Jump to ratings and reviews
Rate this book

নিদ্রিত নগরী

Rate this book
লাহোরি বাবু একজন মনোরোগ বিশেষজ্ঞ। তিনি নিয়ম করে সপ্তাহে দুইদিন চরে এবং বাকী দিনগুলি শহরে কাটান। তার একমাত্র সঙ্গী রহমত মিয়া। চরে তৈরি করা নিজের চৌচালা ঘরের বারান্দায় বসে মধ্যদুপুরের রোদ গায়ে মেখে হুক্কা টানার ভেতরে তিনি এক পরম তৃপ্তি অনুভব করেন।
একদিন রাবেয়া নামের এক ক্লায়েন্ট লাহোরি বাবুকে নিজের স্বপ্ন নিয়ে জানায়। স্বপ্নে সে এক কিশোরী মেয়ের লাশ দেখে। একেক রাতে একেক ভাবে ঐ মেয়ে নিজেকে রাবেয়ার স্বপ্নে মেরে ফেলে। যত দিন যায় স্বপ্নগুলি তত ভয়ানক রূপ নিতে শুরু করে। অন্যদিকে, রুমা নামের ভার্সিটি পড়ুয়া এক রমনীর সাথে লাহোরির পরিচয় হয়। এক পর্যায়ে দেখা যায়, রাবেয়ার স্বপ্নে দেখা মেয়েটার সাথে রুমার চেহারা হুবুহু মিলে যাচ্ছে। কিন্তু কীভাবে? দুইজন মানুষ কোন রকম পূর্ব পরিচিতি ছাড়া কেন স্বপ্নে একজন অপরজনকে দেখবে, তাও আবার মৃত্যুর পরের দশায়?

103 pages, Hardcover

Published January 26, 2025

Loading...
Loading...

About the author

Ratings & Reviews

What do you think?
Rate this book

Friends & Following

Create a free account to discover what your friends think of this book!

Community Reviews

5 stars
14 (31%)
4 stars
12 (27%)
3 stars
11 (25%)
2 stars
3 (6%)
1 star
4 (9%)
Displaying 1 - 17 of 17 reviews
Profile Image for Harun Ahmed.
1,773 reviews524 followers
March 12, 2025
চরিত্র ও প্লট দেখে প্রথমেই অনিবার্যভাবে মিসির আলীর কথা মনে পড়ে। কিন্তু লেখক হুমায়ূন আহমেদের পথে হাঁটেননি। মূল ঘটনার পাশাপাশি রহমত মিয়ার সাথে লাহোরি বাবুর মুখরোচক সব খাবার নিয়ে আলাপ, স্বপ্নের বিভিন্ন ব্যাখ্যা, ইসলাম ধর্ম ও হিন্দুধর্মে স্বপ্নের প্রকারভেদ পড়তে ভালো লাগে। কিছু জায়গার বর্ণনা আরো যুক্তিযুক্ত হতে পারতো। যেমন - রাবেয়া লাহোরি বাবুর সাথে দেখা করতে নির্জন চরে রাতে একা চলে আসে, দিব্যি স্বাভাবিকভাবে। বাংলাদেশের সামাজিক প্রেক্ষাপট বিবেচনায় এটা খটকা লাগার মতো।দৃশ্য থেকে দৃশ্যান্তরে যাওয়ার সময়  আরেকটু সময় নেওয়া যেতো।
গল্পের শেষে বড়সড় চমক আছে। কিন্তু যে আবেদন সৃষ্টি হওয়ার কথা তা পুরোপুরি  হয় না, কিছু জায়গায় খটকা থেকে যায় ও অবিশ্বাস্য মনে হয় (লেখকের ব্যাখ্যা অবশ্য সন্তোষজনক)। পড়তে ভালো লাগে। ক্লাইম্যাক্সের পরের অংশটুকু বাড়তি মনে হয়েছে। পাঠকের মনোযোগ ধরে রাখার ব্যাপারে হাসিন ইশরাক বেশ সফল। কোনো বিরক্তি না নিয়ে একটানা বইটা পড়ে ফেলা যায়।
সব মিলিয়ে লেখককে প্রতিশ্রুতিশীল মনে হয়েছে। তার জন্য শুভকামনা।
Profile Image for Ishraque Aornob.
Author 29 books417 followers
April 24, 2025
নবীন লেখক হাসিন ইশরাকের বই নিদ্রিত নগরী। কাহিনী সংক্ষেপ পড়ে ইন্টেরেস্টিং লেগেছিল বলে বইটা হাতে তুলে নেয়া। তবে সত্যি বলতে যতটা এক্সপেক্টেশন নিয়ে শুরু করেছিলাম সেটার সিকিভাগও মিললো না। গল্পের প্লট অবশ্যই আগ্রহ জাগানিয়া। তবে এক্সিকিউশনটা আসলে জমেনি। সেইসাথে লেখনশৈলীতেও আড়ষ্ট ভাব আছে। সাইকোলজিক্যাল টার্মস ও থিওরিগুলো পড়ার সময় মনে হচ্ছিল উইকিপিডিয়া থেকে পড়ছি। মনোবিদ লাহোরি চরিত্রটা আগ্রহ জাগানিয়া অবশ্যই, কিন্তু মিসির আলির ছাপ লেখক এড়িয়ে যেতে পারেননি।
তবে গল্পের বিল্ডআপ আরেকটু ভালোভাবে করতে পারলে লেখাটা জমে যেত। টুইস্টটা বেশ ভালো, ধরতে পারিনি, না পারার কারণ এটা হুট করেই নাজিল হয়েছে। আরেকটু ফোরশ্যাডো থাকলে ভালো হত।
লেখকের জন্য শুভকামনা। আশা করি, পরের কাজগুলো ভালো হবে।
২.৫/৫
Profile Image for তান জীম.
Author 5 books294 followers
June 23, 2025
২০২৫ সালে আমার পড়া দুর্বল বইগুলোর মাঝে একটা। আমি তো বইটার দুর্বল দিক নিয়া কথা বলছিই তবে সেরা রিভিউ দিছিল আকাশ ভাই। তবে এই বইটা যথেষ্ট হাইপ পাইছে। আসলে ট্যাকা খরচ করলে সবই সম্ভব।
Profile Image for Minhaz.
47 reviews
March 31, 2025
অমর একুশে বইমেলা ২০২৫ এর
আরেকটি নতূন বই 'নিদ্রিত নগরী',
জন্রার বিচারে থ্রিলারের কাতারেই পড়ে।

এই বই এর নামটা খুব সুন্দর। গল্প শুরু হয়
লাহোরি বাবুকে দিয়ে, যিনি পেশায় একজন
সাইক্রিয়াটিস্ট। মাঝেমধ্যে ক্লাসও নিয়ে থাকেন।
(মিসির আলি একটা ভাইব পাচ্ছিলাম শুরুতে।)
লাহোরি বাবুর একটা নতূন কেস নিয়ে প্লট সাজানো।
গল্পের আরো প্রধান চরিত্রগুলোর মধ্যে রাবেয়া, রহমত
মিয়া আর রুমা উল্লেখযোগ্য।

গল্পের প্লট সরলরৈখিক হলেও বিভিন্ন
জায়গায় কাঁচা হাতের উপস্থিতি লক্ষ্যনীয়।
তাড়াহুড়ো করে শেষ করার একটা প্রবণতা এইখানে
লক্ষ্যনীয়। গল্পের গঠন সুন্দর ও সহজ। তবে
অতিমাত্রায় নাটকীয় করতে গিয়ে শেষটা কেমন যেন
খাপছাড়া লেগেছে।

হ্যাপি রিডিং 🍁
Profile Image for musarboijatra  .
307 reviews419 followers
February 18, 2025
কোনোপ্রকার পূর্ব-পরিচয়হীন দু'জন মানুষ কি একে অন্যকে কখনো স্বপ্নে দেখতে পারে? তাও, অন্যজনের মৃত্যুর পরের অবস্থায়?

লাহোরিবাবু সাইকিয়াট্রিস্ট। মেডিকেল কলেজে পড়ান, পার্টটাইম রোগী দেখেন। কখনো রোগী দেখতে এদিক-ওদিক যেতে হয়, আবার কখনো নতুন কোথাও যাবার সূত্রেই কেইস এসে ধরা দেয় হাতে। আপাতদৃষ্টিতে অতিপ্রাকৃতঘটিত অনেক সমস্যার বিজ্ঞানসম্মত ব্যাখ্যা থাকতে পার���... তবে অনেক ক্ষেত্রে তারা যুক্তির সীমা অতিক্রম করে যায়, ধন্দে ফেলে দেয়।

কী, মিসির আলী'র টেমপ্লেট মনে হলো তো?

রোসো। আমারও শুরুতে তা-ই মনে হয়েছিল। নিদ্রিত নগরী-তে লেখক আগাগোড়া সন্ধান করেছেন স্বপ্ন ধারণা'র। এবং যথারীতি তাঁর প্রটাগনিস্ট লাহোরিবাবু মূলত স্বপ্ন নিয়ে পড়ান, অথবা পড়াতে দেখা যায় ক্লাসে। বিভিন্ন ধর্মে এবং বিশেষজ্ঞের তত্ত্বে স্বপ্নকে যেভাবে বুঝতে চাওয়া হয়েছে, উপস্থাপন করা হয়েছে, সেসব যেমন আলোচনায় প্রাসঙ্গিক হয়ে আসে, তেমনি আসে রাশান স্লিপ এক্সপেরিমেন্টের মতো স্বপ্ন নিয়ে করা ভয়ঙ্কর হিউমেন এক্সপেরিমেন্টের আলাপ। সপ্তাহে ক্লাস নেওয়া ছাড়া লাহোরিবাবুর একটামাত্র সুখ, ভবের চরে নিভৃতে সময় পার করা। তাঁর চাকর রহমত মিয়া যেমন একনিষ্ঠ শ্রোতা, তেমনি পাকা রাঁধুনি। ভবের চরে বাড়ির দাওয়ায় হুক্কা হাতে বসে কখনো কেস স্টাডি কখনো জনশ্রুতির বিনিময়, আর সাথে রহমত মিয়া'র হাতের রান্না'র উল্লেখ বেশ একটা আমেজ তৈরী করে। এর মাঝেই ছন্দপতন হয়ে আসে রাবেয়া।

