৩. 'কেটে যাক অন্ধকার'
প্রথম দুইটা বইয়ের ক্ষেত্রে যেমনটা বলেছিলাম, আপনাকে অনেক প্রশ্ন আর অনেক অতিপ্রাকৃত কোনো একটা কিছুর মুখোমুখি হতে হবে!
অন্ধকার ট্রিলজির শেষ বই কেটে যাক অন্ধকারেও যেমন অনেক প্রশ্নের উত্তর জানবেন, তেমনই আরও অনেক প্রশ্ন নতুন জন্ম নিবে!
আটাশ বছর আগে কী এমন ঘটেছিল যার জন্য অশুভ এক শক্তিকে বিনাশ করতে গিয়ে মৃত্যু হয় রফিক শিকদার এর দাদা রফিক মাহাই শিকদার এর!
কিন্তু ঘটনা তখনও ঘটে চলেছে!
এবার নতুন কোনো চক্রান্ত শুরু করতেই যেন এদিকে ঢাকার এক পরিত্যক্ত শেওলা ধরা বাড়িতে আস্তানা গেড়েছে এক অদ্ভুত লোক! কী তার পরিচয়?
বন্ধুর হত্যার প্রতিশোধ নিতে টিভি রিপোর্টার নাফিস কী এমন খুঁজে পেল, যা তার বিশ্বাসের সব ভিত নাড়িয়ে দিয়েছে?
কেনই মানুষের ক্ষত বিক্ষত লাশ পাওয়া যাচ্ছে?
সে কি সেই অপশক্তি, যে চৌদ্দ বছর পর পর বেরিয়ে আসে প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য? কেন?
অন্যদিকে জমজ তিনভাই এর জীবনে কী ঘটেছিল?
তাদের বেঁচে থাকার লড়াই কেমন? প্রতিবার কেউ যখন কোনো অপশক্তির হাত থেকে কোনোভাবে বেঁচে ফেরে তখন কি আস্তে আস্তে কিছু শক্তি তার ভিতরেও জমা হয়?
কিন্তু রফিক শিকদারের মনে অনেক প্রশ্ন!
সেই সাথে প্রশ্ন আমরা যারা বইটা পড়ছি তাদেরও!
অদ্ভুত সব রহস্য দেখা দিচ্ছে তার চারপাশে। অতীত-বর্তমান-ভবিষ্যতের কোন যোগসূত্র রফিক শিকদারকে টেনে এনেছে এখানে, তার দাদার মাজারে?
রফিক শিকদার যেন এসব ঘটনাচক্রে পড়ে হিসাব মেলাতে পারছে না
তার জীবনে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলো কি সব একসূত্রে গাঁথা?
সব বিপত্তি পেরিয়ে মায়াবাঘ এর আক্রমণের জবাব খুঁজতে রফিক ছুটে যায় সুন্দরবনে!
ওদিকে রাজশাহীর নদীর তীরে একের পর এক মানুষ, পশুপাখি হারিয়ে যাচ্ছে। যেন অদৃশ্য কিছু মাংসাশী প্রাণী একে একে সবাইকে খেয়ে ফেলছে!
সত্য-কলামেও একে একে প্রকাশিত হচ্ছে ঘটে যাওয়া বিভিন্ন নারকীয় ঘটনা। এদের পিছনে কারা আছে? কী-ই বা তাদের উদ্দেশ্য? কী-ই বা তাদের পরিচয়?
মায়াবাঘের আক্রমণে সাফওয়াত হাসপাতালে, আইরিনের ভাবনায় আগামী দিনে বেঁচে থাকার প্রচেষ্টা। আবার পুরনো দিনের অতীত ছেড়ে রফিক শিকদারের কাছে হাজির হয়েছে মৃত্তিকা! কেন?
আর এসব বেঁচে থাকার ইচ্ছেগুলোকে বিফল করতেই যেন নরক থেকে হাজির হয়েছে সেই প্রাচীণ অভিশাপ, যার কারণে প্রাণ হারাতে হয়েছিল অতীতের সেই রফিক শিকদারকে!
সত্যিই কি তাই?
না কি সবকিছুর পিছনে অন্য কিছু সুযোগ খুঁজছে?
রফিক শিকদারের জীবনে ঘটে যাওয়া এসব ঘটনা এবং প্রতিটা ঘটনার কারণ না মেলানো পর্যন্ত আপনি থামতে পারবেন না।
বইয়ের প্রতিটা ঘটনাই জটিল জটিল সব রহস্য দিয়ে ঘেরা। আর রফিক শিকদার এর মতো আপনিও ছুটবেন সেই রহস্য উদঘাটনে। কখনো তান্ত্রিক সোমরাখার পিছনে, কখনো মায়াবাঘের পিছনে, কখনো রক্তচোষা কোনো প্রাণীর পিছনে।
আমরা যেমনটা মাঝে মাঝে শুনি বা দেখি, বিভিন্ন জায়গায় ঘটে যাওয়া কোনো বিশ্বাস, সেসব বিশ্বাস এক চমৎকার বর্ণনার মাধ্যমে উঠে এসেছে।
আর আপনার কখনোই মনে হবে না, বইটা পড়ে আমার সময় নষ্ট হয়েছে। গা হিম করা অনেক অতিপ্রাকৃত ঘটনাই আপনাকে ভাবতে বাধ্য করবে, প্রকৃতির রহস্যময়তা কত গভীর!
#নিজের_কিছু_কথা
এসব অতিপ্রাকৃত, হরর গল্প পড়ার জন্য আমার বরাবরই টানটা অনেক৷ আর এই গল্পগুলো পড়ে আমি সর্বোচ্চ মজা নেওয়ার চেষ্টা করি রাতে!
লেখক বাপ্পী খান অনেক চমৎকার করে এসব গল্প বলে গেছেন, এবং এর প্রতিটা রহস্য আপনাকেই রফিক শিকদার হয়ে উন্মোচন করতে হবে!
অতিপ্রাকৃত ঘটনা, বন-জঙ্গল, পাহাড়, ঝর্ণা, সুন্দরবন সবকিছু মিলিয়ে সিরিজটা দারুণ হয়েছে। তবে আমার মনে হয়, সামনেও রফিক শিকদার এর নতুন কোনো কাহিনী আসতে পারে!