Jump to ratings and reviews
Rate this book

প্রতিবাস্তব : দ্রোহ ও প্রেম

Rate this book
"এই বইয়ের কাজ যখন শুরু হচ্ছে, বাংলাদেশে তখন গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী এক টালমাটাল সময়। একদিকে আছে তারুণ্যের রক্তাক্ত বিজয়ের গর্ব, অন্যদিকে তৈরী হচ্ছে শঙ্কা, আইন-শৃঙ্খলার অবনতি, ঘটছে দেশের আনাচে কানাচে মন খারাপ করা সব ঘটনা। ওপারে পশ্চিমবঙ্গ তখন জ্বলে উঠেছে প্রদীপের আলোয়, মেয়েরা রাতের দখল নিচ্ছে ন্যায়বিচারের আশায়। তাদের স্লোগানে উঠে আসছে ধর্ষণসহ নানা অবিচারের প্রতিবাদ।

আমরা চিৎকার করি, প্রতিবাদ করি, ছবি আকি, গল্প লিখি এই প্রতিবাদের সুরে। এই সুর আমাদের অচেনা নয়। যুগে যুগে নিপীড়িত মানুষের ইতিহাসে এই সুর বারবার জাতিস্মর হয়ে ফিরে আসে। এবারের প্রতিবাস্তব সে সুরেই কথা বালছে। কেবল গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি কিংবা রাত দখলের প্রতিবাদ নয়, এবারের প্রতিবাস্তবে উঠে এসেছে একাত্তরের অন্য এক রূপ, উঠে এসেছে ইতিহাস, পুরাণ, ফ্যান্টাসি কিংবা নিত্যদিনের দ্রোহের গল্পও। উঠে এসেছে কীভাবে অভ্যুত্থানের মোহনায় এসে মেশে কত শত নদী, উঠে এসেছে বিঘ্নর কিংবা যুদ্ধের ফাঁকে ফাঁকে কীভাবে ঘটে যায় অনেক অন্যায্য ঘটনা, কীভাবে এই দ্রোহের ফাঁক গলে বয়ে যায় ভালোবাসার হাওয়া।

'প্রতিবাস্তব দ্রোহ ও প্রেম' এক টালমাটাল সময়ে বসে আমাদের এই সময়কে ধরার চেষ্টা। এই চেষ্টা অবিরত থাকুক আগামীতেও।তিন বছর আগে যে স্বপ্ন নিয়ে আমরা এই সংকলনের কাজ শুরু করেছিলাম, তা এখন অন্য মাত্রা পাচ্ছে। এবারে আমাদের সাথে সারবি হয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের বেশ ক'জন গুণী শিল্পী। তাদের জানাই আশষ কৃতজ্ঞতার আগামীতে এই স্বপ্ন আরও। আরও ছড়িয়ে যাক। কমিকাসর মতো কান্টম্পরারি মিডিয়ামে তরুণ শিল্পীদের জয়যাত্রা যে সহসাই থেমে যাচ্ছে না, তা বলাই বাহুল্য। বরং চোখের সামনে দেখা বিদ্রোহের স্মৃতি তাদের অকার তুলি আর দেখার চোখে যোগ করাই অন্য মাত্রা।

মহীনের ঘোড়াগুলির গানের একটা লাইন তাই বার বার বাজে কানে তবুও মানুষ হাসে, গান গায়, ডালোবাসে।"

____মাহাতাব রশীদ
নির্বাহী সম্পাদক

দ্রোহ ও প্রেমের গল্পে এবারের প্রতিবাস্তব। এঁকেছেন দুই বাংলার কমিক্স শিল্পীরা।
সূচিপত্রঃ

বারান্দা - আদ্রিতা কবির / অধরা পতত্রী
হোক কলরব - চার্বাক দীপ্ত / সুমিত সুরাই
খুঁজে পাবে না - তেরেসা ভূঁঞা / মেহেরাব সিদ্দিকী সাবিত
চোখ ধাঁধানো আলো - ফাহিম রেজওয়ান রাবিদ
তখন যেমন এখন তেমন - হর্ষমোহন চট্টরাজ
সেইফ হাউজ - রেদওয়ান আহমেদ আরাফ / জাওয়াদ মাহমুদ রাতিন
ব্বাইয়ের জানালা - মনোজিৎ চট্টোপাধ্যায় / সুরাজ দাস
টু-লেট - সৌন্দর্য ধারা
একাত্তরের আরেকটি গল্প - মং সোনাই
জিলিপির মতো রাস্তা - সুযোগ বন্দোপাধ্যায়
এ পৃথিবী একবার পায় তারে - নাতাশা জাহান / ফাতিমা আনজুম তুবা
লাশের মিছিল - আব্দুল্লাহ আল জুনায়েদ / আলাভী আশরাফ ইরাম
সলতে - মাহাতাব রশীদ
স্প্লিন্টার - সুদীপ্ত সম্ভার গল্প

276 pages, Hardcover

Published February 1, 2025

1 person is currently reading
20 people want to read

About the author

Mehedi Haque

43 books40 followers

Ratings & Reviews

What do you think?
Rate this book

Friends & Following

Create a free account to discover what your friends think of this book!

