শিক কাবাব, ঢাকাই পরোটা, মুরগী মুসল্লম, আলু গোস্ত, মাংসের কোরমা, পেঁয়াজ-ঘিয়ে দুম্বার মাংস, বোম্বাই সাইজ শামী কাবাব, কোফতা-পোলাও, আস্ত মুরগি রোস্ট... দাঁড়ান, দাঁড়ান! ভাববেন না খাবারের রেসিপি লিখতে বসেছি। এটা শতভাগ বইয়ের রিভিউ। কিন্তু বইটা পড়তে গিয়ে এরকম অসংখ্য খাবারের নাম বারবার সামনে এসেছে। মনোযোগ দিয়ে পড়ার সময় যদি এমন সব খাবারের বর্ণনা চোখে পড়ে, কেমন লাগে বলুন! পেটটা কি খিদেয় মোচড় দিয়ে ওঠে না? আমার বেলায় তো পেটে ইঁদুরের লাফালাফি শুরু হয়েছিল! তবে সত্যি বলতে কী, বইয়ের সবকিছুই ভীষণ উপভোগ্য ছিল। পড়তে কোনো অসুবিধা হয়নি। বরং নেহারিতে থাকা অমৃত সমান মজ্জারসের মতো গিলে-শুষে খেয়েছি প্রতিটি পৃষ্ঠা।
রম্য সাহিত্যের এক উজ্জ্বল নক্ষত্রের নাম সৈয়দ মুজতবা আলী। তার লেখা ‘দেশে বিদেশে’ বইটি বাংলা ভাষার অন্যতম জনপ্রিয় ভ্রমণ কাহিনি, যা ১৯২৭ থেকে ১৯২৯ সালের আফগানিস্তান ভ্রমণের উপর রচিত। এ বইটিকে বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক ভ্রমণ কাহিনি হিসেবে গণ্য করা হয়। আজ পর্যন্ত বাংলা সাহিত্যে অন্য কোনো ভ্রমণ কাহিনি এর মতো এতটা জনপ্রিয়তা অর্জন করতে পারেনি।
সৈয়দ মুজতবা আলী মাত্র তেইশ বছর বয়সে শান্তি নিকেতন থেকে পড়াশোনা শেষ করেন। এরপর তিনি আফগানিস্তানের কাবুল কৃষি কলেজে ইংরেজি এবং ফারসী ভাষার শিক্ষক হিসেবে শুরু করেন কর্মজীবন। তার স্বপ্ন- কাবুলে অধ্যাপনা করে যে অর্থ সঞ্চয় হবে, পরবর্তীতে সেটা ব্যবহার করে উচ্চতর শিক্ষার জন্য জার্মানি যাবেন। দুচোখ ভরা স্বপ্ন নিয়ে এক বাঙালি যুবকের পশ্চিম ভারত থেকে আফগানিস্তান যাত্রাকালের স্মৃতি বিজড়িত, অভিজ্ঞতাপূর্ণ, জীবন গল্পের লিপিবদ্ধ রূপ ‘দেশে বিদেশে’।
কলকাতা হতে পেশাওয়ার, খাইবার পাস হয়ে জালালাবাদ, কাবুল যাত্রা এবং কাবুলে শিক্ষকতা কালীন সময়ের জীবন-যাপন নিয়েই মূল কাহিনি আবর্তিত হয়েছে। লেখকের যাত্রাপথের অভিজ্ঞতা, স্থানীয় ইতিহাস ঐতিহ্য এবং কাবুলের স্মৃতিকথা- এই তিনটি বিষয়ের উপর পুরো বইটি রচিত।
হাওড়া স্টেশন থেকে রেলগাড়িতে চড়ে পেশাওয়ার পথের যাত্রা কাহিনি দিয়ে গল্প শুরু। হাস্যরসপ্রিয় তরুণ লেখক একের পর এক বর্ণনা দিয়ে যাচ্ছেন। স্থান, কাল, পাত্র কিচ্ছু বাদ যাওয়ার জো নেই। এর মাঝেই এক বিলেতি সাহেবের কাছ থেকে ভোজের নেমন্তন্ন। বাঙালি হিসেবে লেখকও কম যান না। নিজের খাবার নিয়ে মিলেমিশে খেতে বসলেন। বাকি পথে সফর সঙ্গী হলেন এক সর্দারজিসহ বেশ কয়েকজন পাঠান। শুরু হলো আড্ডা। দুনিয়ার নানান গল্প পাঠানদের ঝুলিতে। অদ্ভুত সেই গল্পের সত্য-মিথ্যা নিয়ে লেখক যখন সন্দিহান, তখন সর্দারজি দারুণ এক উদাহরণ টেনে বললেন- “গভীর বনে রাজপুত্তুরের সঙ্গে বাঘের দেখা। বাঘ বলল, আমি তোমাকে খাবো। এ হলো গল্প। তাই বলে বাঘ মানুষ খায় সেও কি মিথ্যা কথা?”
