তালালদের অদ্ভুত ট্রেনটি ছুটছে। গত তেপান্ন বছর ধরে কেবলই ছুটছে। ট্রেনের একটা নামও আছে। বি-১৯৭১।
বি-১৯৭১ এর যাত্রীরা ভুলোমনা। সবকিছু ভুলে বসে থাকে। সওয়ারীদের মত ট্রেনও বিস্মৃতিপরায়ণ। দিক ভুলে যায়। যেখানে সেখানে হারিয়ে যায়। যেদিকে যাওয়ার কথা, সেদিকে না গিয়ে পথ ভুলে চলে যায় অন্য কোথাও। অন্য কোনো জায়গায়। তখন ট্রেনের চালকরা নেমে গন্তব্য ঠিক করে নেন। তাদের গন্তব্য? দখিনের এক জায়গা। যাকে সবাই স্বর্গরাজ্য বলে ডাকে। যেখানে বাহারী রংয়ের মাছ সাঁতরে বেড়ায়। যেখানে অনন্ত সুখ, অনাবিল আনন্দ। পৃথিবী জুড়ে যে আকস্মিক মড়ক নেমে এসেছে, যার জন্য একদল মানুষ বাধ্য হয়ে ট্রেনের যাত্রী হয়েছে, তার ছোঁয়া এখনো স্বর্গরাজ্যে লাগেনি। স্বর্গরাজ্য এখনো মড়ক-মুক্ত।
কিন্তু অর্ধ শতক হয়ে গেলেও স্বর্গরাজ্যে আর পৌছানো যাচ্ছে না। ট্রেনের প্রশাসন বদল হয়। ট্রেনের হর্তাকর্তা বদল হয়। বদল হয় ট্রেনের দিক। উত্তর থেকে দক্ষিণ। পূর্ব থেকে পশ্চিম। কিন্তু স্বর্গরাজ্য তবু রয়ে যায় ধরাছোঁয়ার বাইরে। তবু ট্রেন বারবার হারিয়ে যায়...
তবে কি ইচ্ছে করেই ট্রেন হারিয়ে যাচ্ছে? বারবার দিক বদল করেও কেন গন্তব্যে পৌছানো যাচ্ছে না? সমস্যা তবে কোথায়?
জাহিদ হোসেনের জন্ম সিলেটে, বেড়ে উঠা ঢাকায়। পড়াশোনা করেছেন নর্থসাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ে। পেশায় ব্যাংকার হলেও বইপড়ার প্রতি অসম্ভব ঝোঁক থেকেই লেখালেখিতে আগ্রহ। শুরু অনুবাদ দিয়ে। পরপর দু’টি অনুবাদ প্রকাশিত হয় তার - অ্যাম্বার রুম ও ম্যাক্সিমাম রাইডঃ দ্য অ্যাঞ্জেল এক্সপেরিমেন্ট। তারপর তিনি প্রবেশ করেন মৌলিক লেখালেখির জগতে। মৌলিক থ্রিলার হিসেবে তার প্রথম প্রয়াস ঈশ্বরের মুখোশ যা ২০১৫ সালের একুশে বইমেলায় প্রকাশিত হয়েছিল। তারপর একে একে বের হয় ফিনিক্স, কাদ্যুসেয়াস, একজোড়া চোখ খোঁজে আরেকজোড়া চোখকে, দুধ চা খেয়ে তোকে গুলি করে দেব, গিলগামেশ, নৈর্ঋত, পরশুরামের কঠোর কুঠার, ইথাকা ও স্বর্গরাজ্য। লেখালেখিতে স্বকীয় বৈশিষ্ট্যের জন্য তিনি আলাদা পরিচিতি লাভ করেছেন।
তার প্রকাশিত বই ওপার বাংলাতেও ব্যাপক সমাদৃত ও প্রশংসিত। কলকাতার অভিযান পাবলিশার্স ও বুকিকার্ট থেকে ইতিমধ্যে তার কয়েকটি বইয়ের ভারতীয় সংস্করণ প্রকাশিত হয়ে বেশ জনপ্রিয়তা পেয়েছে।
জাহিদ হোসেনের স্বভাবসুলভ রসবোধ পুরোপুরি অনুপস্থিত। রূপক একেবারেই সরাসরি ব্যবহৃত হয়েছে, আরেকটু প্রচ্ছন্ন হলে ভালো লাগতো। শেষ অংশটা সুন্দর, কিন্তু অনেক বেশি নতুনত্ব আছে বলা যায় না।গল্প খুব দ্রুত এগিয়ে যায়, স্বর্গরাজ্যের দিকে ধেয়ে যাওয়া ট্রেনের মতোই। বইয়ের দৈর্ঘ্য আরো বড় হওয়া উচিত ছিলো।