Community Reviews

5 stars
1 (5%)
4 stars
9 (45%)
3 stars
8 (40%)
2 stars
2 (10%)
1 star
0 (0%)
Displaying 1 - 4 of 4 reviews
Profile Image for Harun Ahmed.
1,674 reviews441 followers
April 14, 2025
২.৫/৫

দ্রোহ ও প্রেম - বিষয়বস্তু সময়োপযোগী। কিন্তু বইটা নিয়ে অভিযোগের অন্ত নেই। দুর্বল প্রোডাকশন, অস্পষ্ট ছাপা, কাহিনিতে পুনরাবৃত্তি ও সৃষ্টিশীলতার অভাব - মোট কথা, এ সংখ্যা নিয়ে হতাশ আমি। শুধু প্রথমদিকের কয়েকটা গল্প ভালো ছিলো।
Profile Image for musarboijatra  .
291 reviews366 followers
April 13, 2025
বাংলা কমিকে প্রতিবাস্তব ইতিমধ্যে প্রতিশ্রুতিশীল একটা প্রকল্প, ঢাকা কমিক্স থেকে তিন বছরে তিনটা ভল্যুম প্রকাশ পেয়েছে প্রতিবাস্তবের। প্রথমবার বাজারে আরো একটা চমকপ্রদ কমিক সংকলন হিসেবেই দেখা দিয়েছিল এরা, সেই মুকুটে পালক জুড়েছিল নামকরা সব শিল্পীদের গল্প ও আঁকা, এবং ঢাকা কমিক্সের দুর্দান্ত প্রদাকশন। দ্বিতীয় বছরে বেশ নতুন ধারার কাজ হাতে নেন তারা, কমিকের গল্পের জন্য বেঁধে দেন নির্দিষ্ট থিম, এবং ওই থিমে শিল্পীদের চিন্তা ও গল্পকথন মিলে তৈরী হয় (প্রতিবাস্তব : স্বপ্ন ও স্মৃতি), যেটা ভীষণ এক্সপেরিমেন্টাল ও নতুন ধরণের কাজ ছিল বাংলা কমিক জগতে। তৃতীয় বছর, অর্থাৎ ২০২৪ সালের শেষ কয় মাসে যখন আবারো প্রতিবাস্তব আসার সময় হলো, ততদিনে ইতিহাসে বঙ্গদেশের ওপর দিয়ে বয়ে গেছে বিশাল ঝড়। এবং নিশ্চিতভাবে বলা যায়, চব্বিশ সালের দ্বিতীয়ার্ধে এই ভূখন্ডের মানুষগুলো বদলে গেছে বাকি জীবনের জন্য।

নাটকীয়তা বাদ দিই। বাংলাদেশের জুলাই অভ্যুত্থানে (এবং আশপাশের সময়টা) এমন রুঢ় বাস্তবে বাঁচতে হয়েছিল মানুষকে, যেসব 'ধারণা' কেবল গল্পে সম্ভব ছিল। কিন্তু এই একটা মাসে কিছু আকস্মিক ঘটনা হয়ে গেছে নির্জলা বাস্তব। একটা পিভটাল পয়েন্ট ছিল ৫ আগস্ট, আওয়ামী রেজিমের পতন। আর তারপর থেকে এখন অব্দি (যে মুহূর্তে আপনি আমার লেখাটা পড়ছেন), আরেক প্রস্থ অতিবাস্তব ঘটনাপ্রবাহের মাঝে দিয়ে যাচ্ছি আমরা। উপন্যাসের নমুনা টানতে চাইলে দুটার কন্ট্রাস্ট যেন অরওয়েলের 1984 আর Animal Farm। যে অনিশ্চয়তা এবং অসহায়ত্বের গল্প তীব্রতা নিয়ে দেখা দিয়েছিল জুলাই-এ, তার কোন একপ্রকার আফটারম্যাথ এখনও চলছে, যাকে এক স্রোতে ফেলে ব্যাখ্যা করা যাচ্ছে না। গল্পের শ্রোতা হয়ে এই সময়টাতে কীভাবে চোখ রাখা যায়, আর শিল্পী হয়ে কীভাবে নিজের বোধ-কে প্রকাশ করা যায়, আমার মতে প্রতিবাস্তব : দ্রোহ ও প্রেম আশ্চর্যজনকভাবে তা করার প্রয়াস পেয়েছে।