লাহোরিবাবুর ক্লাস লেকচার, কেস স্টাডি, গ্রামীণ লোকগল্প মিলে পুরোটা উপন্যাসে যে দৈনন্দিন চিত্র, তা কয়েকটা ছোটগল্প সামনে এনে দিয়েছে। এর মাঝে প্রথম থেকে শেষ অব্দি রাবেয়া'র কেস-টা সেন্ট্রাল কনফ্লিক্ট। গল্পের মূল সুতা। এর সমাধানেই শেষ অব্দি এগোতে হবে লাহোরি'র সাথে।

রাবেয়া, স্বামী-সন্তান নিয়ে সুখী। বিপত্তি হয়ে আসে তার কিছুদিনকার ইনসমনিয়া, আর একটা অদ্ভুত স্বপ্ন। প্রতিদিন, একই মানুষকে মারা যেতে দেখে রাবেয়া। একই মানুষ, তার স্বপ্নে এসে নিজেকে হত্যা করে। সে কে, আদৌ বাস্তব কি না, তার সাথে রাবেয়ার জীবনের মানুষদের সম্পর্ক আছে কি না, এমন প্রশ্নে এলোমেলো হয়ে যায় তার জীবন। ধীরে ধীরে হারাতে থাকে মানসিক স্থিতি। তা স্বপ্ন ছাড়িয়ে বাস্তবতা-ও আচ্ছন্ন করতে থাকে তার। লাহোরিবাবুর হাতে সময় কম, এবং কোনো পরিচিত ছকে ফেলা যাচ্ছে না এবারের কেইস-কে।

হাসিন ইশরাক প্রথম মৌলিক উপন্যাসে প্লট নিয়ে প্রচুর খেলেছেন। তারচে বেশি খেলেছেন পাঠকের মগজ নিয়ে। বইয়ের ভালোলাগার দিকগুলো বলতেই পারবো না, কারণ যে ধারণা নিয়ে গল্পের চরিত্রদের সাথে যুক্ত হয়েছিলাম, তা উলটো ঘুরে গেছে শেষদিকে এসে... আর সেসবের সূত্র লেখক ফেলে এসেছিলেন এখানে-ওখানে। অর্থাৎ ফোরশ্যাডোইং। ফোরড্যাডো করতে হলে যেমন আগে থেকে ছক কষতে হয় গল্পের, তেমনি সূত্রটা গেঁথে দিতে হয় পাঠকের মনে। এই কাজে লেখক এখনো পুরো দক্ষ হয়ে ওঠেননি, তবে তার সূত্রগুলোতে একটা অস্বস্তির জন্ম দিয়ে শেষে এসে মিলিয়ে দিয়েছেন ভালো।

পারিপার্শ্ব (ambience) নির্মাণে একপ্রকার ভালো কাজ করেছেন লেখক, এবং সেটা জুড়ে দিয়েছেন চরিত্র নির্মাণের সাথে। এভাবেই প্রটাগনিস্ট, পার্শ্ব চরিত্র, অন্যান্য চরিত্রদের জীবনের প্রতিদিনের ছবি ফুটে ওঠে গল্পের মাঝে দিয়ে। লাহোরিবাবুর চরিত্রের অধিকাংশটাই নির্মাণ হয়েছে মনোলগের মাধ্যমে, রহমতকে শোনানো তাঁর গল্প আর ক্লাসের লেকচারগুলো দিয়ে। অন্যদিকে রাবেয়া চরিত্রটাকে কথকের বর্ণনায় চিনতে হয়, আর রহমত-এর মতো চরিত্রগুলো পুরোপুরি পারিপার্শ্বিক বর্ণনার মাঝে গড়ে উঠেছে।

পরিস্থিতি নির্মাণ আর পারিপার্শ্বিকের বর্ণনা আরেকটা বিষয়কে জ্যান্ত করে তুলেছে, দুটা সমান্তরাল গল্পের মিলিত পরিণতি। খুব ইম্প্রেসিভ একটা পরিণতি হতে পারতো, কিন্তু এই জায়গায় লেখকের দুর্বলতা মনে হয়েছে একটা ন্যারেটিভ বা গল্পকে প্রতিষ্ঠিত করতে গিয়ে অপর গল্পটাকে অযত্নে গড়ে তোলা।

*spoiler STARTS here*
রাবেয়া আর রুমা, দুটা সমান্তরাল গল্প, যার যোগসূত্র লাহোরি। প্রটাগনিস্ট জীবনের দুই পর্যায়ে তাঁর জীবনের আলাদা দুই গল্পকে এক জায়গায় আনতে চেয়েছেন সাইকোলজিকাল ম্যানিপুলেশন দিয়ে, এবং তা আনতে সক্ষম হয়েছিলেন। এবং শেষ দৃশ্যে এই দুই কাহিনীপ্রবাহ এক ঘরে মুখোমুখি হওয়া হতে পারতো অন্যতম সুরিয়াল একটা ঘটনা, কিন্তু পাঠক হিসেবে আবেদন মোটেই বোধ হয়নি, তাঁর কারণ রাবেয়া-কে যতটা চিনি, ততটা রুমা-কে নয়। লেখকের যেটা এটেম্পট করেছেন, তা হয়ে উঠতে পারেনি কেবল গল্পের অন্য একটা ধারাকে সমান যত্নে বয়ে আনা হয়নি বলে।
*spoiler ENDS here*



ট্যুইস্ট, ক্যারেক্টার ট্রান্সফমেশন, সব মিলিয়ে উপন্যাসটা আপনাকে ধন্দে ফেলে দিতে পারে আসলে পড়ার সময় কী ভাবছিলেন আর শেষে এসে কী দাঁড়াল। কেবল একশ পাতার একটা উপন্যাসে লেখক অনেক আইডিয়া প্রয়োগ করার চেষ্টা করেছেন। অল্প কলেবরে বেশি বলতে চাইলে যা ঘটে, হয় বর্ণনায় তাড়াহুড়ো দেখা যায়, অথবা আইডিয়া/প্লটের ভারে গল্প চাপা পড়ে যায়। এই লেখকের ক্ষেত্রে লক্ষ্য করলাম এই দুটার একদম বাইরের এক বিপত্তি—লেখক পুরোটা জুড়ে যত কথা শুনিয়েছেন শেষ অব্দি তারা গল্পে বিশেষ অবদান রাখেনি, অথচ মূল যে গল্পটা বানাতে চেয়েছেন, সেটা বলে দিয়েছেন বইয়ের পনেরো শতাংশ অংশে। এবং সেটা লেখকের ইচ্ছাকৃত।

এইটুকু পাঠক কিভাবে গ্রহণ করেন, তা পাঠকের সাবজেক্টিভ পসন্দের ওপর-ই ছেড়ে দিতে হবে। আর বাদবাকি কারিগরী তো শুনলেন।

বই : নিদ্রিত নগরী
লেখক : মোহাম্মদ হাসিন ইশরাক
জনরা : সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার
প্রকাশক : আদী প্রকাশন
প্রকাশকাল : ফেব্রুয়ারি ২০২৫
পৃষ্ঠাসংখ্যা : ১০৩
মুদ্রিত মূল্য : ৩০০
Profile Image for Subrna Akter.
60 reviews
June 9, 2025
রাবেয়া নামক মেয়ের স্বপ্নে অপরিচিত একটি মেয়ে এসে আ'ত্ম'হ'ত্যা করে। একেক দিন একেক ভাবে আ'ত্ম'হ'ত্যা করে তার স্বপ্নে এসে। লাহোরি বাবু একজন সাইকিয়াট্রিস্ট ছিলেন। রাবেয়া তার কাছে যায় সমস্যা সমাধানের জন্য। রাবেয়ার সমস্যা দিন দিন বেড়েই চলছে। সে স্বপ্ন আর বাস্তবতার মধ্যে তফাৎ খুঁজে পাচ্ছিল না। বইয়ের পুরোটা অংশ জুড়ে রয়েছে রাবেয়ার স্বপ্নের সমস্যা সমাধানের চেষ্টা। কতটুকু সফল হয়েছে লাহোরি বাবু সেটা দেখার পালা।

"নিদ্রিত নগরী" লেখকের প্রথম বই‌। প্রথম বই প্রকাশের জন্য লেখক সময় নিয়ে চরিত্রগুলো সাজিয়েছে। অনেকটা সফলও হয়েছেন বলা যায়।

লাহোরি বাবু সপ্তাহে পাঁচ দিন শহরে থাকে। আর দুই দিন চরে থাকে। চরের কাটানো সময় গুলো আর রহমানের সাথে কথোপকথন গুলো সুন্দর ছিল। রহমানের লোভনীয় রেসিপি গুলো তো ছিলই।

রাবেয়া তার স্বামী আফিফ আর চার বছরের মেয়ে মিশুকে নিয়ে সুন্দর ভাবে জীবন যাপন করছিল। সামান্য একটি সমস্যা হচ্ছিল। কয়েকদিন যাবৎ তার ঘুম হচ্ছিল না ঠিক মতো। যার কারণে লাহোরি বাবুর সরণাপন্ন হন। ধীরে ধীরে তার সমস্যা বেড়েই চলেছে।

এই গল্পের আরেকটি চরিত্র হচ্ছে রুপা। ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করে বড় হয়েছে। মা অন্যের বাড়িতে কাজ করে সংসার চালাতো। সেই এখন নাম করা একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করছে। লাহোরি বাবুর সাথে তার পরিচয় হয় ক্লাস নেওয়ার সময়। একটা রিসার্চে লাহোরি বাবু তাকে সাহায্য করছে।

♣️সমালোচনা: লেখক সময় নিয়ে চরিত্রগুলো সাজালেও বেশ কিছু বিষয়ে তার জানার পরিধি কম সেটা সে গল্পের শুরুতেই নিজের লেখার মাধ্যমে বুঝিয়ে দিয়েছেন।

