Jump to ratings and reviews
Rate this book

মুক্তি কোন পথে

Rate this book

57 pages, Hardcover

First published February 1, 1994

2 people are currently reading
14 people want to read

About the author

Badruddin Umar

92 books34 followers
Umar received his MA in Philosophy from Dhaka University and his BA Honors degree in PPE (Philosophy, Politics and Economics) from Oxford University. Umar began his academic career as a teacher at Dhaka University on a temporary basis. In 1963, he joined Rajshahi University as the founder-chair of the Political Science department. He also founded the department of Sociology at the same university, but he resigned from his university positions during the hostile times of the then East Pakistan governor Abdul Monem Khan to become increasingly more active and engaged as a full-time leftist political activist and public intellectual to fight for the cause of oppressed peasants and workers in Bangladesh.

As a follower of Marxist-Leninist principles, Umar began writing anti-colonial articles from the 1970s. In the 1960s he wrote three groundbreaking books––Sampradayikata (Communalism, 1966), Sanskritir Sankat (The Crisis of Culture, 1967), and Sanskritik Sampradayikata (Cultural Communalism, 1969)––that theorize the dialectics of the political culture of ‘communalism’ and the question of Bengali nationalism, thus making significant intellectual contributions to the growth of Bengali nationalism itself. In 1969, Umar joined the East Pakistan Communist Party (Marxist-Leninist), and from February 1970 to March 1971, Umar edited the mouthpiece of the East Pakistan Communist Party––Saptahik Ganashakti—which published essays and articles about the problems and prospects of the communist movement in Pakistan. He was president of both Bangladesh Krishak Federation (Bangladesh Peasant Federation) and Bangladesh Lekhak Shibir–the country’s oldest organisation of progressive writers, intellectuals, and cultural activists.

Ratings & Reviews

What do you think?
Rate this book

Friends & Following

Create a free account to discover what your friends think of this book!

