ভারতের প্রথম স্বাধীনতাযুদ্ধ, সিপাহি বিদ্রোহের কথা জানেন তো? ব্রিটিশরা ভারতবর্ষের মানুষের ওপর শত বছর ধরে শাসন-শোষণ-জুলুম চালিয়ে গেলেও তার বিরুদ্ধে তেমন কোনো প্রতিবাদ-প্রতিরোধ, বিক্ষোভ, আন্দোলন দেখা যায়নি। কিন্তু ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে প্রথম মহা বিদ্রোহটি সংঘটিত হয় ১৮৫৭ সালে—সৈনিকদের রাইফেলের টোটায় শূকরের চর্বির থাকার খবরে! সেটিই শেষ পর্যন্ত ভারতের প্রথম স্বাধীনতাযুদ্ধে পরিণত হয়।মানবেতিহাসে এমন অনেক বড় বড় ঘটনা ঘটেছে যেখানে আবেগের স্থান একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। মানুষের অনেক উদ্যোগ-উদ্যম-কর্মতৎপরতার মূলে যুক্তি নয় আবেগই প্রধান নিয়ামক। আবেগ নামক জিনিসটাকে কাজে লাগিয়ে আমাদের দেশের একটি কোম্পানি প্যাকেটের গায়ে ‘১০০ ভাগ হালাল সাবান’ লিখে বাজারের বাঘা বাঘা সব বহুজাতিক কোম্পানির সাবানকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে বাজার দখল করেছিল। হালাল সাবানের এই সাফল্যের বিষয়টি বৈশ্বিকভাবে এতটাই স্বীকৃতি লাভ করে যে, এখনো ইউরোপ-আমেরিকাসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের খাবারের দোকানগুলোতে হালাল মিট, হালাল শপ ইত্যাদি ব্যানার, সাইনবোর্ড লাগানো হয়। যেকোনো প্রোডাক্টের ক্ষেত্রে আবেগটাকে ব্যবহার করে কাস্টমারের সঙ্গে একটা স্থায়ী সম্পর্ক তৈরি করতে হবে; কাস্টমারকে জয় করে নিতে হবে, নিজের করে নিতে হবে; যাতে কাস্টমার আজীবন আপনার হয়ে থাকে। এই যে নিজের করে নেওয়ার এবং আজীবন আপনার হয়ে থাকার যেসব উপায় ইমোশনাল মার্কেটিং সেগুলোরই অন্যতম । এ বইতে ইমোশনাল মার্কেটিংকে নানাভাবে তুলে ধরা হয়েছে।
জন্ম চট্টগ্রামে। হাইস্কুলের পড়ালেখাও সেখানেই— সেন্ট মেরিজ, মুসলিম এডুকেশন সোসাইটি ও মুসলিম হাইস্কুল। পরে চট্টগ্রাম কলেজ হয়ে ঢাকার বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে। দৈনিক সংবাদের সাপ্তাহিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির ফিচার পাতায় লেখালেখির মাধ্যমে সাহচর্য পেয়েছেন বিজ্ঞান লেখক ও বিজ্ঞান কর্মী আ. মু. জহুরুল হক, আবদুল্লাহ আল-মুতী, শরফুদ্দিন কিংবা এ আর খানের। তাদের অনুপ্রেরণায় নিজেকে বিজ্ঞান জনপ্রিয়করণের কর্মী হিসেবে গড়ে তোলার চেষ্টা করেছেন। ১৯৯৫ সাল থেকে ভোরের কাগজে এবং ১৯৯৮ সাল থেকে দৈনিক প্রথম আলোয় বিজ্ঞানবিষয়ক সাপ্তাহিক ফিচার পাতার সম্পাদনা করেছেন। ২০০৩ সালে অধ্যাপক মুহম্মদ জাফর ইকবাল, অধ্যাপক মোহাম্মদ কায়কোবাদের সঙ্গে থেকে অধ্যাপক জামিলুর রেজা চৌধুরীর নেতৃত্বে গড়ে তোলেন বাংলাদেশ গণিত অলিম্পিয়াড কমিটি। বর্তমানে তিনি কমিটির সাধারণ সম্পাদক। গণিতের পাশাপাশি বিজ্ঞান ও প্রোগ্রামিং প্রসারের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন। তাঁর ‘চাকরি খুঁজব না, চাকরি দেবো’ নামের প্ল্যাটফর্মটা তরুণদের উদ্যোক্তা হতে উৎসাহিত করছে। গণিত আর বিজ্ঞান নিয়ে লেখার পাশাপাশি যুক্ত রয়েছেন ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণির তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির পাঠ্যপুস্তক রচনা ও সম্পাদনায়। বর্তমানে দৈনিক প্রথম আলোয় যুব কর্মসূচি সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করছেন।