শিল্পীরা সন্দিহান—এবং কোনো ঘটনা তাঁদেরকে একমাত্রিক সিদ্ধান্তে আসতে দেয় না। শিল্পীমাত্রেই কম-বেশি মেলাতে পারবেন, চাক্ষুষ ঘটনাবলীর চিত্র তাঁদের চোখে দৃশ্যমানের চেয়ে বেশিই ধরা দেয়। মজার ব্যাপার কী জানেন, প্রতিবাস্তব : দ্রোহ ও প্রেম সংকলনে যেমন ঘটে যাওয়া ঘটনাবলীর ছায়া আছে, তেমন অনেক আশঙ্কার কথা-ও আছে... যেগুলো এখন এসে ফলে যেতে দেখছি, বই প্রকাশের কয়েক মাস পর। HARSAMOHAN CHATTARAJ-এর 'তখন যেমন এখন তেমন' গল্পটা সরাসরি এই থিম নিয়ে, যে, সময় পাল্টালেও বাকস্বাধীনতা উন্নত হয় না, বিশেষত শিল্পীর বাকস্বাধীনতা। মাহাতাব রশীদের 'সলতে' গল্পটাতেও "বিগত শাসকের দমনযন্ত্র এখনো বিদ্যমান" বয়ান চোখে পড়েছে, এবং ইম্প্রেসিভলি, তিনি গল্পটা যখন লিখেছিলেন, ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর বা অক্টোবর মাসে, তখনো এই আশঙ্কাগুলো ততোটাও সবার চোখে পড়তো না।

প্রতিবাস্তবের তিন বছরের তিন থিম ধারাবাহিকভাবে দেখতে গেলে একটা উৎকর্ষ চোখে পড়ে। প্রথম ভল্যুম একটা মানসম্মত কমিক সংকলন, যেখানে আঁকা/গল্পের মান বেশ ভালো, বিষয় উন্মুক্ত। দ্বিতীয় বছরে, আগের মানগুলো ধরে রেখে, একটা নির্দিষ্ট থিমে বিভিন্ন জঁরায় লিখেছেন শিল্পীরা, তাতে করে পাঠকের এন্ড থেকে মিলেছে গল্প নিয়ে চিন্তার খোরাক। তৃতীয় বছরে যে থিম হাতে নিয়েছে প্রতিবাস্তব, তা আর আগের বছরের মতো বিমূর্ত না, বরং সবথেকে প্রবল বাস্তব। এবং একই সময়ে দুই বাংলায় রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট নিতান্ত শান্ত ছিল না... পশ্চিমবঙ্গও ছিল উত্তাল।

তো, প্রতিবাস্তব : দ্রোহ ও প্রেম বেশ দ্রুত পড়ে গেছি, কারণ গল্পগুলোয় যেসকল ঘটনার ছায়া পড়েছিল, সেসব কল্পনা করে নিতে হয়নি, সবার আগে চোখে পড়ার মতো এবং সবচেয়ে ছাপ ফেলে যাওয়া বিষয়গুলোই সামনে এসেছিল ঘুরেফিরে। এতে করে "পুনরাবৃত্তি"র অভিযোগ-ও উঠতে পারে পাঠকের কাছ থেকে। তবে শিল্পী কিসের দ্বারা আলোড়িত হবেন আর কীসের গল্প শোনাবেন, তা তাঁর হাতেই আমি ছেড়ে দিব।

যে জায়গায় পিছিয়ে পড়েছে এবারের প্রডাকশন, তা হলো সম্পাদনার অভাব। বিভিন্ন স্থানে সংলাপ ভুল ছাপা, এক পৃষ্ঠা দুইবার ছাপা, কালার থেকে সাদাকালোয় নেওয়ার কারণে ফাইনাল আউটকামে সব কালচে হয়ে যাওয়া... যত্নের অভাব এবং তাড়াহুড়ো চোখে পড়ার মতো।

এছাড়াও, প্রতি বছর যে দামে প্রি-অর্ডার হয়, তা হতো বেস্ট ডিল। সাথে দেওয়া মারচেন্ডাইজ, ফ্রি ডেলিভারি, এবং প্রি-অর্ডারকারীদের জন্য সারা বছরের সবচেয়ে সাশ্রয়ী মূল্যে প্রতিবাস্তব কেনার সুযোগ ছিল এই অব্দি ঘোষণা পাওয়ামাত্র নির্দ্বিধায় প্রি-অর্ডার করে ফেলার কারণ। কিন্তু এই বছর, প্রি-অর্ডারের (৭১০ টাকা) পর বইমেলা, ঈদ এবং বৈশাখে বিভিন্ন অফারে দাম নেমে এসেছে অর্ধেকে। তারপরেও যে ফায়দাগুলো আগে মোক্ষম মনে হতো, অর্থাৎ বক্স কাভার, স্টিকার, পোস্টার ইত্যাদি, সেসবও এইবার মনঃপুত হয়নি। বক্স ছিল না, স্টিকার পছন্দ হয়নি, পোস্টার যে কাগজে ছাপা হয়েছে তাতে মাঝে ভাঁজ পড়ে স্থায়ী দাগ হয়ে গেছে (আগেরগুলোয় পাতলা গ্লসি পেপারের জন্য সমান করার পর ভাঁজ অতটা চোখে পড়তো না)। যেসব হিসাব-পাতি করে বইমেলার মাসখানেক পর যেকোন বই কিনি, এতদিন প্রতিবাস্তব এর বাইরে ছিল তাদের প্রি-অর্ডারের বেস্ট ডিল দিয়ে। এবারের পর সে বিশ্বাসযোগ্যতা তাঁদের আর থাকছে না।

