ইমোশনাল মার্কেটিং সমৃদ্ধ কন্টেন্টে ভরপুর
==============
১)
খুব বিখ্যাত কমেডি মুভি Andaz Apna Apna রিলিজ পেয়েছিলো ১৯৯৪ সালে। অবাক হয়েছি, যখন জেনেছি মুভিটা বক্স অফিস ফ্লপ। এত ভালো মুভি হয়েও কেন ফ্লপ? প্রধান কারন অনেক দেরি করে রিলিজ। ৩২ মাস সময় নিয়েছে মুভিটা রিলিজ হতে। মুভিটাকে ঘিরে দর্শকদের ভিতর যে ক্রেজ ছিলো, দর্শকরা সেটা এত দীর্ঘ সময় ধরে রাখতে পারেনি ।
মুনির হাসান স্যারের শরবতে বাজিমাত , গ্রোথ হ্যাকিং মার্কেটিং বইগুলো পড়ে ব্যবসায় আগ্রহী পাঠকরা স্বস্থির নিশ্বাস ফেলেছে। যাক আমাদের দেশে ব্যবসায়ের উপর এত সুন্দর ভাষায় কেউ লিখতে পারে, দারুন লিখতে পারে। একে অন্যকে রিকোয়েস্ট শুরু করি, ব্যবসায়ে ভালো করতে চাইলে মুনির হাসানের ওই বইদুটো পড়েন। এরপর যখন জানতে পারলাম "ইমোশনাল মার্কেটিং" বই আসছে, ঈদের চাদের মতো আমরা খুজতে লাগলাম, কখন আসবে, কখন আসবে। ২০১৯ এর ফেব্রুয়ারিতে অপেক্ষা করেছি নির্ধারিত ডেটে বই রিলিজ পাবে। পায়নি। তারিখ পেছালো। পেছানো তারিখেও খোজ নিলাম। তখনও আসেনি। বইটার প্রতি যে ক্রেজ ছিলো, স্বভাবতই কমতে শুরু করলো, মাথায় একেরপর এক নেতিবাচক চিন্তা আসতে লাগলো, "মনে হয় বই ভালো না, তাই লেখক ছাপতে দেরি করছে।"
মার্কেটিং এর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি পয়েন্ট হচ্ছে Consumer behaviour. বইটির প্রতি আমার দৃষ্টিভঙ্গির যে Behaviour সেটা অলরেডি চেঞ্জ হতে শুরু করেছে। আমি শেষে সিদ্ধান্ত নিয়েই ফেললাম, "নাহ, এই বই কিনবোনা!"
২)
বিশ্ব ভালোবাসা দিবসে আমি আর আমার স্ত্রী বইমেলায় গেলাম । কিছু বই কিনলাম। আমার স্ত্রী কানিজ ইংরেজির প্রভাষক এবং কবিতা আবৃতি করে। বিজনেসে ওর আগ্রহ কম থাকলেও। ও আমাকে ভালো বোঝে। আমাকে আদর্শ স্টলে নিয়ে গিফট করলো "ইমোশনাল মার্কেটিং" বইটি। ওইদিন বইয়ের সাথে গোলাপ ফুলও গিফট দিলো আদর্শ প্রকাশনী। সাথেসাথেই গোলাপ ফুলটা ওকে দিলাম। আদর্শ আমার ছবি তুললো বইয়ের সাথে (হায়রে কপাল, আমার ছবি ওরা আপলোড করেনাই ।)
স্ত্রীর গিফট, ফেলে রাখা যায়না। পড়তে শুরু করলাম।
৩)
বইটি পড়ার পর বুঝতে পারলাম, বাংলা ভাষায় মার্কেটিং এর উপর সমৃদ্ধ একটি বই পড়ছি। বইটি যত সমৃদ্ধ ভাষা ততটা সহজ। শুধু সহজই না, আমার পড়া বাংলা ভাষায় সবচেয়ে ডিজিটাল বই ছিলো এটা। প্রায় একুশটা QR Code ছিলো (সাথেই ইউটিউব লিংক) বইজুড়ে। যা আমাকে বইয়ের পাশাপাশি ভিডিও দেখে বিষয়গুলো বুঝতে অনেক সহজ হয়েছে। যেমন লেখার প্রয়োজনে একটি টিভি এডের ব্যাখ্যা দিলো, সাথে সেই টিভি এড দেখার জন্য QR Code এবং লিংক। দ্রুত এডটা দেখে ফেলছি। আমরা অনেক সময় সেমিনারে প্রেজেন্টেশনের পাশাপাশি যেমন ভিডিও দেখি। অনেকটা সেই রকম মনে হয়েছে। বইটা পড়ার সময় মনে হচ্ছিলো মুনির হাসান স্যারের সেমিনারে বসে আছি। লেকচারের ফাকেফাকে উনি ভিডিও দেখাচ্ছেন।
