সমাজতন্ত্রের এবং শ্রেণী সংগ্রামের সহজ পাঠ বলা যায় বইটিকে।
লেখক প্রায় হাতে ধরে ধরে শ্রেণী বৈষম্য এবং শ্রেণী সংগ্রাম বুঝিয়ে দিয়েছেন। কিভাবে দেশী বুর্জোয়া এবং বিদেশী সাম্রাজ্যবাদ সাধারণ মানুষদের শোষণ করে এবং মিডিয়া কিভাবে সাধারণ জনগণের কাছে শোষণগুলোকে সাধারণীকৃত হিসেবে প্রদর্শন করে তারও কিছুটা উল্লেখ্য রয়েছে।
রাজনৈতিক দলগুলো ধনীদের হয়ে কাজ করে, বুর্জোয়াগণদের আরও বড় বুর্জোয়া হতে সাহায্য করে, রাষ্ট্র একটি সমষ্টিগত সংগঠন হয়ে এবং নির্বাচিত সরকার রাষ্ট্রের ম্যানেজার হয়ে কিভাবে ধনীদের শ্রেণী স্বার্থ রক্ষা করে তারও সহজ ব্যাখা রয়েছে।
মেহনতি জনগন, শ্রমিক, কৃষকদের মাঝে আরও বেশি রাজনৈতিক চেতনা এবং রাজনৈতিক সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে। তাদের রাজনৈতিক দল গঠন করতে হবে যেটাতে মধ্যবিত্তের লোকদের, ছাত্র, সাংস্কৃতিক কর্মীদেরও অংশগ্রহন নিশ্চিত করতে হবে।
এরপর, গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে বুর্জোয়াদের উচ্ছেদ করতে হবে, প্রতিষ্ঠা করতে হবে সমাজতন্ত্র, যেখানে কোনো শ্রেণী বৈষম্য থাকবেনা। ঠিক এভাবেই সংখ্যাগুরু গরীব মানুষদের অধিকার আদায় সম্ভব।
আমার কাছে মনে হয়েছে বইটি বেশি মাত্রায় সমাজতন্ত্রের গুনগান গাইতে গাইতে, তিতা বানিয়ে ফেলেছে। এমনভাবে দেখানো হয়েছে যে কমিউনিজম প্রতিষ্ঠা হলেই আমরা ইউটোপিয়াতে চলে যাবো। কিন্তু কমিউনিস্ট দেশে যে একনায়কতন্ত্র, স্বৈরতন্ত্র, এক শ্রেণীর মানুষের শুধু পার্টির লোকদের অতিরিক্ত সুবিধা দেবার প্রবনতা গড়ে উঠে, সেগুলো উল্লেখ্য করলে আবার সেই ইউটোপিয়া ধূলিসাৎ হয়ে যাবে।