Community Reviews

5 stars
1 (14%)
4 stars
1 (14%)
3 stars
3 (42%)
2 stars
1 (14%)
1 star
1 (14%)
Displaying 1 - 4 of 4 reviews
Profile Image for Muhammad .
152 reviews12 followers
August 1, 2017
আমাদের প্রচলিত সমাজ ব্যবস্থায় অনেকগুলো শ্রেণীগত বিভাজন আছে। পরিচয় পত্রে নামের পাশে ‘পেশা’র ফাঁকা জায়গাটায় মানুষ ব্যক্তিভেদে ‘ছাত্র’, ‘রাজনীতিক’, ‘শ্রমিক’, ‘কৃষক’, ‘ব্যবসায়ী’ ইত্যাদি লিখে পূরণ করে। এদের সবার সামাজিক অবস্থা ও মর্যাদা এক নয়, সবার সামাজিক সুবিধাগুলোও সমান নয়। এত সব শ্রেণীবিভাজনের বেড়াজাল থেকেও পৃথিবীর বেশীরভাগ মানুষকে মোটামুটি দুই ভাগে ভাগ করে ফেলা যায়! মালিক ও শ্রমিক। এক দল মানুষ নতুন নতুন কারখানা বানিয়ে তাতে টাকা খাটিয়ে দ্বিগুণ-চতুর্গুণ টাকা বানিয়ে আনছে, আরেক দল মানুষ এইসব কারখানায় উদয়াস্ত খেটে ন্যুনতম মজুরি পেয়ে হৃৎপিণ্ডের রক্ত সরবরাহের প্রক্রিয়াটিকে কোনমতে টিকিয়ে রেখেছে। সমাজের এই দুই শ্রেণীর মানুষের সম্পূর্ণ বিপরীতমুখী এই কাজের ধারা শুধু আজকের দিনেরই কোন ঘটনা নয়। কৃষিকাজ ও ক্রীতদাস প্রথার মাধ্যমে মানবসভ্যতায় অর্থনীতির সূচনা। এরপরের কয়েক হাজার বছরের ইতিহাস শুধুই শ্রমিক ও মালিক-এই দুই শ্রেণীর মানুষের পারস্পরিক টানাপোড়েন এর সম্পর্কের ইতিহাস, কেতাবী ভাষায় যাকে বলে ‘বুর্জোয়া (ধনিক শ্রেণী)-প্রলেতারিয়েত (মেহনতি শ্রেণী) শ্রেণী সংগ্রাম’। কারখানার মালিকেরা সব যুগেই শ্রমিকদের সবচেয়ে কম পয়সায় সবচেয়ে বেশী খাটিয়ে দরকারী কাজটুকু আদায় করে নিয়েছে; জমিদারেরা যেমন একইভাবে খাটিয়ে গেছে তাদের জমিতে বর্গা নেয়া কৃষকদের। এক পক্ষীয় নিষ্পেষণ আসলে খুব বেশী দিন চলতে পারেনা। এক সময় শ্রমিক-কৃষকরা তাদের অধিকার আদায়ের জন্য সোচ্চার হল। অর্থনীতি ও দর্শন শাস্ত্রের নতুন নতুন শাখা উদ্ভাবিত হল। ১৮৪৮ সালে কার্ল মার্ক্স ও ফ্রিড্ররিখ এঙ্গেলস ধারণা দিলেন ‘বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্রের’। এ এক নতুন সমাজ যেখানে মুনাফা ভোগকারী কোন শ্রেণীর অস্তিত্ব থাকবেনা। সমাজের যে কোন অংশের উন্নতি অন্য অংশগুলোকেও উন্নত করে তুলবে, কোন অর্থনৈতিক প্রতিযোগিতা থাকবেনা, থাকবেনা ব্যক্তিবিশেষের মালিকানাধীন কোন কারখানা। ‘ব্যবসায়ী’, ‘চাকুরে’, ‘ছাত্র’, ‘শ্রমিক’, ‘মেথর’, ‘অর্থনীতিবিদ’-ইত্যাদি পরিচয়গুলোর মাঝের মর্যাদার পার্থক্য বিলীন হয়ে যাবে। পুরো পৃথিবীর শ্রমিক সমাজে সমাজবাদ অত্যন্ত সাদরে গৃহীত হবে, এটাই স্বাভাবিক। এই গ্রহের অনেক রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক হিসেব-নিকেশকেই এলোমেলো করে দিয়েছিলো মার্ক্স-এঙ্গেলস এর এই ধারণা। ভ্লাদিমির লেনিনের রাশিয়াতে সমাজবাদ প্রতিষ্ঠিত হয়েছিলো, হয়েছিলো মাও সে তুং এর চীনেও। দক্ষিণ আমেরিকাতেও আছে সমাজবাদ। বাংলাদেশ-ই বা বাদ থাকবে কেন? বিগত দশকগুলোতে সমাজবাদ প্রচণ্ড জনপ্রিয়তা পেয়েছিলো বাংলাদেশেও। আমাদের দেশের বহু বুদ্ধিজীবী-লেখক-দার্শনিক সমাজবাদের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়েছিলেন গভীরভাবে। তাঁরা অনুপ্রাণিত করতে চেয়েছেন অন্যদেরও। কৃষক শ্রমিকদের অধিকার আদায়ের মহান উদ্দেশ্যে লেখালেখি করেছেন বিস্তর। বদরুদ্দীন উমর এই ঘরানার-ই একজন। তাঁর ‘মুক্তি কোন পথে’ (১৯৯৪) বইটি লেখা হয়েছে স্বল্প শিক্ষিত শ্রমিক-কৃষক ও স্কুল পর্যায়ের ছাত্র-ছাত্রীদের উদ্দেশ্য করে, সমাজবাদের প্রাথমিক পাঠ হিসেবে।

বইটির শুরু বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী কালীন রাজনৈতিক অবস্থার বিবরণী দিয়ে, যেখানে ক্ষমতায় আসা রাজনৈতিক দলগুলোর খেটে খাওয়া মানুষদের অধিকার আদায়ে অপারগতা ও অনিচ্ছার কথা এসেছে। বইয়ের প্রথম বাক্যটিই বেশ কৌতূহলোদ্দীপক-“১৯৭১ সালে আমাদের দেশে একটা যুদ্ধ হয়েছিল। এই যুদ্ধকে বলা হয়ে থাকে মুক্তিযুদ্ধ।” বাংলাদেশের মানুষদের কাছে মুক্তিযুদ্ধের পরিচয় এমন ভাবে দেয়া যায় কখনো ভাবিনি! যেহেতু বদরুদ্দীন উমর বইটি লিখেছেন একেবারেই স্বল্পশিক্ষিত শ্রমিকদের উদ্দেশ্য করে, তিনি হয়তো ধরেই নিয়েছেন এই শ্রেণীর পাঠকেরা মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে খুব একটা ওয়াকিবহাল নন। এ ধরণের সূচনা প্রথমেই মনে একটি প্রশ্ন দাঁড় করিয়ে দেয়-যে স্বল্পশিক্ষিত বাংলাদেশী পাঠককে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সংজ্ঞা এক বাক্যে শিখিয়ে বই রচনা করতে হয়, সে পাঠককে সমাজবাদ, সাম্রাজ্যবাদ, পুঁজিবাদ, শ্রেণী সংগ্রাম, অর্থনৈতিক কাঠামো, প্রলেতারিয়েত শাসন-ইত্যাদি ভারী বিষয়গুলো ৪৮ পাতায় কি ভাবে বোঝানো যায়? কার্যতই বদরুদ্দীন উমর সেটি একেবারেই পারেননি!

