বিখ্যাত বিজ্ঞানী ডক্টর কিজিলকে হয়তো আপনারা কেউ কেউ চিনে থাকবেন, লোকটার বিচিত্র আবিষ্কারের নেশায় আর উদ্যোক্তা হিসেবে উদ্ভট সব কাণ্ডে নিজের এবং অন্যদের জন্য বিপদ আর উটকো ঝামেলা বয়ে নিয়ে আসে প্রায়ই। তেমন কয়েকটি রোমহর্ষক অ্যাডভেঞ্চারময় ঘটনা এ বইয়ে বর্ণনার দায়িত্ব নিয়েছেন তার সহকারী হাসান। এছাড়াও বইয়ে যুক্ত হয়েছে হাফ ডজনের বেশি নানা আমেজের বৈজ্ঞানিক কল্পগল্প; তার কোন কোনোটি গম্ভীর বা ডিস্টোপিয়ান, কোনটা একদমই হালকা মেজাজের। ভেন্ট্রিলোকুইস্ট এবং মিনিমালিস্টের পর বাতিঘর প্রকাশনী থেকে মাশুদুল হকের এই বৈজ্ঞানিক কল্পগল্পের জগতে আপনাদের আমন্ত্রণ।
মাশুদুল হকের জন্ম ও বেড়ে ওঠা ঢাকায়। এক দশকের বেশি সময় ধরে লিখছেন থ্রিলার, সায়েন্সফিকশন ও শিশু-কিশোর সাহিত্য, প্রকাশিত হয়েছে নিয়মিত ভাবে বাংলাদেশ ও ভারত থেকে।
সাহিত্য-পুরস্কার : এইচএসবিসি-কালিওকলম তরুণ কথাসাহিত্যিক পুরস্কার ২০১৩।
Masudul Haque is a contemporary writer from Bangladesh known for his works on thrillers, Sci-Fi, and children's literature. His works have been published in Bangladesh and India regularly for the last 12 years. He was awarded the Kali O Kalam Young Writer Award in 2013.
লেখক মাশুদুল হক সুপরিচিত তার ভেন্ট্রিলোকুইস্ট এবং মিনিমালিস্ট এই দুটো রহস্যোপন্যাসের জন্যে। তবে মাশুদ ভাইয়ের লেখা আমার সবচেয়ে ভালো লাগে কিশোর উপন্যাস(বিলু কালু/রিমি) এবং বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনীতে। তাই অনেক অপেক্ষার পর যখন দেখলাম এই মেলায় ডঃ কিবরিয়া জিল্লুর লস্করের(কিজিল) নতুন বই আসবে(অবশেষে!), স্বাভাবিকভাবেই আগ্রহ বেড়ে গিয়েছিল বহুগুণে।
পুরো বইয়ে মোট ১১ টি গল্প থাকলেও, এর মধ্যে তিনটি ডঃ কিজিল সংক্রান্ত এবং বাকিগুলো কল্পবিজ্ঞানের বিভিন্ন সাব জনরার অন্তর্গত। ডঃ কিজিলের গল্পগুলোতে বরাবরের মতনই বিজ্ঞান এবং সূক্ষ্ম হিউমরের মিশেল ভালো লেগেছে। কয়েকটা গল্প নিয়ে আলোচনা করা যাক।
নেক্সট লাইফ : সংকলনের শুরুতেই সবচেয়ে দারুণ গল্পটা অপেক্ষা করছে সবার জন্যে। হোমিসাইড ডিটেক্টিভের কাজে ইস্তফা দিয়ে প্রাইভেট ডিটেক্টিভের কাজ শুরু করা এহসানের সাথে পরিচয় ঘটবে এখানে। তার স্পেশালিটি- আপাত দৃষ্টিতে কোন কারণ ছাড়া আত্মহত্যা করা ব্যক্তিদের মৃত্য রহস্য উন্মোচন করা। তেমনই একটা কেসের সাথে নিজের ব্যক্তিগত জীবন জড়িয়ে যায় তার। গল্পের চমৎকার একটা ফিনিশিং থমকে দিতে বাধ্য। টেড শিয়াংয়ের “লাইফসাইকেল অফ সফটওয়্যার অবজেক্টস- এর কথা মনে পড়ে গেলো এটা শেষ করার পর(ওটাও দুর্দান্ত একটা গল্প, সাইফাই প্রেমীরা পড়তে পারেন।)
সার্কাস/সার্কাস ২ : সংকলনের দ্বিতীয় গল্প হচ্ছে সার্কাস এবং দশম গল্প হচ্ছে সার্কাস-২। তবে দু’টো মিলে মূলত একটি পূর্ণাঙ্গ গল্প। ছেলেবন্ধুকে খুঁজতে বান্দরবানে হাজির হয় মিতু, যেখানে চলছে অদ্ভুত একদল ভাল্লুকের সার্কাস। রহস্য দিয়েই শেষ হয় প্রথম খণ্ড। ডঃ কিজিল ২য় খণ্ডে তার স্বভাবসুলভ বৈজ্ঞানিক কৌতূহল এবং প্রতিশোধ স্পৃহার(!) জোরে সমাধান করে রহস্যের। প্রথম খণ্ড একক গল্প হিসেবে প্রেডিক্টেবল হলেও, দ্বিতীয় খণ্ডের মিশেলে দারুণ উপভোগ্য।
