শুধু সাহিত্য হিসেবে ভাবলে ‘মহাভারত’ নিঃসন্দেহে আমার খুব প্রিয় একটি সাহিত্যকর্ম।পুরো মহাভারতজুড়ে পান্ডবদের বীরত্বগাথা, যুধিষ্টিরের ধর্মানুগত্যতা, ভীমসেনের সাহস, অর্জুনের বীরত্ব, কুন্তীর সাধ্বীরুপ, দ্রৌপদীর সতীত্ব এইসব নিয়ে মনোমুগ্ধকর কাহিনীতে ভরপুর।কিন্তু হরপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের এই ‘কৃষ্ণকাহিনী মহাভারত’ সম্পূর্ন বিপরীত স্রোতে গিয়ে মহাভারতের প্রতিটি চরিত্র, প্রতিটি বিশেষ ঘটনাকে বিশ্লেষণ করে এক ভিন্ন মহাভারত কে পাঠকের সামনে তুলে ধরেছেন। মাইকেল মধুসূদন দত্ত যেমন ‘মেঘনাদবধকাব্য’ লিখে রাবণপুত্র মেঘনাদকে পাঠকের কাছে অনেকটা হিরো করে তুলেছিলেন, শেষে এসে পাঠকের হৃদয় মেঘনাদের জন্য ভারাক্রান্ত হয়ে উঠেছিলো তেমনি কৃষ্ণকাহিনী মহাভারত পাঠ শেষেও পাঠকের হৃদয় কৌরব তথা দুর্যোধনদের জন্য হাহাকার করে উঠবে।কথায় আছে জয়ের ইতিহাস নাকি শুধু বীরেরাই লিখে, মহাভারতও এর ব্যতিক্রম নয়।মহাভারতের লেখক কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস পান্ডব ও কৌরব উভয়ের পিতামহ হলেও মূলত পান্ডবরাই ছিলেন তার সরাসরি বংশধর। যারা মহাভারত পড়েছেন তারা জানেন যে মহাভারতের অন্যতম নারী চরিত্র সত্যবতী ছিলেন এক জেলেকন্যা যাকে বিয়ে করেছিলেন ভীষ্মের পিতা রাজা শান্তনু। কিন্তু রাজা শান্তনুর সাথে বিয়ের পূর্বেই ঋষি পরাশরের সাথে সঙ্গমে সত্যবতীর এক পুত্র হয়েছিলো, সেই পুত্রই কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস। পরবর্তীতে শান্তনু ও সত্যবতীর পুত্র বিচিত্রবীর্যের মৃত্যুর পর ততকালীন ধর্মীয় নিয়ম অনুযায়ী(স্বামীর মৃত্যুর পর দেবরের সাথে সঙ্গমে পুত্র উৎপাদন, ভীষ্মের প্রতিজ্ঞার দরুন কৃষ্ণদ্বৈপায়নই ছিলেন তাদের উপযুক্ত দেবর)বংশ রক্ষার্থে বীচিত্রবীর্যের দুই স্ত্রী আম্বিকা ও আম্বালিকার সাথে সঙ্গম করে পুত্র উৎপাদন করেন কৃষ্ণদ্বৈপায়ন। সেই পুত্ররাই ধৃতরাষ্ট্র আর পান্ডু। তবে একই সঙ্গে আম্বিকা ও আম্বালিকার দাসীর সাথে সঙ্গমেও কৃষ্ণদ্বৈপায়ন এক পুত্রের জন্ম দেন, যার নাম বিদুর। তৎকালীন নিয়মনুযায়ী ধৃতরাষ্ট্র আর পান্ডু সরাসরি কৃষ্ণদ্বৈপায়নের পুত্র হিসেবে গণ্য হতেন না বরং এদেরকে বলা হত ক্ষেত্রজ পুত্র। কারণ আম্বিকা বা আম্বালিকা ছিলেন অন্যের স্ত্রী বা ক্ষেত্র। শুধুমাত্র বিদুর ছিলেন তার আসল পুত্র কারন সন্তান জন্মদানের সময় ঐ দাসী অন্যকারো স্ত্রী ছিলেন না,তিনি কুমারী ছিলেন। সেই বিদুর কে মহাভারতে ধর্মের অন্যরুপ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে। পরবর্তীতে ধর্মের দেবতার সাথে সঙ্গমে যখন কুন্তিপুত্র যুধিষ্ঠিরের জন্ম হয় তখন ধারনা করা হয় বিদুরই মূলত যুধিষ্ঠিরের পিতা, কারন বিদুর ধর্মদেবতারই অন্য এক রুপ। সেই দিক থেকে দেখলে যুধিষ্ঠিরই কৃষ্ণদ্বৈপায়নের আসল বংশধর। তো তিনি তার বংশধরদের বীরত্বের কথাই শুধু লিখবেন এতে অস্বাভাবিক কিছু