লেখায় প্রাণ ছিল না। আমারও পড়ায় মন ছিল না। ফলে এক সপ্তাহ লাগিয়ে দিলাম ক্ষুদ্র এই বইখানা পড়তে। Snowpiercer আমার অসম্ভব প্রিয় একটা মুভি। পড়তে গিয়ে বারবার এই মুভির সাথে অজান্তেই তুলনা করে ফেলছিলাম। এবং প্রচন্ড হতাশ হচ্ছিলাম। রুপক জিনিসটা প্রথম দিকে খুব সহজে ধরে ফেলতে পারলেও পরবর্তীতে আর মিল খুঁজে পাইনি। সবকিছু মিলিয়ে গল্পটা জাস্ট ওকে। বুক স্ট্রিটের দুটো মৌলিক পড়লাম (অনামিকা চুপ এবং এইটা), দুটোই আমাকে দুঃখ দিল।
পোস্ট এপোক্যালিপ্টিক পৃথিবী। এক ভয়ংকর ভাইরাসে পৃথিবীর জনসংখ্যা শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে। এর প্রভাবে তাবৎ জীবজন্তু প্রচণ্ড হিংস্র ও মানুষখেকো হয়ে উঠেছে। সভ্যতার ধ্বজাধারী গুটিকতক সম্প্রদায়ের মাঝে একদল মানুষ আশ্রয় নিয়েছে একটি ট্রেনে। ট্রেনটি ছুটে চলছে "স্বর্গরাজ্য" অভিমুখে। গণতান্ত্রিক ধারায় ক্ষমতার পালাবদল হয় ট্রেনে। অক্লান্ত পরিশ্রম করে ট্রেনে বেঁচে থাকে মানুষেরা। মাঝে মাঝে ট্রেন দিকভ্রান্ত হয়ে যায়। ক্ষমতায় থাকা ব্যক্তিরা আশ্বাস দেন ট্রেনকে সঠিক পথে পরিচালিত করে স্বর্গরাজ্যে নিয়ে যাওয়ার।
আমরা এই ট্রেনে সময়ের ক্রমধারার সাথে খুব পরিচিত একটি (বা অনেক) দেশের সাদৃশ্য পাই। যেমন:
"ট্রেন বারবার পথ হারায়। আন্দোলন হয়। বিদ্রোহ হয়। যার গা বেয়ে আসে রক্তক্ষয়ী বা রক্তপাতহীন অভ্যুত্থান। ক্ষমতার হাতবদল হয়। নেতারা হাত মেলান। বামপাশের জন ডানপাশে আসে, ডানপাশের জন যায় বামপাশে। সাদা পরিণত হয় কালোয়, কিংবা কালো রূপান্তরিত হয় সাদায়। কখনো সখনো মাঝখান থেকে ক্ষমতা দখল করে নেয় জলপাই রঙের কেউ। এভাবেই চলছে।"
"ট্রেনে কখনোই ভয় পাওয়ার কিছু থাকে না। আর পরিস্থিতি সবসময় নিয়ন্ত্রণেই থাকে।"
মাঝে মাঝেই হিংস্র শ্বাপদের আঘাতে মারা পড়ে কিছু জলপাই রঙা যোদ্ধা। তাদের জয়ে ট্রেনে ভালো খবর পরিবেশিত হয়।
ট্রেনের মানুষের আরো একটি মহামারীতে আক্রান্ত। স্মৃতিভ্রংশতা। কিছু মনে রাখতে পারে না মানুষ। সরকার প্রণীত কিছু নিয়মকানুন ছাড়া কোনো শিক্ষার ব্যবস্থা নেই ট্রেনে। বই নিষিদ্ধ। ইতিহাস লিপিবদ্ধ করা চরম দণ্ডনীয় অপরাধ। এরই মাঝে বোধোদয় হয় কিছু স্বাধীনচেতা মানুষের। তারা কৌতূহলী। এই কৌতূহল কি তাদের জীবনের প্রকৃত উদ্দেশ্য কী - তা জানতে সাহায্য করবে?
মোটামুটি ভালোই লাগলো।
"ছায়াবাজি পুতুল রূপে বানাইয়া মানুষ। যেমনি নাচাও তেমনি নাচি পুতুলের কি দোষ?"