তর্ক-গল্পে লেখক কুপোকাত হলেন। সর্দারজির হাত থেকে রক্ষা পেলেন পেশাওয়ার পৌঁছানোর পর। তবে পাঠান মুলুকে প্রবেশ করে বন্ধুবর শেখ আহমদ আলীর জিম্মায় পড়লেন। দু-তিনদিনের সফর গিয়ে দাঁড়ালো এক সপ্তাহে। কোনোভাবেই আহমদ আলীর আতিথিয়েতা উপেক্ষা করার সুযোগ হলো না। পেশাওয়ার শহর, সেখানকার মানুষ, তাদের ইতিহাস কপচে অষ্টম দিনে মুক্তি মিলল।
কিন্তু লেখকের কপাল বলে কথা! পেশাওয়ার থেকে বন্ধু আহমদ আলী তাকে যে মুড়ির টিনে তুলে দিলেন তার ড্রাইভার ষাটোর্ধ্ব বয়সী এক শিখ সর্দারজি, নাম অমর সিং। জানতে পারলেন, অভিজ্ঞ এই ড্রাইভার সাহেব চোখ বন্ধ অবস্থাতেও কাবুল পর্যন্ত পৌঁছে দেওয়ার ক্ষমতা রাখেন। সমস্যা শুধু একটাই। তিনি রাতকানা মানুষ!
এর পরের যাত্রা রীতিমতো শ্বাসরুদ্ধকর। নুড়ি পাথর, কাঁচা ভাঙা রাস্তা, অসম্ভব গরম, পাহাড় মরুভূমি পেরুনোর যে ভয়ংকর বর্ণনা পাওয়া যায়, তাতে কলিজা শুকিয়ে কাঠ হয়ে আসে। সর্দারজির পাশে কোনোরকমে জান হাতে নিয়ে বসে লেখক যেভাবে খাইবাস পাস এলাকা অতিক্রম করলেন, তা যেন পুলসিরাত পার করার মতো উত্তেজনায় ভরপুর। স্মরণ করিয়ে দিই, যে সময়কার অভিজ্ঞতা-স্মৃতি তুলে ধরা হয়েছে সেটা আজ থেকে প্রায় ৯০ বছর পূর্বেকার।
পেশাওয়ারের সুদীর্ঘ এই যাত্রার প্রথম বিরতি পাওয়া গেল জালালাবাদ পৌঁছানোর খানিক আগে। মরুপ্রান্তরে নিরাপত্তা প্রহরী সজ্জিত বিশাল এক দুর্গের সামনে এসে থামলো গাড়ির চাকা। জানা গেল, পাসপোর্ট না দেখিয়ে দুর্গ অতিক্রমের সুযোগ নেই। কৌতুহল এবং আগ্রহ নিয়ে লেখক সাহেব গাড���ি থেকে নেমে প্রথমে বাঁ পাশের কাবুল নদী দেখে মুগ্ধ হলেন। এরপর দুর্গে ঢুকে কর্মরত অফিসারের ব্যবহার ও আতিথিয়েতায় মুগ্ধ হলেন আরেক দফা। তাদের আলাপচারিতায় বেদনাবিধুর জীবনের কথা উঠে আসে। বিশেষ করে এই অংশটি হৃদয়স্পর্শী-
“আমি (লেখক) আমার ভাঙা ভাঙা ফারসীতে জিজ্ঞাসা করলুম, সঙ্গীহীন জীবন কি কঠিন বোধ হয় না? (অফিসার) বললেন, আমার চাকরী পল্টনের, ইস্তফা দেবার উপায় নেই। কাজেই বাইরের কাবুল নদীটি নিয়ে পড়ে আছি। রোজ সন্ধ্যায় তার পাড়ে গিয়ে বসি আর ভাবি যেন একমাত্র নিতান্ত আমার জন্য সে এই দুর্গের দেয়ালে আঁচল বুলিয়ে চলে গিয়েছে।”