বইটির সবচেয়ে বড় দুর্বলতা বইটির দৈর্ঘ্য। বদরুদ্দীন উমর দরিদ্রদের ওপর চালানো ধনিকশ্রেণীর নানা ‘ভাঁওতাবাজি’ ও কূটচালের কথা বার বার উল্লেখ করেছেন কিন্তু ধনিকশ্রেনী কি করে তাদের পকেট ভারী করার এই পরিকল্পনাগুলোকে বাস্তবায়িত করে তার কোন উল্লেখ তাঁর বইতে নেই, নেই অর্থনৈতিক কাঠামোর কোন আলোচনাও। টাকার হাতবদল কি করে ঘটে, মুদ্রাস্ফীতি কেন হয় সেগুলোরও কোন ব্যখ্যা নেই। “ধনী লোকদের জীবন কেমন”- এই আলোচনায় উমর লিখেছেন, “সমাজের যে শেকলের কথা ওপরে বলা হলো, সে শেকলে যারা বন্দী নয় তারা হলো আমাদের দেশে সবরকম ধন সম্পদ ও সম্পত্তির মালিক। তাদের আছে অনেক জমি, বড়ো বড়ো ঘরবাড়ী, শিল্প কারখানা, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। ব্যবসা ও শিল্প উৎপাদনের নামে তারা দুর্নীতি ও লুটতরাজ করে কোটি কোটি টাকার মালিক হয়। তারা চাকরী করে বড়ো বেতনের, বেতন ছাড়াও তাদের আছে অনেক সুবিধা।। অল্প ভাড়ায় থাকার বাড়ী, বিনা খরচে গাড়ী, আসবাবপত্র এবং আরও অনেক কিছু। তাদের ছেলেমেয়েদের শিক্ষা এবং পরিবারের লোকজনদের চিকিৎসার জন্য তারা সহজেই খরচ করে অগাধ টাকা”-এত গৎবাঁধা, প্রাণহীন ও তথ্য অভাবে নগ্ন লেখায় এত অল্পেই যদি পৃথিবীতে চলমান ব্যবসায়িক কূটচাল ও নোংরামিগুলো ব্যখ্যা করে দেয়া যেতো, তাহলে প্রলেতারিয়েত জাগরণ ও মুক্তি বহু আগেই ঘটে যেতো। অর্থনৈতিক কাঠামোর চুলচেরা বিশ্লেষণ ছাড়া এসব বিষয় শুধু শুষ্ক কথায় বলে গেলে তা কোন অর্থ বহন করে না। ধন সম্পদ ও সম্পত্তির মালিকদের কি করে অনেক জমি হয়, কেমন করে ব্যবসার নামে দুর্নীতি চলে এসবের বিশ্লেষণের ধারে কাছেও উমর যাননি। ধনিক শ্রেণী দরিদ্রদের ক্রমশ মার দিয়ে পকেট ভারী করে যাচ্ছে, এটি সর্বজনবিদিত একটি বিষয়। “প্রতিটি ঐশ্বর্য্যের পেছনে আছে একটি অপরাধ”-অনার দি বালজাক ১৫০ বছর আগেই বলে গেছেন। দারিদ্র্যের কাছে পরাজিত হওয়া মানুষগুলো দিনশেষে ধনীদেরই গাল পাড়ে। কিন্তু বুর্জোয়া সমাজের যে হাতিয়ারগুলোর ব্যবহারে তাদের পরাজয় ঘটছে তা শিক্ষার ও জ্ঞানের এত স্তরে ঢাকা পড়া থাকে, সেগুলোর ওপর বিশ্ববিদ্যালয় ও অর্থনৈতিক সংগঠনগুলোর এত গবেষণা পত্র আছে, পুরোপুরি ব্যাখা করে না বললে কারো পক্ষেই তা বুঝে ওঠা সম্ভব নয়। ৪৮ পাতার বইতে স্রেফ ‘বড়লোকেরা খারাপ” -এই বিশ্বাস মনে ঢুকিয়ে দেয়ার চেষ্টা করলে তা বরং সমাজে অশান্তিই তৈরী করবে। যদি দরিদ্রদের অবস্থার উন্নতি ঘটাবার জন্য বই লেখবার প্রয়োজনীয়তাই অনুভব করেন কেউ, তাহলে তা বিস্তারিত হওয়াই বাঞ্চনীয়। সাদা কথায় স্রেফ সারাংশ বলে গেলে তাতে লেখকের উদ্দেশ্যের সততাই বরং প্রশ্নবিদ্ধ হয়।