♣️লেখক সাইকিয়াট্রিস্ট আর সাইকোলজিস্ট এর মধ্যে যে পার্থক্য রয়েছে তাই জানেই না। যদি প্রশ্ন করা হয় সাইকিয়াট্রিস্ট আর সাইকোলজিস্ট দুটি পেশা কি একই? তাহলে উত্তর হবে না। তাদের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে শিক্ষাগত যোগ্যতার, কাজের ধরনে, কর্মক্ষেত্রের আর আয়ের ক্ষেত্রেও। যদিও উভয় পেশার মানুষজন স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে কাজ করেন, বিশেষ করে মানসিক স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে তাই তাদের কাজের ক্ষেত্রে কনফিউশন হয়। অনেকেই ভাবে হয়তোবা তারা একই ধরনের। যেমনটি লেখক সাহেব ভেবেছেন।

সাইকিয়াট্রিস্ট হতে হলে প্রথমে যেকোনো একটি মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস পাশ করার পর পরে ওই ফিল্ডে মানে সাইকোলজি থেকে এমডি ডিগ্রি লাভ করে। যারা পোস্ট গ্রেজুয়েটের এই ডিগ্রি টা অর্জন করতে পারে তখন তাকে চিকিৎসা ক্ষেত্রে বলা হবে সাইকিয়াট্রিস্ট। তার মানে সাইকিয়াট্রিস্টরা পড়াশোনা করবে মেডিকেল কলেজ+ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে।

সাইকোলজিস্ট হতে হলে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। সেখানে চার বছরের মেয়াদী মনোবিজ্ঞানের উপর একটি বিএসসি ডিগ্রি লাভ করেন। এই ডিগ্রি লাভ করা যাবে বাংলাদেশের কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। এই ডিগ্রি অর্জনের পর যখন কেউ তিন বছর মেয়াদি এমএসসি ডিগ্রি অর্জন করেন তখন তাকে চিকিৎসা ক্ষেত্রে সাইকোলজিস্ট বলা হবে।

অথচ গল্পের একটা জায়গায় বলা হয়েছে লাহোরি বাবু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেছেন। তিনি শুধু মাত্র ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করে সাইকিয়াট্রিস্ট হয় কিভাবে তা আমার জানা নেই।

♣️শুধু এইটুকুই না। আরো আছে। বইয়ের ১৫ পৃষ্ঠায় বলা হয়েছে রাবেয়ার সাথে তার সমস্যা নিয়ে কথা হয়েছে তারও এক সপ্তাহ আগে। এখন কথা হচ্ছে রাবেয়ার সাথে যে সমস্যা হচ্ছে তার সাথে রুপার সংযোগ হয় কিভাবে? যেখানে লাহোরি বাবুর চিঠি কুটিকুটি করে রিজেক্ট করে ৪৭ পৃষ্ঠায় গিয়ে।

♣️১৯ পৃষ্ঠায় লাহোরি বাবু ডায়রিতে কিছু বিষয় নোট করে রাখে। যেখানে তারিখ দেওয়া ১০ অগ্ৰহায়ণ, ১৪২৮ শুক্রবার। ৯৩ পৃষ্ঠায় ও ডায়রি লেখেন যেখানে তারিখ দেওয়া ৫ ফাল্গুন, ১৪২১। এটা কিভাবে সম্ভব?? লাহোরি বাবুর সাল মনে হয় উল্টো দিক থেকে শুরু হয়। এরকম আরো কিছু ভুলভাল তথ্য লিখে রাখা হয়েছে বইটিতে।
1 review
September 23, 2025
“নিদ্রিত নগরী” পড়তে গিয়ে মনে হয়েছে যেন কোনো থ্রিলার মুভির মধ্যে ঢুকে গেছি। বইটা এতো গ্রিপিং যে পুরো সময় জুড়ে মনে হয়েছে আমি গল্পের ভেতরেই আছি। লাহোরি বাবুর চরিত্র এতটাই ইন্টারেস্টিং যে রহমত মিয়ার রান্নার বর্ণনা শুনতে শুনতে নিজেরই খিদে পেয়ে যায়। স্বপ্নের বৈজ্ঞানিক ও ধর্মীয় ব্যাখ্যা, সাইকোলজির টার্ম আর লাহোরি বাবুর লেকচার—এসব মিলে একটা ইউনিক এম্বিয়েন্স তৈরি হয়েছে। লেখক হয়তো সাইকোলজির বিশেষজ্ঞ নন, কিন্তু বইয়ের স্বার্থে তিনি কতখানি পড়াশোনা করেছেন তা প্রতিটি পাতায় স্পষ্ট। তাই জটিল ধারণাগুলোও এত প্রাণবন্ত ও বিশ্বাসযোগ্য মনে হয়েছে।

বেলার চরের কুয়াশাচ্ছন্ন সকাল কিংবা হারিকেনের আলোতে রাতের বর্ণনা পাঠককে সরাসরি সেই দৃশ্যে নিয়ে যায়। প্লটটা খুবই ক্লেভার, ফোরশ্যাডোইং ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে, আর টুইস্টটা শুধু মাথা ঘুরিয়ে দেওয়ার মতো নয়—এতো অপ্রত্যাশিত যে কল্পনাও করা যায় না। সেই মোচড়টাই বইয়ের অন্য সব ছোটখাটো ত্রুটি ভুলিয়ে দেয়। সমাপ্তিটাও দারুণ, বিশেষ করে “স্টপিং বাই উডস অন আ স্নোয়ি ইভনিং”-এর লাইনের সাথে মিলিয়ে যেভাবে টানা হয়েছে, সেটি এক কথায় অসাধারণ।

হাসিন ভাইয়ের এফোর্ট সত্যিই প্রশংসনীয়। সিভিল ইঞ্জিনিয়ার হয়েও সাইকোলজির মতো জটিল বিষয়ে এতখানি পড়াশোনা করে একটি থ্রিলার লিখে ফেলা বিস্ময়কর ব্যাপার। সেই পরিশ্রম বইয়ের ভেতরে প্রতিটি চরিত্র, প্রতিটি ঘটনায় ফুটে উঠেছে।

থ্রিল আর পরিবেশের দিক থেকে বইটা অসাধারণ, তবে বাস্তবতার সঙ্গে কিছু অসঙ্গতি আর এক্সিকিউশনের ত্রুটির ব্যাপারে না বল্যেই নয়। লাহোরি বাবু সাইকিয়াট্রিস্ট না সাইকোলজিস্ট—বিষয়টি স্পষ্ট নয়, আর লেখায় মিসির আলির প্রভাব তো স্পষ্টভাবে চোখে পড়ে। কিছু মেডিকেল ফ্যাক্ট যেমন পেথিডিনে হ্যালুসিনেশন হওয়া বা এজমা রোগীর হুক্কা খাওয়ার ব্যাপারগুলো পুরোই এলোমেলো লাগলো। এক্সিকিউশনের দিক থেকেও কিছু জায়গায় তাড়াহুড়ো আছে, আর ক্লাইম্যাক্সের পরে কয়েকটি অংশ বাড়তি মনে হয়েছে।

তবুও লেখকের জ্ঞান ও পরিশ্রমে ভরা এই কাজ পাঠকের মনে দাগ কাটবেই। নিঃসন্দেহে থ্রিলারপ্রেমীদের জন্য এটি একবার পড়ে দেখার মতো বই।
Profile Image for Erfat Ekra.
1 review
May 15, 2025
ধরুন কেউ একজন প্রতিনিয়ত আপনার স্বপ্নে এসে নিজেকে খু*ন করছে,যেখানে কিনা আপনারা একে অপরের পূর্বপরিচিত নন!!
লাহোরি বাবুর ���্লায়েন্ট রাবেয়ার এমনই এক ভয়ানক স্বপ্ন যা কিনা প্রতিনিয়ত আরো ভয়াবহ হয়ে উঠছিল।আদৌও কি তা স্বপ্ন ছিল নাকি কোনো ভয়ানক বাস্তব !
বইয়ের শেষটা ছিল সম্পূর্ণ অপ্রত্যাশিত।প্লট,চরিত্র সবমিলিয়ে বেশ ভালোই সময় কেটেছে।গল্পের ছলে লেখক বেশ সুনিপুণভাবে স্বপ্ন এবং আমাদের মস্তিষ্কের নানা বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা তুলে ধরেন,যা কিনা বারবার মিসির আলি সমগ্রের কথা মনে করিয়ে দিচ্ছিল।
বইটির একটি লাইন বেশ মনে ধরেছে,"দুধ চা ঠিকমতো বানাতে পারাটা একটা শিল্প, সবাই সেটা পারে না"
1 review
July 7, 2025
I loved the twist at the end — didn’t see it coming at all. Finding out that Lahori Babu tested his drug on his old lover was dark and totally unexpected. Throughout the story, he gave off strong Misir Ali vibes (Humayun Ahmed fans will get it), calm and collected — but right at the end, you realize his moral compass is way off. That’s when the psychopath in him really shows.

The short stories within the main plot were a nice touch, and the sleep theory lectures added something unique without feeling out of place.

Overall, it’s a killer story. Loved every bit!
Profile Image for Sehemi Akhi.
77 reviews3 followers
March 10, 2025
ব্যাপারখানা কি দাঁড়ালো??
প্রচন্ড আগ্রহ নিয়ে পড়ছিলাম। জানি টুইস্ট আসবে। শুরু থেকেই ভাল লাগছিল। বেশ এংগেজিং গল্প। লাহোরির জীবন, তার কাজকর্ম, তার অতীত, তার পেশেন্ট দেখা সবকিছুই ভাল টোনে যাচ্ছিল। এর মাঝে তার পেশেন্ট রাবেয়ার আসা, রুমার তার জীবনে প্রবেশ সবকিছুই বেশ টান টান পরিস্থিতিতে নিয়ে যাচ্ছিল। কিন্তু যে টুইস্টটা এলো, সেটাতেই আমার একটু মুড অফ হয়ে যায়। মানে দুইজনের কিসসা খতম হয়ে যায় অথচ এর কোনো আফটার ইফেক্ট নেই! এই জিনিসটা-ই ৫ স্টার দিতে বাঁধা দিয়ে ফেলেছে আমাকে!
এছাড়া বইয়ে স্বপ্ন রিলেটেড যত তথ্য ছিল সব বেশ ভাল লেগেছে আমার। রিসার্চ করেছেন হয়তো অনেক বইটি লেখার আগে।
থ্রিলার জনরাতে ভালই লেগেছে। তবে আরেকটু এক্সপেকটেশন হচ্ছিল আর কি!
Profile Image for Sadat Arefin.
1 review1 follower
February 26, 2025
আমি বইটার রিভিউ দিবো না। বই পড়ার সময় যেসব অনুভূতি হয়েছিল স্পয়লার ছাড়া সেগুলো লিখে যাবো