লিখনশৈলী বলতে কিছুই নাই, জাহিদ হোসেনের বই আর যাইই হোক পড়ে আরাম পাওয়া যায়। এটাতে সেই আরামটাও নাই। টুইস্টগুলা একেবারেই আরোপিত, মানে এমনসব টুইস্ট যা কোনোভাবেই মানানসই নয়। ১৫৮ পেইজের বইতেও রিপিটেশনের আধিক্য চোখে পড়ার মত। একই কথা ঘুরাইয়া ফিরাইয়া বারবার বলা হইছে। বলতে গেলে রাইফেলের ঠা ঠা শব্দ দিয়ে পুরা দুইটা চ্যাপ্টার কাভার করে ফেলছে। এক লাইন পর পর ঠা ঠা ঠা ঠা!! মানে কি এগুলার? বই ছাপাইতে হবে, তাই লিখতে হবে টাইপ চিন্তা থেকে বই লেখার দরকার নাই তো! মনে হচ্ছে ভূমিকায় যেমন বলা হয়েছে, আসলে জোর করে লিখিয়ে নিয়া হয়েছে বইটা।
সুলেখক জাহিদ হোসেনের সম্পূর্ণ নিরীক্ষাধর্মী একটা কাজ স্বর্গরাজ্য। সচরাচর যেমন জাহিদ হোসেনকে আমরা দেখি এই বইয়ে নিজেকে অনেকটাই বদলেছেন তিনি। বইয়ের জনরাও ডিস্টোপিয়ান বা পোস্ট অ্যাপিক্যালিপটিক। অনেকটা রূপকধর্মী। একটা ট্রেনকে রূপক হিসেবে দেখানো হয়েছে একটা দেশের মত করে, যার লক্ষ্য স্বর্গরাজ্যে পৌঁছানো। আদৌ কি পৌঁছাতে পারবে? বইটার শুরু একটু ধীরগতিতে, কিন্তু সময়ের সাথে সাথে গল্প বিল্ডাপের পর গতি বাড়ে, রহস্য। ঘণীভূত হয়। চলতে থাকে ট্রেনযাত্রা। অবশেষে শেষে গিয়ে রহস্যের উন্মোচন ঘটে টুইস্টের মাধ্যমে। শেষে গিয়ে খারাপ লাগবে বইয়ের চরিত্রগুলোর জন্য। কয়েক জায়গায় রিলেট করতে পারবে পাঠক দেশের পরিস্থিতির সাথে। লেখকের জর্জ অরওয়েল বা শহীদুল জহিরকে ট্রিবিউট দেয়ার ধরনটা ভালো লেগেছে।
বোঝাগেছে স্বর্গরাজ্য একটা বিশেষ মোটিভ থেকে লেখা। Snowpiercer ছবি থেকে হেভিলি ইন্সপায়ার্ড এ বইতে একটা ট্রেনে পৃথিবীর শেষ জীবিত কিছু মানুষ যুগের পর যুগ ছুটে চলে এক ইউটোপিয়ান ভূমির খোঁজে। সেই ট্রেন জার্নি, রাজনীতি, প্রমিসডল্যান্ড, বেহাত বিপ্লব, ভুলে যাওয়া ইতিহাস একটা গল্পকে যেন বারবার ইংগিত করে। কিন্তু মেটাফরিক্যাল, স্যাটায়ার, ডিস্টোপিয়ান নানান কিছুই হবার পটেনশিয়াল ছিল যে গল্পটা, সেটা কিভাবে কিভাবে যেন একটা লবণ ছাড়া পানসে ল্যাটকা খিচুড়ির মত লেগেছে। খুব প্রমিজিং স্টার্ট, লেখকও আমার খুব পছন্দের- জাহিদ হোসেন। কিন্তু লেখার ধরণ খুব খটমটে, গোলমেলে লাগলো। মনে হচ্ছিলো অনুবাদ পড়ছি, কোনো ডায়লগের বা বর্ণণার মধ্যেই প্রাণ নেই, যোগাযোগ নেই। গল্পতেও রূপকের পরিমাণ আনফরচুনেটলি খুব সামান্যই ছিল। যেহেতু আমি লেখক জাহিদ হোসেনের রেগুলার পাঠক, সেজন্য পড়তে গিয়ে আমি বলতে পারি এই বইটি প্রোপার এটেনশন পায়নি লেখক থেকে। সবমিলে অনেক অনেকদিন পর একটা বই পড়ার পর হতাশ হওয়ায় একটু আপসেট!
তবে বইতে উল্লেখিত শহীদুল জহিরের একটা রেফারেন্স মাথায় গেঁথে গেছে সারাজীবনের জন্য- "...কেবল বিলাইরা ইচ্ছা করে খেলা ছেড়ে যেতে পারে, ইন্দুররা পারেনা; বিলাই খেলতে চাইলে ইন্দুরকে খেলতে হবে!"