কিজিল ও গিলগামেশঃ এখানে লড়াই বেঁধে যায় পাগলাটে বৈজ্ঞানিক এবং তার সৃষ্ট এক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মধ্যে। গল্পের আড়ালে সুপার কম্পিউটারের প্রভাব সমৃদ্ধ ভবিষ্যত পৃথিবীর কিছুটা ঝলকও দেখা যাবে এখানে।
লোকমানের দিনঃ ব্যক্তিগতভাবে আমার খুবই ভালো লেগেছে এই গল্পের থিমটা। টার্মিনাল ইলনেসে ভোগা এক রোগীর জীবনের ঘটনা। বেশ ভাবনার খোরাক জোগাবে, জীবনকে অন্যভাবে দেখাবে।
ঘাবড়াস নাঃ সংকলনের ব্যতিক্রমী এই গল্পটা পড়ে কিছুটা ঘাবড়ে যেতে হবে বৈকি।
স্যালাম্যান্ডার জিনঃ এটা একদম যথার্থ ডঃ কিজিলের কাহিনী। আদ্যোপান্ত তার পাগলামো এবং দূরদর্শীতার প্রমাণ মিলবে। তার ফ্যামিলি হিস্টোরিও বলা যায় গল্পটিকে।
চিড়িয়াখানাঃ গল্পের থিমটা দারুণ, মেটাফরিক। তবে বার্তাটা ঠিক পরিষ্কারভাবে ফুটে ওঠেনি। আরেকটু সময় দেয়া যেত গল্পটার পেছনে।
সবমিলিয়ে উপভোগ্য একটি সংকলন “স্যালাম্যান্ডার জিন”। গল্পের মেজাজভেদে মাশুদ ভাইয়ের লেখনীর সামঞ্জস্যপূর্ণ পরিবর্তন তার গল্পের থিমগুলোর বৈচিত্র্যের প্রতি সুবিচার করেছে। অন্য রকম সাই-ফাই অ্যান্থোলজি পড়তে চাইলে হাতে তুলে নিতে পারেন। প্রকাশিত হয়েছে বাতিঘর থেকে।
বইটা পড়ে বেশ মজা পেলাম। প্রতিটা গল্পের কনসেপ্ট, গতি, ভাষা আর হিউমারের মিশেল দুর্দান্ত। কিজিল আর সুন্দরালীর চরিত্র ফাটাফাটি। কিছু কিছু ক্ষেত্রে গল্পগুলো হঠাৎ খুব তাড়াতাড়ি শেষ হয়েছে বলে মনে হয়েছে।
বই নেমঃ- স্যালাম্যান্ডার জিন লেখকঃ- মাশুদুল হক জনরাঃ- সাইফাই সিরিজঃ- ডক্টর কিজিল ২ প্রকাশনীঃ- বাতিঘর পৃষ্ঠা সংখ্যাঃ- ১২৮ অসাধারন কিছু সাইফাই গল্প দিয়ে বইটি সাজানো হয়েছে। প্রতিটা গল্পই এক কথায় চমৎকার। পাগলাটে বিজ্ঞানী কিজিলের অদ্ভুতসব কাজকারবার সেই সাথে বিপদজনক গবেষণা, যা কিজিল আর হাসানকে প্রায়ই বিপদে ফেলে দেয়। এবার সেখানে যোগ করা হয়েছে কিজিলের মেয়ে কুইন আর ছেলে জিকো। ড্রাইভার সুন্দরালির ডায়লগগুলো ফাটাফাটি ছিলো। সাথে আরো কিছু গল্প ছিলো যেগুলো প্রতিটাই স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য বঝায় রাখতে সক্ষম হয়েছে। রেটিং ৪/৫
সায়েন্স ফিকশন তেমন একটা পড়া হয় না। বড্ড কাঠখোট্টা আর কঠিন লাগে। তবে এমন ছোটগল্পের আকারে হিউমারে পরিপূর্ণ সায়েন্স ফিকশন রম্যরচনা পড়ে দারূন লাগলো। সায়েন্স ফিকশনের নিয়মিত পাঠকদের কাছে হয়তো সেই আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স, ভার্চুয়াল রিয়্যালিটি, এলিয়েন, প্যারালাল ওয়ার্ল্ডের পুরানো বকবকানি মনে হতে পারে কিন্তু আমি দারূন উপভোগ করলাম। আরে ৫-১০ টা গল্প থাকলে খারাপ হতো না। টুক করে পড়ে ফেলার জন্য বা কাজের ফাঁকে একটা করে গল্প পড়ার জন্য যথার্থ বই এই গল্প সংকলন। বইটা যেকোনো বয়সী পাঠক উপভোগ করবে বলে আমার ধারণা।
It's only we humans who want to own the future, too. - Tom Stoppard, The Coast of Utopia