- হারুকি মুরাকামির বইতে যেটা হয়-খুবই রিলাক্সিং টোনে একটা গল্প শুরু হয়, অনেকদূর গিয়ে এরপর এমন প্যাঁচটা দেয় যে থ্রিলে দুইদিন ঘুম আসে না।
নিদ্রিত নগরীর প্রথম পৃষ্ঠা পড়ে আমি ভাবতেসিলাম কাহিনি মেবি ওইদিকেই আগাইতেসে। ৩ নাম্বার পেইজেই যে থ্রিলটা দিসে, "কেমন খাইলাম ঐ পোলারে" ভাইরে ভাই। লেখকের মনে যে কি চলে! না মানে আগে ছোটগল্প বেশি লিখত তাই বলতেসি।

- আলুভর্তা ভাতের মতো পছন্দের খাবার মনে হয় বাঙালির কাছে আর কিছুই না। অফিস থেকে এসেই দেখসি বইয়ের ডেলিভারি। আনপ্যাক করে বইটা পড়তে বসছিলাম। লেখকের আলুভর্তা ভাতের যে লোভনীয় বর্ণনা দিসে, খিদা আর সামলানো সম্ভব হয় নাই। খাইতে খাইতে পড়সি। বইয়েও হালকা লেগে গেসে। আম্মু এসে হালকা ঝাড়িও দিয়ে গেসে।

- কাক আমারও ভাল্লাগে। তবে সেটা হাবিল কাবিলের ঘটনা আর প্রোফেসর শঙ্কুর কর্ভাস গল্পটা পড়ে। এই গল্প পড়ে আরো ভাল্লাগসে।

- গল্পের বইয়ের ক্লাসগুলা এত ইন্টারেস্টিং হয় যে মনে হয় গিয়ে ক্লাস করি। আসল ক্লাস এমন হইতে পারতো না?

- "ডুবেছি আমার তোমার চোখের অনন্ত মায়ায়" কিন্তু সে চোখ যখন ক্লান্ত হয়ে দু:খে মোড়া থাকে? কি কষ্ট!

- ইদানীং আননোন নাম্বার থেকে কল দিয়ে খুঁজে না পাইলে মনে হয় বলি-"দেন ভাই ট্রু কলারে চেক করে দিই"

- উপন্যাসে কিছু সাইড স্টোরি থাকলে আমার।ভালোই লাগে। লেখক যে আগে ছোটগল্প লেখক ছিল সেটা পরিষ্কার। সবার ভালো না-ও লাগতে পারে।

- দাম্পত্য কলহ দেখলে আমার খুবই মন খারাপ হয় কেন যেন।

- লেখক মনে হয় ভালোই পড়াশুনা করে লিখসে গল্পটা। নাইলে সিভিল ইঞ্জিনিয়ার হয়ে এত ভালো সাইকোলজি জ্ঞান। ভাল্লাগসে।

- I take back my words. বইয়ের ক্লাসও বোরিং হয়।

- লেখক ভালোই ভোজনরসিক। এত খাবার এনেছে লেখার মধ্যে। একটা ট্রিট দেওয়া লাগবে লেখককে। বই পড়া শেষে বইয়ের রেসিপিগুলা একসময় ট্রাই করা লাগবে। আর লেখকের উচিত একটা রান্নার বই বের করা। হাসিন ইশরাকের রেসিপি।

- একটা থ্রিলিং ঘটনার মাঝে ঠাস করে থামায় দিলে তো পাঠকরে অন্তত একটা ড্যাশ বা স্টার দিয়ে বুঝানো লাগবে এইখানে discontinue হইতেসে। নাইলে বিরক্ত লাগে। তবে কাহিনি জমসে। তাই মাফ করে দিলাম।

- Vampire of Sacramento সার্চ দিসি। পড়া লাগবে বইটা।

- Yo Yo Yo! Didn’t expect that ending.
Profile Image for Insight Chronicle .
8 reviews3 followers
November 16, 2025
It was a really enjoyable read, especially for a thriller lover like me. It’s a total page-turner, and I wasn’t bored for even a moment. At first I wasn't even thinking of the plot that came to be. I was able to predict the plot twist but even then some things shocked me in the best way! It was both creepy and thrilling. And beyond the psychological thriller aspect, there was another reason I enjoyed it so much: I love reading about history, and this book mentions several historical events that I’ve always found fascinating. For example, Futility (which is connected to the titanic), Abraham Lincoln's Death, Sharon Tate etc.

It was fascinating to see how the author was able to take all of those different events, from different timelines, and connect them all. A good portion of the book was infact very insightful.

If you're new to thriller, then this is the perfect place to start with. It's short, and easy to understand. You can finish it in one day and you'll love the plot. Also can I just say....the descriptions of the foods were SO good! 😭 Made me hungry at 2am :(

I thoroughly enjoyed this book. Loved the storyline, the writing style, the food descriptions and overall the delivery. I think it's the perfect short holiday winter read for psychological thriller lovers with a hint of horror aspects to it.
Profile Image for Akash Rahman.
48 reviews7 followers
April 9, 2026
নতুন মৌলিক বই নিয়ে বরাবরই আমার কৌতুহল কাজ করে। নবীন লেখক হাসিন ইশরাকের লেখা ‘নিদ্রিত নগরী’ বইটির নাম এবং ফ্ল্যাপ পড়ে পছন্দ হওয়ায় সাত-পাঁচ না ভেবেই কিনে ফেলি। কিন্তু পড়ার অভিজ্ঞতা অত্যন্ত বাজে।

নিজেকে সাহিত্যানুরাগী হিসেবে পরিচয় দিতে ভালবাসি বলেই, রিভিউ লেখার সময় আমাকে বারবার ভাবতে হয়েছে যে অনেস্ট রিভিউ হচ্ছে কী না। তবুও, বইটিতে ভুলভ্রান্তির পরিমান অত্যাধিক, যা দেখিয়ে না দিলেই নয়।

তা সত্ত্বেও, কেউ যদি যুক্তিসহকারে ভুলগুলো খন্ডন করেন, বিনা বাক্যব্যয়ে মেনে নিব। ভুলগুলো এভাবে তুলে ধরতে আমার খুব কষ্ট লেগেছে। লেখক এবং তার সাহিত্যকর্মকে অপমাণ করার কোন উদ্দেশ্য বা স্বার্থ আমার নেই। তার চেয়েও বেশি কষ্ট লেগেছে এটা দেখে যে, কতিপয় ফেক আইডি এবং ২জন প্রফেশনাল বুক রিভিউয়ার এ বইকে প্রশংসা করেছেন এবং দাবি করেছেন যে, এ বইতে কোন ভুল নেই। সুতরাং ভুলগুলো যুক্তিসহকারর তুলে ধরছি -


- বইয়ের সবচেয়ে বড় ভুল, লেখক সাইকিয়াট্রিস্ট আর সাইকোলজিস্টের পার্থক্য জানেন না।

- সাইকিয়াট্রিস্ট হলেন একজন ডাক্তার, যিনি একটি মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস পাস করেছেন। এরপর এফসিপিএস করেছেন সাইকিয়াট্রিতে। অথবা তিনি মেডিসিনে এফসিপিএস/এমডি করেছেন, তারপর সাইকিয়াট্রিতে রেসিডেন্সি বা অনুরূপ কোন কোর্স করেছেন।

- অন্যদিকে, সাইকোলজি বা মনোবিজ্ঞান হল বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ানো একটি সাবজেক্ট। ১৯৭৪ সাল পর্যন্ত এটি ঢাবির কলা অনুষদের অন্তর্গত ছিল। এরপর থেকে বিজ্ঞান অনুষদের অন্তর্গত হয়। সাইকোলজিস্ট কোন ডাক্তার নন বিধায় তিনি রোগিকে কোন ওষুধ প্রেসক্রাইব করতে পারেন না। তাঁরা শুধু থেরাপি এবং কাউন্সেলিং করতে পারেন।

- গল্পের প্রধান চরিত্র লাহোরি বাবু একজন সাইকিয়াট্রিস্ট অথচ তিনি ৭৫ পৃষ্ঠায় নিজের জবানিতে বলেছেন যে, তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করতেন। আবার কাহিনীতে অনেকবারই দেখানো হয়েছে যে, তিনি ঢাকা ভার্সিটিতেই ক্লাস নেন। আশ্চর্য, এত বড় ভুল লেখক কীভাবে করলেন? ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করে সাইকিয়াট্রিস্ট হওয়া যায়? তার হবার কথা সাইকোলজিস্ট। অথচ লেখক ফ্রিকোয়েন্টলি দেখিয়েছেন যে, লাহোরি বাবু তার রোগিদের ওষুধও প্রেসক্রাইব করেন। সেক্ষেত্রেও প্রশ্ন জাগে, লাহোরি বাবু ঢাবিতে কোন সাবজেক্টের উপর ক্লাস নেন? ঢাবিতে সাইকিয়াট্রি বলে কোন সাবজেক্ট নেই, যেটা আছে সেটা সাইকোলজি। সাইকিয়াট্রি তো মেডিকেল কলেজে পড়ানো হয়।
এটি একটি মারাত্নক ভুল, যা তার পুরো গল্পের বারোটা বাজিয়ে দিয়েছে। একজন সাইকিয়াট্রিস্ট নাকি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেছেন, ক্লাসও নেন সেখানেই আবার কীসের উপর যেন রিসার্চও করেন। এর মত গোঁজামেলে তথ্য আজ পর্যন্ত কোন থ্রিলার বইয়ে পড়েছি বলে মনে পড়েনা। যারা এ বইকে প্রশংসায় ভাসালেন, তারাও কী সাইকিয়াট্রি আর সাইকোলজির পার্থক্য জানেন না? বাংলাদেশের শিক্ষিত মানুষের জ্ঞানের এই দশা!

