্ত করে তোলার জন্য সবারই এই বইটা পড়া উচিত। তাই পাঠক, আপনি যে জনরার ফ্যানই হোন না কেন, আমি মনে করি এ বইটি আপনার অবশ্যই পড়া উচিত।
পরিশেষে Farzana Raisa আপাকে অসংখ্য ধন্যবাদ বইটা সম্পর্কে জানানো এবং শেয়ার করার জন্য।
May 4, 2021
২৯ নাম্বার বাড়ি, তেজগাঁও, ফার্মগেট আর ৮০'র ঢাকা শহর ঘুরে আসলাম। চোখে দেখিনি কিন্তু কল্পনায় এখন সব স্পষ্ট। আর যে ছোট ছোট শৈশবের স্মৃতি- সে হোক রিকশায় চড়ে ঘুরে বেড়ানো, স্কুলের মাঠ, আনন্দমেলা, টিনটিন, টেনিদা-ফেলুদা, কল্পনার এডভেঞ্চার, প্রজাপতির পিছু নেওয়া দুপুরের গল্প, অথবা রেলিং এর 'স্টুপিড কাক' - এসবই তো আমার ছেলেবেলার কথা! জানতাম না এভাবে মিলে যায় সবার শৈশবের স্মৃতি। আর তাতে থাকা অদ্ভুত উটের পিঠে চড়ে বসা দেশটাও- প্রায়ই! আয়েশ করে বইটা পড়তে পড়তে বড়বেলা ভুলে আমিও এক দফা ডুব দিই নিজের মেমোরি লেইনে।
'স্মৃতির শহর' শুধুই ৮০'র ঢাকা বা লেখকের শৈশব নয়, যে কোন পাঠকের টুকরো স্মৃতিগুলোও কোথা থেকে টেনে নিয়ে আসে চোখের সামনে এক ঘোরের মত। সে যে প্রজন্মেরই হোক। এখানেই এর ব্যাপকতা, এর সার্থকতা।
দিনগুলো কি শান্ত, নির্মল কেটেছে এই স্মৃতি কথার সাথে!
"খেলাঘর পাতা আছে এই এখানে,
স্বপ্নের ঝিকিমিকি আঁকা যেখানে।
এখানে রাতের ছায়া ঘুমের নগর,
চোখের পাতায় ঘুম ঝরে ঝরঝর।
এইখানে খেলাঘর পাতা আমাদের,
আকাশের নীল রং ছাউনিতে এর।
পরীদের ডানা দিয়ে তৈরি দেয়াল,
প্রজাপতি রং মাখা জানালার জাল।
তারা ঝিকিমিকি পথ ঘুমের দেশের,
এইখানে খেলাঘর পাতা আমাদের।"
(রূপকথা- আহসান হাবীব)
'স্মৃতির শহর' শুধুই ৮০'র ঢাকা বা লেখকের শৈশব নয়, যে কোন পাঠকের টুকরো স্মৃতিগুলোও কোথা থেকে টেনে নিয়ে আসে চোখের সামনে এক ঘোরের মত। সে যে প্রজন্মেরই হোক। এখানেই এর ব্যাপকতা, এর সার্থকতা।
দিনগুলো কি শান্ত, নির্মল কেটেছে এই স্মৃতি কথার সাথে!
"খেলাঘর পাতা আছে এই এখানে,
স্বপ্নের ঝিকিমিকি আঁকা যেখানে।
এখানে রাতের ছায়া ঘুমের নগর,
চোখের পাতায় ঘুম ঝরে ঝরঝর।
এইখানে খেলাঘর পাতা আমাদের,
আকাশের নীল রং ছাউনিতে এর।
পরীদের ডানা দিয়ে তৈরি দেয়াল,
প্রজাপতি রং মাখা জানালার জাল।
তারা ঝিকিমিকি পথ ঘুমের দেশের,
এইখানে খেলাঘর পাতা আমাদের।"
(রূপকথা- আহসান হাবীব)
August 31, 2021
এতো সুন্দর একটা গল্প যে পড়া শুরু করলে আর শেষ না করে ওঠার উপায় নেই।পরীর দেশ থেকে আসা মা আমার মায়ের মতোই নয় কি?যাকে চিরকাল মনে হয়েছে আমাদের পরিবারের জাগতিক হিসেব রাখতে রাখতে বড্ড মলিন হয়ে গেছেন সময়ের সমান্তরালে।
গল্প বলার স্টাইলটাও এতো সুন্দর।যেন স্মৃতি নামক নান্দনিক এক সেলুলয়েডে ঘন্টা দুয়েকের অপূর্ব এক চলচিত্রের চিত্রায়ণ দেখলাম!
গল্প বলার স্টাইলটাও এতো সুন্দর।যেন স্মৃতি নামক নান্দনিক এক সেলুলয়েডে ঘন্টা দুয়েকের অপূর্ব এক চলচিত্রের চিত্রায়ণ দেখলাম!
Displaying 1 - 30 of 33 reviews






