- স্যালাম্যান্ডার জিন - "স্যালাম্যান্ডার জিন" মূলত ১১টি সাইফাই গল্পের এক সংকলন। বইটি এবারের বইমেলায় বাতিঘর প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত হয়েছে। - সার্কাস / সার্কাস ২ : বান্দরবানের এর দুর্গম স্থানে চলছে ভালুকের সার্কাস। এ ঘটনার বিস্তারিত জানতে প্রথম পার্টে এসে হাজির হন দুই ব্যক্তি। ড. কিজিল ২য় পার্টে এসে রহস্যের সমাধান করেন। ১ম পার্ট টা তেমন একটা ভালো না লাগলেও সেকেন্ড পার্ট টা ভালোই। - কিজিল ও গিলগামেশ : কিজিল এবং তার আবিষ্কৃত আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলেন্সের ভিতরকার এক স্নায়ুযুদ্ধ। থ্রিলার জার্নাল ২য় সংখ্যায় গল্পটি পড়েছিলাম। তখনো ভালো লেগেছিলো, এখনো ভালো লাগলো। - লোকমানের দিন : লোকমান নামের এক টার্মিনাল ইলনেসে ভোগা এক রোগীর জীবনের এক দিনের কাহিনী। চমৎকার ফিনিশিং। - মেলায় হারানো ভাই : শুধুমাত্র দাদু এবং তার নাতি থাকা অবস্থায় এক বাসায় দুইজন অনাহুত অতিথির আগমন নিয়ে ঘটনা। বেশ মজা পেয়েছি গল্প টি পড়ে, অনেকটা রিক এন্ড মর্টি ভাইব আছে গল্পটিতে। শেষটা চমৎকার। - শিল্পপতি রফিকুল ইসলামের সাথে একান্ত আলাপ : লেখকের সাথে এক শিল্পপতির কাল্পনিক সাক্ষাৎকার নিয়ে ঘটনা। তেমন একটা ভালো লাগনো না। - সবুজ স্যুপ : এক অদ্ভুত বলবর্ধক সবুজ স্যুপ নিয়ে ঘটনা। কাহিনী একদম প্রথম লাইন থেকেই প্রেডিক্টেবল। আরো ভালো হতে পারতো গল্পটি। - ঘাবড়াস না : দুই বন্ধু রূপু এবং রনির কথোপোকথন এবং এর consequence নিয়ে ঘটনা। গল্পের নাম ঘাবড়াস না হলেও এন্ডিং বেশ ঘাবড়ে যাওয়ার মতো। - চিড়িয়াখানা : অনেকটা মেটাফরিক গল্প, ডেমন নাইটের "টু সার্ভ মেন" এর কথা মনে করিয়ে দেয়। গল্পের মেসেজটা আরো ক্লিয়ারলি দেয়া যেতে পারতো।
স্যালাম্যান্ডার জিন : টিপিক্যাল ডক্টর কিজিল স্টোরি। বেশ মজা পেয়েছি এই গল্পটি পড়ে। - এবার আসি সংকলনের সবচেয়ে দুর্দান্ত গল্প "নেক্সট লাইফ" এ। ডিটেকটিভ ফিকশন আর সাই ফাই এর মিশ্রণে দারুন হয়েছে গল্পটি। গল্পটি পড়তে গিয়ে বারবার ব্ল্যাক মিরর এর " সান জুনিপেরো" এবং লিউ সিশিনের "দ্য লাইফ সাইকেল অফ সফটওয়্যার অবজেক্টস " এর কথা মনে করিয়ে দিচ্ছিলো। গল্পের শেষটা একেবারেই মনোমুগ্ধকর। - "স্যালাম্যান্ডার জিন" বইয়ের কারিগরি দিকে তাকালে এর বাঁধাই, কাগজ ভালোই। তবে মেক আপে গল্পের সূচিপত্রে কোন গল্প কোন পৃষ্ঠায় সেটা এড করা যেতে পারতো। মেহেদী হকের করা বইয়ের প্রচ্ছদটি চমৎকার লেগেছে। বানান ভুল সহনশীল পর্যায়ের। - ওভারঅল, বাংলা সাই ফাই হিসেবে বেশ এক্সপেরিমেন্টাল একটি সংকলন হচ্ছে "স্যালাম্যান্ডার জিন"। তবে প্রিয় লেখকের কাছ থেকে এতদিন পরে এত ছোট গল্প সংকল্পন পড়ে মন ঠিক ভরে না। সামনে তাই লেখকের কাছ থেকে আরো বড় সাইজের লেখা আশা করছি। সায়েন্স ফিকশন বই এবং এন্থোলজি সিরিজ পড়তে যাদের পছন্দ তারা বইটি পড়ে দেখতে পারেন।
১. নেক্সট লাইফ: কিছু তরুণ ভার্সিটি পড়ুয়া ছেলেমেয়ে সুইসাইড করছে। কেন সবাই সুইসাইড করতে উঠে পড়ে লাগলো? বিচ্ছিন্ন ঘটনা নাকি রহস্য? দারুণ একটা গল্প। আমার ভালো লেগেছে। বিশেষ করে রহস্যের উদঘাটন।