- ২২ পৃষ্ঠায় লাহোরি বাবু তার ছাত্র-ছাত্রীদের বলেন যে তার এজমার সমস্যা আছে। এজমার সমস্যাওয়ালা লোক যতক্ষণ বাসায় থাকেন ততক্ষণই হুক্কা খান। কীভাবে? ৫৯ পৃষ্ঠায় লাহোরি নিজেই বলেছেন এটা নাকি তার “ব্রেইনের ফাংশনের জন্য একটু প্রয়োজন।” বেলার চরের চৌচালা বাড়ি এবং লাহোরি বাবুর পার্সোনাল চেম্বার, দুই জায়গায়ই তিনি যতক্ষণ থাকেন, হুক্কা টানার ওপরেই থাকেন। এইভাবে ধুমপান করলে তার তো একিউট এজমা (তীব্র শ্বাসকষ্ট) হয়ে মারাই যাবার কথা। অথচ গোটা বইতে লাহোরি বাবুকে একবারও একটা কাশি দিতে, শ্বাসকষ্টে ভুগতে বা এজমার ওষুধ সেবন করতে দেখা যায়না। আশ্চর্য!

- ২২ পৃষ্ঠার কথাতেই ফেরত আসি। সেখানে লাহোরি বাবু সবাইকে বলেন যে, প্রায় শূন্য ডিগ্রির কাছাকাছি তাপমাত্রায়, বিনা শীতবস্ত্রে, এজমায় ভুগতে ভুগতে তিনি ভারতের উত্তর প্রদেশের একটি প্রত্যন্ত গ্রাম ভ্রমন করেন। এত ঠান্ডায় চলাফেরা করার পরও লাহোরি বাবুর না হয়েছিল ফ্রস্টবাইট, না হয়েছিল হাইপোথার্মিয়া, না হয়েছিল সামান্যতম শ্বাসকষ্ট। লেখক সম্ভবত জানেন না শূন্য ডিগ্রি ছুঁইছুঁই তাপমাত্রা একজন মানুষের শরীরে কতটা ভয়াবহ প্রভাব ফেলে। যাহোক, তার এটা লিখে দেওয়া উচিত ছিল যে, লাহোরি বাবু একজন সুপারহিউম্যান অথবা মস্তবড় এক চাপাবাজ।

- ৫৪ পৃষ্ঠায়ও লেখক মস্ত এক গাঁজাখুরী তথ্য দিয়েছেন। তিনি লিখেছেন যে, এক ব্যক্তি পেথিডিন নামক ড্রাগ গ্রহন করেন বিধায় তার নাকি হ্যালুসিনেশন হচ্ছে।

- প্রথমত, পেথিডিনে হ্যালুসিনেশন হয় বলে আমার এই ক্ষুদ্র মেডিকেল ক্যারিয়ারে কখনো শুনিনি, পড়িওনি। পেথিডি��� একটি সুপরিচিত পেইনকিলার। দেশ-বিদেশের প্রায় সব হাসপাতালে এক্সট্রিম পেইনের ম্যানেজমেন্ট হিসেবে রোগীদের পেথিডিন এডমিনিস্টার করা হয়। গর্ভবতী নারীদের প্রসববেদনা উপশম করতেও পেথিডিন একটি কার্যকরী ওষুধ। আজ পর্যন্ত কোন পেশেন্টের বেলায় হ্যালুসিনেশনের অভিযোগ পাইনি। এখানে উল্লেখ্য, পোস্ট সার্জিক্যাল পেশেন্টদের ব্যথা কমানোর জন্য অনেকসময় উচ্চমাত্রার পেথিডিনও দেওয়া হয়ে থাকে। তাতেও দৃষ্টি, ঘ্রাণ বা শ্রবণবিভ্রমের মত ঘটনা ঘটেনা।

- দ্বিতীয়ত, সুপরিচিত ওপিওয়েড ড্রাগস যেগুলো (মরফিন, পেথিডিন, ফেন্টানিল, মিথাডোন ইত্যাদি) তাদের সেরকম কোন হ্যালুসিনোজেনিক প্রপার্টিই নেই। মরফিনের ক্ষেত্রে এরকম কিছু কেস পাওয়া যায়। ১ম বিশ্বযুদ্ধে গুরুতর আহত সৈন্যদের কষ্ট লাঘবের জন্য বিপুল পরিমান মরফিন এবিউজ করা হত। সেসব সৈন্যদের কারও কারও তীব্র নেশাগ্রস্থ অবস্থায় হ্যালুসিনেশন হত বলে জানা যায়। সেখানেও ডাক্তারেরা তাদের যুদ্ধবিধ্বস্ত মানসিক অবস্থাকেই মূলত দায়ী করেছেন। তারপরও, লেখক যদি মরফিনের নাম ইউজ করতেন, হয়ত মেনে নিতাম।

- লেখকের কাছে খুবই সহজ একটা উপায় ছিল। তিনি পেথিডিনের বদলে এলএসডির নাম ব্যবহার করলেই ল্যাঠা চুকে যেত । হ্যালুসিনেশনের কী কী ধরন আছে, লেখক সেগুলো ঠিকই গুগল করেছেন। কিন্তু কী কী ড্রাগ সত্যিই হ্যালুসিনেশন তৈরী করে তার খোঁজ করেননি। একজন শিক্ষিত মানুষের লেখা বইতে এরকম ফ্যাকচুয়াল মিস্টেক কাম্য নয়।

- ৫৪ পৃষ্ঠার ঘটনায়ই আবার ফিরে আসতে হচ্ছে, কারন এ বই ভুলে ভরা। মিস্টার চৌধুরী নামের ওই পেশেন্টের হাতে ইনজেকশনের দাগ দেখেই লাহোরি বাবু বুঝে ফেলেন যে, তিনি পেথিডিনই নেন, অন্যকোন ড্রাগ নেন না। অথচ পেথিডিনে হ্যালুসিনেশনই হয়না। তো এখানে আরও বড় সমস্যা যেটা, মিস্টার চৌধুরী যদি সত্যিই পেথিডিন এবিউজার হয়ে থাকেন, তাহলে তাঁর প্রচন্ড শ্বাসকষ্ট হবার কথা, সায়ানোসিস (cyanosis) নামক কন্ডিশন হয়ে নাক, জিহবা এবং হাতের নখগুলো নীল হয়ে যাবার কথা, শরীরের পেশিগুলো অবশ হয়ে নেতিয়ে পড়ার কথা, একপর্যায়ে পাকস্থলীর পেশিতেও একইরকম ইফেক্ট হয়ে তাঁর বমি হবার কথা, রক্তচাপ কমে ব্র‍্যাডিকার্ডিয়া হবার কথা। হ্যালুসিনেশন হয় কী না, সে আলাপে ধরুন গেলামই না, কথা হচ্ছে পেথিডিন এবিউজারের তো এইসব সাইন-সিম্পটম থাকবে। যার সবটাই মিস্টার চৌধুরীর ক্ষেত্রে অনুপস্থিত। এতে প্রমাণ হল যে, লাহোরি বাবু সত্যিই একজন চাপাবাজ। তিনি ভার্সিটি স্টুডেন্টদের কাছে প্রায় শূন্য ডিগ্রি তাপমাত্রায় বিনা শীতবস্ত্রে চলাফেরার গালগল্প শোনান। অন্যদিকে রোগীদেরও ভুলভাল ডায়াগনোসিস করেন। তাহলে তিনি ফ্রড নন তো আর কী?

- লেখক বইয়ের শুরুতে এবং মাঝখানে লাহোরি বাবু সম্পর্কে এমন একটা ইম্প্রেশন তৈরীর চেষ্টা করেছেন যেন, লাহোরি বাবু খুবই দক্ষ একজন মনোরোগ বিশেষজ্ঞ, জানেনও এন্তার। লোকজন তার কাছে হেল্প নিতে দূর-দূরান্ত থেকে চলে আসে, এমনকি ঢাকার বাইরে রোগি দেখতে যাবার জন্য মোটা টাকাও প্রস্তাব করে। কিন্তু সত্যি বলতে, কাহিনীর কোথাও এরকম কোন ঘটনা নেই যাতে প্রমাণ হয় যে লাহোরি বাবু অনেক রোগী পান বা তিনি খুব দক্ষ। ৭২ পৃষ্ঠায় সরাসরি বলা আছে, “আজকে ক্লায়েন্ট তেমন নেই।” আবার ৭৪ পৃষ্ঠায় বলা আছে যে, “সন্ধ্যা সাতটা। লাহোরি বাবু চেম্বার থেকে নিজের বাসায় এসে বসেছে।” সন্ধ্যা ৭টায় বাসায় চলে যাবার অর্থ হল, ওইদিনও তেমন পেশেন্ট আসেনি।
রাবেয়া ছাড়া পুরো গল্পে তার চেম্বারে একজনই মাত্র পেশেন্ট এসেছিল, মিস্টার চৌধুরী।

- লাহোরি বাবুর পেশেন্ট হ্যান্ডলিং অত্যন্ত বাজে। তিনি প্রত্যেকবারই পেশেন্টকে ‘ক্লায়েন্ট’ বলে সম্বোধন করেছেন। এটা একটা বড়, চোখে লাগার মত অসঙ্গতি। একজন মনোরোগ বিশেষজ্ঞের কাছে যারা আসেন, তারা রোগী। তারা কোনভাবেই ক্লায়েন্ট না এবং লাহোরি বাবুও কোন উকিল কিংবা রাস্তা বানানোর ঠিকাদার নন। উকিলের ক্ষেত্রে ক্লায়েন্ট হয়, ডাক্তারের ক্ষেত্রে রোগি হয়। কিন্তু কথা হচ্ছে, লেখক তো নিজেই সাইকিয়াট্রি আর সাইকোলজির পার্থক্য জানেন না। সেজন্যেই লাহোরি বাবুও একটা লেজেগোবরে চরিত্র।

- আরও মারাত্নক ভুল যেটা, লাহোরি তার রোগিদের মানসিক সমস্যার কথা ক্লাসের ছাত্র-ছাত্রীদের কাছে প্রকাশ করেন, এমনকি তাদের আসল নামও বলে দেন, যেটা আনপ্রফেশনাল, আনইথিকাল এবং ক্ষেত্রবিশেষে ক্রিমিন্যাল অফেন্সও। মিস্টার চৌধুরীর ক্ষেত্রে তিনি পুরোপুরি ভুল ডায়াগনোসিস করেছেন, সৌরভের বোন শারমিনকে তিনি বাঁচানোর কোন চেষ্টাই করেননি, তার রোগটা মানসিক না, এই অজুহাত দেখিয়ে পার পাওয়ার অপচেষ্টা করেছেন বরং।