বইটা পড়ার সময় যতটা না মার্কেট বা ব্যবসার দৃষ্টিকোণ ছিল, তার চেয়ে বেশি ছিল সাইকোলজির দৃষ্টিকোণ। বেশ কিছুদিন ধরে খেয়াল করছিলাম মানুষের সরলতা ও আবেগকে কেন্দ্র করে অনেকে অনেক কিছু করে ফেলছে। বেশিদিন আগের কথা না, শরণার্থী হিসেবে রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে প্রবেশের সময় অনেকের সফট কর্নার ছিল তাদের প্রতি। অন্যের সমর্থন আদায়ের জন্য এক ফেসবুক পেজ একটি বড় সসপ্যানের ছবি দিলো। তাতে প্রমাণ সাইজের টুকরো করা অনেকগুলো মাংস। ক্যাপশন দেওয়া- এভাবে রোহিঙ্গা মুসলমানদের জবাই করে কেটে-কুটে খেয়ে ফেলছে মায়ানমারের আর্মিরা।
ভাবছিলাম, আরে ভাই গরুর মাংসের ছবি দিয়ে এই দাবি করলে তো উলটো মানুষ আরো পচাবে। কিন্তু না, কমেন্ট এবং শেয়ারের বক্তব্য বলছে ভিন্ন কথা। তারা দুঃখ পাচ্ছে, প্রতিবাদ জানাচ্ছে এবং বিষয়টা অন্যদেরকেও দেখার সুযোগ করে দিচ্ছে। এদের তালিকায় দেখলাম শিক্ষাদীক্ষায় ভালো, পরিচিত শিক্ষকও আছে। অনুভূতির এই জায়গায় মানুষের যুক্তি কাজ করে কম।
মনে আছে বাংলাদেশের বোলার তাসকিনের হাতে ভারতের অধিনায়ক মহেন্দ্র সিং ধোনির কর্তিত মাথাওয়ালা ছবি ভাইরালের সময়গুলোতে কী হয়েছিল দুই দেশে? এসবের পুরোটাই কিন্তু মানুষের আবেগের কারণে হয়েছে, গঠনগত যৌক্তিক ভাবনা এখানে ভাত পায়নি।
বই থেকে সুন্দর একটা উদাহরণ বলি। 'ভারতের প্রথম স্বাধীনতাযুদ্ধ, সিপাহি বিদ্রোহের কথা জানেন তাে? ব্রিটিশরা ভারতবর্ষের মানুষের ওপর শত বছর ধরে শাসন-শােষণ-জুলুম চালিয়ে গেলেও তার বিরুদ্ধে তেমন কোনাে প্রতিবাদ-প্রতিরােধ, বিক্ষোভ, আন্দোলন দেখা যায়নি।। কিন্তু ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে প্রথম মহা বিদ্রোহটি সংঘটিত হয় ১৮৫৭ সালে– সৈনিকদের রাইফেলের টোটায় শূকরের চর্বির থাকার খবরে! সেটিই শেষ পর্যন্ত ভারতের প্রথম স্বাধীনতাযুদ্ধে পরিণত হয়।'
মনোবিদ ও মার্কেট বিশ্লেষকরা দেখেছেন, মানুষের এই আবেগের জায়গাগুলোকে টাচ করে ব্যবসা করা সম্ভব। পণ্য বা প্রতিষ্ঠানের প্রচারণায় সহজেই কাস্টমারের মনে গেঁথে যাওয়া যায় আবেগকে কেন্দ্র করে বিজ্ঞাপন বানালে। অন্যান্য প্রতিষ্ঠানকে পেছনে ফেলে নিজের পণ্য বা সেবা গ্রহণের ব্যাপারে কাস্টমারকে কনভিন্স করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে কাস্টমারের আবেগ। যেমন ধরেন হালাল সাবান, হালাল খাবার কিংবা হিজাব রিফ্রেশ শ্যাম্পু। যে যত subtle way-তে আবেগকে অনুভূতিকে ব্যবহার করতে পারবে সে তত সফল হবে।
এই বিষয়টাকে কেন্দ্র করে 'ইমোশনাল মার্কেটিং' নামে পূর্ণাঙ্গ একটি বই লিখেছেন মুনির হাসান। গণিত অলিম্পিয়াডের মুনির হাসান। অনেক বোঝদার ও দূরদৃষ্টিসম্পন্ন মানুষ। যেকোনো বিষয়ে উনার লেখা সবসময় হয় পড়ার মতো। উনার একটা ব্যক্তিগত ওয়েবসাইট আছে, সেখানে প্রায়ই তার লেখা পড়ি।
যারা কোনো উদ্যোগে নতুন, ছোটখাটো কিছু দিয়ে নিজের কোনো প্রতিষ্ঠান চালু করেছেন, হতে পারে সেটা কোনো রেস্টুরেন্ট কিংবা কোনো ওয়েবসাইট কিংবা কোনো সার্ভিসিং সেন্টার তারা এটি পড়ে দেখতে পারেন। সর্বোপরি যারা ভিন্ন ধাঁচের বই পছন্দ করেন তারা পড়তে পারেন। মার্কেট সাইকোলজি নিয়ে পড়তে গেলে তো আর নিজে ব্যবসায়ী হতে হবে না। অমর্ত্য সেন তো অর্থনীতিতে নোবেল পেয়েছেন, তিনি কয়টা ব্যবসা করেছেন?!