৪)
ইমোশনাল মার্কেটিং এর প্রয়োজন আমরা আগে থেকে জানলেও, এর গুরুত্ব বুঝিয়ে বুঝিয়ে বুঝিয়ে ক্লিয়ার করা হয়েছে বইয়ের প্রথম চ্যাপ্টার জুড়ে। শুধু বুঝিয়েই ক্ষান্ত হননি। কিভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে এইব্যাপারেও রোডম্যাপ দিয়েছেন "চাই সঠিক কৌশল" চ্যাপ্টারে।
ফুল যখন ছড়ানো ছিটানো থাকে ভালো লাগে। যখন মালা গাথা হয়, আরও অনেক সুন্দর লাগে। এই বইয়ের অনেক লেখা আমি স্যারের ব্লগে পড়েছি। লেখাগুলো তখন ছড়ানোছিটানো ছিলো, তবে কিছুটা ভালো লেগেছে। কিন্তু বইতে যখন সুন্দরভাবে সাজানো অবস্থায় পেলাম। অপুর্ব লাগলো।
৫)
ডিজিটাল মার্কেটিং এর উপর অনেক কোর্সে আমি অংশগ্রহণ করেছি। ফ্রি কোর্স, পেইড কোর্স। যাদের ক্লাস আমি করেছি, তাদের কাছে আমি কৃতজ্ঞ, তারা অনেকে বয়সে আমার ছোট হলেও তারা আমার শিক্ষক। তাদের প্রতি আমার শ্রদ্ধা আছে। তবে এই বইতে এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ জিনিস ভালোভাবে শিখলাম, যা আমি ডিজিটাল মার্কেটিং এর কোর্সে তেমনভাবে পাইনি। সেটা হচ্ছে "ইমোজি"।
ইমোজির ব্যবহারে আমি উদাসীন ছিলাম। এই বইটা পড়ার পর ইমোজীকে উপেক্ষা করা আমার জন্যে ডিফিকাল্ট হয়ে গেছে। কন্টেন্টের এতবড় একটা হাতিয়ার " ইমোজী"কে ব্যবহার না করে আমি আর বোকামীর ভান্ডার বাড়াতে চাইনা। এম্নিতেই আমার চেহারা আবার বোকাসোকা টাইপের।
৬)
ইমোশনাল মার্কেটিং এর উপর কিছু কেসস্টাডি আছে এই বইতে। যা আমাদের বইয়ের জ্ঞান এপ্লাই করতে সাহস যোগাবে।
বইয়ের শেষের দিকে বাংলাদেশের সবচেয়ে শক্তিশালী মাধ্যম ফেসবুকে ইমোশনাল মার্কেটিং কীভাবে এপ্লাই করবো এই ব্যাপারে ধারণা পেলাম। ফেসবুকের অনেক জানা গুরুত্বপূর্ণ জিনিসগুলো আবারও ঝালাই হলো।
৭)
Andaz Apna Apna মুভি এবং ইমোশনাল মার্কেটিং বইটা দেরি করে রিলিজ পেলেও। এদের মধ্যে মিলও আছে, অমিলও আছে। ইমোশনাল মার্কেটিং টাইম মতো রিলিজ পেলে হয়তো আরও দাপিয়ে বেড়াতো বইমেলা জুড়ে। তবে ইমোশনাল মার্কেটিং ফ্লপ হয়নি, এটা সফল একটি বই। এবারের বইমেলায় বিজনেস বইয়ের লিস্টে বইমেলায় বইটি এখনও এক নাম্বার ধরে আছে।
তবে আল্লাহ যা করেন ভালোর জন্যেই করেন। মুনির স্যারের একটা ইন্টারভিউতে জানতে পারলাম, বইটা যদি সেই সময় প্রকাশিত হতো, তাহলে শুধু ইমোশনাল মার্কেটিং চ্যাপ্টারটাই থাকতো। বইয়ের সাইজ হতো অর্ধেক। দেরি করে রিলিজের কারনে "ইমোজি", "কেসস্টাডি" এবং "ফেসবুক" চ্যাপ্টারগুলো থেকে বঞ্চিত হতাম।
যার গুন বেশি, তার দায়িত্বও বেশি। মুনির স্যার দারুন ভাষায় বন্ধুসুলভ ভাষায় মার্কেটিং এর মতো জটিল জিনিসের উপর বই লিখতে পারেন। এখন তার দায়িত্ব কি??? আরও মার্কেটিং এবং বিজনেস রিলেটেড বই লেখা। ঘনঘন লেখা। আমরা লেখকের সার্বিক কল্যাণের জন্যে দোয়া করছি।
ধন্যবাদ এতক্ষণ সাথে থাকার জন্যে।