ব্যক্তিগত ভাবে আমি মনে করিনা সমাজবাদ দারিদ্র্যের কোন সমাধান হতে পারে। রহিমের উন্নতি করিমও সমানভাবে উপভোগ করবে-এটি আমার কাছে অযৌক্তিক এবং অসম্মানজনক বলে মনে হয়। একটি সমাজকে টিকে থাকতে হলে তাতে শ্রেণীগত পার্থক্যের স্তরবিন্যাস থাকতেই হবে। লেনিনের সমাজবাদ আজ ভেঙ্গে টুকরো টুকরো হয়ে গেছে। মাও সে তুং এর সমাজবাদ চীনের অর্থনীতিকে ভয়ানক হ��মকির মুখে ঠেলে দিয়েছিলো (মাও এর নির্দেশে সমাজবাদী চীনের সকল শিক্ষক, ব্যাংকার, অর্থনীতিবিদদের চাকরী থেকে ছাড়িয়ে সে জায়গায় নিয়োগ দেয়া হয়েছিলো অশিক্ষিত কৃষক-শ্রমিকদের। মাও এরপর নির্দেশ দিয়েছিলেন দেশের প্রত্যেক নাগরিককে ঘরের পেছনে উনুন বানিয়ে ধাতব সকল পণ্য, চামচ থেকে শুরু করে আলমারি, গলিয়ে ফেলতে, স্টেইনলেস স্টিল বানাবার আশায়! ফলাফলটা হাস্যকর ছিলো, বলা বাহুল্য)। এই বইতে উমর গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার বাংলাদেশে সামরিক ব্যয় অত্যাশ্চার্যরকম বেশী ও তা সম্পূর্ণ অপ্রয়োজনীয় বলে মন্তব্য করেছেন। সমাজবাদীরা ক্ষমতায় এলে এ ধরণের খরচ বন্ধ হয়ে যাবে বলে উমর আশাবাদও ব্যক্ত করেছেন। তাঁর মতে-“...কাজেই সমাজতন্ত্রীরা এ ধরণের খরচ বন্ধ করবে এবং এই খরচ বন্ধ করে যে বিশাল অর্থ ও সম্পদ সরকারের হাতে আসবে সেই অর্থ তারা দেশের অর্থনৈতিক উন্নতি এবং জনগণের উন্নতির জন্য খরচ করবে। সামরিক বাহিনীর প্রয়োজন তারা মেটাবে দেশপ্রেম ও স্বাধীনতা রক্ষায় উদ্বুদ্ধ জনগণকে অস্ত্র ব্যবহারে শিক্ষিত করে ও তাদেরকে প্রয়োজনীয় পরিস্থিতিতে অস্ত্রে সজ্জিত করে।” ইতিহাস ঘাঁটলে মানবজাতির যে চারিত্রিক পরিচয় পাওয়া যায়, তাতে সমাজবাদী, পুঁজিবাদী, ধর্মবাদী, সাম্রাজ্যবাদী-সকল বাদের মানুষদেরই লোভের প্রকারটা একই রকম দেখি। শুধু বুর্জোয়ারা খারাপ, প্রলেতারিয়েতরাই ভালো-এটি অর্থহীন দাবী। সম্প্রতি ঘটে যাওয়া নারায়ণগঞ্জের সাত হত্যার মূল হোতা রাতারাতি কোটি টাকার মালিক বনে যাওয়া আইন শৃঙ্খলা বাহিনীকে পকেটে পুরে ফেলা নূর হোসেন প্রথম জীবনে সেই প্রলেতারিয়েত সমাজের প্রতিনিধি-ই (বাস শ্রমিক) ছিলো। সমাজবাদ নামের কোন পরশপাথর রাতারাতি বৈপ্লবিক পরিবর্তন নিয়ে আসবে এমন কোন সম্ভাবনা সুদূর ভবিষ্যতেও দেখিনা।