বুকস্ট্রীটের ১০ বই লটের ৪টা মৌলিকের ৪র্থ বইটা পড়লাম আজকে। জাহিদ হোসেন এর ‘স্বর্গরাজ্য’।
বইয়ের প্রেক্ষাপট হিসেবে পোস্ট অ্যাপোক্যালিপ্টিক সেটআপ জিনিসটা কমন হইলেও শু���ুর দিকে গল্পটা খুবই প্রমিসিং এবং ইউনিক মনে হইছে আমার কাছে। গল্পটা এমন যে, এক মহামারীতে পৃথিবী ধ্বংস টংস হয়ে গেছে। যে সালে পৃথিবী ধ্বংস হয়ে গেছে সে সাল থেকে নতুন পৃথিবী শুরু হইছে আর মানুষ মহামারীর সেই সাল থেকে নতুন করে সাল গুনছে। এই সাল গণনাকে বলা হয় মড়কাব্দ। অর্থাৎ মড়কাব্দ ২০ মানে মহামারী শুরু হবার পরের ২০তম বছর। আমাদের গল্পের সময়কাল মড়কাব্দ ৫৩।
যাই হোক, মহামারীর পরে অল্প কিছু মানুষ যারা বেঁচে আছে যারা একটা ট্রেনে আশ্রয় নিয়েছে। ট্রেনে আশ্রয় নিয়েছে কারণ বাইরে পরিস্থিতি শ্বাপদসংকুল, প্রতি পদে পদে ওত পেতে বসে আছে মৃত্যু। ঐ মহামারীর ভাইরাসের প্রভাবে জীব জানোয়ার সব হিংস্র হয়ে গেছে। ট্রেন ছাড়া নিরাপদ কোনো আশ্রয় নাই। এই ট্রেনেই খাওয়া দাওয়া, জন্ম-মৃত্যু সব। এখানে নির্বাচনের মাধ্যমে আসা সরকার আছে, নিরাপত্তাবাহিনী আছে, ইমপোর্ট-এক্সপোর্ট আছে; মোদ্দাকথা ছোটোখাটো একটা দেশ এই ট্রেন। এই ট্রেন ছুটে চলেছে এক ইউটোপিয়ার দিকে যেটার নাম ‘স্বর্গরাজ্য’, যদিও এই ট্রেন, সরকার বা জনগণ কেউ জানে না সেই স্বর্গরাজ্য একচুয়ালি কোথায়। তবু আশা নিয়ে মানুষ বেঁচে আছে যে একদিন সেই স্বর্গরাজ্যে পৌঁছুবে তারা। আশায় আশায় কেটে গেছে ৫৩টা বছর, ট্রেন চলছেই এই ৫৩ বছর ধরে তবু এখনো স্বর্গরাজ্যের দেখা মেলেনি। স্বাভাবিকভাবেই মানুষের প্রশ্ন জাগার কথা, আসলেই কী স্বর্গরাজ্য বলে কিছু আছে? থাকলে এতদিনেও কেন পেল না? আর কোথায়ই বা চলছে তারা? কিন্তু মজার ব্যাপার হচ্ছে এইসব প্রশ্ন মানুষের মনে জাগে না কারণ ট্রেনের মানুষজনের স্মৃতিশক্তি ভয়ানক দুর্বল। কয়েক ঘন্টা আগে কী ঘটেছে সেটা তারা ভুলে যায়। কিন্তু এর মাঝেও কিছু মানুষ থাকে যারা একটু এক্সক্লুসিভ, আমাদের গল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্র, কিশোর বয়সী তালাল তেমনই একজন। তার কৌতূহলী মন জানতে চায় আসলে এখানে হচ্ছেটা কী? তারা কি কোনো গভীর ষড়যন্ত্রের শিকার? ইনফিনিটি সাইনটাই বা কী মিনিং বহন করছে? এই দলে তালাল একা নয়। তার সাথে আছে তার বয়সী ট্রেনের যাত্রী দেগাটি, আফসানে, বেহরামসহ আরো অনেকে ও একজন শিক্ষক অ্যারন স্যার। তারা কি পারবে এসব রহস্যের কূল কিনারা করতে?