তারপরও, যেখানে তাঁদের উত্তরণ ঘটেছে গতবারের চেয়ে, তা হলো দুই বাংলার শিল্পীদের জড়ো করা। চার্বাক দীপ্ত, হর্ষমোহন চট্টরাজ, মনোজিৎ চট্টোপাধ্যায়, সুযোগ বন্দোপাধ্যায় প্রমুখ ভারতীয় শিল্পীরা এমন সব আর্ট স্টাইল সামনে এনেছেন আমাদের, বাংলাদেশে ছাপার পাতায় যেসব একদম নতুন। অন্যদিকে বাংলাদেশের মাহাতাব রশীদ, ফাহিম রেজওয়ান রাবিদ, মং সোনাই, আব্দুল্লাহ আল জুনায়েদ, অধরা পতত্রী প্রমুখ আর্টিস্টদের কাজও বেশ স্ট্যান্ড আউট করতে দেখেছি তাঁদের আগের কাজগুলো থেকে। এই দিক থেকে, এবারের ২৭২ পাতার ভল্যুম ছিল এক কথায় "চোখের শান্তি"!

ওভারঅল সব গল্প ভালোই ছিল। ভালো'র সাথে ই লাগাতে হচ্ছে কিছু গল্পে ঘটনার পুনরাবৃত্তির জন্য... কিন্তু কিছু গল্প এত এক্সট্রা-অরডিনারি, তাদের নিয়ে আলাদা আলাপ করতেই হয়।

শুরুতে, আদ্রিতা কবির-অধরা পতত্রী'র গল্প, বারান্দা একটা ছিমছাম সুন্দর আরম্ভ। জুলাই আন্দোলনের সবচে কষ্টদায়ক একটা ঘটনা এই গল্পের প্রাণ, তাকে দেখা হয়েছে ব্যাক্তিগত জায়গা থেকে। বড় মাপের ঘটনার ছোট ছোট ছাপগুলো মানুষের কাছে বসে দেখতে পারা ছোটগল্পের সার্থকতা—আর এই দুই শিল্পী খুব হৃদয়গ্রাহী একটা গল্প তৈরী করতে পেরেছেন। সহজ প্লট নিয়ে বেশ সুন্দর গল্প লিখেছেন আদ্রিতা, এবং অধরা'র আঁকা এইবার বেশ রিফ্রেশিং।

Charbak Dipta এমন একজন, যাঁকে ইংরেজিতে লিখতে আর আন্তর্জাতিক মাপে সেসব প্রকাশ করতেই দেখে এসেছি। তিনি যে বাঙালী, সম্প্রতি সুকুমারের হ য ব র ল নিয়ে কাজ করাতে তা জানা হয়। তাঁর কাজ বাংলাদেশি প্রকাশনায় দেখতে পাবো এটা ছিল আশাতীত... তদুপরি, যে রাতের ঘটনা এঁকেছেন তিনি, সেটা ছিল রুদ্ধশ্বাসে দেখার মতো একটা কিছু। "রাত দখল করো" আন্দোলন সারারাত ভিডিওকলে দেখেছিলাম সেদিন। মেয়েদের প্রতি এবং সবার প্রতি সমাজের চাপিয়ে দেওয়া একটা অযৌক্তিক 'স্বাভাবিকতা'কে প্রশ্ন করার যে দুর্বার সাহস, তা অবাক করেছিল। সুমিত সুরাইয়ের গল্প শুধু এই প্রশ্নবোধের ছোট্ট মুহূর্তটাকে ধরেছে, আর চার্বাকের আঁকায় হোক কলরব হয়েছে এই সংকলনের সবথেকে দৃষ্টিনন্দন একটা কাজ।