যাত্রাপথে লেখকের বক্তব্যে বিভিন্ন জানা-অজানা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উঠে আসে। সেসময়ে আফগানিস্তানের ইতিহাস তেমন লেখা হয়নি। তাদের প্রাচীন ইতিহাস পোঁতা আছে সে দেশের মাটির তলায় আর ভারতবর্ষের পুরাণ মহাভারতে। আফগানিস্তান গরীব দেশ। ইতিহাস গড়ার জন্য মাটি ভাঙবার ফুরসৎ আফগানদের নেই। মাটি যদি তারা নিতান্তই খোঁড়ে, তবে সেটা কাবুলী মোন্-জো-দড়ো বের করার জন্য, নয়তো কয়লার খনি পাবার আশায়। পুরাণ ঘাঁটাঘাঁটি করার মত পাণ্ডিত্য কাবুলীর তখনো হয়নি।
তাদের পূর্বসূরীদের তথ্য ঘাটতে গেলেও বিপদ। দক্ষিণে (আধুনিক) মধ্য ও দক্ষিণ-আফগানিস্তান তথা পশ্চিম-ভারতের গ্রীক রাজাদের কোনো ভালো বর্ণনা পাবার উপায় নেই। শুধু এক বিষয়ে ঐতিহাসিকের তৃষ্ণা তাঁরা মেটাতে জানেন। কাবুল থেকে ত্রিশ মাইল দূরে বেগ্রাম উপত্যকায় এঁদের তৈরি হাজার হাজার মুদ্রা প্রতি বৎসর মাটির তলা থেকে বেরোয়। খ্রীষ্টপূর্ব ২৬০ থেকে খ্রীষ্টপূর্ব ১২০ রাজ্যকালের ভেতর অন্তত ঊনত্রিশজন রাজা ও তিনজন রানির নামচিহ্নিত মুদ্রা এযাবৎ পাওয়া গেছে। এগুলোর উপরে গ্রীক ও খরোষ্ঠী এবং শেষের দিকের মুদ্রাগুলোর উপরে গ্রীক ও ব্রাহ্মী হরফে লেখা রাজারানির নাম পাওয়া যায়।
ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতির কথা পুরো বইজুড়েই। তবে লেখকের সাবলীল বর্ণনা আর প্রাঞ্জল উপস্থাপনায় সেগুলো পড়তে বেগ পেতে হয় না। সেইসাথে প্রবল রসবোধ আর হাস্যরসাত্মক ঘটনা তো আছেই। বইয়ের চৌদ্দতম অধ্যায় পর্যন্ত ভ্রমণ যাত্রার বর্ণনা পাওয়া যায়। মূলত পনেরোতম অধ্যায় থেকে কাবুলের গল্প শুরু। এখান থেকে বইটিকে আর ভ্রমণকাহিনি মনে হয় না। বরং পরিণত হয় স্মৃতিকথায়। তখনকার মানুষের সামাজিক অবস্থা, অর্থনৈতিক অবস্থা, ধর্মীয় ও রাজনৈতিক অবস্থার বিশদ বিবরণ মেলে। একারণেই হয়তো বইটিকে বলা হয়েছে আফগানিস্তানের লিখিত দলিল।
এবার কাহিনি যত এগোয়, কাবুলের রূপরস ততটাই সুস্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে। আফগানদের জাতি-উপজাতি, সংস্কৃতি, ভূ-প্রকৃতির বর্ণনার পাশাপাশি তাদের জীবন-যাপন, ভাষা, খাদ্যাভাস, ইত্যাদির সঙ্গে পরিচয় মেলে। লেখক যখন ফুল-ফলের বর্ণনা দেন, তার ঘ্রাণও যেন নাকে এসে লাগে। বাংলা, হিন্দি, ইংরেজি, উর্দু, ফার্সী, আরবিসহ যতগুলো ভাষার সাক্ষাৎ পাওয়া যায়; সবগুলোর মাঝে লেখক এক অদ্ভুত মেলবন্ধন তৈরি করেছেন। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম, ওমর খৈয়াম, কবি সাদী, বৈষ্ণব পদাবলীসহ অসংখ্য চেনা-অচেনা ব্যক্তিবর্গের কবিতা, গান, প্রবাদ, বক্তব্যকে প্রাসঙ্গিকভাবে তুলে ধরা হয়েছে।