ইমোশনাল মার্কেটিং সমৃদ্ধ কন্টেন্টে ভরপুর ============== ১) খুব বিখ্যাত কমেডি মুভি Andaz Apna Apna রিলিজ পেয়েছিলো ১৯৯৪ সালে। অবাক হয়েছি, যখন জেনেছি মুভিটা বক্স অফিস ফ্লপ। এত ভালো মুভি হয়েও কেন ফ্লপ? প্রধান কারন অনেক দেরি করে রিলিজ। ৩২ মাস সময় নিয়েছে মুভিটা রিলিজ হতে। মুভিটাকে ঘিরে দর্শকদের ভিতর যে ক্রেজ ছিলো, দর্শকরা সেটা এত দীর্ঘ সময় ধরে রাখতে পারেনি । মুনির হাসান স্যারের শরবতে বাজিমাত , গ্রোথ হ্যাকিং মার্কেটিং বইগুলো পড়ে ব্যবসায় আগ্রহী পাঠকরা স্বস্থির নিশ্বাস ফেলেছে। যাক আমাদের দেশে ব্যবসায়ের উপর এত সুন্দর ভাষায় কেউ লিখতে পারে, দারুন লিখতে পারে। একে অন্যকে রিকোয়েস্ট শুরু করি, ব্যবসায়ে ভালো করতে চাইলে মুনির হাসানের ওই বইদুটো পড়েন। এরপর যখন জানতে পারলাম "ইমোশনাল মার্কেটিং" বই আসছে, ঈদের চাদের মতো আমরা খুজতে লাগলাম, কখন আসবে, কখন আসবে। ২০১৯ এর ফেব্রুয়ারিতে অপেক্ষা করেছি নির্ধারিত ডেটে বই রিলিজ পাবে। পায়নি। তারিখ পেছালো। পেছানো তারিখেও খোজ নিলাম। তখনও আসেনি। বইটার প্রতি যে ক্রেজ ছিলো, স্বভাবতই কমতে শুরু করলো, মাথায় একেরপর এক নেতিবাচক চিন্তা আসতে লাগলো, "মনে হয় বই ভালো না, তাই লেখক ছাপতে দেরি করছে।" মার্কেটিং এর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি পয়েন্ট হচ্ছে Consumer behaviour. বইটির প্রতি আমার দৃষ্টিভঙ্গির যে Behaviour সেটা অলরেডি চেঞ্জ হতে শুরু করেছে। আমি শেষে সিদ্ধান্ত নিয়েই ফেললাম, "নাহ, এই বই কিনবোনা!"
২) বিশ্ব ভালোবাসা দিবসে আমি আর আমার স্ত্রী বইমেলায় গেলাম । কিছু বই কিনলাম। আমার স্ত্রী কানিজ ইংরেজির প্রভাষক এবং কবিতা আবৃতি করে। বিজনেসে ওর আগ্রহ কম থাকলেও। ও আমাকে ভালো বোঝে। আমাকে আদর্শ স্টলে নিয়ে গিফট করলো "ইমোশনাল মার্কেটিং" বইটি। ওইদিন বইয়ের সাথে গোলাপ ফুলও গিফট দিলো আদর্শ প্রকাশনী। সাথেসাথেই গোলাপ ফুলটা ওকে দিলাম। আদর্শ আমার ছবি তুললো বইয়ের সাথে (হায়রে কপাল, আমার ছবি ওরা আপলোড করেনাই ।) স্ত্রীর গিফট, ফেলে রাখা যায়না। পড়তে শুরু করলাম।
৩) বইটি পড়ার পর বুঝতে পারলাম, বাংলা ভাষায় মার্কেটিং এর উপর সমৃদ্ধ একটি বই পড়ছি। বইটি যত সমৃদ্ধ ভাষা ততটা সহজ। শুধু সহজই না, আমার পড়া বাংলা ভাষায় সবচেয়ে ডিজিটাল বই ছিলো এটা। প্রায় একুশটা QR Code ছিলো (সাথেই ইউটিউব লিংক) বইজুড়ে। যা আমাকে বইয়ের পাশাপাশি ভিডিও দেখে বিষয়গুলো বুঝতে অনেক সহজ হয়েছে। যেমন লেখার প্রয়োজনে একটি টিভি এডের ব্যাখ্যা দিলো, সাথে সেই টিভি এড দেখার জন্য QR Code এবং লিংক। দ্রুত এডটা দেখে ফেলছি। আমরা অনেক সময় সেমিনারে প্রেজেন্টেশনের পাশাপাশি যেমন ভিডিও দেখি। অনেকটা সেই রকম মনে হয়েছে। বইটা পড়ার সময় মনে হচ্ছিলো মুনির হাসান স্যারের সেমিনারে বসে আছি। লেকচারের ফাকেফাকে উনি ভিডিও দেখাচ্ছেন।
৪) ইমোশনাল মার্কেটিং এর প্রয়োজন আমরা আগে থেকে জানলেও, এর গুরুত্ব বুঝিয়ে বুঝিয়ে বুঝিয়ে ক্লিয়ার করা হয়েছে বইয়ের প্রথম চ্যাপ্টার জুড়ে। শুধু বুঝিয়েই ক্ষান্ত হননি। কিভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে এইব্যাপারেও রোডম্যাপ দিয়েছেন "চাই সঠিক কৌশল" চ্যাপ্টারে। ফুল যখন ছড়ানো ছিটানো থাকে ভালো লাগে। যখন মালা গাথা হয়, আরও অনেক সুন্দর লাগে। এই বইয়ের অনেক লেখা আমি স্যারের ব্লগে পড়েছি। লেখাগুলো তখন ছড়ানোছিটানো ছিলো, তবে কিছুটা ভালো লেগেছে। কিন্তু বইতে যখন সুন্দরভাবে সাজানো অবস্থায় পেলাম। অপুর্ব লাগলো।