হর্ষমোহন চট্টরাজ যে আশঙ্কার গল্প বলেছেন, সে আশঙ্কায় বাঁচতে হয়েছে পতিত সরকারের আমলে। রাতে যেকোন মুহূর্তে দরজা ভেঙে যে কেউ ঢুকে পড়ে তুলে নিতে পারে, এবং সবথেকে আশঙ্কাজনক—সেটা করতে পারে রাষ্ট্রীয় বাহিনী, রাষ্ট্রীয় "বৈধতা" সেঁটে—এই শঙ্কায় যাঁদের পরিবার কাটিয়েছে, কেবল তারাই এর ভয়াবহতা আঁচ করতে পারবেন। এবং গল্পটা যেদিন পড়ছিলাম, ১০ এপ্রিলের দিকে, তখন একই ঘটনা আবারো ঘটে গেছে। সর্বোচ্চ গদিটা উলটে গেলেও কিছু ব্যাপার পালটায় না, এই বিষয় এক দেশের আর্টিস্ট এঁকেছেন আর অন্য দেশের পাঠক পুরোপুরি রিলেট করতে পারছেন অনেকদিন পরেও, কোনো আর্ট এরথেকে সার্থক কী করে হতে পারে?
অবশ্যই, (HARSAMOHAN CHATTARAJ)-এর আর্ট স্টাইল বেশ চোখে পড়ার মতো। উড-কাট মনে হয় দেখতে। উল্লেখ্য, পুরনো দিনের বাংলা বইয়ে উড-কাটের ছবি খুব প্রচলিত থাকলেও এখন প্রায় বিপন্ন।

আলো-কে ধাওয়া করার সুফি গল্প, এবং তার ভিন্নধারার ট্যুইস্টে মন ভরিয়েছে ফাহিম রেজওয়ান রাবিদ-এর চোখ ধাঁধানো আলো গল্পটা। নির্দিষ্ট এক "চেতনা"র দখলদারিত্বের বাস্তব গল্পটা সবার যাপিত ও জানা, তাই রাবিদের গল্পে আর যাচ্ছি না। বরং আলো-কে ধাওয়া করার সুফি গল্পটা সংক্ষেপে শুনিয়ে যাই~
মাছি-রা এসেছিল মথ রাজার দরবারে। তারাও মথের সম্মান চায়, কারণ তারাও উড্ডীন। মথের রাজা তাদের পরীক্ষা দিলেন : যাও, আলো খোঁজো। আলো খুঁজে ফিরে এসো দরবারে, যদি মথ হতে চাও। দলবলে সব মাছি বেরিয়ে পড়লো আলোক সন্ধানে, পৃথিবীব্যাপী যতখানে আছে আলো, কুপির আলো, চুলার আলো, শ্মশানের আগুন, দাবানল... সারাদিন শেষে উড়ে ফিরে এলো দরবারে। খতিয়ান জানালো, "দেখলাম, সবিস্তারে আলোর সম্ভার..." শুনে মথ-রাজা হাসলেন। "ফিরে এলে? আলো দেখে ফিরে এলে? ঠিক এইজন্যেই তোমরা মথ হতে পারবে না। কারণ মথ, সে আলোকের সন্ধান পাওয়ামাত্র আর নিজস্বতায় থাকে না, বিলীন হতে চায় আলোকে, হারায়, আর ফেরে না..."

চোখ ধাঁধানো আলো এমন কোনো জায়গা থেকে শুরু। রাবিদের আঁকা অপ্রতিম।

Mong Shonie-কে ছাপার পাতায় প্রথম দেখলাম এইবার একাত্তরের আরেকটি গল্প নিয়ে। ফেইসবুকে তাঁর আঁকা দেখতাম, এবার বইমেলায় তাঁর আঁকা পোস্টারে ডেকোরেশন হয়েছে, তবে তাঁর কমিক এই প্রথম পড়া হলো। কুয়াকাটায় এক রাখাইন পরিবারের চোখে একাত্তর-কে দেখিয়েছেন তিনি। গল্প সামান্যই। এই গল্পটা আমার পূর্ব পুরুষদের সাথেও ঘটেছিল। অসীম কাল বনে-পুকুরে-বাঙ্কারে ঘাঁপটি মেরে প্রাণ বাঁচানো অধিকাংশ গ্রামীণ মানুষের জীবনে এই গল্পটা কমন। এবং উল্লেখযোগ্য।

এই সংকলনে যে গল্পটার কথা সবচে বেশি বলবো, তা হলো যুনায়েদ-ইরামের লাশের মিছিল। zootopia মুভি অথবা Maus কমিক দেখেছেন যাঁরা, তাঁরা Zoomorphism বুঝবেন। সংকলনের যেসব গল্প সরাসরি জুলাই অভ্যুত্থানের সময়ের প্রেক্ষাপটে লেখা হয়েছে, তার মাঝে এইটা আমার কাছে সবথেকে শক্তিশালী মনে হয়েছে; অন্যদিকে জুমরফিক আর্ট গল্পটাকে প্রাণ দিতে সক্ষম হয়েছে বেশি। সাধারণ মানুষকে ইঁদুর অথবা বিড়াল, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে কুকুর, সরকারের হেঞ্চম্যানদের হায়েনা আর সর্বোচ্চ স্বার্থভোগীদের শুকর রূপে আঁকা হয়েছে... এবং ওই ছুটন্ত সময়টায় কেমন দিশেহারা অবস্থা ছিল রাস্তায় থাকা মানুষের, সেটা দারুণ ফুটিয়েছেন শিল্পীরা।