দারুণ লাগছে না গল্পের সারসংক্ষেপ জেনে? আমার তো এতটুকু পর্যন্ত পড়ে সুপার এক্সাইটেড লাগছিল। কিন্তু বই শেষ করার পর সবটা জেনে মন ভরেনি। মনে হচ্ছে, খাপছাড়া অনেকগুলো ব্যাপার রয়ে গেছে। জাহিদ হোসেন আমার খুবই পছন্দের একজন লেখক। তার বইয়ের এন্ডিং নিয়ে অনেকের মধ্যে না-পাওয়া থাকলেও (আমারও আছে) তার বইয়ের জন্য আমি মুখিয়ে থাকি। এর একটা বড় কারণ তার ভয়ংকর সুন্দর লিখনসশৈলী। এই বইতে তার সে সুন্দর লিখনশৈলীর একটা বৈশিষ্ট্য ছাড়া আর কিছুই পাইনি। লেখা খারাপ বলছি না, তবে জাহিদ হোসেনীয় ম্যাজিকটা নেই আর কি। আর সেই সাথে বইয়ের শেষে অসংখ্য প্রশ্ন জমেছে। যেমন : ঐ ইনফিনিটি সাইনের ট্রেনে দেয়ার প্রয়োজনীয়তাটা কী? তালালকে নিয়ে প্রশাসন আগেই কেন সিরিয়াস না হয়ে ক্যাওস সৃষ্টি করার সুযোগ দিলো? পৃথিবী পোস্ট অ্যাপোক্যালিপ্টিক হয়ে যাবার পেছনে যে কারণটা দেখানো হইছে সেইটা খুবই খেলো মনে হইছে। এরকম আরো বহু দুর্বল ব্যাপার চোখে পড়ছে। কেন যেন মনে হইছে লেখক গল্পটা যেভাবে লিখতে চাইছেন সেইভাবে লিখতে পারেন নাই। যদিও বইতে প্রচুর রূপক ব্যাপার আছে বাংলাদেশ নিয়ে যেইটা খুবই ইন্টারেস্টিং তবে শুরুটা যেইভাবে হইছিলো মাঝখানটা আর শেষটা সেইভাবে জমাইতে পারলে এই বইটা ‘ক্রীতদাসের হাসি’ টাইপের একটা মাইলস্টোন হয়ে যাইতো বাংলা সাহিত্যে। মাত্র ১৫৮ পেজে শেষ না কইরা যদি এর দুই-তিন গুণ বড় হইতো বইটা তবে হয়তো আরো জমত। একটা সুপার লেভেলের পটেনশিয়াল গল্পের এইরকম দশা দেইখা আমি খানিকটা হতাশই হইছি বলা যায়।
তবে আপনারা যারা পড়ার প্ল্যান রাখছিলেন তারা পইড়া দেখেন। আমি খুবই হালকা টাইপের রিডার, সারফেস লেভেলের লেখাই স্রেফ বুঝতে পারি। ডিপ মিনিং থাকলে যে ধরতে পারি না তা না, তবে খুবই রেয়ার ক্ষেত্রে। বরং আপনে পড়লে আপনার সাথে আলোচনা কইরা আমি যদি কিছু বুঝতে পারি, সেইটা হবে আমার রিয়েল গেইন।
"কেবল বিলাইরা ইচ্ছা করে খেলা ছেড়ে যেতে পারে, ইন্দুররা পারেনা; বিলাই খেলতে চাইলে ইন্দুরকে খেলতে হবে!"--(ইন্দুর-বিলাই খেলা/শহীদুল জহির)
ফ্ল্যাপের লেখাটুকু পড়তেই ক্রিস ইভান্স অভিনিত স্লোপিয়ার্সার সিনেমাটার কথাই মনে পড়েছিল, যাকগে লেখক ভূমিকায় তাই বলে দিয়েছেন। স্লোপিয়ার্সারের মতো অসীম ট্রেন যাত্রা আর রাজনৈতিক অভ্যুত্থানের মিছিলে এই বই। অবশ্য জাদু বাস্তবতার যেদিক, যেমন রূপান্তরিত মানুষ এটা বাদ দিলে হয়তো বইটা সুখপাঠ্য হতো
"কেবল বিলাইরা ইচ্ছা করে খেলা ছেড়ে যেতে পারে, ইন্দুররা পারেনা; বিলাই খেলতে চাইলে ইন্দুরকে খেলতে হবে!"
একটি ট্রেন, বি-১৯৭১, স্বর্গরাজ্যের সন্ধানে ছুটে চলেছে ৫৩ বছর ধরে। ভীষন মড়কে পৃথিবী মানুষের অনুপযুক্ত হয়ে গেছে, বেঁচে থাকা অল্প মানুষ শ্বাপদের হুমকির মুখে টিকে আছে কোনোরকম। ট্রেনে উদ্দেশ্য স্বর্গরাজ্য, যেখানে থাকবে না মড়কের অথবা শ্বাপদের ভয়। কিন্তু ভুলোমনা যাত্রীরা মনে রাখতে পারে না তারা কতকাল ধরে কোন পথে চলেছে, কাদেরকে পথে হারিয়েছে। সেসব মনে করিয়ে দেয় দেয়ালে টাঙানো