২. সার্কাস: পাহাড়ী অঞ্চলে সার্কাস বসেছে। সেখানে নিখোঁজ হয়েছে রকিব নামের একজন। তাকে খুঁজতে এসেছে তার দুজন সঙ্গী। খুঁজে পাবে রকিবকে ওরা? দারুণ রহস্য ঘনিয়ে শুরু করা গল্প। কিন্তু রহস্যের সমাধান করা হয়নি। অবশ্য এটি আরেকটি গল্পের সাথে সম্পৃক্ত।
৩. কিজিল বনাম গিলগামেশ: ডক্টর কিজিলের বিরুদ্ধে কেস করে দিলো তারই আবিষ্কৃত রোবট। কিজিল কি জিততে পারবে নাকি হেরে কতৃত্ব খোয়াবে? গল্পটা ভালো লেগেছে আমার। ডক্টর কিজিল বিজ্ঞান দিয়ে বুদ্ধির খেলা খেলেছে এই গল্পে।
৪. মেলায় হারানো ভাই: দুজন লোক এসে হুট করে একজনকে অন্যগ্রহে নিয়ে যাওয়ার জন্য টানাহেঁচড়া আরম্ভ করেছে। সে কি পারবে পৃথিবীতে থেকে যেতে। মোটামোটি একটা গল্প। তবে হাস্যরস রয়েছে।
৫. লোকমানের দিন: কিভাবে স্বল্প জীবন অনেক লম্বভাবে বাঁচা যায় আবার অনেক দীর্ঘ একঘেয়ে জীবনে আনন্দ ফিরে পাওয়া যায় সেটা এই ছোট্ট ডিস্টপিয়ান গল্পের মূল উপজীব্য। এন্ডিংটা চমৎকার। ভালো লাগবে।
৬. শিল্পপতি রফিকুল ইসলামের সাথে একান্ত আলাপ: একটি সাক্ষাৎকার মূলত। অতীত ও ভবিষ্যতের সাথে যোগাযোগ বিষয়ক। বিষয়বস্তু জটিল। ডিস্টপিয়ান ঘরনার। আমার অতটা ভালো লাগেনি 🙂.. হয়তো কমপ্লেক্স বলেই।
৮. ঘাবড়াস না: আরেকটা ছোট্ট গল্প। ভিনগ্রহ থেকে মানুষের রূপ ধরা প্রাণীদের নিয়ে। মোটামোটি মানের। আরেকটা ক্ষুদ্র টুইস্ট।
৯. চিড়িয়াখানার কর্মী: চিড়িয়াখানার সামনে দেখা হওয়া দুজন মানুষের কথোপকথন। যেখানে একজন নিজেকে চিড়িয়াখানার কর্মী হিসেবে পরিচয় দেয়। এখানেই গল্প শেষ। গল্পটা ভালো লাগেনি। হয়তো ধরতে পারিনি নাহলে গল্পটা এরকমই।
১০. সার্কাস ২: এটি দুই নম্বর গল্পের সিক্যুয়েল। ডক্টর কিজিল সার্কাস রহস্যের জট খোলেন। এককথায় দারুণ।
১১. স্যালাম্যান্ডার জিন: কিজিলের সাথে আরেকটা কিজিল(ক্লোন) মুখোমুখি হয়। কিজিলের দেহের দাবী জানায় সে। কিজিল কি বাঁচতে পারবে? নামগল্প হিসেবে একেবারে পারফেক্ট। এখানেও বুদ্ধির খেলা খেলেছেন কিজিল ও তার মেয়ে। হাস্যরস আছে।
মাশুদুল হকের লেখা আমার সবসময় পছন্দ। এই বইয়ের মধ্যে আমার সবথেকে ভালো লেগেছে নেক্সট লাইফ, সার্কাস ২, কিজিল ও গিলগামেশ, স্যালাম্যান্ডার জিন আর লোকমানের দিন। সাইফাই, ডিস্টপিয়ান প্রেমী এমনকি সকল স্তরের পাঠক পড়তে পারেন বইটি।
স্যালাম্যান্ডার জিন মাশুদুল হক বাতিঘর প্রকাশনী পৃষ্টা: ১২৭
ডক্টর কিজিল 1.5 পড়ে ভাল্লাগছে, তাই এটা নেয়া। এখানে মোট এগারোটি সাই-ফাই গল্প আছে, যায় মাঝে কয়েকটা খুব ভালো, কয়েকটা গুবলেট পাকানো। সার্কাস ১, ২, লোকমানের দিন, স্যালাম্যান্ডার জিন - এই কয়টা আলাদাভাবে সুন্দর। কল্পবিজ্ঞান এর নিয়মই তো "আজগুবি নয় আজগুবি নয় সত্যিকারের কথা" - তে কনভিন্স করানো পাঠক কে। সেদিক দিয়ে চিন্তা করলে অনেক নতুন নতুন ধারণা এসেছে, যায় জন্য লেখককে ধন্যবাদ। কপি বলব না, তবে একটু গভীর চিন্তা করলে ডক্টর কিবরিয়া জিল্লুর লস্করের মাঝে প্রফেসর ত্রিলোকেশ্বর শঙ্কুর ছায়া পাই হালকা পাতলা🫣।
It was a very fun and uplifting read, except for the first story. I read it in bad circumstances, and that triggered me (for references of suicide). An excellent collection of sci-fi themed stories.