লেখক কাবুল শহরে দীর্ঘদিন শিক্ষকতা পেশায় নিয়োজিত ছিলেন। যার কারণে বিভিন্ন দেশের শিক্ষক, গভর্নর, ক্ষমতাশীল মানুষদের সঙ্গে তার ওঠা-বসা ছিল। তখনকার শিক্ষা ব্যবস্থার দৃশ্য অতটা সহজ স্বাভাবিক ছিল না। সভ্য দেশের শহরবাসীরা গ্রামের জন্য স্কুল, হাসপাতাল, রাস্তা-ঘাট বানিয়ে দিয়েছিল। কাবুলের গ্রামে সরকারি কোনো প্রতিষ্ঠান নেই বললেই চলে। কতকগুলো ছেলে সকালবেলা গাঁয়ের মসজিদে জড়ো হয়ে গলা ফাটিয়ে আমপারা মুখস্থ করে- এই হলো বিদ্যা চর্চা। তাদের তদারককারী মোল্লাই গাঁয়ের ডাক্তার। অসুখ-বিসুখে তাবিজ-কবচ তিনিই লিখে দেন। ব্যামো শক্ত হলে পানি-পড়ার বন্দোবস্ত করেন আর মরে গেলে তিনিই তাকে নাইয়ে ধুইয়ে কবর দেন। মোল্লার ভরণ-পোষণ করে গাঁয়ের লোকজনই। এই ছিল তখনকার অবস্থা।
আফগানিস্তানের শাসন ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণ করেন রাজা-বাদশারা। ক্ষমতাশীলদের মাঝে দ্বিধা দ্বন্দ্ব লেগেই থাকে সবসময়। লেখকের বর্ণনাতেই সেসময়কার ক্ষমতার পালাবদলের বীভৎস দৃশ্য ফুটে উঠেছে। বাদশাহ হাবিবুল্লাহ, রাজা আমান উল্লাহ, রাজার বড়ভাই মুইন-উস-সুলতান যে যেভাবে পেরেছে ক্ষমতার কলকাঠি নেড়েছে। বিশেষ করে আমান উল্লাহর ইউরোপ ভ্রমণ এবং পরবর্তীতে ইউরোপের আদলে আফগানিস্তান সংস্কার শুরু করলে লেজে-গোবরে অবস্থা তৈরি হয়। তার অদ্ভুত সব নিয়ম-কানুনের কাছে কাবুলের সাধারণ জনগণ অসহায় বোধ করে। সৃষ্টি হয় রাজনৈতিক অস্থিরতা। কাঠের শেষ পেরেক ঠুকে দেয় বাচ্চা নামক ডাকাত সর্দার। তার আকস্মিক আক্রমণে কাবুল শহর লণ্ডভণ্ড হয়ে যায়।
ডাকাতের ক্ষমতার কাছে পরাজিত হয়ে রাজা আমান উল্লাহ পালিয়ে যায়। শাসন ক্ষমতা কিছুদিন মুইন-উস-সুলতান এর উপর সোর্পদ হলেও শেষ পর্যন্ত সেও পালিয়ে যায়। শহরে লুটপাট ও অচলাবস্থা তৈরি হবার পর বিদেশি কূটনৈতিক যারা ছিলেন তারা একে একে দেশ ছাড়েন। কিন্তু দুর্ভাগ্যক্রমে ভারতীয় ও অন্যান্য বিদেশি শিক্ষকেরা আটকা পড়ে যান। এই সময়টাতে তাদের দুঃখ-দুর্দশার অন্ত রইল না। একদিকে যেমন খাদ্য সংকট, অপরদিকে মৃত্যুভয়। এমন দুর্বিষহ অবস্থার ভুক্তভোগী ছিলেন লেখক নিজেও। পরবর্তীতে বহু কষ্টে নিজের দেশে ফেরার সুযোগ পেয়েছিলেন। কিন্তু যে ভ্রমণের শুরুটা হয়েছিল অতি আনন্দে, সেটা শেষ হয়েছে কষ্ট এবং লাঞ্ছনায়।