নেই। কিন্তু হরপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় তার বইয়ে নিরপেক্ষভাবে কৌরব ও পান্ডবদের কাহিনীগুলো বিশ্লেষণ করে এমনভাবে তুলে ধরেছেন যা পাঠকদের কে একটু হলেও ভাবাবে। তিনি একচ্ছত্রভাবে পান্ডবদের পক্ষপাতিত্ব না করে কিছু কিছু ক্ষেত্রে কৌরবদের বীরত্ব তথা নীতিগত অবস্থানের ব্যাপারগুলো তুলে ধরেছেন। যে কুন্তীকে মহাভারতে অসামান্য এক সাধ্বী নারীরুপে দেখানো হয়েছে সেই কুন্তীরই অন্য এক রুপ আমরা এই বইয়ে দেখতে পাবো। নকুল ও সহদেব কে মাদ্রী ও পান্ডুর পুত্র হিসেবে মনে করা হলেও ধারণা করা হয় তারা মূলত কুন্তীরই পুত্র ছিলেন। ততকালীন সময়ে এক নারী পাঁচজন আলাদা পুরুষের সাথে পুত্র উৎপাদন করলে তাকে বেশ্যা বলা হতো, নকুল ও সহদেব কে কুন্তীর পুত্র ধরে নিলে মহাবীর কর্ণ সহ কুন্তীর ছয় পুত্র হয়ে যায় যা তার চরিত্রে বিরাট এক প্রশ্নবোধক চিহ্ন এঁকে দেয়, ধারণা করা হয় নিজের চরিত্রের এই দিকটি লুকোতে কুন্তিই মূলত পান্ডু ও মাদ্রীকে হত্যা করে/বা মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেয়। ‘কৃষ্ণকাহিনী মহাভারত’ বইয়ে এই সকল ধারনারই সুস্পষ্ট উত্তর মিলবে। মহাভারতের গুণমুগ্ধ পাঠকদের জন্য এটি একটি অসাধারন অবশ্যপাঠ্য বই।
This books startles with the preface - 'Mahabharat is the saga of the Natives against Aryans, unlike Ramayan. In Ramayan, natives are termed as monkeys, chimps, and cannibals; with the victory of Ariyan Rama'. This book questions relentlessly all the heroes in the main book, shows all the bad people were not that bad at all, all the heroes are overstated as History is always written by victors, builds coherency among the progressions of events with the personal missions of Sottoboti/Bidur/Krishnadoipaon/Krishna - all non-Aryans!! And here you go - non-Aryans won big time, not always in fair means. So, the name of the book is termed - Saga of Krishna (non-Aryans, kalo manush der). A pleasant, fat-less read indeed. Now need to revise - Mohavaroter Mohaoronne by Protiva Basu. The latter book rattled my idea on Mahabharat couple of years back!
পুরাণে আগ্রহ আছে, সাথে পুরাণকে যুক্তির কাঁচে পরখ করে দেখার ইচ্ছে আছে যাদের, তাদের পড়া উচিৎ বইটা। মহাভারত পড়ে থাকলে তার পর এই বইটা পড়লে মহাভারতের সম্পূর্ণ নতুন এক দিক উন্মোচিত হতে পারে পাঠকের কাছে, যদি পাঠকের মন খোলা থাকে তার জন্য! তবে লেখক যেমন করে নিজের 'কৃষ্ণকাহিনী' মতকে প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছেন, মহাভারতের পেছনের গল্পকে আরো আরো পেছনে টেনে সবটায় আর্য-অনার্য দ্বৈরথ বলে উপসংহার টানতে চেয়েছেন, সেটা আমার খুব একটা পছন্দ হয়নি। অতদূরও যাবার কি দরকার ছিল বাপু!