৫) ডিজিটাল মার্কেটিং এর উপর অনেক কোর্সে আমি অংশগ্রহণ করেছি। ফ্রি কোর্স, পেইড কোর্স। যাদের ক্লাস আমি করেছি, তাদের কাছে আমি কৃতজ্ঞ, তারা অনেকে বয়সে আমার ছোট হলেও তারা আমার শিক্ষক। তাদের প্রতি আমার শ্রদ্ধা আছে। তবে এই বইতে এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ জিনিস ভালোভাবে শিখলাম, যা আমি ডিজিটাল মার্কেটিং এর কোর্সে তেমনভাবে পাইনি। সেটা হচ্ছে "ইমোজি"। ইমোজির ব্যবহারে আমি উদাসীন ছিলাম। এই বইটা পড়ার পর ইমোজীকে উপেক্ষা করা আমার জন্যে ডিফিকাল্ট হয়ে গেছে। কন্টেন্টের এতবড় একটা হাতিয়ার " ই���োজী"কে ব্যবহার না করে আমি আর বোকামীর ভান্ডার বাড়াতে চাইনা। এম্নিতেই আমার চেহারা আবার বোকাসোকা টাইপের।
৬) ইমোশনাল মার্কেটিং এর উপর কিছু কেসস্টাডি আছে এই বইতে। যা আমাদের বইয়ের জ্ঞান এপ্লাই করতে সাহস যোগাবে। বইয়ের শেষের দিকে বাংলাদেশের সবচেয়ে শক্তিশালী মাধ্যম ফেসবুকে ইমোশনাল মার্কেটিং কীভাবে এপ্লাই করবো এই ব্যাপারে ধারণা পেলাম। ফেসবুকের অনেক জানা গুরুত্বপূর্ণ জিনিসগুলো আবারও ঝালাই হলো।
৭) Andaz Apna Apna মুভি এবং ইমোশনাল মার্কেটিং বইটা দেরি করে রিলিজ পেলেও। এদের মধ্যে মিলও আছে, অমিলও আছে। ইমোশনাল মার্কেটিং টাইম মতো রিলিজ পেলে হয়তো আরও দাপিয়ে বেড়াতো বইমেলা জুড়ে। তবে ইমোশনাল মার্কেটিং ফ্লপ হয়নি, এটা সফল একটি বই। এবারের বইমেলায় বিজনেস বইয়ের লিস্টে বইমেলায় বইটি এখনও এক নাম্বার ধরে আছে। তবে আল্লাহ যা করেন ভালোর জন্যেই করেন। মুনির স্যারের একটা ইন্টারভিউতে জানতে পারলাম, বইটা যদি সেই সময় প্রকাশিত হতো, তাহলে শুধু ইমোশনাল মার্কেটিং চ্যাপ্টারটাই থাকতো। বইয়ের সাইজ হতো অর্ধেক। দেরি করে রিলিজের কারনে "ইমোজি", "কেসস্টাডি" এবং "ফেসবুক" চ্যাপ্টারগুলো থেকে বঞ্চিত হতাম। যার গুন বেশি, তার দায়িত্বও বেশি। মুনির স্যার দারুন ভাষায় বন্ধুসুলভ ভাষায় মার্কেটিং এর মতো জটিল জিনিসের উপর বই লিখতে পারেন। এখন তার দায়িত্ব কি??? আরও মার্কেটিং এবং বিজনেস রিলেটেড বই লেখা। ঘনঘন লেখা। আমরা লেখকের সার্বিক কল্যাণের জন্যে দোয়া করছি। ধন্যবাদ এতক্ষণ সাথে থাকার জন্যে।
Marketing Book “ ইমোশনাল মার্কেটিং ” লেখক: মুনির হাসান
Businesman, Entrepreneur বা Marketer তথা যেকোনো Company or Startup-এর জন্য Consumer এর কাছে তাঁদের Product/Service কিনতে বা সেবা গ্রহণ করাতে কাস্টমারের "ইমোশন" ঠিকমত বুঝতে পারা খুবই গুরুত্বপূর্ণ ব্যপার।
ইমোশনাল মার্কেটিং হল এমন একটা মার্কেটিং এবং এডাভার্টাইজিং স্ট্র্যাটেজি যেটি আসলে মানুষের ইমোশনকে কাজে লাগায়। কোনো পণ্য বা সেবার মার্কেটিংয়ের প্রধান উদ্দেশ্য থাকে সেলস জেনারেট করে রেভিনিঊ বাড়ানো, তাই টার্গেটে মার্কেটে কাস্টমারের কাছে পণ্যের গুনাবলি এমনভাবে তুলে ধরা হয় যাতে কাস্টমার পণ্যটি কিনতে আগ্রহী হয়। তাই কাস্টমার কোনো প্রডাক্ট কেনার সময় Consciously or Sub-consciously নিজের ইমোশন দ্বারা পরিচালিত হয়। তাই মার্কেটিংয়ের ক্ষেত্রে মানুষের আবেগের মতো এমন গুরুত্বপূর্ন টুলকে কোনোভাবেই উপেক্ষা করা যায় না, বরং এটিকেই ব্যবহার করে নতুন নতুন মার্কেটিং স্ট্র্যাটেজি সাজানো যায়।