- ৮নং পৃষ্ঠার সৌরভের কেসটা একটু বলি। জনাব সৌরভের গোটা পরিবার এবং উক্ত গ্রামের সবাই পাশের গ্রামের চেয়ারম্যানের ছেলের বিয়েতে যায়। বাসায় থেকে যায় তার বোন শারমিন কারন সে ছিল ‘সামান্য অসুস্থ’। বাড়িতে ফিরে সৌরভ দেখে গোটা বাড়ি অন্ধকার। প্রত্যন্ত গ্রামে বিদ্যুৎ নেই মানা গেল। টর্চলাইটও নেই? সৌরভ তো শহর থেকে গ্রামে বেড়াতে গিয়েছে, তার হাতে স্মার্টফোনও নেই? অবশেষে পাশের বাড়ি থেকে মোম জ্বালিয়ে সৌরভ আর তার মা ঘরে ঢোকে। ঢুকতেই ‘দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকা পচা মাংসের গন্ধ নাকে এসে লাগে।’ তারা আবিষ্কার করে যে শারমিন বিছানার কোণে শরীর জড়সড় করে মাথা নিচের দিকে দিয়ে শুয়ে আছে। লেখক পরিষ্কারভাবে লিখেও দিয়েছেন যে, ‘শারমিনের সমস্যাটা মানসিক না’। একইকথা পরের পৃষ্ঠায় আবারও লাহোরি বাবুর জবানে লেখা হয়েছে। লাহোরি বাবুই বলেছেন যে, শারমিনের দেহের মাংস পচে খসে পড়ছে। অথচ, সে বিয়ে খেতে পারেনি কারন সে ছিল, ‘সামান্য অসুস্থ’।

- শারমিন কোন অতিপ্রাকৃত সত্ত্বার পাল্লায় পড়েছে, লেখক সেটা আরও স্ট্রংলি ইমপ্লাই করার জন্য মেয়েটির মুখের সতর্কবাণী, “তোরা সবাই ভাইসা মরবি” কথাটিও গল্পের ভেতর প্রমাণ করে দেখিয়েছেন। অথচ ১৪নং পৃষ্ঠায় লাহোরি বাবু ‘বিরক্তির সাথে’ রহমত মিয়াকে বলেছেন যে, ‘তিনি জ্বিন-পরী বা অনুরূপ কিছুতে বিশ্বাস করেন না।’ তো, কন্ট্রোভার্সি হয়ে গেল কী না? লাহোরি বাবু ৯ম এবং ১০ম পৃষ্ঠায় বেশ গাম্ভীর্যের সাথে বললেন যে, শারমিনের সমস্যাটা মানসিক না। আবার তিনিই মাত্র ৪পৃষ্ঠা পরে যেয়ে বিরক্তির সাথে জ্বিন-পরীর অস্তিত্বকে ‘শিট’ বললেন। এ কেমনধারা গল্প?

- ১৯নং পৃষ্ঠায় অর্থাৎ, কাহিনীর প্রথম দিকে লাহোরি বাবু ডায়েরিতে তারিখ দিয়েছেন ১০ অগ্রহায়ণ, ১৪২৮। অথচ শেষভাগে, ৯৫নং পৃষ্ঠায় সবকিছুর ব্যাখ্যা দেবার সময় সাল লেখা ৫ ফাগুন, ১৪২১। লাহোরি বাবুর ইউনিভার্সে সময় কী উল্টোদিকে চলে? এবং ১৪২১ সাল লেখা ডায়েরি এন্ট্রিতে কোন টাইমগ্যাপ বা পেজ ব্রেকও নেই যে হঠাৎ করেই ৭বছর সময় এগিয়ে যাবার অজুহাত দেওয়া যাবে। লেখক এ ভুলের ব্যাখ্যা কীভাবে দেবেন?

- রুমা নামের মেয়েটি লাহোরি বাবুর দেওয়া চিঠি ছিঁড়ে ফেলে ৪৭ পৃষ্ঠায়। কিন্তু তার বহু আগে অর্থাৎ ১৪ পৃষ্ঠায় বলা আছে যে রাবেয়া লাহোরি বাবুকে এক সপ্তাহ আগে প্রথম ভিজিট করেন। এখানে পৃষ্ঠার নাম্বার ফ্যাক্ট না। ফ্যাক্ট হল, রাবেয়া ওরফে রুনু যখন লাহোরিকে ভিজিট করতে এসেছিলেন, তখনও রুমা মেয়েটি লাহোরি বাবুকে রিজেক্ট করেনি। তাহলে, সেই সময় লাহোরি বাবু ঠিক কী কারনে রুনুর ব্রেইনে রুমা মেয়েটির ব্যাপারে ফলস মেমোরি ইমপ্ল্যান্ট করতে শুরু করেছিলেন? লাহোরি কী আগে থেকেই জানতেন যে রুমাও তাকে ছ্যাঁকা দেবে?

- লেখক যদি পরের ঘটনা আগে, আগের ঘটনা পরে দেখিয়েও থাকেন, তাহলেও সেটা পাঠকদের বোঝার কোন উপায় নেই। কাঁচা লেখনীরও একটা লেভেল থাকে। এই গল্প নাকি তিনি ২০২১ সাল থেকেই ভেবেছেন। তারপর দীর্��� তিনটি বছর ভাবনা-চিন্তা করে, ঘষে-মেজে পরিমার্জন করেও এই জিনিস প্রসব করেছেন তিনি! আশ্বর্যের বিষয়।

- ৫৬ পৃষ্ঠায় রাবেয়ার মুখে ব্যান্ডেজ দেখে লাহোরি বাবু এতটাই অবাক হলেন যে, তিনি কল্পনায়ও এটা ভাবেননি। কিন্তু লাস্টে গিয়ে লেখক তো মস্ত এক টুইস্ট দিয়েছেন যে, লাহোরি বাবুই নিজের বানানো ভয়ংকর এক ড্রাগ দিয়ে রাবেয়ার ওইরকম মানসিক অবস্থা করেছেন। তাহলে নিজের হাতে এতবড় সর্বনাশ করে নিজেই তাতে অবাক হবার কারন কী!

- ৬১ পৃষ্ঠায়ও এরকম একটা গোঁজামেলে ঘটনা আছে। লাহোরি বাবু রাবেয়ার আগের বাসায় কিছু ইনভেস্টিগেশন করার জন্য পাঠান তার ম্যানেজারকে। সেসবের দরকারটা কী? রাবেয়ার যে তীব্র মানসিক সমস্যা, অস্থিরতা, হ্যালুসিনেশন প্রভৃতি হচ্ছে সেসবের কারন তো লাহোরি বাবুর দেওয়া সেই ড্রাগ, যা তিনি সুকৌশলে পানিতে মিশিয়ে রাবেয়াকে খেতে দিতেন। তাহলে রাবেয়ার আগের বাসায় কোন ট্রমাটিক ইভেন্ট হয়েছিল কী না এসব জেনে তার কাজ কী?
গল্পে একটু গোয়েন্দাগিরির ফ্লেভার এড করতে চেয়েছিলেন লেখক। কিন্তু লাস্টের ওই টুইস্টটাই ফস্কাগেরো করে দিয়েছে।

- রুমা নামের মেয়েটা লাহোরি বাবুকে একটা রিসার্চের কাজে সাহায্য করছে, এমন কথা বারকয়েক বলা আছে। কিন্তু, খোদ লাহোরি বাবুকেই গোটা বইয়ে একবারের জন্যও রিসার্চ রিলেটেড কিছু করতে দেখা যায়নি। কোন সাবজেক্টের কোন টপিকের উপরে রিসার্চ? রুমা ঠিক কী কী হেল্প করছে? এসব কিছুই বলা হয়নি। লাহোরি যতক্ষণ বাসায় থাকেন বা বেলার চরে থাকেন ততক্ষণ তিনি হুক্কা খান আর রহমত মিয়াকে ডেকে সারাক্ষণ কিছু না কিছু খাওয়ার আবদার করেন। পুরো বইতে লাহোরির আচরণ ছিল ঠিক এরকম।

- ফাইনাল টুইস্টে আমরা জানতে পারি যে, লাহোরি বাবু জার্মানির হাইডেলবার্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে রিসার্চ করাকালীন একটি রহস্যময় ড্রাগ আবিষ্কার করেন, যেটির সাহায্যে একজন মানুষের ব্রেইনে হিপনোসিস তৈরী করে সেখানে মিথ্যা স্মৃতি বা False memory এপ্লাই করা যায়। তো এ কাজটিই তিনি রাবেয়ার ক্ষেত্রে করেছেন।

- এখন প্রশ্ন হল ফার্মেসি, বায়োকেমিস্ট্রি কিংবা ফার্মাকোলজিতে না পড়েও একজন সাইকিয়াট্রিস্ট ঠিক কোন বিদ্যার বলে, সম্পূর্ণ একা একা একটি ড্রাগ তৈরী করলেন? বইতে লাহোরি বাবুর কোন বন্ধু বা ল্যাব এসিস্টেন্টেরও মেনশন নেই। গোঁজামিলেরও একটা লেভেল থাকে ভাই।
কাহিনী এখানেই শেষ না, লাহোরি বাবু যে কাজ করতেন সেখানে হঠাৎ একদিন ল্যাবে আগুন লেগে যায় (লেখক খোলাসা করেননি কেন)। তাতে লাহোরি বাবুর মুখমন্ডলও বেশ ক্ষতিগ্রস্থ হয়। এতদসত্ত্বেও, হাইডেলবার্গ ভার্সিটির অথরিটি কোন তদন্ত করেনি, কীভাবে আগুন লেগেছিল তা বের করারও চেষ্টা করেনি। লাহোরি বাবু যে সবার কাছ থেকে লুকিয়ে এরকম overpowered একটা ড্রাগ আবিষ্কার করলেন, কেউ জানতেই পারলোনা। জার্মানির বিশ্বখ্যাত ভার্সিটির ল্যাবে না আছে সিসি ক্যামেরা, না আছে সহকর্মী, না আছে রেকর্ডকিপিংয়ের সুব্যবস্থা। আহা কী সুন্দর কাহিনী!