চমৎকার একটা বই।১১ টা সাই ফাই ছোট গল্প দিয়ে সাজানো হয়েছে বইটিকে।ছোটবেলার সেই জাফর ইকবালেত সাই ফাই গল্প পড়ার কথা যেন মনে পড়ে গেল। প্রথমেই বলতে গল্পগুলোর কথা
নেক্সট লাইফ : সম্ভবত এই সংকলনের সেরা বই।কিছু তরুণ সুইসাইড করতেছে হঠাৎ করেই।কি জন্য করতেছে? কি কারণ?তাই খুঁজে বের করার চেষ্টা করছেন ছেলে হারানো এক বাবা।শেষে চমৎকার এক সাইফাই এর মেল বন্ধন ঘটিয়েছেন।দারুণ লেগেছে।
সার্কাস এবং সার্কাস ২ : একটা সংকলনের ২য় গল্প আরেকটা সংকলনের ১০ম গল্প। সার্কাস প্রেডিক্টেবল গল্প গলেও সার্কাস ২ পাগলা সেই বিজ্ঞানী ডক্টর কিজিলের গল্প।দারুণ এক হাস্যরসে পরিপূর্ণ সাই ফাই গল্প একটা।
ঘাবড়াস না : ছোট একটা গল্প।মোটামুটি লাগছে।মূলত ভিন্নগ্রহী প্রাণির মধ্যেকার গল্প এটি
লোকমানের দিন : সবচেয়ে খারাপ লেগেছে এই গল্পটি।মাথার উপর দিয়ে গেছে।মে বি আমার জন্য না এই টাইপ গল্প
মেলায় হারানো দুই ভাই : খুব ভাল লাগছে গল্পটা। মানে লিটারেলি হাসতেছিলাম পড়া শেষে।হিউমার এর সাই ফাই এর যুগল লিটারেলি জাস্ট অসাধারণ ছিল
ডক্টর কিজিল এবং গিলগামেশ : মূলত গল্পটা খামখেয়ালি আর পাগলা বিজ্ঞানী ডক্টর কিজিল এবং তার আবিষ্কৃত এ আই গিলগিমিশের মধ্যেকার একটা কোর্ট রুম সাই ফাই ড্রামা। এত উপভোগ করছি গল্পটা বলার বাইরে।এ আই কে ঘোল খাওয়ানো ব্যাপার টা আরো দারুণ ছিল।
সবুজ স্যুপ : এভারেজ গল্প। প্রেডিক্টেবল। খুব একটা ভাল লাগে নাই
স্যালম্যান্ডার জ্বিন : ডক্টর কিজিলের আরেকটা কাহিনী। সম্ভবত ২য় সেরা গল্প এই সংকলনের।দুর্ধষ ���াইফাই গল্প একটা।গল্পটা পড়ার পর ই ভাবছি আরো কিজিলের গল্প পড়তে হবে।অস্থির ক্যারেক্টর।
রফিকুল ইসলামের সাথে একান্ত সাক্ষাৎকার : ডিস্টোপিয়ান টাইপেত গল্প। মানে ভবিষ্যৎ থেকে এসে অতীতের কাউকে বাঁচানো!যেন গ্র্যান্ডফাদার প্যারাডক্স।এই থিম নিয়েই দুর্দান্ত একটা গল্প
চিড়িয়াখানার কর্মী : খুব ছোট একটা গল্প।বেশি ভাল লাগে নি।কি বুঝাইছে ঠিক বুঝি নি আমি।
যাই হোক মোটের উপর ব��শ দারুণ একটা সাই ফাই বই। পার্সোনাল রেটিং -৪/৫
বহুদিন উইশলিস্টে ঝুলে ছিল বইটা৷ পড়ব পড়ব করেও পড়া হচ্ছিল না। বই বিমুখ হয়ে গিয়েছিলাম অনেকটা। তারউপর সায়েন্স ফিকশন অনেক কম পড়া হয়। তবে এই বইটা পড়ে ভিষণ আনন্দ পাইছি। অদ্ভুত সব গল্প কিনা! মাশুদুল ভাইয়ের লেখা বরাবরি এমনিতেই ভালো। ভালো সময় কাটল বইটার সাথে। 🌸
কমবেশি সব গল্পই মোটামুটি ভালো লেগেছে৷ ডক্টর কিজিলকে নিয়ে বড়সড় একটা লেখা চাই! 'নেক্সট লাইফ', 'কিজিল ও গিলগামেশ', 'সার্কাস ২' আর 'স্যালাম্যান্ডার জিন' গল্পগুলো বেশি ভালো লেগেছে৷
মাশুদুল হক এর লেখা আমার ভালোই লাগে। সেই ভেন্ট্রিলোকুইস্ট থেকে শুরু তারপর মিনিমালিস্ট অনেক অনেক অজানা তথ্যে পরিপূর্ণ। তারপর ডক্টর কিজিল নামক বৈজ্ঞানিক এর আবিষ্কার। ডক্টর কিজিলের প্রথম বইটা যখন পড়ি তখনই বিশাল ভক্ত হয়ে যাই। বইয়ের 'চিড়িয়াখানা' গল্পটা নিয়ে একটু কনফিউশনে আছি। গল্পে কি 'মানুষ'রাই পৃথিবী নামক চিড়িয়াখানায় বসবাস করছে সেটা বোঝানো হয়েছে?