Mahatab Rashid-এর সলতে গল্পটা এর আগে পড়েছিলাম ১ - রক্তে লেখা বিপ্লব বইয়ে, রঙিন। গল্পটা কেবল নামের জন্যই আমার অনেক পছন্দের।
চব্বিশের পুরো জুলাই, ল্যাপটপের সামনে নির্ঘুম-আধোঘুমে কাটাবার পর অগাস্টে যখন নিজের জেলায় বন্যা, অন্যদিকে নিরাপত্তার বেহাল দশা, ক্লান্তি ছাড়া আর কিছু ছিল না অস্তিত্বের মাঝে। ক্লান্তি নিয়ে এক বন্ধুকে বলেছিলাম, "করে যাওয়া ছাড়া এখন জ্যান্ত থাকার আর কোন অর্থ নাই। আমরা সবাই সলতে।" বন্ধু পরে দুই লাইন জুড়েছিল, যেটা দেখে এমন ভেঙে-পড়া-ক্লান্তিতেও মুখে হাসি ফুটেছিল : " অন্ধকারের বন্ধনীতে / জন্ম মোদের জ্বলতে "
মাহাতাব এক সলতে'র হয়ে গল্প বলেছেন, আপন বুকের পাঁজর জ্বালিয়ে নিয়ে একলা চলা যার এতদিনকার প্রত্যয়। সময় পালটায়, অন্ধকারের বন্দীশালা ভেঙে বেরিয়ে আসে সলতে। কিন্তু সময় কী আসলেই পালটায়? গত শাসকের all-seeing-eye কেন আকাশে এখনো জাজ্বল্যমান? চব্বিশের নভেম্বরে এই গল্পটার দ্বিতীয় অঙ্ক পড়ে মেলাতে পারছিলাম না। পঁচিশের এপ্রিল, এখন অনেকটাই পারছি।
Profile Image for Wasim Mahmud.
357 reviews29 followers
April 8, 2025
দ্রোহ ও প্রেম কখন‌ও কখন‌ও সমার্থক হয়ে ওঠে। দ্রোহের মাঝে প্রেম লুকিয়ে থাকে। আবার প্রেম বিষয়টা এক ধরণের দ্রোহ-ই। প্রতিবাস্তবের তৃতীয় কিস্তির 'দ্রোহ ও প্রেম' থিমে ঢাকা কমিক্স দুই বাংলার গল্প নিয়ে এসেছে। এক ঝঞ্ঝাবিক্ষুব্ধ সযয়কে ধারণ করার প্রচেষ্টার দেখা পাওয়া যায় এ সংখ্যায়।

১) বারান্দা - আদ্রিতা কবির / অধরা পতত্রী

২০২৪ সালের জুলাই মাসে চিরতরে হারিয়ে ফেলা‌ একজনকে নিয়ে অনীশের স্মৃতিচারণ প্যানেল থেকে প্যানেলে ঘুরে বেরিয়েছে এ গল্পে।‌ হেলিকপ্টার থেকে ছোড়া গুলির শিকার অনেকের‌ কথা-ই মনে পড়ে জুলাই অভ্যুত্থানকালীন সময়ে।

২) হোক কলরব - চার্বাক দীপ্ত / সুমিত সুরাই

কলকাতায় সেই রাতের মিছিলের গল্প, যেখানে বাবার কথা অমান্য করে ধর্ষণের প্রতিবাদে নেমে পড়ে মাম্পি। "লোকে কী বলবে?" না শুনে এক উত্তাল রাতে নারীপুরুষের প্রতিবাদের ক্ষুদ্র এ আখ্যান ভালো লেগেছে।

৩) খুঁজে পাবো না - তেরেসা ভূঁঞা / মেহেরাব সিদ্দিকী সাবিত

জুলাই আন্দোলনের সময় তাহসানের মাঝে সৃষ্ট হ‌ওয়া আলোর প্রতি দুর্বলতা, কিছুটা হ্যালুসিনেশন, স্বৈরাচারের পতন, মাঙ্গা স্টাইলে শিল্পী সাবিত অঙ্কন করেছেন তবে সম্পাদনার খারাপ অবস্থা না বলে পারছি না। ৪২ পৃষ্ঠায় সংলাপ কেটে গেছে। ৪৪ এবং ৪৯ পৃষ্ঠায় পৃষ্ঠাসংখ্যা ঢেকে ফেলেছে সংলাপকে। এরকম খারাপ এডিটিং আসলে হতাশ করেছে।