নির্দেশাবলী, দেয়াল লিখন। তারা জানে, এই ট্রেনযাত্রার পত্তন করেছিলেন যিনি, তিনি ও তাঁর 'সাদা দল' প্রথম সরকার গঠন করে জনতাকে সংহত করেছিলেন। তাঁর রক্ষীবাহিনী মানুষকে নিরাপদ রাখতো বাইরের শ্বাপদের আক্রমণ থেকে। কিন্তু ক্ষমতায় অনিয়মের অভিযোগে রক্ষিবাহিনীর-ই প্রধান ক্ষমতা দখল করেন সরকারকে হঠিয়ে, সরকারে থেকেই তৈরী করেন 'জলপাই দল'। তাঁর সরকারেও দেখা যেয় দুর্নীতি। জনতার চাপের মুখে তাদের জায়গায় উঠে আসে 'সাদা দলের' বিদ্রোহী সদস্যদের গড়ে তোলা 'কালো দল'। ক্ষমতায় পালাবদল চলে, কখনো সাদা, কখনো কালো, মাঝে মাঝে জলপাই। কোনো সরকারপ্রধান ভাবেন পশ্চিমে গেলে স্বর্গরাজ্য মিলবে, কেউ ট্রেনকে চালিত করেন পূবে। বর্তমান সরকারপ্রধান খোদ স্বর্গরাজ্য থেকেই এসেছেন যাত্রীদের উদ্ধার করতে, তাঁর বিশ্বাস, দক্ষিণে গেলে মিলবে কাঙ্ক্ষিত গন্তব্য। এখন ট্রেন সেদিকেই চলেছে।
ট্রেনের যাত্রীদের ভুলোমন। মড়কের ফলে স্মৃতিশক্তি দুর্বল হয়ে পড়েছে সবার। তাদেরকে মনে করিয়ে দেয় দেয়ালের লিখন, নির্দেশিকা। গন্তব্য স্বর্গরাজ্য, অনুসরণীয় যত আইন।
এবার ডিস্টোপিয়া লিখলেন জাহিদ হোসেন, অথবা চেনা যত ডিস্টোপিয়া, সেসবের পুনঃচয়ন করলেন বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে। অরওয়েলের ১৯৮৪, এনিমেল ফার্ম, সত্যজিতের হীরক রাজার দেশে, দ্য ম্যাট্রিক্স ট্রিলজি, এমন সব ডিস্টোপিয়ান ঘরানার গল্পের উপাদানগুলো আমাদের চেনা ইতিহাসের প্রসঙ্গে কেমন হতে পারতো, তা দেখা গেছে স্বর্গরাজ্য-তে।
একটি ধ্বংসপ্র���প্ত পৃথিবী, অনন্তকাল চলতে থাকা এক ট্রেন, এবং ক্ষমতার লড়াইয়ের এক চিত্র—এই তিনটি উপাদান মিলিয়ে লেখক আমাদের উপহার দিয়েছেন এক অসাধারণ রচনা। বইটি শুধুমাত্র একটি কাহিনি নয়, এটি সমাজ, রাজনীতি এবং মানুষের লড়াইয়ের এক জ্বলন্ত প্রতিচ্ছবি। গল্পের প্রেক্ষাপট বিশ্ব ধ্বংস হয়ে গেছে। অল্প কিছু বেঁচে যাওয়া মানুষ একটি বিশাল ট্রেনে বসবাস করে, যা কখনোই থামে না। ট্রেনের বিভিন্ন বগি সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি প্রতিফলিত করে—সামনের দিকের বগিগুলো ক্ষমতাশীলদের জন্য, আর পেছনের বগিগুলো সাধারণ মানুষের, যারা প্রতিদিন দমন-পীড়নের শিকার হয়। খাবার, আশ্রয়, স্বাধীনতা—সবকিছুই শাসকশ্রেণির নিয়ন্ত্রণে। রূপকের ব্যবহার লেখক চমৎকারভাবে ট্রেনটিকে সমাজের প্রতীক হিসেবে ব্যবহার করেছেন। এই ট্রেন যেন এক অদৃশ্য শৃঙ্খলে বাঁধা মানবসভ্যতার প্রতিচ্ছবি। সামনের বগির আরামের জীবন আর পেছনের বগির দুঃসহ বাস্তবতা সমাজের শ্রেণিবিভাজনকে প্রকাশ করে। বইটি যত এগোয়, ততই বোঝা যায়, এটি কোনো সাধারণ কাহিনি নয়, বরং রাজনৈতিক শাসনের বিরুদ্ধে এক শক্তিশালী প্রতিবাদ। বিপ্লব ও ক্ষমতার পরিবর্তন গল্পের মূল চরিত্ররা পেছনের বগির সাধারণ মানুষ, যারা বছরের পর বছর অত্যাচারের শিকার। অবশেষে, তারা বিদ্রোহের পরিকল্পনা করে। বিপ্লবের আগুন জ্বলে ওঠে, রক্ত ঝরে, কিন্তু শেষ পর্যন্ত কি সত্যিকারের পরিবর্তন আসে? না কি ক্ষমতা কেবল এক