"সায়েন্স ফিকশনাল রম্য "। অতিরঞ্জিত ব্যাপারস্যাপার মাশুদুল হকের লেখনীতে তেমন একটা অতিরঞ্জিত লাগলো না। অনেক দিন পর এমন হালকা ধাঁচের চমৎকার একটা বই পড়া হলো 🤖
বেশ কয়েকটি ছোটো বৈজ্ঞানিক কল্পগল্প আছে বইটিতে। ডঃ কিজিলের ২ টি গল্প কোনোরকম পড়া গেলেও বাকী গল্পগুলো আমার কাছে আহামরি কিছুই মনে হয়নি। ফ্ল্যাপে তে এডভেঞ্চার এর কথা বলা থাকলেও বই এর মাঝে আমি তা খুজে পাইনি। হয়তো এই জনরা পছন্দ না হওয়াতেও আমার কাছে এমন মনে হয়ে থাকতে পারে। সার্বিকভাবে আমার কাছে খুব একটা সুপাঠ্য লাগেনি।
আজকে সকালে শেষ হইলো। বেশি সময় লাগলো। এটা অবশ্য পড়ার সময় বিকালে ঘুম চলে আসার কারণে। ঘুম চলে আসার কারণ অবশ্য গল্পগুলা না। মূলত ১২ ঘন্টার পার্থক্য।
ভালো লাগে নাই বেশি। মাশুদুল হক সাহেব অনেক ডিসাপয়েন্ট করলো।
বেশি ডিসাপয়েন্টিং ছিলো গল্পগুলার কোয়ালিটি না। কোয়ালিটি খুবই ভালো এমন না, কিন্তু ওটা না ধরলেও হয়। কিন্তু এক ধরণের এক যত্নের অভাব ছিলো পুরা বইটাতেই, যেটার কোনো এক্সকিউজ নাই। আরেকটু সময় নিয়ে, গল্পগুলা আরও কয়েকবার এডিট করলে কি হইতো? এই অবস্থাতেই, কেন ছাপাইতে দিতে হবে? পাঠকদের, বাংলাদেশের মানুষদের, সাহিত্য, সব কিছুকেই আমরা তো বেশি রেস্পেক্ট করি না। ইউরোপ-আমেরিকা তে মনে হয় সবথেকে খারাপ বইটাও আরেকটু যত্ন নিয়ে করা হবে। কি আর করা। কিন্তু, মাশুদুল হকের থেকে এটা একটু ডিসাপয়েন্টিং।
ভাষা আমার ভালো লাগে নাই। মূল কারণ হইলো, একধরণের মেকী প্রমিত বেশি - আর এই মেকীর সাথে কিসু নরমাল কথা, আর অনেক ইংলিশ কথা, সব মিলায়ে কেমন এক বিদ্ঘুইট্টা জিনিস হয়ে যায়। আমার ভাষা হয়তো একটু এই রকম, কিন্তু আশা করি এটার থেকে ভালো হবে। আবার আজকেই জাহিদ হোসেনের দুধ চা খেয়ে তোকে গুলি করে দেব - পড়া শুরু করলাম। ওইটার ভাষা খুবই, খুবই ভালো লাগতেসে। ওইটা অবশ্য মূলত প্রমিত - খুব ছোট ছোট, খুব সুন্দর সুন্দর সেন্টেস -একটার পর একটা। এর মধ্যে মধ্যে হঠাত হঠাত একটা নরমাল,গালি, বা ইংলিশ যখন আসে সেইটাও খুবই ভালো হয়, ভালো লাগে। এখন প্রমিতটা কি আরক্টু বাংলাদেশী হলে ভাষাটা কম ভালো লাগতো? আশা করি না। আশা করি আরেকজন, জাহিদ হোসেনের মতোই ট্যালেন্টেড, বা জাহিদ হোসেন নিজেই, চেষ্টা করলে, বা অনেক চেষ্টা করলে, খুবই সুখপাঠ্য, খুবই শিল্পন্নত বাংলাদেশী বাংলায় পুরা গল্প বলতে পারবে, ন্যারেশনসহ সব কিছু। মারক টোয়েন যেভাবে হাকলবেরি ফিন লিখসে।
১। নেক্সট লাইফ- গল্পটা ভালো ছিলো, শেষের ঐ পরিনতি গল্প হিসাবে ভালো, কিন্তু ঐ যে, যত্ন না করে লেখার কারণে, ক্যামন জানি বাজে লাগে। তাড়াহুড়া, খাপছাড়া, এই টাইপের কিছু এই বাজে লাগাটা।
৩। কিজিল ও গিলগামেশ - গল্প টা ভালোই। শঙ্কুর পড় আবার এরকম এক সায়েন্টিস্ট টাইপের কেউ বাংলায়? অনেক পারথক্য করা হইসে শঙ্কুর থেকে, হয়তো ইচ্ছা করেই, এই কারনেই। কিন্তু এগুলাতেই ভাষা আরও বেশি খারাপ লাগে। আর পুরা গল্পের মধ্যেই যত্নের অভাব আসে। এটা এক-দুইবার এডিত করলেই ভালো হয়ে যাইতো হয়তো, ভাষাটা ছাড়া।