সমাজবাদের আদর্শগুলো শুনতে দারুণ শোনায়, সন্দেহ নেই। তবে এটির বাস্তব প্রয়োগ খুব সম্ভাব্য কিছু নয়, অন্তত এখন পর্যন্ত। যদি সত্যিই সমাজের এক অংশের উন্নতি অপর অংশকেও সমান ভাবে উন্নত করে তোলে, তা হবে সভ্যতার চরম শিখরে অবস্থান। পুরো পৃথিবীর ৭০০ কোটি মানুষের প্রত্যেকে যেদিন অর্থনৈতিক ও জাগতিক সম্পদের ‘তুচ্ছ’ চিন্তাকে ছুঁড়ে ফেলে শুধু জ্ঞান অর্জন করাকেই একমাত্র লক্ষ্য হিসেবে গণ্য করবে, ৭০০ কোটি মানুষের প্রত্যেকেই যেদিন প্লেটো, ফৌরিয়ার, আইনস্টাইন এঁদের মতো চিন্তা করা শুরু করবে, সেদিন হয়তো সমাজবাদ স্থাপন সম্ভব হবে। সেই দিনটি শুধু আমার জীবদ্দশায় কেন, অন্তত আরো কয়েক শতকের মধ্যে সম্ভবত আসছেনা!

পরিশেষঃ বইটি সংগ্রহ করেছিলাম গুলশান অ্যাভিনিউতে অবস্থিত একটি অভিজাত শপিং মলের বইয়ের দোকান হতে। শপিং মলের আশেপাশে লুঙ্গি ও আধময়লা কাপড়ে কাউকে দেখলেই দশাসই গার্ড বাঁশি বাজিয়ে ও তেল পাকানো লাঠি বাগিয়ে এদের ভাগিয়ে দেন। মলের ভেতর এক পাশে বাদ্যযন্ত্রের আর আরেক পাশে শুধুমাত্র দামী ফোনের কেনাবেচা করে এমন আউটলেটের ঠিক মাঝখানে বইয়ের দোকানটি। যে ভোগবাদী বুর্জোয়া সমাজকে উপড়ে ফেলার কথা বারবার বলা হয়েছে এই বইয়ে, বাংলাদেশের সবচেয়ে দামী অঞ্চল, বুর্জোয়া সমাজের কেন্দ্রস্থল সেই গুলশানের এয়ার কন্ডিশন্ড ‘বুর্জোয়া’ দোকান থেকেই বইটি খরিদ করা গেলো। আয়রনি বৈকি!
Profile Image for Mosharaf Hossain.
128 reviews99 followers
December 30, 2016
বদরউদ্দিন উমর রচিত 'মুক্তি কোন পথে?' বইটি ১৯৯৪ সালে প্রথম প্রকাশিত হয়। মূলত শোষিত মেহনতি শ্রমিক শ্রেনী, উচ্চ শিক্ষিত নয় এমন মানুষদেরকে উদ্দেশ্য করেই বইটি লেখা হয়েছে।

অর্থনৈতিক সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক সম্পর্কগুলিকে ঠিমতো উপস্থিত করে তাদের শ্রেনীগত চরিত্র স্পষ্টভাবে তুলে ধরতে চেয়ছিলেন লেখক। পুঁজিবাদী বুর্জোয়া শোষক শাসকদের নানা ধরনের ভাঁওতাবাজি ও বিভ্রান্তি সম্পর্কে লেখক সতর্ক করতে চেয়েছিলেন।

লেখক শোষণের সমাধান খুঁজে পেয়েছেন সমাজতন্ত্রে, সব সমস্যা মূলে দায়ী করেছেন 'বড়লোক' দের। কিন্তু কিভাবে কেন, লেখক কিছুই বলেননি। লেখক 'শ্রেনীসংগ্রামে' মুক্তির আলো দেখছেন, বাহ বেশ ভালো শোনায়। কিন্তু বাস্তব কোন পথে দেখাতে পারেনি।

মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী দিনগুলোকে আলোচনা করতে গিয়ে লেখক ১৯৭১ কে পরিচয় দিয়েছেন বেশ কৌতূহলোদ্দীপক ভাবে -“১৯৭১ সালে আমাদের দেশে একটা যুদ্ধ হয়েছিল। এই যুদ্ধকে বলা হয়ে থাকে মুক্তিযুদ্ধ।” মহান মুক্তিযুদ্ধের এমন সংজ্ঞা এই প্রথম দেখলাম!