বইটিতে লেখক মানুষের ইমোশনকে ইনফ্লুয়েন্স করে এরকম বেশ কিছু ডিরেক্ট-ইনডিরেক্ট কম্পোনেন্ট যেমন- Religion, Color, Story, Nostalgia, Music, Relation ইত্যাদির বাস্তব ব্যবহার উদাহরণসহ ব্যাখ্যা করেছেন। বিভিন্ন ব্র্যান্ড বা প্রতিষ্ঠান কখন কিভাবে এগুলোর বিভিন্ন দেশে প্রয়োগ করেছে তাদের বিভিন্ন অ্যাড বা মার্কেটিং ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে সেগুলোর ছবি, ভিডিও লিংক ও QR কোডসহ উল্লেখ করেছেন। ফলে সহজেই এই ভিজুয়াল কন্টেন্টগুলো দেখে ফেলা যায় এবং বইয়ের টপিকের সাথে নিজেকে কানেক্ট করা সম্ভব হয়।
এই অ্যাডগুলো হয়তো আমাদের প্রায় সবাই দেখেছি কোনো একসময়, হয়তো এর দ্বারা প্রভাবিত হয়ে সেই প্রডাক্টিও কিনেছি, কিন্তু বইটা পড়ার সময় এডগুলো দেখে একজন মার্কেটারের পারস্পেক্টিভ থেকে সেগুলো অ্যানালাইসিস করতে পারবে। মার্কেটিং সম্পর্কে কিছু না জানলেও বা কোনো আগ্রহ না থাকলেও বইটি পড়ে হয়ত একজন জানতে পারবে প্রতিনিয়ত সে কীভাবে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ইমোশনাল মার্কেটিং এর স্বীকার হচ্ছে এবং তাঁদের প্রোডাক্ট কিনছে।
বইটি চারটি পর্বে বিভক্ত- প্রথম পর্বঃ মার্কেটিং এর কয়েকটি ব্র্যান্ড স্টোরি যেখানে ইমোশনের ব্যবহার কীভাবে তাঁদের বিজনেসে সাফল্য এনেছে। দ্বিতীয় পর্বঃ ইমোশনাল মার্কেটিংয়ে ইমোজি এবং ছবি কিভাবে বিশাল ভূমিকা রাখতে পারে। তৃতীয় পর্বঃ কয়েকটি ব্র্যান্ডের কেস স্টাডি যেখানে ইমোশনাল মার্কেটিং ব্যবহার করে তারা মার্কেটে স্বকীয় অবস্থান তৈরি করতে পেরেছে। চতুর্থ পর্বঃ ফেসবুক ও সোস্যাল মিডিয়াতে মার্কেটিংয়ের প্রয়োগ।
মনোবিদ ও মার্কেট বিশ্লেষকরা গবেষণা করে দেখেছেন যে মানুষের বিভিন্ন ইমোশনাল পয়েন্টগুলো অ্যাট্রাক্ট করে ব্যবসা করা সম্ভব। প্রোডাক্ট, ব্র্যান্ড বা কোম্পানির প্রচারণায় কাস্টমারের মনে স্থান নেওয়া সম্ভব যদি তাঁদের ইমোশনকে কেন্দ্র করে মারকেটিং ক্যাম্পেইন লঞ্চ করা যায়। মার্কেটে অবস্থিত অপোনেন্ট কোম্পানিকে পেছনে ফেলে নিজের প্রোডাক্ট বা সার্ভিস গ্রহণের ব্যাপারে কাস্টমারকে কনভিন্স করতে পারে একটি সময়োপযোগী সাকসেসফুল ইমোশনাল মার্কেটিং।
বাঙালী জাতি হিসেবে একটু আধটু নয় বেশ বড় ধরনের ইমোশনাল আমরা। আর যাই হোক সহজে বিশ্বাসযোগ্যতার কারনে ইমোশন ব্যাপারটা আমাদের মধ্যে খুব সহজে প্রভাব বিস্তার করে। আর সেটাকে একটুদক্ষতার সাথে কাজে লাগাতে পারলে মার্কেটিংয়ে সফলতা পাওয়া খুব কঠিন কিছু নয়।তবে অবশ্যই কাজটি নির্ভুল হওয়া চাই। সেই সাথে সাবধানতা ও দক্ষতার সাথে করতে হবে কাজটি।
কর্পোরেট এবং রিটেইল মার্কেটিং উভয় ক্ষেত্রেই ইমোশন কাজে লাগিয়ে মার্কেটিং করাটা বেশ কার্যকর। আর ব্র্যান্ড ইমেজ তৈরীর ক্ষেত্রে ইমোশোনাল প্রসার কার্যক্রমে সফলতা বেশী পাওয়া যায়।
প্রতি ঈদের আগে প্রচারিত গ্রামীন ফোনের ’স্বপ্ন যাবে বাড়ী আমার’ গানের সাথে প্রচারিত বিজ্ঞাপনটির কথা মনে আছে নিশ্চয়। ভুলে যাবার কথা নয়। কারন এই বিজ্ঞাপনটি যে পরিমান ইমোশনাল ব্র্যান্ড ইমেজ তৈরী করেছে তা অকল্পনীয়। ঈদে বাড়ি ফেরার আনন্দের সাথে যত দূরে যান সাথে থাকুন। আপনার ইমোশনকে সঠিক প্রক্রিয়ায় কাজে লাগিয়ে ব্যবসা জমজমাট। এই রকম অনেক কিছু পাবেন এই বইয়ে।
This entire review has been hidden because of spoilers.