৪। মেলায় হারানো ভাই - এটা একটু আজব। কম বিলিভেবল - মানে প্রথম থেকেই, ডাকাত গুলা। গল্পটাও খুব অরডিনারি।
৫। লোকমানের দিন - এটা ভালোই ছিলো। অনেকটা ফিলিপ কে ডিক টাইপের।
৬। শিল্পপতি রফিকুল ইসলামের সাথে একান্ত আলাপ - এটার ফরম্যাট, আর কন্টেন্ট সব মিলায়ে ভালো, একটু যে বাস্তব-কল্পনার দেওয়াল গুলা ভেঙ্গে দেয়। একটু না অবশ্য অনেকটুকুই। টুইস্টা বা মূল গল্পের অংশটাও খারাপ না। কিন্তু ওই যে - খুব যত্নের অভাব।
৭। সবুজ স্যুপ - এইটার টুইস্ট ভালো। কিতু যেভাবে গল্প হ্যান্ডেল করে, যেভাবে টুইস্ট রিভিল করে, পুরাটাই, খুব যে ভালো এমন না। যত্নের অভাব।
৮। ঘাবড়াস না - এইটা খুবই আজগোব��� । হঠাত করেই খাওয়া-খাওয়ির ব্যাপার নিয়ে আসে। এইটা ভালো না, কাজ করে না। কিন্তু ভয় বা টেনশন যেইটা তৈরি হইতেসিলো এই কারণে, ওইটা ভালো ছিলো। তখনই শেষ হয়, তাড়াহুড়া করে, আর সেও যে তব্দা খায়া গেসিলো তখনই, ওইটাও এতো ভালো ছিলো না কিছুই এইগুলা।
৯। চিড়িয়াখানা কর্মী - এইটা আমি বুঝলামই না। সে চিড়িয়াখানার কর্মী তো কি ছেড়া গেলো? মানে ব্যাপারটা কি? সে কেনো টরন্টো বা সব যায়গার চিড়িয়াখানা ঘুড়ে বেড়ায়? আর যদি বুঝিও, কোনো সময়, মনে হয় না তারপরও গল্প হিসাবে এইটাকে ভালো লাগবে।
১০। সার্কাস ২ - খারাপ না। কিজিলের আরেকটা। ভাষা আর ওইসব ছাড়া।
১১। স্যালাম্যান্ডার জিন - এইটাও খারাপ না। কিজিলের ছেলে মেয়ের নাম খুব বাজে। কুইন আর জিকো। কিজিলের নামটাও। কিবরিয়া জিল্লুর লস্কর না হয়ে যদি কিবরিয়া জিশান, জিহাদ এগুলাও হইতো তাহলেও আরেকটু ভালো হইতো। জিল্লুরের পরে লস্কর এই ভাবে ঠিক যায় না। এই ছোটো ছোটো জিনিস গুলাই, নাম, আর আরও কতো কিছু, যত্নের অভাবের উদাহরণ।
এই ১১টার মধ্যে ৩-৪ টা কিজিলের। কেন? কিজিলেরগুলা নিয়ে আরেকটা বই করলে কি সমস্যা হইতো? এইগুলাই হইতেসে যত্নের অভাবের উদাহরণ, যেইটা বলতেসিলাম। বেশ বিরক্তিকর। নিজেকেও আর একটু সিরিয়াসলি নেওয়া উচিত মাশুদুল হকের, সব লেখকের। আহ, আমাদের গরিব দেশের ...
লেখকঃ মাশুদুল হক প্রচ্ছদঃ মেহেদী হক প্রকাশনীঃ বাতিঘর পৃষ্টা সংখ্যাঃ ১২৭ মূদ্রিত মূল্যঃ ১৮০ টাকা
ভেন্ট্রিলোকুইস্ট, মিনিমালিস্ট খ্যাত, আমার অন্যতম প্রিয় লেখক মাশুদুল হকের ১১টা ছোটো সায়েন্স ফিকশন গল্পের কালেকশন এই "স্যালম্যান্ডার জীন"।
#পর্যালোচনাঃ সেই কোন অনেক আগে কৈশোর বয়সে মুঃ জাফর ইকবালের সায়েন্স ফিকশন কিছু ছোটো গল্পের কালেকশন পড়েছিলাম। এখন আর "কপোট্রনিক সুখ দুঃখ" ছাড়া অন্য কোনো বইয়ের নামই মনে পড়ছে না। তবে এটা মনে আছে সেই সময়ের সেই ছোটো গল্পগুলো বেশ ভালো লেগেছিলো। জানি না এখন আমার রুচিতে বিরাট পরিবর্তন হয়েছে কি না! এখন আর ছোটো গল্প আমায় টানে না। তবুও মাশুদুল হক নামটা দেখেই এই বইটা কিনে ফেলেছিলাম। উনার লেখা ভেন্ট্রিলোকুইস্ট এবং মিনিমালিস্ট আমার অসম্ভব প্রিয় বই। কিন্তু যথারীতি এই বইটা পড়েও আমি বেশ হতাশ।