৪) চোখ ধাঁধানো আলো - ফাহিম রেজ‌ওয়ান‌ রাবিদ

তীব্র আলো আসলে ভয়ংকর অন্ধকার-ই। অন্ধ আনুগত্যে চোখ ধাঁধিয়ে গেলে কী হতে পারে তা ফাহিম রেজ‌ওয়ান রাবিদ সাবটেক্সটে চমৎকার করে দেখিয়েছেন।

৫) তখন যেমন এখন তেমন - সৌরভ দত্ত / হর্ষমোহন চট্টরাজ

সরকার পাল্টায় কিন্তু শিল্পী স্মিতার মত প্রকাশের স্বাধীনতা রোধ করা চলতেই থাকে। কঠিন এক বাস্তবতায়, যেখানে আমরা বাস করি, লেখক ও শিল্পীর টিময়োর্কে ‌উন্মোচিত হয়েছে।

৬) সেইফ হাউজ - রেদ‌ওয়ান আহমেদ আরাফ / জাওয়াদ মাহমুদ রাতিন

বিদ্যুৎ নিয়ে গণবিরোধী চুক্তির সমালোচনা করায় অ্যাজেন্সির হাতে সাংবাদিক সাইদ হকের জিম্মি ও মহাবিপদের গল্প বলা হয়েছে এখানে। রাষ্ট্র বিভিন্ন সময়ে যেসব অন্যায্য, অমানবিক চুক্তি করে সেসবের শুলুকসন্ধানে ব্যাপৃত সাংবাদিকদের সাথে কী হতে পারে সেই দুর্ভাগ্যজনক ঘটনাই 'সেইফ হাউজ'এ চলে এসেছে। ইন্টেন্স অঙ্কন, সুন্দর গল্পকথন মিলে ভালো লেগেছে।

৭) বাবাইয়ের জানালা - মনোজিৎ চট্টোপাধ্যায় / সুরাজ দাস

পাখির ডানা ভেঙে গেলে যেভাবে আবার গজায়, পায়ের পাতাহীন বাবাইয়ের কী গজাবে পায়ের পাতা? সারাদিন ঘরে আঁটকে থাকা বাবাইয়ের স্বপ্ন একদিন তাঁর ডানা গজাবে। পাখিরা তাকে সাহায্য করতে চায়। এক হৃদয়গ্রাহী গল্প পড়া হলো।

৮) টু-লেট - সৌন্দর্য ধারা

বাসা টু-লেট দেয়া যায়। মনটাকে কি দেয়া যায়? ধ্রুব এসে উঠে বাড়ি‌ওয়ালা মায়ার 'টু-লেট' সাইনবোর্ড উঠিয়ে দিয়ে। তাদের মাঝে সুন্দর বন্ধুত্ব‌ও হয়। সৃষ্টি হয় হৃদ্যতার আকাঙ্ক্ষা। কিন্তু কিছু মানুষের যেন নিজের তেমন কিছুই নেই। কেউ পালিয়ে বেড়ায়, মুক্তি চায়। আবার কেউ শুধু 'টু-লেট' সাইনবোর্ড টাঙ্গিয়ে দিতে থাকেন। গল্পটা মনকে বিষাদগ্রস্ত করে তুলতে পারে।

৯) একাত্তরের আরেকটি গল্প - মং সোনাই

কুয়াকাটার রাখাইনপল্লীতে অনুষ্ঠিত নৃবৈজ্ঞানিক গবেষণায় উঠে আসা একজন বৃদ্ধার বয়ান অবলম্বনে বলা এ গল্প। সংসারের ছোট মেয়ে মাহ্লা কুয়াকাটার নাইওরি পাড়ায় থাকতো। ১৯৭১ সালে পাক হায়েনাদের নারকীয় খপ্পড় থেকে বাঁচতে মা-বোনসহ কলাগাছের বনে লুকিয়ে ছিলো মাহ্লা। সেখানে রক্তচোষা জোঁকের কামড় সহ্য করেও নিশ্চুপ থাকতে বাধ্য হয়েছিলেন তারা। পরবর্তিতে দেশ স্বাধীন হলেও সেই কলাগাছবনের একটা বিষয় অপরিবর্তিত রয়ে যায়।

১০) জিলিপির মতো রাস্তা - সুযোগ বন্দ্যোপাধ্যায়

একজন টুলু ধরের সাথে শৈশব, কৈশোর থেকে ক্রমাগত সমাজের মূলস্রোতের অন্যায়-অত্যাচারের স্টিম রোলার চলতে চলতে এক সময় সেই টুলুই পরিণত হয় অন্য এক মানুষে। আমাদের সমাজ ব্যবস্থার তৈরি করা এক অপরাধীর মর্মস্পর্শী গল্প এটি।