যাদের মার্কেটিং এর প্রতি আগ্রহ আছে তাদের জন্য বাংলায় একয়াত ভালো বই, যদিও আমার মতে এই বই এ খুব বেশি কিছুদ এয়া হয়নি তবুও বাংলায় এমন বই আর একটিও নেই। সেই তুলনায় যথেষ্ট ভালো এবং আপনাকে ইমোশনাল মার্কেটিং এর প্রতি আরো আগ্রহী করে তুলবে।
বইটা প্রকাশ হওয়ার আগে থেকেও যখন থেকে এ বইয়ের কথা জানতে পারি তখন থেকে এ বই পড়ার একটা ব্যাকুলতা তৈরি হয়। প্রকাশিত হওয়ার পর প্রথম সুযোগেই কিনে ফেলি। পড়তে কিছুটা সময় নিয়েছি। তবে এ পড়াই প্রথম বার নয়। আবার পড়বো। বারবার পড়বো। কারণ বইটি বারবার করে পড়ার মতই। লেখক হতাশ করেননি, তবে বইটার কলেবর আরও বৃহৎ হলে বোধ হয় ভালো হত।
কোনো পণ্য বা সেবার মার্কেটিং-এর আল্টিমেট উদ্দেশ্য থাকে সেলস জেনারেট করা অর্থাৎ টার্গেটেড ক্রেতার কাছে পণ্যের গ্রহনযোগ্যতা তুলে ধরা যাতে ক্রেতা পণ্যটি ক্রয় করতে আগ্রহী হয়। ক্রেতা কোনো প্রডাক্ট কেনার সময় জ্ঞাতসারে বা অজ্ঞাতসারে নিজের ইমোশন দ্বারা প্রভাবিত হয়। এজন্যই বলা হয়ে থাকে “Purchasing is a surprisingly emotional process.” তাই পণ্য বা সেবার মার্কেটিং-এর ক্ষেত্রে মানুষের আবেগের মতো এমন গুরুত্বপূর্ন টুলকে কোনোভাবেই উপেক্ষা করা যায় না।
বইটিতে লেখক মানুষের ইমোশনকে প্রভাবিত করে এরকম বিভিন্ন উপাদান যেমন ধর্ম, রঙ, নস্টালজিয়া, ইমোজি ইত্যাদির বাস্তব ব্যবহার উদাহরণসহ ব্যাখ্যা করেছেন। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান কখন কিভাবে এগুলোর ব্যবহার করেছেন তাদের বিভিন্ন এড বা মার্কেটিং ক্যাম্পেইনে, এবং তার লিংকও QR কোডসহ উল্লেখ করেছেন। যাতে পাঠক সাথেই সাথেই এডগুলো দেখে ফেলতে পারে। এডগুলো হয়তো আমাদের প্রায় সবাই দেখেছি, খুব উপভোগও করেছি। হয়তো প্রভাবিত হয়ে প্রডাক্টিও কিনেছি, কিন্তু বইটা পড়ার সময় যখন পাঠক এডগুলো দেখবে তখন একজন মার্কেটারের পারস্পেক্টিভ থেকে সেগুলো বিচার-বিশ্লেষণ করতে পারবে।
বইটির শুরুতেই লেখক দেখিয়েছেন কিভাবে আমাদের দেশীয় একটি কোম্পানি ইমোশনাল মার্কেটিংয়ের একটি কন্সেপ্ট ব্যবহার করে মার্কেট লীডার হয়েছিল। এরোম্যাটিক বিউটি সোপের মোড়কের গায়ে “একমাত্র ১০০% হালাল সাবান” কথাটি মুসলিম বিশ্বের বাজারে এই সাবানকে একচেটিয়া রাজত্ব করতে সাহায্য করেছিলো। তারপর থেকেই মুসলমান জনগোষ্ঠীর এই বিশাল বাজার ধরতে ইমোশনাল মার্কেটিংয়ের এই কনসেপ্ট এখন ইউরোপ-আমেরিকাও ফলো করছে। ইউরোপ-আমেরিকার সুপারসপ বা ডিপার্ট্মেন্ট স্টোরগুলোতে এখন হালাল মীট বা ফুড সেকশনে বা মোড়কে হালাল ট্যাগ লাগানো থাকে।
লেখক আমাদের দেশের নতুন উদ্যোক্তা ও সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিয়ারদের কথা মাথায় রেখে বইটি লিখেছেন। আমাদের দেশে উদ্যোক্তাদের সংখ্যা প্রতিনিয়ত বাড়ছে, কিন্তু তাদের দক্ষ করে গড়ে তোলা বা উঠার মতো রিসোর্স তাদের অধিকাংশের কাছে পৌচ্ছাছে না কারণ বাংলা ভাষায় বিজনেস রিলেটেড এই ধরনের বইগুলো বিরল। আর যদিও ইংরেজি ভাষায় এ ধরনের প্রচুর রিসোর্স এভেইলেভেল তা আমাদের দেশের কন্টেক্সটকে কভার করে না। মুনীর হাসানের এই বই তাই এক্ষেত্রে নিঃসন্দেহে ভ্যালু এডেড করবে।
হাল্ট প্রাইজ এর অন ক্যম্পাসের পর কোলকাতা রিজিওনাল ফাইনালের জন্য যখন বেশ স্টার্টআপ নিয়ে দৌড়া দৌড়ি শুরু করি তখন এই বইটা পড়ে ছিলাম। আমার বন্ধু ফুটবলার রোনালদো এর বিশাল বড় ভক্ত এবং আরেকটা অভ্যাস আছে যে সে সারাদিন সময় পেলেই পাব্জি খেলে । কিছুদিন আগে একটা বিজ্ঞাপন বের হল যে পাব্জি এর মতো একটা গেম নাম ফ্রি ফায়ারের ( আগে থেকেই ছিল) অ্যাড ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো করছে এবং সেই গেম এ রোনালদো এর নামে একটা ক্যারেক্টার ও আছে যাকে নিয়ে গেমে খেলা যাবে। তার কিছুদিন পর দেখি সে দেখি ফ্রিফায়ার খেলছে সারাদিন। আমি জিজ্ঞাসা করলাম কিরে তোর না পাব্জি পছন্দ ? বলে রোনালদো যেখানে আমি সেখানে । এরকম আবেগ বা ইমোশনকে কাজে লাগিয়ে মার্কেটিং এর চল কিন্তু নতুন নয়। মুনির হাসান স্যার তার এই বইটিতে ইমোশনাল মার্কেটিং করে একদম