হাত থেকে আরেক হাতে চলে যায়? লেখক এই প্রশ্নের মধ্য দিয়ে আমাদের বাস্তব দুনিয়ার রাজনীতি ও বিপ্লবের ব্যর্থতাকে তুলে ধরেন। শেষ কথা বইটি কেবলমাত্র একটি থ্রিলার বা সায়েন্স ফিকশন নয়, বরং এটি সমাজ ও রাজনীতির উপর এক গভীর দার্শনিক বিশ্লেষণ। প্রতিটি অধ্যায়ে রূপকের ছোঁয়া, তীব্র রাজনৈতিক বার্তা, এবং ক্ষমতার চক্রের নিষ্ঠুর বাস্তবতা পাঠককে নতুনভাবে ভাবতে বাধ্য করে। যারা গভীর ভাবনাচিন্তার মাধ্যমে বই উপভোগ করতে ভালোবাসেন, তাদের জন্য এটি এক অনন্য অভিজ্ঞতা। বইটি থেকে কিছু উক্তি উল্লেখ না করলেই নয়: "ইতিহাসের সবচেয়ে বড় শিক্ষা হলো যে কেউ ইতিহাস থেকে শিক্ষা নেয় না।" "বিলাই খেলতে চাইলে ইন্দুরদের খেলতে হবেই। এ ছাড়া ইন্দুরদের নিস্তার নেই। ইন্দুররা স্বভাবগতভাবে বোকাচন্দর গোছের। তাদের বোকাচন্দরগিরির কোন সীমা-পরিসীমা নেই। এটা অনন্ত। অসীম।"
বইটা পড়া শেষ হলো। বইয়ের প্লট টা যেভাবে সাজানো হয়েছে এটাকে সম্ভবত রূপকধর্মী জনরা তে ধরা হয়। আবার ডিস্টোপিয়ান ফ্যান্টাসি ও বলা যায়। প্রথমদিকে যদিও স্লো মনে হচ্ছিলো, তবে ৪৫ পৃষ্ঠার পর থেকে কাহিনী বেশ দ্রুত এগিয়ে গেছে।
কাহিনী সংক্ষেপঃ মড়ক নামক এক ভাইরাসের আক্রমণের ফলে বাইরের পৃথিবীর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে মানুষেরা একটা ট্রেনের ভেতরে বসবাস করে। ট্রেনে থাকা প্রত্যেকটা মানুষ গোল্ডফিশ মেমোরি তে আক্রান্ত। তারা কোনো স্মৃতি বেশিদিন মনে রাখতে পারেনা। ট্রেনের গন্তব্য 'স্বর্গরাজ্য' নামক একটা যায়গা। ভিন্ন ভিন্ন সময়ে আসা প্রশাসকেরা জানায় যে তারা স্বর্গরাজ্যের খুব কাছাকাছি আছে, খুব তাড়াতাড়ি সেখানে পৌঁছে যাবে। কিন্তু তাদের কথামতো নির্দিষ্ট সময়ে আর সেখানে পৌঁছানো হয়ে উঠেনা। এভাবে অর্ধ শতকেরও বেশি সময় ধরে ট্রেনটি চলছে। শেষ পর্যন্ত গিয়ে কি হয়, সেটা জানতে পুরো বইটা পড়তে হবে। বইটা পড়া শেষে আমার যেটা মনে হয়েছে, অদ্ভুত সেই ট্রেনটি হলো আমাদের বাংলাদেশ। গোল্ডফিশ মেমোরি তে আক্রান্ত ট্রেনের যাত্রীরা হচ্ছে দেশের সাধারণ জনগণ। রক্ষীদলের সদস্যরা হচ্ছে আইনের সাথে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ। আর প্রধান প্রশাসক, প্রধান চিন্তক, বিরোধীদলীয় প্রধান - তারা হচ্ছে বিভিন্ন সময়ে ক্ষমতায় আসা..... থাক, এটা না বলি। পড়া শেষে নিজেরাই বুঝতে পারবেন।
বইঃ স্বর্গরাজ্য লেখকঃ জাহিদ হোসেন ধরণঃ রূপকধর্মী উপন্যাস পৃষ্ঠা সংখ্যাঃ ১৫৮ প্রচ্ছদঃ মাহাতাব রশীদ, আরহাম হাবীব প্রকাশনীঃ Book Street
জীবনের কিছু সময় থাকে যা ফেরত আনা যায় না। এই বইটিও তেমন ই।
(রিভিউ বলুন আর মতামত পুরোটাই ব্যক্তিগত। তাই নিজ দায়িত্বে পড়ার অনুরোধ রইল।)
কোন এক মহান লেখক সম্ভবত বলেছিলেন, পৃথিবীতে সব লেখা হয়ে গিয়েছে, সব সিনেমা বানানো হয়েছে, এখন সব কিছুর রূপান্তর ঘটে। তবে আমাদের লেখক জাহিদ হোসেন এই কথাকে পরিপূর্ণ ভাবে প্রতিষ্ঠা করেছেন। এটা মানতেই হবে।