- এখানেই শেষ না। ৮৩ পৃষ্ঠায়, যেখানে লাহোরি বাবু রাশিয়ান স্লিপ এক্সপেরিমেন্ট নিয়ে কথা বলছিলেন, সেখানে বেশ কিছু অর্থহীন বাক্য আছে। পরস্পরবিরোধী কথাও আছে। যেমন, “এক বন্দী, মৃত্যুর পূর্বে, চিৎকার করে বলে, আমরা ঘুমের মধ্যে যে দানব, সেটাই আমাদের প্রকৃতরূপ।” ‘ঘুমের মধ্যে যে দানব’ কথাটি দিয়ে কী বোঝানো হল? স্লিপ এক্সপেরিমেন্টটা ছিল এরকম, রাশিয়ান বিজ্ঞানীরা বেশকিছু কয়েদীদের এক বিশেষ গ্যাস প্রয়োগ করে দিনের পর দিন নিদ্রাহীন অবস্থায় রাখত। বইতে উল্লেখও আছে, পনেরোদিন নিদ্রাহীন থাকার পর এক বন্দী মারা যাওয়ার আগে এ কথাটি বলে। তো একজন নিদ্রাহীন মানুষ ঘুমের মধ্যে যে দানব, এরকম কথা কেন বলবে? কথাটা তার অবস্থার সাথে সাংঘর্ষিক কী না? কথাটি হতে পারত, ‘ঘুমের অভাবে যে দানব।’

- ৮৩ পৃষ্ঠায়ই কয়েক লাইন পর একটি বাক্য আছে এরকম, “তারা নিজেদের মানবিক অনুভূতি ঘুমহীনতার প্রভাবে একেবারে পশুর মত আচরণ শুরু করে।” এই বাক্যের অর্থ কী? বাক্যটি এরকম হতে পারত, ‘তারা নিজেদের মানবিক অনুভূতি ঘুমহীনতার প্রভাবে হারিয়ে ফেলেছিল। এর ফলে তারা একেবারে পশুর মত আচরণ শুরু করে।'
অথচ দু’টো আলাদা বাক্যকে একত্রে জুড়ে বানানো হল এক অর্থহীন খিচুড়ি।

- এর পরের বাক্যটাও একটা অর্থহীন জটলা। সেটা হল, “তাদের মধ্যে এক ধরনের আতঙ্ক ও বিভ্রান্তি তৈরী হয়েছিল, যা তাদের আর নিয়ন্ত্রন করতে সক্ষম হচ্ছিল না।” এ কথার অর্থ কী? মানুষ কী আতঙ্ক ও বিভ্রান্তি দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়? লেখক হাসিন ইশরাক সাহেব কী তাঁর ব্যক্তিগত জীবনে আতঙ্ক ও বিভ্রান্তি দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হন? অবশ্যই না। তাহলে, বইতে এরকম উদ্ভট কথা লেখার কারন কী?

এটাকে উপন্যাস না বলে এক্সপেরিমেন্টাল লিটারেচার কিংবা ননসেন্স কমেডি বলাই বেটার হবে। রেটিং আর কী দিব? রেটিংয়ের হিসেবে এ বইকে জাজ করাই সম্ভব না।
1 review
June 12, 2025
"নিদ্রিত নগরী" নাম শুনলে প্রথমেই মাথায় আসার কথা গল্পটা বোধহয় কোনো একটা শহর বা আরো স্পেসিফিক্যালি বললে মায়াঘুমের কোনো শহরকে নিয়ে লেখা,অন্তত আমি প্রথমে তাই ভেবেছিলাম। "নিদ্রিত নগরী" মূলত সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার। পড়ার শুরুতে ভেবেছিলাম গৎবাঁধা প্যারানরমাল কাহিনীর মতই হয়ত কিছু হবে হয়ত।

লাহোরি বাবু নামের এক মনোরোগ বিশেষজ্ঞের দৈনন্দিন দিনাতিপাতের মত স্বাভাবিক বর্ণনার মধ্যে দিয়ে শুরু হয় গল্প। উল্লেখিত ব্যক্তি নিয়ম করে সপ্তাহে দুইদিন চরে কাটান একান্ত সময় হিসেবে, এই চরে তার একমাত্র সঙ্গী রহমত মিয়া,চরে তৈরি করা নিজের চৌচালা ঘরের বারান্দায় বসে মধ্যদুপুরের রোদ গায়ে মেখে হুক্কা টানার ভেতরে লাহোরি বাবু এক পরম তৃপ্তি অনুভব করেন,এবং তিনি যখন কোনো কেইস নিয়ে কাজ করেন তখন তার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দুটো জিনিসের প্রয়োজন হয়- এক হচ্ছে হুক্কা টানা এবং দুই - দুধ চা,এই দুই জিনিসের যোগান দেয়ার দ্বায়িত্ব হচ্ছে রহমত মিয়ার এবং তিনি এই দ্বায়িত্ব খুবই যত্নের সাথে পালন করেন। মূল গল্পের বিষয়ে আসা যাক,লাহোরি বাবু মূলত কেইস নিয়ে চিন্তা করেন চরে থাকাকালীন সময়টাতে,বাকি দিনগুলোতে তিনি শহরে চেম্বার করেন,কোনো কেইস নিয়ে যখন তিনি ক্লাইন্টের সাথে কথা বলেন তা তিনি একটি রেকর্ডারে রেকর্ড করে রাখেন,এটা তার কেইসে হেল্প করে।
অন্যান্য ক্লাইন্টের মতই একদিন লাহোরি বাবুর কাছে এক অদ্ভুত কেইস নিয়ে হাজির হন রাবেয়া নামের একজন ক্লাইন্ট যিনি কিনা ঘুমের সমস্যায় ভুগছিলেন। পরবর্তীতে সেই সমস্যা থেকে শুরু হয় অসহনীয় পর্যায়ের কিছু দুঃস্বপ্ন দেখা,শুধু দুঃস্বপ্ন বললেও বোধহয় ভুল হবে, এমন কিছু স্বপ্ন যা রাবেয়াকে ক্রমাগত তার স্বাভাবিক জীবন থেকে এক ভয়ার্ত অন্ধকার মনোজগতের দিকে নিয়ে যায়, যা তাকে ক্রমশ হিংস্র করে তুলছিলো। সাধারণত, সাইকোলজি বলে আমরা এমন কাউকে কখনো স্বপ্নে দেখিনা যাদেরকে আমরা চিনিনা কিংবা আমরা স্বপ্নে মূলত কারো চেহারা দেখতেই পাইনা,কিন্তু রাবেয়া দেখতে পেতো, শুধু দেখতোই না বরং স্পষ্ট দেখতে পেতো একটি মেয়ের চেহারা, মেয়েটি রাবেয়ার স্বপ্নে এসে একেকদিন একেকভাবে নিজেকে শেষ করে দিতো.....
রাবেয়ার কেইস নিয়ে কাজ করা শুরু করেন লাহোরি বাবু,কিন্তু দিনদিন উন্নতির বদলে রাবেয়ার স্বপ্নগুলো ভয়ানক রুপ নিতে শুরু করে,রাবেয়া হয়ে পড়ে আক্রমণাত্মক,এমনকি সে তার চার বছরের মেয়ের মধ্যে ওই স্বপ্নে দেখা মেয়েটির অবয়ব দেখতে পেতে শুরু করে এবং নিজের মেয়েকে স্বপ্নের মেয়েটি ভেবে আক্রমণ করতে তেড়ে আসতে শুরু করে প্রতিনিয়ত... অবাক করা বিষয় হলো- একদিন দেখা গেলো রাবেয়ার স্বপ্নে দেখা মেয়েটির সাথে লাহোরি বাবুর এক ছাত্রী রুমার চেহারা হুবহু মিলে যায়, রুমা লাহোরি বাবুর আন্ডারে এক রিসার্চ পেপার নিয়ে কাজ করতো।
গল্পটা একটা সাধারণ থ্রিলারই হতে পারতো বটে কিন্তু গল্পের প্রতিটি পর্বেই যেন মনে হচ্ছিলো এই বুঝি রাবেয়ার সমস্যার সমাধান মিললো কিন্তু রাবেয়ার স্বপ্নের মেয়েটির সাথে রুমার চেহারা হুবহু মিলে যাওয়াটা গল্পের মোড় ঘুরিয়ে দেয়,এ যেন নতুন এক রহস্যের আভাস দিচ্ছে,দুইজন মানুষ কীভাবে কোনোরকম পূর্ব পরিচিতি ছাড়া স্বপ্নে একজন আরেকজনকে দেখবে?.... রাবেয়ার সমস্যার সমাধান হয় ঠিকই কিন্তু তা হয় রুমাকে হত্যার মধ্যে দিয়ে,এই কেইস সমাধান করতে যেয়ে পাঠককে মুখোমুখি হতে হবে ভয়ানক এক সাইকোলজিক্যাল রিসার্চ যার নাম "হিপনোসিস এন্ড ড্রিম কন্ট্রোল"। ভয়াবহ এই রিসার্চের উদাহরণ টেনে আনার মধ্যে দিয়েই লেখক পুরো গল্পের মোড় ঘুরিয়ে দেন যা পুরো গল্পকে এনে দিয়েছে এক নতুন মাত্রা। গল্পটির প্রতিটি পর্ব জুড়েই ছিলো এক অজানা রহস্যের আভাস, যা শেষ হয় লাহোরি বাবুর এক অদ্ভুত সংলাপ "রহস্যময় জগতকে নিয়ে কাজ করে কখনো মানবজাতির হাতে স্বর্গের দুয়ার খুলে,আবার কখনো তার হাতেই তৈরি হয় নরক" এর মধ্যে দিয়ে যা আমাদের বুঝিয়ে দেয় রাবেয়ার জন্য তৈরি হওয়া নরকের স্রষ্টা কোনো আধ্যাত্মিক কিছু নয় বরং কোনো এক প্রতিশোধপরায়ণ মানব...
"নিদ্রিত নগরী" হাসিন ইশরাকের লেখা সাত পর্বের একটি সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার,এটি তার প্রকাশিত প্রথম মৌলিক বই। প্রথম একক বই হিসেবে লেখক তাঁর লেখার প্রতি পাঠকের প্রত্যাশাকে অনেক দূর নিয়ে যেতে পেরেছেন বলেই মনে হয়েছে।
Profile Image for আহনাফ তাহমিদ.
Author 36 books83 followers
March 16, 2025
৩.৫...