কাস্টমারকে নিজের করে নেয়ার হ্যাকসগুলোই বলেছেন। স্যার বইটিকে ৪টি ভাগে ভাগ করেছেন । প্রথম ভাগে ইমোশনাল মার্কেটিং কি ? কিভাবে কাজ করে? এ ব্যাপারগুলো বর্ণনা করেছেন । দ্বিতীয় ভাগে ইমোজি দিয়ে কিভাবে ইমোশনাল মার্কেটিং করা যায় তা তুলে ধরেছেন । তৃতীয়ভাগে কিছু হেভিওয়েট কেস স্টাডি করেছেন এবং চতুর্থভাগে কিভাবে ফেসবুকে ইমোশনাল মার্কেটিং করা যায় তা ব্যাখ্যা করেছেন । বইটির সবথেকে যেই ব্যাপারটি ভালো লেগেছে তা হলো লেখক কোন মার্কেটিং এর তত্ত্বে না গিয়ে একদম নিজের মতো করে বাস্তব ধর্মী সব উদাহরণ টেনে ইমোশনাল মার্কেটিংটিকে বুঝিয়েছেন । এই বইয়ে ইমোশনকে বুঝাতে স্যার এর লেখনীর আমার প্রিয় দুটি লাইন আপনাদের বলি, ইমোশন হচ্ছে দুটি প্রাইমারি ইমোশনের যোগফল । আন্দাজ আর আনন্দ মিলে হলো অপটিমিজম অন্যদিকে আনন্দ আর বিশ্বাস মিলে হলো ভালবাসা । ইমোশনাল মার্কেটিং এর সেই শুকুরের চর্বি থেকে সিপাহী বিদ্রোহের সূচনার উদাহরণ থেকে শুরু করে পোকেমন গো এর নস্টালজিয়া করে দেয়া উদাহরণ যেমন দিয়েছেন তেমনি কেন এই ইমোশনাল মার্কেটিং কাজ করে তার একটা ধারণা তিনি দিয়েছেন । ডমিনোস পিজ্জা তাদের অ্যাপে ইমজি ব্যাবহার শুরু করে ফলাফল স্বরূপ তারা ৫ সেকেন্ডের মধ্যে তারা অর্ডার একসেপ্ট করতে পারে তা যেন ইমজি মার্কেটিং এর এক মস্ত উদাহরণ। আর কেস স্টাডিগুলোর এর মধ্যে আমার অন্যতম ফেভারিট কেস স্টাডির নাম হলো “ ইউর বিল্ডিং মাই কান্ট্রিস সিমেন্ট” । এই নামটা শুনেই হয়তো বিজ্ঞাপন এর কথা চোখে জল জল করছে তাইনা? এই বিজ্ঞাপনে দেশের সিমেন্ট বাইরে দেশে রপ্তানি , রেমিটেন্স যোদ্ধাদের শ্রম ফুটিয়ে তোলার মাধ্যমে কিভাবে দেশের গর্বের দিকটি দিয়ে আপনার আবেগে টোকা দিয়েছে তা হয়তো আর বলে বুঝাতে হবেনা । মোট কথায় আবেগে বশীকরণ করে কিভাবে আপনার কাস্টমারকে আপনি ধরে রাখবেন তা জানতে চাইলে এই বই আপনি পড়তে পারেন । আদর্শ প্রকাশনী হতে প্রকাশ হওয়া বইটি বই মেলায় তাদের স্টলে পাবেন এছাড়া রকমারি তো আছেই।
পুরো বই পড়ে একটা কমপ্লিট ধারণা পাওয়া এবং সেটা ব্যবহার করার মত বই না এটা। মনে হলো ফেসবুক পোস্ট আর বিভিন্ন ব্লগ থেকে কমপ্লাইল করে লেখা হয়েছে বলে মনে হলো বইটা। ইমোশনাল মার্কেটিং থেকে আমার আশা ছিলো কীভাবে কোম্পানিগুলো আমাদের ইমোশন কে পাকড়াও করে, সেই টেকনিক গুলো কি কি, সেগুলো কীভাবে ব্যবহার করা যেতে পারে। কিছু চিন্তার খোড়াক জাগানো, "aweh I didn't see that" এমন কিছু অনুভূতি পাবো বলে আশা রেখেছিলাম। হতাশ হলাম। খুব দ্রুতো লেখা হয়েছে মনে হলো।
My first book about marketing and obviously it made me think about marketing more. I'll read more books about marketing later. Easy to read and to the point. I would maybe give it a nine!
This is the first book of Munir Hasan sir I've ever read and I've fallen in love ❤️ with Munir sir's marketing skills and techniques. Sir has discussed specially on "Emotional Marketing" in this book 📖. Basically, if you want to reach your ads to the maximum people and fulfil you target 🎯 you have to get help from Emotions. The detailed information and case study of successful ads of and the discussion on Emotional Marketing has been placed in this book. A major part (1/3) of this book is about marketing using Emoji🙂 and the importance of it in the present advertising world 🌎. Emoji can express the emotion of written message well enough. The last chapter (04) is full of Killing Strategies of Marketing by using emotions. Most of the techniques were new for me. So I personally enjoyed the book so much. I think I need to revise the book few more times to consume it totally and work and apply it in my professional life. In short, if "Arif Ajad" bro's book wasn't there it would be the #1 best selling book that time.