উনি বং জং হো স্নোপিয়ার্স মুভি থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে এই গোজামিল লিখেছেন যে বিশ্বাস হয় না। প্রথমে তো ট্রেনের জীবন শুরু হয়। এর টেনে নিয়েছেন রাজনীতি, সেখানে গণতন্ত্র, আবার উচু তলা, নিচু তলা। কি লিখেছেন সেইটা বুঝতে বুঝতে দেখি বই শেষ।
কিন্তু আমার প্রশ্ন দুজন লেখকের কাছে। নাম বলব না, গুডরিডস এই বইয়ের রিভিউ এর নিচে দেখতে পারেন। আপনারা কি বুঝে এই বইকে সর্বোচ্চ রেটিং দিয়েছিলেন। মানে কিছু তো একটা থাকতে হবে। না কাহিনী সামঞ্জস্যতা ছিল না গভীরতা। কোন জনরার সেটাও বোঝার উপায় নেই। না থ্রিলার, না সাই ফাই, না ডিস্টোপিয়ান।
অথচ জাহিদ হোসেন লিখেছেন ফিনিক্স, ঈশ্বরের মুখোশ এক জোড়া চোখ খোজে আরকে জোড়া চোখ এর মত বই। হ্যা এটা সত্য যে সব বই ভাল হবে না। কিন্তু উনি কি কনসেপ্ট দাড় করাতে চেয়েছেন পাঠকের কাছে সেটাই ক্লিয়ার না। যাইহোক বইটা পড়ার চেয়ে বং জং হো এর স্নোপিয়ার্স মুভিটা দেখেন।
যে মেসেজ টা পৌছাতে চেয়েছেন সেটার জন্য দুই দেওয়া। অন্যথায় বলা বাহুল্য যে এই বই জাহিদ ভাই এর সবচেয়ে বাজে বই। কেন কিভাবে কি লিখলেন জানা নাই। বোধয় অভ্যুত্থান পরবর্তী কিছু একটা জোর করে লিখিয়ে নিয়েছে কেও
বইয়ের গল্প সংক্ষেপ পড়েই বিখ্যাত কোরিয়ান পরিচালক বং জুন হো'র মুভি স্নোপিয়ার্সার'র কথা মাথায় ঘুরছিল। ধরেই নিয়েছিলাম লেখক মুভির কাহিনী কপি করে ছেপে দিয়েছেন। কিন্তু বইয়ের ভূমিকায় লেখকের মুভি থেকে অনুপ্রাণি��� হয়ে লেখার স্বীকারোক্তি দেখে ইন্টারেস্ট বেড়ে গিয়েছিলো। কিন্তু বইটা পড়ার পর অনেকটাই আশাহত।
স্নোপিয়ার্সার মুভির মতোই পোস্ট অ্যাপোক্যালিপটিক অ্যাকশন থ্রিলার জনরায় লেখা গল্পে বি-১৯৭১ নামক ট্রেনটি তেপ্পান্ন বছর ধরে ছুটে চলেছে নিরাপদ ভূমি স্বর্গরাজ্যের খোঁজে। কিন্তু ট্রেন আর পৌঁছায় না। এই ট্রেনের মধ্যেই চলে রাজনীতি, আন্দোলন, সরকার বদল ইত্যাদি। গল্পের এঅংশে আমাদের দেশের বিদ্যমান রাজনৈতিক অবস্থার খানিক ছাপ দেখা যায়। পুরো গল্পে ভালো লাগার মধ্যে এটুকুই ভালো লেগেছে। বাকি গল্প পানসে আর প্রেডিক্টেবল।
গল্পের লেখনশৈলী চলে টাইপ। লেখক অনভিজ্ঞ হলে এনিয়ে অভিযোগ থাকতো না। কিন্তু জাহিদ হোসেনের আগের লেখাগুলোতে যে দারুণ লেখনশৈলী দেখেছি, এটাতে তা পুরোপুরি মিসিং। যাইহোক, বইটা এভারেজ টাইপ। একবার পড়লে পড়া যায়। সবশেষে বলি, বুক স্ট্রিটের সম্পাদনা দারুণ। পুরো বইতে ১-২টার বেশি ভুলভ্রান্তি চোখে পড়েনি। আর প্রচ্ছদ তো দুর্দান্ত। তাদের লাস্ট লটের প্রতি বইয়ের প্রচ্ছদ চমৎকার।
পড়ে শেষ করলাম জাহিদ হোসেন ভাইয়ের স্বর্গরাজ্য। এক কথায় বলে দেই, বইটা বুভুক্ষুর মতো পড়ে শেষ করলাম। আমি জানিনা লেখক নিজে বইটিকে কোন জনরায় ফেলেছেন। আমি শুধু জানি বইটি অসাধারণ। রূপক লেখায় এত স্বস্তি পাবো আমি ভেবেছিলাম না। রিভিউ না দেই গল্পের। আমার আপনার জানা গল্প লেখক এমনভাবে লিখেছেন, পড়া শেষ হলে আপনার হাহাকার করে নিজের প্রতি করুণাবোধ হবে৷ এই মাস্টারপিস বইটি কেন পড়েছেন এই জন্য না অবশ্যই। করূণা হবে নিজের অস্তিত্বের জন্য।