বইয়ের ১১টা গল্পের মধ্যে "নেক্সট লাইফ" "শিল্পপতি রফিকুল ইসলামের সাথে একান্ত আলাপ" "সবুজ স্যুপ" এবং "স্যালম্যান্ডার জীন" এই ৪টা গল্পকে আমার কাছে চলনসই মনে হয়েছে। নেক্সট লাইফ গল্পটা হাল আমলের মেটাভার্স দুনিয়ার মতো কিছু একটা, যে কারনে গল্পটা বেশ রিলেটেবল ছিলো, এবং বলা যায় বইয়ের একমাত্র ভালো গল্প। যদিও এটার পরিব্যপ্তি আরো বিশালাকার হলে বেশ জমতো বলে মনে হয়। এরপরেই থাকবে "স্যালম্যান্ডার জীন", কিছু হিউমেরাস অংশ ছিলো বইয়ের। বাকী দুইটা গল্প প্রবল প্রেডিক্টেবল হলেও মোটামুটি লেগেছে। এছাড়া বাকী আর একটা গল্পও আমার কাছে মনে ধরার মতো মনে হয়নি। " চিড়িয়াখানার কর্মী" গল্পটা তো পুরা মাথার উপর দিয়ে গেছে 🐸। ডাঃ কিজিল কে জাফর ইকবালের তৈরী বিজ্ঞানী সফদর আলীর "ডার্ক" ভার্সন মনে হয়েছে। গল্পগুলোর মাঝে গভীরতার অভাব ছিলো স্পষ্ট। ভালো লাগেনি ওভারঅল। আমার মনে হয় ছোটো গল্পেও আরেকটু ডিটেইলস থাকলে মেবি ভালো লাগতো আমার।
#প্রোডাকশনঃ টিপিক্যাল বাতিঘরের প্রোডাকশন। তবে এই বইতে তূলনামূলক ভাবে বানান ভুল ছিলো না বললেই চলে। বাইন্ডিংস পেইজ কোয়ালিটি মানানসই। প্রচ্ছদটাও মোটামুটি মানের।
#রেটিংঃ ০৩/১০ (অনেক এক্সপেকটেশন নিয়ে শুরু করার কারনে বেশ বড়সড় ধাক্কা খেয়েছি। দোষটা লেখকের নাকী আমার সেটাই বুঝতেছি না)
#পরিশিষ্টঃ এর আগে থ্রিল এক্সপ্রেস, এবার এইটা। নাহ, দেশীয় কোনো মৌলিক গল্প সংকলন আপাতত সহজে আর কিনছি না। আগে পড়ে দেখবো প্রয়োজনে ভাই বেরাদারের কাছ থেকে নিয়ে। এরপর ভালো লাগলে কালেক্ট করবো। আর লেখকের কাছে অনুরোধ সময়টা না হয় মারুফ রুমীর পরবর্তী বইয়েই দেন 😊।
আগের বইটা (ডক্টর কিজিল) প্রত্যাশার পারদ অনেক উপরে নিয়ে গিয়েছিল। এই বইটা সেটা কিছুটা নামিয়ে আনলো। এবার গল্পে বৈচিত্র্য এবং চমক দুটিই কিছুটা কম পেয়েছি। তবুও লেখকের প্রতি শুভকামনা, পরবর্তী বইটা আরো ভালো হবে আশা করি। প্রচ্ছদটাও খুব একটা ভালো লাগেনি, নামলিপিটা প্রচ্ছদের অনেক উপরে চলে গেছে, আরেকটু নিচে হলে দৃষ্টিকটু লাগতো না।
১১ টি সায়েন্স ফিকশন নিয়ে কিজিল সিরিজের দ্বিতীয় বই। প্রথম বইটি না পড়া থাকলেও এই বইটি পড়তে তেমন কোন সমস্যা হয় নি, বরং ডা. কিজিল পড়ার ইচ্ছা আরো বেড়ে গেল। আশা করি ভবিষ্যতে কিজিলকে নিয়ে আরও বড় উপন্যাস আসবে।
কিছু তিক্ত অভিজ্ঞতার কারণে আমি নতুন বা তরুণ লেখকদের বই এড়িয়ে যাই। এই বইটি আজকে হাতে নিয়ে একদম নতুন হাওয়া পাই। লেখায় টান ধরে রাখে এবং অত্যন্ত সাবলীল। সহজ, সুন্দর এবং একই সাথে পড়ার আগ্রহ জাগিয়ে রাখার মতো এই বইয়ের প্রতিটি কল্পকাহিনী। সত্যি খুব ভালো লেগেছে।
বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনীর একটা বিষয় হলো কিছু গল্প পুরাই মাথার উপ্রে দিয়া যায়। এমন একটা গল্প আছেও।তখন খুব মনে হয়েছে এই জনরায় আবোল তাবোল ভুগুচুগি লিখে দিলেই ওটাই কল্পকাহিনী। তবে হালি খানেক গল্প খুব উপভোগও করেছি যেমন ঘাবড়াস না, সবুজ স্যুপ, সার্কাস ১%২, কিজিল আর গিলগামেশ।
বেশ ভালো গল্প। কিশোর উপযোগী মূলত। কিজিল চরিত্রটা সম্ভবত প্রফেসর শঙ্কু থেকে অনুপ্রাণিত, অনুকরণ নয় অবশ্য। অধিকাংশ গল্পই ভালো লেগেছে। তেমন ঘোরপ্যাচ নেই, সহজভাবে লেখা, তাই যে কেউ পড়তে পারবেন।