Book: ইমোশনাল মার্কেটিং Author: Munir Hasan সুন্দরভাবে গোছানো যত বই পড়েছি তার মধ্যে অন্যতম ছিল এটি। বইটি বহুদিন প্রি-অর্ডারে ছিল। অবশেষে মুনির হাসান স্যার এবারের বইমেলায় এটি প্রকাশ করেন। নাম দেখে বুঝাই যাচ্ছে বইটি মার্কেটিং নিয়ে কিন্তু আমার মতে এই বইটি যে কেউ গল্পের ছলে পড়ে শেষ করতে পারে। বইটি পড়তে হলে আপনার ইন্টারনেট থাকতে হবে! এর কারণ বইয়ে অসংখ্য লিংক দেয়া আছে, আর কিউআর কোড দেয়া আছে। নানা বিখ্যাত ও চমৎকার সব এডভারটাইজমেনটের উদাহরণ দেয়া আছে যা দেখতে ইউটিউব ব্যবহার করতে হবে। বইটি পড়ে জানতে পারলাম “হালাল সাবান” এর কথা পরে আম্মুকে জিজ্ঞাসা করে আসলেও এর সত্যতা খুঁজে পেলাম। এছাড়া ডাভ কোম্পানির হিজাব রিফ্রেশ শ্যাম্পুর কথাও দেয়া আছে উদাহরণ হিসেবে। এর মানে হচ্ছে বইটি কেবল পুরনো সব উদাহরণ দিয়েই নয় সমসাময়িক নানা উদাহরণও দেয়া আছে। ইমোশনকে ব্যবহার করে কীভাবে মানুষ মার্কেটিং করে তা অনেক সুন্দর ভাবেই দেখানো হয়েছে। মার্কেটিং সম্পর্কে বিন্দুমাত্র আগ্রহ না থাকলেও বইটি পড়ে হয়ত একজন জানতে পারবে প্রতিনিয়ত সে কীভাবে অন্যের ইমোশনাল মার্কেটিং এর স্বীকার হচ্ছে। এছারাও রয়েছে মার্কেটিং এর কাজে ইমোজি ও ইমটিকনের ব্যবহার। ইমোজি নিয়ে স্যার এর লেখাটা মাশ-আল্লাহ এক কথায় অসধারন ছিল। মুনির হাসান স্যার এর প্রতি রইল অসংখ্য ভালবাসা। আমার ভালোলাগা একটি ইমোশনাল মার্কেটিং এর লিংক দিলাম আগ্রহীরা দেখতে পারেনঃ https://www.youtube.com/watch?v=O15dx... My rating: 9/10
বইটা আসি আসি করে বেশ অনেকদিন পার করে আসায় স্বভাবতই সবাই বেশ এক্সপেক্টেশন নিয়ে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছিল। কিন্তু প্রকাশের পর এই হাইপের কী হল? রকমারিতে দেখলাম বেশ অনেকগুলো নেগেটিভ রিভিউ। কেউ কেউ পছন্দও করেছেন বইটা। লেখকের ভক্তদের এমন ক্রিয়া প্রতিক্রিয়া দেখে বইটি না নিয়ে পারলাম না।
আমি অবশ্য লেখকের ভক্ত কিংবা নিন্দুক কোন দলেই পরি না। আর আমি মার্কেটিং এর স্টুডেন্ট ও না। কাজের সুবাদে মার্কেটিং নিয়ে পড়াশোনা করতে হচ্ছে। বলা যায় শূন্য এক্সপেক্টেশন নিয়ে স্রেফ কৌতুহল বশে বইটা নিয়েছি। মুনির হাসানের বিভিন্ন খন্ড লেখা পড়ে বোরিং লাগেনি। সামনা সামনি বসেও তাঁর গল্প শুনতে খারাপ লাগেনি। এর আগে পড়া শরবতে বাজিমাত বইটা ভালো লেগেছিল। ইমোশোনাল মার্কেটিং বইটিকে আমি জাজ করছি না। শুধুমাত্র নিজের মতামত নিয়ে দু কলম লিখতে বসলাম।
বইটির প্রচ্ছদে আছে সুন্দর হাসিমুখ যার মাধ্যমে লেখক বইয়ের টপিকের একটি ধারণা দিয়েছেন যা নামেও বোঝা যাচ্ছে। বইতে আছে চারটি পার্ট।
প্রথম পর্বে আছে কিছু মার্কেটিং এর গল্প যেখানে ইমোশন এর ব্যবহার কীভাবে সাফল্য এনেছেন তা উল্লেখ করেছেন লেখক। এর পরের পর্ব আলাদা করে ইমোজি নিয়ে। তৃতীয় পর্বে কয়েকটি কেস স্টাডি আর শেষ পর্বে ফেসবুকের মত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলো কীভাবে মার্কেটিং এর কাজ করা হয় তার কিছুটা ধারণা। যারা ইতোমধ্যেই মার্কেটিং এ পেশাগত দক্ষতা অর্জন করেছেন তাদের কাছে বইটি হয়তো একটু হালকা মনে হবে। আবার যারা একদমই বিগিনার তারাও যে পড়ে বস হয়ে উঠবেন এমনটিও নয়। । বরং আমার কাছে মনে হয়েছে, মার্কেটিং এ যাদের কিছুটা জ্ঞান আছে সেইসাথে আরো কিছু কৌশল শিখতে চান তারা বইটি সাথে রাখতে পারেন কেস স্টাডিগুলো পড়ে পড়ে চর্চা করতে।
এ বইটি পড়ে একদম ইমোশনাল মার্কেটিং এর বস হয়ে উঠবেন এমনটা না ভাবাই মনে হয় যুক্তিযুক্ত। বইতে আছে অনেক অনেক উদাহরণ। প্রতিটি অধ্যায় পড়ার সাথে সাথে বিজ্ঞাপন/উদাহরণগুলো মনোযোগ দিয়ে দেখলে কাজে লাগতে পারে।
Truly speaking, it was hard for me to keep the brain alive while reading the book at very late night, so in most night I fell on sleep. And no emotion worked while read this book, and noticed too many facts jumbled in the book. But I like the very last chapter that summarize the how to plan - ideas. Thank you Munir bhai for your kind effort.
স্যারের লেখা বরাবরই আকর্ষণীয়। পড়তে খুবই ভাল লাগে। তবে একটু অগোছালো ও সংক্ষিপ্ত। মার্কেটার ও উদ্যোক্তাদের ভাল কাজে দিবে তাদের কর্মপন্থা নির্ধারণে। বড় পরিসরে স্যারের আরও লেখবেন এই প্রত্যাশাই করি।