মনোরোগ বিশেষজ্ঞের কাছে হন্তদন্ত হয়ে এক রোগীর আগমন৷ সমস্যাটা জটিলই বলা যায়। রোগী স্বপ্নে এক মেয়েকে দেখে, যে নিজেকে নানা উপায়ে মেরে ফেলে৷ হত্যাপ্রক্রিয়া নৃশংস থেকে নৃশংসতর হয়, সমস্যা হয় জটিল থেকে জটিলতর। বাস্তব আর স্বপ্নের মধ্যে ফারাকটা ঠিক কোথায়? আর ফারাকটা বোঝা গেলেই কি এই সমস্যার সমাধান হবে?
মোটা দাগে এটাই ছিলো ২০২৫ এর বইমেলায় আদী প্রকাশন থেকে প্রকাশিত হাসিন ইশরাকের "নিদ্রিত নগরী" বইটার মূল কথা। বাকিটা জানতে চাইলে পড়তে হবে। পড়ে ফেললাম। টুকটাক একটু আলোচনা করি।
১) প্লট: প্লট ভালো। এই ধরনের গল্পে মিসির আলির সাথে একটা কম্প্যারিজন চলে আসে না চাইলেও। লাহোরী বাবু তার স্বতন্ত্রতা বজায় রেখেছে।
২) স্টোরিটেলিং: কিছু জায়গায় ফ্ল্যাট। ধারাভাষ্য বর্ণনার মতো মনে হয়েছে। লেখায় "শো" এন্ড "টেল" নামের দুটো ব্যাপার থাকে। একটায় পাঠকের সামনে সিনেমার রিলের মতো কাহিনী একের পর এক ঘটে যায়।
আর আরেকটায় লেখক লেখার মাধ্যমে বর্ণনা করে যেতে থাকেন কাহিনীতে কী ঘটছে। নিদ্রিত নগরীর ক্লাইম্যাক্স "টেল" ক্যাটাগরির।
৩) চরিত্র: গল্পের শুরু থেকেই একটা চরিত্রকে পাঠকের কাছে সচেতন ভাবেই নেতিবাচকভাবে তুলে ধরা হয়েছে। লেখক এখানে সফল, তবে ঝানুদের কাছে সেটা ব্যাকফায়ার করার কথা। গল্পে চরিত্র কম। তবে নভেলা হবার কারণে সবাই ভালো স্পেস পায়নি। স্পেস দেয়া উচিত ছিলো আরেকটু, বিশেষ করে রুমা চরিত্রটাকে।

এইবার গল্পের প্লাস-মাইনাস নিয়ে আলোচনা করি। প্রথমে প্লাস-
১) গল্পের প্লট।
২) পাঠকদের মন লেখক বারবারই অন্যদিকে সরাতে চেয়েছেন। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই তিনি সফল।
৩) দৃশ্যপট বর্ণনা ভালো।
৪) ক্লাইম্যাক্স এবং এন্টাগোনিস্ট রিভিলেশন। অনেকের কাছে জিনিসটা হুট করে মনে হতে পারে কিন্তু লেখক শুরু থেকেই একটু একটু করে হিন্ট দিয়ে রাখছিলেন।

মাইনাস-
১) ইনফো ডাম্পিং। কাহিনীর প্রয়োজনে অনেকবারই ফ্যাক্টের অবতারণা হয়েছে। এত দরকার ছিলো না।
২) ক্লাইম্যাক্সে লেখক যা বলেছেন, তা গল্পের "টেল" ক্যাটাগরিতে যায়। ঠিক এই কারণেই বেশ কিছু জায়গায় স্টোরিটেলিং ফ্ল্যাট লেগেছে, যা আগেও বললাম।

এবার আসি লক্ষ্যণীয় কিছু জায়গায়-
১) কোনো ডাক্তার বা সাইকিয়াট্রিস্ট তার পেশেন্ট ডিটেইলস কারও সাথে শেয়ার করে না। কনফিডেনশিয়াল রাখে। লাহোরী বাবু তার দুই পেশেন্টের ডিটেইল বলা যায় ভরা মজলিসে ক্লাসরুমে ছাত্রদের সামনে উদাহরণ টেনে বলেছেন।
২) রুমা চরিত্রটা গল্পে গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করলেও যথেষ্ট স্পেস দেয়া হয়নি।
৩) রাবেয়া-আফিফ দম্পতিকে রিলিজিয়াস বলা হলেও বইতে তেমন কোনো উদাহরণ নাই। বেশ কিছু জায়গায় আফিফ স্ত্রীর মানসিক হাল নিয়ে বেশ উদাসীনও ছিলো বোধহয়।
৪) ক্লাইম্যাক্সটা ভালো হলেও স্টোরিটেলিং-এর কারণে একটু ফ্ল্যাট।

নিদ্রিত নগরী হাসিন ইশরাকের প্রথম বই। আমার আরও কিছু খটকা ছিলো। লেখকের সাথে কথা বলে তা ক্লিয়ার করে নিয়েছি। আমি আশাবাদী ভবিষ্যতে তার হাত থেকে অসাধারণ কিছু বই আসবে।
May 13, 2025

“নিদ্রিত নগরী” একটি মনস্তাত্ত্বিক থ্রিলার যা পাঠককে স্বপ্ন ও বাস্তবতার সীমানায় ঘোলাটে করে দেয়। লেখক তার কাহিনীতে যে থিমটি বেছে নিয়েছেন, স্বপ্নে মৃত্যু, অপরিচিত মুখ ও বাস্তবজগতের রহস্যময় মিল.......

থিম ও পরিবেশ:

“নিদ্রিত নগরী” নামেই বুঝিয়ে দেয় এটি একটি ঘুমিয়ে থাকা শহরের গল্প, কিন্তু সেই নিদ্রা শান্ত নয়, বরং অস্থির, বিভ্রান্তিকর। স্বপ্ন আর বাস্তবের দ্বন্দ্ব, চেতনা আর অবচেতনের দ্বারস্থ হয়ে লেখক একধরনের psychological maze তৈরি করেছেন।

চরিত্র নির্মাণ:

লাহোরি বাবু : নিঃসঙ্গ কিন্তু প্রচন্ড অধ্যবসায়ী। যিনি পেশাদার মনোরোগ চিকিৎসক হলেও ধ��রে ধীরে নিজেই এক মানসিক গোলকধাঁধায় আটকে পড়েন।

রাবেয়া : শিকার এবং সম্ভাব্য ভবিষ্যতের বার্তাবাহক। তার স্বপ্ন আসলে কী প্রকাশ করছে.........। ভবিষ্যৎ, অতীত, না কি ভয়ের প্রতিচ্ছবি?

রুমা : রহস্যময়, সংবেদনশীল এবং কাহিনীর বাঁক বদলের মূল কুশীলব। তিনি কেবল একটি চরিত্র নয় বরং রাবেয়ার স্বপ্নের “দ্বিতীয় রূপ”।

লেখনী ও স্টাইল:

ভাষা সহজ, কিন্তু বহুমাত্রিক। লেখক কাহিনীকে খুব ধীরে গড়িয়েছে তাতে করে গল্পের থ্রিল আরও কয়েক গুণ বেড়ে
গিয়েছে। সংলাপে বাস্তবতা এবং চরিত্রের গভীরতা রয়েছে। হুক্কা টানা, চরবাস, হালকা ধোঁয়ার আবরণ। এই সবকিছুর মধ্য দিয়ে লেখক এক ধরনের রহস্যময় আবহ তৈরি করতে সক্ষম হন ।

চূড়ান্ত মতামত:

ভিন্নধর্মী থ্রিলার প্রেমীদের জন্য উপযুক্ত এবং বাংলা সাহিত্যে এক নতুন ধাঁচের গল্প। চরিত্রগুলোর মানসিক কাঠামো সুন্দরভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে......।
"নিদ্রিত নগরী” এমন এক বই যা কেবল পড়লেই শেষ হয়ে যায় না বরং এর প্রভাব রয়ে যায় মস্তিষ্কের ভেতরে......।
এটি সহজ থ্রিলার নয় বরং একরকম মনস্তাত্ত্বিক যাত্রা যেখানে পাঠককে নিজের উপলব্ধি দিয়ে অংশ নিতে হয়.....।
Profile Image for Fariha  Nur Hasin.
1 review1 follower
March 17, 2025
নিদ্রিত নগরী – একটি মনস্তাত্ত্বিক থ্রিলারের অসাধারণ অভিজ্ঞতা

সম্প্রতি আমি নিদ্রিত নগরী বইটি পড়েছি, এবং সত্যি বলতে, এটি একটি অবিশ্বাস্য অভিজ্ঞতা ছিল। বইটি মূলত স্বপ্ন এবং তার প্রভাব নিয়ে লেখা, যা আমাদের জীবনে কতটা গভীরভাবে প্রভাব ফেলতে পারে তা চমৎকারভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।

প্রতিটি অধ্যায়ই নতুন নতুন মোড় নিয়ে আসে, যা পাঠকের আগ্রহ ধরে রাখার ক্ষমতা রাখে। কাহিনির প্রতিটি বাঁক এতটাই আকর্ষণীয় যে একবার পড়তে শুরু করলে থামার উপায় থাকে না। লেখক গল্পের প্রতিটি স্তরে থ্রিল এবং সাসপেন্স ধরে রেখেছেন, ফলে পাঠক এক মুহূর্তের জন্যও মনোযোগ হারাবে না।

বইটির সবচেয়ে চমকপ্রদ দিক হলো এর শেষ অধ্যায়। এমন একটি টুইস্ট যা সত্যিই মস্তিষ্ককে নাড়া দেয়। শেষের দিকের মোড়টি এতটাই অপ্রত্যাশিত ছিল যে কিছুক্ষণ বইটি রেখে ভাবতে বাধ্য হয়েছি।

যারা মনস্তাত্ত্বিক থ্রিলার পছন্দ করেন, তাদের জন্য এটি অবশ্যই একটি মাস্ট রিড। নিদ্রিত নগরী পাঠকের মনে গভীর ছাপ ফেলবে, এবং শেষ পর্যন্ত বিস্ময়ে অভিভূত করবে।
Displaying 1 - 17 of 17 reviews