বদরউদ্দিন উমর মুক্তির পথে খুঁজেছেন, কিন্তু তিন তাঁর আদৌ কোণ পথ দেখাতে পারেননি। উচ্চভিলাষীতে কিছু আশা ছাড়া, তিনি পুরো বইতে কি বলেছেন, নিজেও হয়ত মাঝপথে পথ হারিয়েছেন মুক্তি পথ খুঁজতে গিয়ে।

লেখক যে 'চকচকা সমাজবাদের' খোঁজ করেছেন, তা আগামী কয়েক শতকে আসবেনা খুব নিশ্চিত করেই বলা যায়। তাহলে প্রশ্ন থেকেই যায় 'মুক্তি কোন পথে?' তবে আপাতত এই বইটার অত্যাচার থেকে মুক্তি পেয়েই আমি খুশি। বছর শেষে এরকম 'বিভ্রান্তিকর' জিনিসের পাল্লায় পড়ব ভাবিনি।
Profile Image for Rocky Rahman.
106 reviews9 followers
March 11, 2025
সমাজতন্ত্রের এবং শ্রেণী সংগ্রামের সহজ পাঠ বলা যায় বইটিকে।
লেখক প্রায় হাতে ধরে ধরে শ্রেণী বৈষম্য এবং শ্রেণী সংগ্রাম বুঝিয়ে দিয়েছেন। কিভাবে দেশী বুর্জোয়া এবং বিদেশী সাম্রাজ্যবাদ সাধারণ মানুষদের শোষণ করে এবং মিডিয়া কিভাবে সাধারণ জনগণের কাছে শোষণগুলোকে সাধারণীকৃত হিসেবে প্রদর্শন করে তারও কিছুটা উল্লেখ্য রয়েছে।
রাজনৈতিক দলগুলো ধনীদের হয়ে কাজ করে, বুর্জোয়াগণদের আরও বড় বুর্জোয়া হতে সাহায্য করে, রাষ্ট্র একটি সমষ্টিগত সংগঠন হয়ে এবং নির্বাচিত সরকার রাষ্ট্রের ম্যানেজার হয়ে কিভাবে ধনীদের শ্রেণী স্বার্থ রক্ষা করে তারও সহজ ব্যাখা রয়েছে।
মেহনতি জনগন, শ্রমিক, কৃষকদের মাঝে আরও বেশি রাজনৈতিক চেতনা এবং রাজনৈতিক সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে। তাদের রাজনৈতিক দল গঠন করতে হবে যেটাতে মধ্যবিত্তের লোকদের, ছাত্র, সাংস্কৃতিক কর্মীদেরও অংশগ্রহন নিশ্চিত করতে হবে।
এরপর, গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে বুর্জোয়াদের উচ্ছেদ করতে হবে, প্রতিষ্ঠা করতে হবে সমাজতন্ত্র, যেখানে কোনো শ্রেণী বৈষম্য থাকবেনা। ঠিক এভাবেই সংখ্যাগুরু গরীব মানুষদের অধিকার আদায় সম্ভব।
আমার কাছে মনে হয়েছে বইটি বেশি মাত্রায় সমাজতন্ত্রের গুনগান গাইতে গাইতে, তিতা বানিয়ে ফেলেছে। এমনভাবে দেখানো হয়েছে যে কমিউনিজম প্রতিষ্ঠা হলেই আমরা ইউটোপিয়াতে চলে যাবো। কিন্তু কমিউনিস্ট দেশে যে একনায়কতন্ত্র, স্বৈরতন্ত্র, এক শ্রেণীর মানুষের শুধু পার্টির লোকদের অতিরিক্ত সুবিধা দেবার প্রবনতা গড়ে উঠে, সেগুলো উল্লেখ্য করলে আবার সেই ইউটোপিয়া ধূলিসাৎ হয়ে যাবে।
Profile Image for Sazzad H. Sakib.
31 reviews2 followers
September 21, 2024
বইখানা পড়ে আমার মনে হচ্ছে লেখক রাহুল সংস্কৃত্যায়নের ভাগো নেহি দুনিয়াকো বদলো বইয়ের রিভিউ লিখছে। আর এই বইয়ের শিরোনাম ও মূল লেখা যদি বিশ্লেষণ করে মুক্তি কোন পথে খুজেন, তার একমাত্র উত্তর হলো লাল পতাকা উত্তোলন করা। 😑
Displaying 1 - 4 of 4 reviews

Can't find what you're looking for?

Get help and learn more about the design.