আফগানিস্তান ও তার শহর কাবুল পর্বের ইতি টানবো একজন বিশেষ ও গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রের পরিচয় দিয়ে। তার নাম আবদুর রহমান। সহজ সরল অথচ শত গুণের অধিকারী এই মানুষটি লেখকের কাবুলে পদার্পণের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পাশে ছিল। বিশালদেহী আবদুর রহমানের উচ্চতা ছ’ফুট চার ইঞ্চি, যা লেখক নিজের হাতে ফিতা দিয়ে মেপে দেখেছেন। রান্নাবান্না, ঘরের কাজকর্মসহ প্রায় সবকিছু দেখাশোনার দায়িত্ব ছিল তার একার কাঁধে। বিনা প্রশ্নে বিনা সঙ্কোচে যেকোনো কাজ সাফল্যের সঙ্গে সম্পাদন করতো। তার কাছে অসাধ্য বলতে কিছুই ছিল না। লেখক তাই প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়ে বলেছেন ‘হরফন-মৌলা’ বা ‘সকল কাজের কাজী’। আবদুর রহমান শুধুমাত্র লেখকের কর্মচারী ছিল না। সে ছিল বন্ধু বা ভাইয়ের সমান। যার হৃদয় বরফের থেকেও শুভ্রতর।
বিশাল এই পৃথিবী অসংখ্য সীমারেখায় বিভক্ত। প্রতিটি সীমারেখার মাঝে আবার অসংখ্য মানুষের বসবাস। জাতিগত, প্রথাগত, সংস্কৃতি, ধর্ম, শিক্ষা-দীক্ষা, আচার ব্যবহার, অভ্যাসে কত শত ভিন্নতা। কিন্তু ভিন্নতার মাঝেও মিল থাকে। থাকাটাই স্বাভাবিক। দিনশেষে আমরা মানুষই তো। তবে ভূ-খণ্ড আর প্রকৃতির যে পরিবর্তন, সেটা মানুষকে এবং তাদের জীবনকে করেছে বৈচিত্রময়, রহস্যময়। সেই রহস্য ও বৈচিত্র কারও নজর এড়ানোর সুযোগ নেই। মানবজীবনে এগুলো এক ধরনের অভিজ্ঞতা। যা জীবনকে পরিণত করে। লেখক তার ভ্রমণ জীবনের এমন অভিজ্ঞতাকে অবহেলায় হারিয়ে যেতে দেননি। বরং যত্নের সঙ্গে লিপিবদ্ধ করেছেন।
সময়, স্থান ও কালের আপন মহিমায় ‘দেশে বিদেশে’ ভ্রমণ কাহিনি হওয়া সত্বেও এটি আফগানিস্তানের লিখিত ইতিহাসের একটি অনবদ্য দলিল হিসেবে মর্যাদা পেয়েছে। লেখকের রম্য রসাত্মক বর্ণনা, পরিচিত কিংবা অপরিচিত মানুষের সাথে রসালাপ, ঘটনার চমৎকার উপস্থাপন, ভ্রমণের সময় বিভিন্ন স্থানের বর্ণনা এবং শেষ পর্যায়ে এসে আফগানিস্তান ছেড়ে আসার করুন স্মৃতি অসাধারণভাবে তুলে ধরা হয়েছে এই ভ্রমণ কাহিনিতে।
সৈয়দ মুজতবা আলী রচিত ‘দেশে বিদেশে’ বাংলা সাহিত্যকে যেমন সমৃদ্ধ করেছে, তেমনি কুঁড়িয়েছে কালজয়ী সাহিত্যের খেতাব। জীবনে একবার হলেও চমৎকার এই বইটি সকলের পড়া উচিত। হ্যাপি রিডিং।
.
বই: দেশে বিদেশে
লেখক: সৈয়দ মুজতবা আ���ী
প্রচ্ছদ: খালেদ চৌধুরী
ধরন: ভ্রমণকাহিনি
প্রকাশনী: স্টুডেন্ট ওয়েজ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২০৮
মলাট মূল্য: ২৫০ টাকা