১১) এ পৃথিবী একবার পায় তারে - নাতাশা জাহান / ফাতিমা তানজুম তুবা

বিষণ্ন এক নারীর বিপ্লবে জড়িয়ে যাওয়া ছাড়াও তাঁর পলায়নপর মানসিকতার সাথে বসবাস, দুঃস্বপ্ন, ভিত হয়ে থাকাকে অতিক্রম করে জনমানুষের কাতারে ঝুঁকি গ্রাফিতি অঙ্কনের গল্পকথন হয়েছে এখানে। গল্প / অঙ্কন এক কথায় চমৎকার।

১২) লাশের মিছিল - আবদুল্লাহ আল যুনায়েদ / আলভী আশরাফ ইরাম

বিড়াল, কুকুর, শুয়োর এসব প্রাণীকে চরিত্র হিসেবে এনে জুলাই গণ‌অভ্যুত্থানের একটা চিত্রগল্প তৈরি হয়েছে 'লাশের মিছিল'এ। অঙ্কন দুর্দান্ত।

১৩) সলতে - মাহাতাব রশীদ

মহাপরাক্রমশালী রাজার পতন হয়েছে। তবে রক্তচক্ষু আছে আজো। সলতে জ্বালানো, আলো ছড়িয়ে দেয়া, সেই আলোয় সবাইকে হাসতে, গাইতে অনুপ্রাণিত করা একজন আবার ফিরে এসেছে। হয়তো সেই সলতে কৃত্রিম আলোর পরিবর্তে সত্যিকারের আলো একদিন নিয়ে আসবে। সলতে প্রজ্জলকারী পরিবর্তিত হয়ে। ম্যান্টল চলে যায় আরেকজনের হাতে। কথার ফাঁকের কথায় সুন্দর অঙ্কনে, ভালো গদ্যে মাহাতাব রশীদ রচিত 'সলতে' ভাবায়, ভাবাবে অনেক সচেতন মানুষকে।

১৪) স্প্লিন্টার - সুদীপ্ত সম্ভা

জুলাই কোটা বিরোধী আন্দোলন বৈষম্যবিরোধীতে পরিণত হ‌ওয়া এবং শেষ পর্যন্ত সরকার পতনে একজন আপাতদৃষ্টিতে ব্যর্থ মানুষের অংশগ্রহণ এবং আন্দোলনপরবর্তি হতাশা যেন তাঁর‌ মনের মাঝে 'স্প্লিন্টার'এর মতো বিধে আছে শেষ পর্যন্ত।

'প্রতিবাস্তব সংকলন ২০২৫' যেখানে থিম 'দ্রোহ ও প্রেম'এ এক উত্তুঙ্গ সময়কে ( দুই বাংলায় ) দেখা হয়েছে শিল্পীর চোখে। এ ধরণের সংকলন গুরুত্বপূর্ণ কেননা গ্রাফিক নভেল / কমিক্স একটি দরকারি মিডিয়াম।

কিন্তু এই সংকলনের সম্পাদনা, প্রুফ রিডিং ও প্রোডাকশন কোয়ালিটি আমাকে হতাশ করেছে। ব‌ইয়ের জায়গায় জায়গায় এক পৃষ্ঠা আরেকটির সাথে এটে থাকা, অনেক সংলাপ কেটে যাওয়া, পৃষ্ঠা সংখ্যা দিয়ে সংলাপ ঢেকে দেয়া, অনেক জায়গায় প্যানেল আগের পেইজের সাথে এটে যাওয়ায় ঠিকমতো বুঝতে না পারার ঝামেলাটা ব‌ইজুড়ে একটু বেশি-ই ছিলো। ঢাকা কমিক্সের এরকম খারাপভাবে এডিটেড সংকলন আমি আগে পড়িনি। আশা করছি ভবিষ্যতে এ ক্রুসিয়াল বিষয়ে হেলাফেলা করবে না প্রিয় এই কমিক্স প্রকাশনী।

‌ব‌ই রিভিউ

নাম : প্রতিবাস্তব কমিকস সংকলন ২০২৫ ( দ্রোহ ও প্রেম )
সম্পাদক ও প্রকাশক : মেহেদী হক
নির্বাহী সম্পাদক : মাহাতাব রশীদ
প্রচ্ছদ : মাহাতাব রশীদ
বুক ডিজাইন : সাফায়েত সাগর
প্রথম প্রকাশ : ফেব্রুয়ারি ২০২৫
রিভিউয়ার : ওয়াসিম হাসান মাহমুদ।
Profile Image for Azha.
1 review
April 2, 2025
কিছু না। শুধু সলতে।
Displaying 1 - 4 of 4 reviews

Can't find what you're looking for?

Get help and learn more about the design.